বাগজানা ইউনিয়ন
| বাগজানা | |
|---|---|
| ইউনিয়ন | |
| বাংলাদেশে বাগজানা ইউনিয়নের অবস্থান | |
| স্থানাঙ্ক: ২৫°১১′৭″ উত্তর ৮৯°১′৩″ পূর্ব / ২৫.১৮৫২৮° উত্তর ৮৯.০১৭৫০° পূর্ব | |
| দেশ | বাংলাদেশ |
| বিভাগ | রাজশাহী বিভাগ |
| জেলা | জয়পুরহাট জেলা |
| উপজেলা | পাঁচবিবি উপজেলা |
| সময় অঞ্চল | বিএসটি (ইউটিসি+৬) |
| ওয়েবসাইট | দাপ্তরিক ওয়েবসাইট |
বাগজানা ইউনিয়ন বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগের জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার অন্তর্গত একটি ইউনিয়ন।[১][২] উত্তর দিক থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করলে রাজশাহী বিভাগের প্রবেশদ্বার এই ইউনিয়ন।
অবস্থান ও সীমানা
[সম্পাদনা]
ভৌগোলিক অবস্থান:
এই ইউনিয়নটি প্রধানত পাঁচবিবি উপজেলার উত্তর-পশ্চিম দিকে অবস্থিত। এর ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক প্রায় ২৫°১১′৭″ উত্তর এবং ৮৯°১′৩″ পূর্ব।
চারদিকের সীমানা:
বাগজানা ইউনিয়নের উত্তর দিকে এবং পশ্চিম দিকে সরাসরি ভারত (পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য), দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা, ধরঞ্জি ইউনিয়ন অবস্থিত। অর্থাৎ, ইউনিয়নটির একটি বড় অংশ আন্তর্জাতিক সীমান্ত দ্বারা পরিবেষ্টিত। এই সীমান্তের নিকটেই বাংলাদেশের বিখ্যাত হিলি স্থলবন্দর,হাকিমপুর, দিনাজপুর সংলগ্ন এলাকা রয়েছে।
অন্যদিকে, বাগজানা ইউনিয়নের দক্ষিণ দিকে পাঁচবিবি উপজেলার বালিঘাটা ইউনিয়ন অবস্থিত এবং পূর্ব দিকে পাঁচবিবি উপজেলারই আটাপুর ইউনিয়ন অবস্থিত
ইতিহাস
[সম্পাদনা]বাগজানা নামকরণ হয়েছে সম্ভবত বাগেজান্নাত তথা জান্নাত, বেহেশত বা স্বর্গের বাগান থেকে। কথিত আছে এখানে জমিদারের বিশাল ও সুন্দর বাগান ছিলো। ছোট যমুনা নদীর তীরে গড়ে ওঠা জনপদ বাগজানা। এককালে এই নদী অনেক বড় ছিলো। এখন কালের গহবরে মানুষের ভোগ দখলে হারিয়েছে স্রোত শুষ্ক মৌসুমে নদীর কোন অস্তিত্ব থাকে না। বাগজানা নদীর ঘাটে জমিদারের নৌকা ভিড়ত। সেখানেই অবস্থিত বাগজানার সবচেয়ে প্রাচীন স্থাপনা বাগজানা কাচারি বাড়ি। এখানে জমিদার প্রজাদের থেকে খাজনা আদায় করতেন। বাগজানা ইউনিয়ন বাংলাদেশের বাকি সব জায়গার মত মূলত কৃষিপ্রধান। [৩]
প্রশাসনিক এলাকা
[সম্পাদনা]বাগজানা ইউনিয়নের প্রশাসনিক কাঠামো ও এলাকা নিম্নরূপভাবে বিন্যস্ত:
১. প্রশাসনিক স্তর (Administrative Hierarchy)
বাগজানা ইউনিয়ন হলো বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোর একেবারে তৃণমূল স্তর, যা নিম্নরূপ:
* দেশ: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ
* বিভাগ: রাজশাহী বিভাগ
* জেলা: জয়পুরহাট জেলা
* উপজেলা: পাঁচবিবি উপজেলা
* ইউনিয়ন নম্বর: ১ নং বাগজানা ইউনিয়ন (কোড নং: ১৩৮৭৪৪২)
২. অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক এলাকা
