বিজয় কিবোর্ড

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
বিজয় কিবোর্ড
Bijoy Logo.png
মূল উদ্ভাবকমোস্তাফা জব্বার
উন্নয়নকারীমোস্তাফা জব্বার
প্রাথমিক সংস্করণ১৬ ডিসেম্বর ১৯৮৮
অপারেটিং সিস্টেমউইন্ডোজ ২০০০, এক্স পি, ভিস্তা, ৭, ৮, ৮.১,১০, লিনাক্স, ম্যাক ওএস এক্স
উপলব্ধইংরেজি
ধরনকী-বোর্ড ইন্টারফেস, স্ক্রীপ্ট ইন্টারফেস সিস্টেম
ওয়েবসাইটhttp://www.bijoyekushe.net

বিজয় কিবোর্ড হল মাইক্রোসফট উইন্ডোজ, ম্যাক ওএস এবং লিনাক্স-এর জন্য একটি গ্রাফিক্যাল লেআউট পরিবর্তক এবং ইউনিকোডএএনএসআই সমর্থিত বাংলা লেখার সফটওয়্যার। বিজয়ের প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হয় ১৬ ডিসেম্বর ১৯৮৮ সালে যা ইউনিকোড ভিত্তিক অভ্র কী-বোর্ড আসার পূর্বপর্যন্ত বহুল ব্যবহৃত হয়েছে। ইউনিকোড পরিপূর্ণভাবে প্রচলনের স্বার্থে বিজয়ের দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয় ২০১১ সালে। প্রথম সংস্করণের সকল বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে দ্বিতীয় সংস্করণে এমন কিছু নতুন বর্ণ যুক্ত করা হয় যা ইউনিকোড ভিত্তিক বাংলা লেখার জন্য প্রয়োজন হয়। প্রকৃতপক্ষে বিজয় এর দ্বিতীয় সংস্করণ সম্পূর্ণ প্রয়োগ করা হয়েছে বিজয় এর ইউনিকোড এবং গোল্ড সংস্করণে।

বিজয়-অভ্র বিতর্ক[সম্পাদনা]

কম্পিউটারে বাংলা লেখার বাণিজ্যিক‌ আবদ্ধ উৎসের( ক্লোজ সোর্স) সফটওয়্যার ‘বিজয়’ এর স্বত্বাধিকারী এবং ‘আনন্দ কম্পিউটার্স' এর প্রধান নির্বাহী মোস্তাফা জব্বার ২০১০ সালের ৪ এপ্রিল দৈনিক জনকন্ঠের একটি নিবন্ধে অভ্রর দিকে ইঙ্গিত করে দাবী করেন যে- হ্যাকাররা তার ‘বিজয়’ সফটওয়্যারটি চুরি করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিচ্ছে। তিনি অভ্র কীবোর্ডকে পাইরেটেড সফটওয়্যার হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে ইউএনডিপি হ্যাকারদের সহযোগিতা করেছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে ইউএনডিপি-র প্ররোচনাতেই জাতীয় তথ্যভান্ডার তৈরির কাজে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন অভ্র কীবোর্ড ব্যবহার করা হয়েছে। মেহ্দী হাসান খান জানান যে ক্লোজড সোর্স প্রোগ্রাম হ্যাক করা সম্ভব নয় বিধায় বিজয়ের সিস্টেম হ্যাক করা সম্ভব নয়।[১] অপরদিকে, অভ্র'র পক্ষ থেকে মেহ্দী হাসান খান সকল নালিশ অস্বীকার করেন এবং অভিযোগ করেন যে, মোস্তাফা জব্বার বিভিন্ন পর্যায়ে ও গণমাধ্যমে তাদেরকে চোর বলেন এবং তাদের প্রতিবাদ সেখানে উপেক্ষিত হয়। কম্পিউটারে বাংলা নিয়ে যারা কাজ করছেন তাদের জন্য উকিল নোটিশ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা দিয়ে আক্রমণের হুমকি উপেক্ষা করে কাজ করা স্বাভাবিক অভিজ্ঞতা। তিনি আরো বলেন যে নির্বাচন কমিশনে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রকল্পে বাণিজ্যিক বিজয়-এর পরিবর্তে বিনামূল্যের অভ্র ব্যবহার করাতে প্রায় ৫ কোটি টাকা লোকসান হওয়ায় মোস্তাফা জব্বার এমন অভিযোগ করেছেন। [২]

অভ্র ৪.৫.১ সফটওয়্যারের সাথে ইউনিবিজয় নামে একটি কীবোর্ড লেআউট সরবরাহ করা হয়। এই ইউনিবজয় কীবোর্ড লেআউট প্যাটেন্টকৃত বিজয় কীবোর্ড লেআউটের নকল দাবী করে মোস্তাফা জব্বার কপিরাইট অফিসে কপিরাইট আইন ভঙ্গের জন্য মেহ্দী হাসান খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। এর ভিত্তিতে কপিরাইট অফিস খানকে কারণ দর্শাও নোটিশ পাঠায়। পরবর্তিতে মেহ্দী হাসান খানের আবেদনের প্রেক্ষিতে এর সময়সীমা ২৩ মে ২০১০ পর্যন্ত বাড়ানো হয়।[৩]

