ভারতীয় খ্রিস্টান বিবাহ আইন, ১৮৭২

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ভারতীয় খ্রিস্টান বিবাহ আইন, ১৮৭২
Emblem of India.svg
ভারতীয় সংসদ
সূত্রভারতীয় খ্রিস্টান বিবাহ আইন, ১৮৭২
প্রণয়নকারীভারতীয় সংসদ
সম্মতির তারিখ১৮ই জুলাই, ১৮৭২
প্রবর্তনের তারিখ১৮ই জুলাই, ১৮৭২
অবস্থা: বলবৎ

ভারতীয় খ্রিস্টান বিবাহ আইন, ১৮৭২ সালের ভারতীয় সংসদের একটি আইন, যার উদ্দেশ্য ছিল ভারতে বসবাসকারী ভারতীয় খ্রিস্টানের আইনি বিবাহকে নিয়ন্ত্রণ করা। ১৮৭২ সালের ১৮ই জুলাই এটি কার্যকর করা হয়, এবং সারা ভারত জুড়ে এটি প্রযোজ্য। তবে, বিশেষ কিছু অঞ্চল - যেমন, কোচিন, মণিপুর, এবং জম্মু, ও কাশ্মীরে এটি প্রযোজ্য নয়।[১]

আইন অনুযায়ী বলা হয়েছে, বিবাহেচ্ছু উভয় পক্ষের অন্তত একজন যদি খ্রিস্টান হন, তাহলে বিবাহ বৈধ হবে। বিবাহ দেবার জন্য আইনতঃ বিশেষ একজন মানুষের প্রয়োজন। তিনি হতে পারেন, ভারতে কোন গির্জায় নিযুক্ত কোন কর্মচারী বা স্কটল্যান্ডের চার্চের একজন পাদরি বা একজন বিবাহ নিবন্ধক বা সরকার থেকে বিশেষ অনুমতিপ্রাপ্ত একজন ব্যক্তি। এঁদের যে কোন একজন ইচ্ছুক দম্পতির বিবাহ দিতে পারেন।[২] যিনি বিবাহ দিচ্ছেন, তিনি বিবাহের একটি প্রামাণ্য নথি প্রকাশ করেন। এই নথি বিবাহ নিবন্ধকের কাছে নথিভুক্ত করা হয়। বিবাহ নিবন্ধককে ভারত সরকার নিযুক্ত করেন। অন্য ভারতীয় বিবাহের আইনের মতই, পাত্রের জন্য ন্যূনতম বয়স ২১ বছর হওয়া দরকার এবং নববধূর জন্য ১৮ বছর হওয়া দরকার।[৩]

যিনি বিবাহ সঞ্চালক থাকবেন, তার কাছে কোন বিশেষ অনুমতি না থাকলে, বিবাহ অনুষ্ঠান অবশ্যই সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে শেষ করতে হবে। বিবাহ সাধারণত একটি গির্জায় হয়; কিন্তু ভাবী দম্পতির অবস্থানের পাঁচ মাইলের মধ্যে যদি কোন গির্জা না থাকে, তাহলে একটি উপযুক্ত বিকল্প অবস্থানেও বিবাহ হতে পারে।[১]

শর্তাবলী এবং প্রয়োজনীয়তা[সম্পাদনা]

বিবাহ শুধুমাত্র নিম্নলিখিত শর্তাবলীতে বৈধ হবে, সেগুলি হল:[৩]

  • পাত্রকে অন্তত ২১ বছর বয়সী হতে হবে।
  • নববধূকে অন্তত ১৮ বছর বয়সী হতে হবে।
  • দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি হবে, এই চুক্তি, মুক্ত ও ইচ্ছেমূলক হতে হবে এবং অবশ্যই কোন বাধ্যবাধকতা, অযৌক্তিক প্রভাব অথবা সহিংসতা হুমকি ছাড়া হতে হবে।
  • বিবাহের সাক্ষী হিসাবে অবশ্যই দুজন নির্ভরযোগ্য সাক্ষী এবং একজন বিশেষ অনুমতিপ্রাপ্ত বিবাহ সঞ্চালক ব্যক্তি থাকবেন।

বিবাহ বিচ্ছেদ[সম্পাদনা]

ভারতে খ্রিস্টান বিবাহ বিচ্ছেদ, ১৮৬২ সালের ভারতীয় বিবাহবিচ্ছেদ আইন (বিভাগ ১০এর অধীনে) অনুসারে, নিম্নলখিত তিনটি শর্তে হতে পারে, এগুলি হল :[৪]

  • বিভাগ ১০ক অনুযায়ী (২০০১ সালে সংশোধিত হিসাবে) উভয় পক্ষ পারস্পরিক সম্মতি দ্বারা বিবাহবিচ্ছেদের জন্য আবেদন করতে পারেন।
  • ধারা ১০ (১) অনুযায়ী, যে কোনও পক্ষ বিবাহ বিচ্ছেদ চাইতে পারেন, যদি অপর পক্ষের কোন মানসিক অসুস্থতা থাকে, তার ভিত্তিতে বিবাহবিচ্ছেদ চাইতে পারা যায়। এটিও দুটি শর্ত সাপেক্ষে এটি মানা হতে পারে:
    • চিকিৎসাশাস্ত্রমতে প্রমাণ করতে হবে অসুস্থতাটি 'দুরারোগ্য।'
    • প্রাসঙ্গিক অসুস্থতার লক্ষণগুলি বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদনের কমপক্ষে দু' বছর আগে থেকে দেখা দিতে হবে। যদি কোন সময়ে অসুস্থতার চিকিৎসা করানো হয়ে থাকে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত অসুখটি চিকিৎসার বাইরে চলে যায়, দুই বছর মেয়াদ গণনা করা হবে সেই তারিখ থেকে, যে তারিখে অসুস্থতাটি দুরারোগ্য ঘোষণা করা হয়েছিল।
  • মহিলারা তিনটি বিশেষ ভিত্তিতে সেকশন ১০ (২) এর অধীনে বিবাহবিচ্ছেদের জন্য আবেদন করতে পারেন, এগুলি হল: ধর্ষণ, পায়ুকাম এবং পশুকামিতা

১৮৭২ সালের ভারতীয় খ্রিস্টান বিবাহ আইনের অধীনে বিবাহিত একজন মহিলা, ১৮৬৯ সালের ভারতীয় বিবাহবিচ্ছেদ আইনের অধীনে তার বিবাহের বিচ্ছেদ চাইতে পারেন [৫]

অপরাধ[সম্পাদনা]

যে কোন ব্যক্তি, যিনি একটি বিবাহ অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন, তিনি যদি যথাযথভাবে কর্তৃপক্ষ দ্বারা বিশেষ অনুমতিপ্রাপ্ত না হয়ে থাকেন, অথবা গির্জা দ্বারা স্বীকৃত না হন, তাকে সাত থেকে দশ বছর কারাদন্ডের মেয়াদে শাস্তি দেওয়া যেতে পারে।[১]

পুনর্বিবাহ[সম্পাদনা]

বিশেষ বিবাহ আইনের সাহায্যে, যে কোন ধর্মের যে কোনও মহিলা কোন ধর্মীয় অনুষ্ঠান না করেই বিবাহ বা পুনর্বিবাহ করতে পারেন। [৫]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "The Indian Christian Marriage Act, 1872"lawyerslaw.org। ১২ জুন ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৪ জুন ২০১৮ 
  2. "The Indian Christian Marriage Act, 1872"indiankanoon.org। সংগ্রহের তারিখ ৪ জুন ২০১৮ 
  3. "Christian Marriage and Registration Procedure in India"Helplinelaw.com। সংগ্রহের তারিখ ৪ জুন ২০১৮ 
  4. Nambi, S (২০০৫)। "Marriage, mental health and the Indian legislation"Indian Journal of Psychiatry47 (1): 3–14। doi:10.4103/0019-5545.46067পিএমসি 2918313অবাধে প্রবেশযোগ্য 
  5. "From Law And Politics To Religion: In Conversation With Flavia Agnes"The Logical Indian (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৮-০৮-০৩। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৮-১৯