বাংলা গোলাপ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
বাংলা গোলাপ
কাঁটা গোলাপ, চীনা গোলাপ, চায়না গোলাপ
Rosa chinensis.jpg
একটি দ্বিপুষ্পক কাল্টিভার
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস e
জগৎ/রাজ্য: Plantae
অনানুষ্ঠানিক গোষ্ঠী: Tracheophytes
ক্লেড: Angiosperms
ক্লেড: Eudicots
গোষ্ঠী: Rosids
বর্গ: Rosales
পরিবার: Rosaceae
গোত্র: Roseae
Genus: Rosa
প্রজাতি: R. chinensis
দ্বিপদী নাম
Rosa chinensis
জ্যাকুইন
প্রতিশব্দ[১]
  • Rosa bengalensis পার্স.
  • Rosa diversifolia ভেন্ট.
  • Rosa indica auct. non L.
  • Rosa laurentiae Tratt.
  • Rosa lawranceana Sweet
  • Rosa longifolia Willd.
  • Rosa mutabilis Correvon
  • Rosa nankinensis Lour.
  • Rosa nanula Hoffmanns.
  • Rosa rouletii Correvon
  • Rosa semperflorens W.M.Curtis

বাংলা গোলাপ (বৈজ্ঞানিক নাম: Rosa chinensis; চীনা: 月季; ফিনিন: yuèjì; কাঁটা গোলাপ, চীনা গোলাপ,[২] চায়না গোলাপ,[৩] বেঙ্গল ক্রিমসন[৪][৫] বা বেঙ্গল বিউটি[৬] নামেও পরিচিত) হলো রোজা গণভুক্ত একটি উদ্ভিদ। এরা দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের কুয়েইচৌ, হুবেইসিচুয়ান প্রদেশের স্থানীয় উদ্ভিদ প্রজাতি। সর্বপ্রথম ১৭৬৮ সালে নিকোলস জোসেফ ফল জ্যাকুইন তার অবজারভেশনাম বোটানিক্যারাম গ্রন্থের তৃতীয়, সপ্তম ও ৫৫তম পৃষ্ঠায় