ব্রায়ান ইয়ং

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ব্রায়ান ইয়ং
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামব্রায়ান অ্যান্ড্রু ইয়ং
জন্ম (1964-11-03) ৩ নভেম্বর ১৯৬৪ (বয়স ৫৭)
হোয়াঙ্গারেই, নিউজিল্যান্ড
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
ভূমিকাউইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ১৮৬)
৩ ডিসেম্বর ১৯৯৩ বনাম অস্ট্রেলিয়া
শেষ টেস্ট১৮ মার্চ ১৯৯৯ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ ৭৫)
১১ ডিসেম্বর ১৯৯০ বনাম অস্ট্রেলিয়া
শেষ ওডিআই২৭ মার্চ ১৯৯৯ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ৩৫ ৭৪ ১৬৩ ১৭২
রানের সংখ্যা ২,০৩৪ ১,৬৬৮ ৭,৪৮৯ ৪,৪৫২
ব্যাটিং গড় ৩১.৭৮ ২৪.৫২ ৩২.১৪ ২৮.৭২
১০০/৫০ ২/১২ ০/৯ ১০/৩৭ ২/২৭
সর্বোচ্চ রান ২৬৭* ৭৪ ২৬৭* ১০৮*
বল করেছে ৪৮
উইকেট
বোলিং গড় ৭৬.০০
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ১/৭৬
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৫৪/০ ২৮/০ ২৯৭/১১ ৮৪/১২
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১ ডিসেম্বর ২০২০

ব্রায়ান অ্যান্ড্রু ইয়ং (ইংরেজি: Bryan Young; জন্ম: ৩ নভেম্বর, ১৯৬৪) হোয়াঙ্গারেই এলাকায় জন্মগ্রহণকারী সাবেক নিউজিল্যান্ডীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৯০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ড ও নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টস দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয় পারদর্শী ছিলেন ব্রায়ান ইয়ং

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৬৪ সালে নর্থল্যান্ড রিজিওনের হোয়াঙ্গারেই এলাকায় ব্রায়ান ইয়ংয়ের জন্ম।[১] ১৯৮৩-৮৪ মৌসুম থেকে ১৯৯৮-৯৯ মৌসুম পর্যন্ত ব্রায়ান ইয়ংয়ের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। উইকেট-রক্ষক ও নিচেরসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের পক্ষে খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটে তার।[১]

জানুয়ারি, ১৯৮৪ সালে ঐ দলটির পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। এরপর থেকে ১৯৯৭-৯৮ মৌসুমের শেষদিক পর্যন্ত ঐ দলে খেলতে থাকেন। তারপর, তিনি অকল্যান্ড দলে চলে যান। সেখানে পেশাদারী ক্রিকেটার হিসেবে অকল্যান্ডের পক্ষে সর্বশেষ মৌসুম খেলেন তিনি। তন্মধ্যে, নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের পক্ষে দেড় শতাধিক খেলায় অংশ নিয়েছিলেন।[২]

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে পঁয়ত্রিশটি টেস্ট ও চুয়াত্তরটি একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশগ্রহণ করেছেন ব্রায়ান ইয়ং। ৩ ডিসেম্বর, ১৯৯৩ তারিখে ব্রিসবেনে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ১৮ মার্চ, ১৯৯৯ তারিখে ওয়েলিংটনে সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।[১]

ডানহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে দুই সহস্রাধিক রান সংগ্রহ করেছিলেন। তন্মধ্যে, ১৯৯৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজস্ব ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২৬৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন।

টেস্ট অভিষেকের পূর্বে ডিসেম্বর, ১৯৯০ সালে মেলবোর্নে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে আবির্ভূত হন ব্রায়ান ইয়ং। ১৯৯০-এর দশকের শুরুরদিকে রক্ষণাত্মক ধাঁচের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন।

অস্ট্রেলিয়া গমন[সম্পাদনা]

১৯৯৩-৯৪ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ডিসেম্বর, ১৯৯৩ সালে স্বাগতিক দলের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে অংশ নেন। ধীরগতিসম্পন্ন উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের মর্যাদা পান ও এ ধরনের খেলার কারণে প্রাচীনপন্থী, সাবেকী-বিদ্যালয় হিসেবে চিত্রিত হন।[৩] ব্রিসবেনে নিজস্ব প্রথম টেস্ট ইনিংসে ১৬৭ বল মোকাবেলান্তে মাত্র ৩৮ রান তুলেন। এরপর, দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি ১২২ বলে ৫৩ রান তুলেন।

ডিসেম্বর, ১৯৯৪ সালে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের তৃতীয় মন্থরতম অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেন। ১৯৯৪-৯৫ মৌসুমের শীতকালে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ৩৩৩ মিনিটে ৫০ রান তুলেন।[১][৪][৫] তবে, তার এ ধরনের ব্যাটিংয়ের কল্যাণ তার দল জয়লাভ করেছিল। ১৯৯৪ সালে ক্রাইস্টচার্চ টেস্টে দূর্দান্ত খেলেন। সফররত পাকিস্তান দলের বিপক্ষে চতুর্থ ইনিংসে দূরূহ জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় ১২০ রান তুলেন। এ পর্যায়ে পঞ্চম উইকেটে শেন থমসনের সাথে ১৫৪ রানের জুটি গড়েন।

মার্চ, ১৯৯৭ সালে ডুনেডিন টেস্টে ২৬৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। এটিই তার খেলোয়াড়ী জীবনের একমাত্র দ্বি-শতরানের ইনিংস ছিল। এরফলে, তার দল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ইনিংস বিজয়ে সক্ষমতা দেখায়।[১][৬] তার এ সংগ্রহটি ঐ সময়ে যে-কোন নিউজিল্যান্ডীয় খেলোয়াড়ের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ ছিল ও দেশের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে সর্বোচ্চ ছিল।[৭][৮][৯] এছাড়াও, কার্যকরী স্লিপ ফিল্ডার ছিলেন ব্রায়ান ইয়ং। টেস্ট পর্যায়ের প্রত্যেক ইনিংসেই গড়ে একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন।[৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Bryan Young, CricInfo. Retrieved 2019-12-28.
  2. Bryan Young, CricketArchive. Retrieved 2019-12-28. (সদস্যতা প্রয়োজনীয়).
  3. Zaltzman A (2017) An eleven for fielding heaven, The Cricket Monthly, CricInfo, April 2017. Retrieved 2019-12-28.
  4. Third Test, New Zealand v Australia, Wisden Cricketers' Almanack, 1995. Retrieved 2018-12-28.
  5. Second Test, South Africa v New Zealand, Wisden Cricketers' Almanack, 1996. Retrieved 2018-10-01.
  6. Third Test, New Zealand v Pakistan, Wisden Cricketers' Almanack, 1995. Retrieved 2018-12-28.
  7. First Test, New Zealand v Sri Lanka, Wisden Cricketers' Almanack, 1998. Retrieved 2018-12-28.
  8. Cricket: Latham rewrites history books to put NZ in charge, Radio New Zealand, 2018-12-17. Retrieved 2019-12-28.
  9. More runs than his dad scored in his entire Test career... Latham's record-breaking double hundred in numbers, The Cricketer, 2018-12-17. Retrieved 2019-12-28.

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]