১৬ জুন ২০১০ তারিখে ঢাকার আগারগাঁও এ অবস্থিত বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল অফিসে অনেক তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে মেহ্দী হাসান খান ও মোস্তাফা জব্বারের মধ্যে একটি সমঝোতা হয় এই মর্মে, ২০১০ সালের ২০ আগস্টের মধ্যে, অভ্র কীবোর্ড সফটওয়্যার থেকে ইউনিবিজয় লেআউট সরিয়ে নেওয়া হবে এবং কপিরাইট অফিস থেকে মেহ্দী হাসান খানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত স্বত্ত্বাধিকার লংঘনের অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।[৪] সেই চুক্তি অনুযায়ী, অভ্রর ৪.৫.৩ সংস্করণ থেকে ইউনিবিজয় কীবোর্ড বাদ দেওয়া হয়। তিনি অভ্র কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানান।[৫]

বিজয়-রিদ্মিক বিতর্ক[সম্পাদনা]

২০১৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি গুগল প্লে স্টোরে উন্মুক্ত করা হয় বিজয় বাংলা সফটওয়্যারের অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ। এরপর এই অ্যাপটি নিয়ে তার ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন মোস্তাফা জব্বার। সেই স্ট্যাটাসে এই জাতীয় অ্যাপগুলোর বিরুদ্ধে বিজয় বাংলা কি-বোর্ড লেআউট অবৈধভাবে ব্যবহারের অভিযোগ করেন।[৬] পরবর্তীতে গুগলের পক্ষ থেকে রিদ্মিক এবং ইউনিবিজয় কীবোর্ডের ডেভেলপারের কাছে পৃথকভাবে ইমেইল নোটিশ পাঠানো হয়। সেখানে বলা হয়, মোস্তাফা জব্বার অ্যাপ দুটির বিরুদ্ধে কপিরাইট লঙ্ঘনের অভিযোগ জানিয়েছেন গুগলের কাছে। আর এই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই গুগল যুক্তরাষ্ট্রের ডিএমসিএ আইন অনুসারে অ্যাপ দুটি অপসারণ করেছে।[৬] পরে নতুন লে আউট করে প্লেস্টোরে আবারও রিদ্মিক কিবোর্ড প্রকাশ করা হয়। [৭]

সফ্টওয়ার সংস্করণ[সম্পাদনা]

নাম সংস্করণ প্রকাশের তারিখ
বিজয় কী-বোর্ড
বিজয় ১ (ম্যাক) ১৬ ডিসেম্বর ১৯৮৮
বিজয় ২ (ম্যাক) ০১ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৮
বিজয় ৩ (ম্যাক) ১৬ ডিসেম্বর ১৯৯৯
বিজয় ৪ (ম্যাক)
বিজয় ২০০০, প্রো (ম্যাক, উইন্ডোস)
বিজয় ২০০১, প্রো
বিজয় ২০০৩, প্রো
বিজয় ২০০৪, প্রো
বিজয় বায়ন্নো
বিজয় বায়ন্নো, প্রো
বিজয় বায়ন্নো ২০০৯
বিজয় বায়ন্নো ২০১০
বিজয় বায়ন্নো ২০১১
বিজয় বায়ন্নো ২০১২
বিজয় বায়ন্নো ২০১৪
বিজয় বায়ন্নো ২০১৬
বিজয় একুশে
বিজয় একুশে
বিজয় একুশে ২০০৪
বিজয় একুশে আনন্দ ২০০৫
বিজয় একুশে ২০০৬
বিজয় একুশে কনভার্টার
বিজয় একুশে অভিধান
বিজয় একুশে সুবর্ণ
বিজয় একুশে জনতা
বিজয় একাত্তর
বিজয় একাত্তর
বিজয় একাত্তর ২০১৬

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. জব্বার, মোস্তফা (২০১০-০৪-০৪)। "সাইবার যুদ্ধের যুগে প্রথম পা ॥ একুশ শতক"। দৈনিক জনকন্ঠ। ২০১৩-০১-২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-১২-১৬ 
  2. খান, মেহদী হাসান (২০১০-০৫-০১)। "প্রতিক্রিয়া-ভাষা উন্মুক্ত হবেই"দৈনিক জনকন্ঠ। ঢাকা। ২০১৩-০১-২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-০৫-২৬ 
  3. "কারণ দর্শানোর সময় বাড়াল কাপিরাইট অফিস"Prothom-Alo.com। ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১০ মে ২০১০ 
  4. "সমঝোতার পথে অভ্র ও বিজয়"প্রথম আলো। ঢাকা। ১৭ জুন ২০১০। ৬ জানুয়ারি ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জুন ২০১০ 
  5. "অভ্র থেকে ইউনিবিজয় প্রত্যাহার"প্রথম আলো। ঢাকা। ২২ আগস্ট ২০১০। ৭ জানুয়ারি ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৩ আগস্ট ২০১০ 
  6. "প্লে স্টোর থেকে রিদ্মিক এবং ইউনিবিজয় কীবোর্ড অপসারণ করলো গুগল"প্রিয়। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জুলাই ২০১৫ 
  7. junnu rain। "নতুন রুপে আবারও রিদ্মিক কিবোর্ড"ড্রয়েড বিডি। ২১ জুলাই ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জুলাই ২০১৫