একটি ইউনিয়নকে প্রশাসনিক সুবিধার জন্য কিছু অংশে বিভক্ত করা হয়। বাগজানা ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ বিভাজন নিম্নরূপ:[৪]
* ওয়ার্ডের সংখ্যা: এই ইউনিয়নটি ৯টি (নয়টি) ওয়ার্ডে বিভক্ত। প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন করে নির্বাচিত সদস্য (মেম্বার) থাকেন।
* মৌজার সংখ্যা: ২২ টি
* মোট গ্রামের সংখ্যা: ২৫ টি
এই কাঠামো অনুযায়ী, ১ নং বাগজানা ইউনিয়ন পরিষদ এই ৯টি ওয়ার্ড, ২২টি মৌজা এবং ২৫টি গ্রামের স্থানীয় শাসন পরিচালনা করে।
আয়তন ও জনসংখ্যা
[সম্পাদনা]
| জনসংখ্যা (সর্বশেষ) | ২৪,০৪৮ জন (জনশুমারি ২০২২) |
| শিক্ষার হার (২০১১) | ৫৯.১% |
| গ্রামের সংখ্যা | ২৫ টি |
| মৌজার সংখ্যা | ২২ টি |
২০২২ সালের বিস্তারিত তথ্য না পাওয়ায়, সর্বশেষ বিস্তারিত তথ্য (২০১১) অনুযায়ী লিঙ্গভিত্তিক বিভাজন ছিল নিম্নরূপ:
* পুরুষ: ১১,৮৩৯ জন
* নারী: ১১,৬৩১ জন
শিক্ষা
[সম্পাদনা]বাগজানা ইউনিয়নে মোট ১৭ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে:
- সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়: ১০টি
- মাধ্যমিক বিদ্যালয়: ৪টি (বাগজানা, রামভদ্রপুর, জীবনপুর, সোনাপুর)
- মাদ্রাসা: ২টি (বাগজানা, সোনাপুর)
- কারিগরী/প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান: ১টি (বাগজানা)
শিক্ষার হার : ৫৯.১%
দর্শনীয় স্থান
[সম্পাদনা]১. বাগজানা কাছারি বাড়ি
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষা ১নং বাগজানা ইউনিয়ন বাসীর পুরাতন ঐতিহ্য জমিদার বাড়ি এখন সবার কাছে স্মৃতি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সেই সাথে জমিদার বাড়ির পেছনে শাখা যমুনা নদীর তীর ঘেঁষে জমিদারের নিজ হাতে তৈরী আম বাগন। যে বাগানে জৈষ্ঠ্য মাসে আম, লিচু, কাঁঠাল সহ নানা ফলের সুগন্ধে প্রাণ জুড়িয়ে যেত।
দুইশত বছর আগে জমিদার চারু চন্দ্র বসুমল্লিক বাগজানায় এসে খাজনা আদায় ও তার বসবাসের জন্য ১৩৪০ বাংলা সালে ছোট যমুনা নদীর তীর ঘেঁষে নির্মাণ করেন জমিদার বাড়ি। দীর্ঘ সময় ধরে জমিদার তার শাসন আমলে জমিদার বাড়ি নির্মাণের পাশাপাশি তৈরী করেন বিশাল এক আম বাগান
জমিদার চারু চন্দ্র বসুমল্লিক তার পাইক পেয়াদা নিয়ে চলে যান কলকাতায়। সেখানে গিয়ে তার পছন্দমত ল্যাংরা, ফজলি, কাঁচামিঠা, গোপালভোগ সহ বিভিন্ন জাতের সুস্বাদু আমের চারা এনে নিজে হাতে এনে তৈরী করেন আমাবাগান পাশাপাশি ছিল লিচু বাগানও। এছাড়াও ফুল বাগান তো ছিলোই। একসময় জমিদারি প্রথাও বিলুপ্ত হয়ে যায়। জমিদার সপরিবারে চলে যান ভারতে।
মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশ সরকার জমিদার বাড়িটি তার হাতে নিয়ে সেখানে তৈরী করেন ইউনিয়ন ভূমি অফিস। যা এখন পরিত্যক্ত।
ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের কর্তব্যে অবহেলা ও উদাসীনতার ফলে জমিদার বাড়ির প্রধান ফটক ঠিক থাকলেও পিছনের কোয়ার্টার গুলো এখন জরাজীর্ণ আর অম্রকানন ও নেই। ২/১ টি তাজা গাছ দাঁড়িয়ে থেকে এখন নতুন প্রজন্মের কাছে কালের স্বাক্ষী হয়ে রয়েছে। বর্তমান বিশাল বাগানটিতে সরকার পুনরায় ফলদ, বনজ ও ঔষধী গাছ রোপন করলে হয়তবা কিছুটা হলেও বাগানটির আগের চেহারা ফিরে আসবে।
৩. ছোট যমুনা নদীর তীর
৪. বাগজানা ব্রিজ
৫. আটাপাড়া বেইলি ব্রিজ
৬. সবুজ মেঠো পথ
ইত্যাদি
উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব
[সম্পাদনা]মুক্তিযোদ্ধা
| # | নাম |
|---|---|
| ১ | মোঃ আব্দুল কাদের খালিফা |
| ২ | মোঃ আসতোল |
| ৩ | মোঃ আব্দুল হামিদ |
| ৪ | মোঃ তমিজ উদ্দিন মন্ডল |
| ৫ | মোঃ নাজিম উদ্দিন মন্ডল |
| ৬ | মোঃ আজিম মন্ডল |
| ৭ | এস এম আব্দুস সাত্তার |
| ৮ | মোঃ তোফাজ্জল হোসেন |
| ৯ | মোঃ মজিবর রহমান |
| ১০ | মোঃ আব্দুস সাত্তার |
বিশিষ্ট ভাওয়াইয়া লোক সংগীত শিল্পী ফরিদা বেগম
জনপ্রতিনিধি
[সম্পাদনা]বর্তমান জনপ্রতিনিধিবৃন্দ
| রর
# |
শিরোনাম | পদবি |
|---|---|---|
| ১ | মোঃ নাজমুল হক | চেয়ারম্যান |
| ২ | মোছাঃ হাজেরা বিবি | মহিলা সদস্যা (১,২,৩ নং ওয়ার্ড) (সংরক্ষিত) |
| ৩ | মোছাঃ রাজিয়া সুলতানা | মহিলা সদস্যা (৪,৫,৬ নং ওয়ার্ড) (সংরক্ষিত) |
| ৪ | পারভীন আক্তার | মহিলা সদস্যা (৭,৮,৯ নং ওয়ার্ড) (সংরক্ষিত) |
| ৫ | মোঃ শরিফুল ইসলাম | ১নং ওয়ার্ড মেম্বার |
| ৬ | মো: আতাউল ইসলাম | ২ নং ওয়ার্ড মেম্বার |
| ৭ | মোঃ খলিলুর রহমান | ৩ নং ওয়ার্ড মেম্বার |
| ৮ | মোঃ নওশাদ আলী | ৪ নং ওয়ার্ড মেম্বার |
| ৯ | মোঃ আরিফ হোসেন | ৫ং ওয়ার্ড মেম্বার |
| ১০ | মোঃ কাওছার আলী | ৬ং ওয়ার্ড মেম্বার |
| ১১ | মোঃ সোহরাওয়ার্দী হোসেন | ৭নং ওয়ার্ড মেম্বার |
| ১২ | মোঃ আবু সায়েম | ৮ নং ওয়ার্ড মেম্বার |
| ১৩ | মোঃ আবু তোরাব | ৯ নং ওয়ার্ড মেম্বার |
| ক্রমিক | নাম | মেয়াদ |
|---|---|---|
| ০১. | আজিজার রহমান | ১৯৭৩-১৯৭৮ |
| ০২ | একেএম জহিরুল আলম | ১৯৭৯-১৯৮৪ |
| ০৩ | আছির উদ্দিন প্রামাণিক | ১৯৮৫-১৯৮৯ |
| ০৪ | আছির উদ্দিন প্রামাণিক | |
| ০৫ | মো: বদিউজ্জামান | |
| ০৬ | আছির উদ্দিন প্রামাণিক | |
| ০৭ | মো: আব্দুল লতিফ মন্ডল | |
| ০৮ | মো: জামাত আলী | |
| ০৯ | মো: নাজমুল হক | |
| ১০ | মো: নাজমুল হক |
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "বাগজানা ইউনিয়ন"। বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন। ১৬ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৯ এপ্রিল ২০২০।
- ↑ "পাঁচবিবি উপজেলা"। বাংলাপিডিয়া। ২৯ জানুয়ারি ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ১৯ এপ্রিল ২০২০।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: ইউআরএল-অবস্থা (লিঙ্ক) - ↑ লোককথা
- ↑ নিজ হাতে
| বাংলাদেশের ইউনিয়ন বিষয়ক এই নিবন্ধটি অসম্পূর্ণ। আপনি চাইলে এটিকে সম্প্রসারিত করে উইকিপিডিয়াকে সাহায্য করতে পারেন। |
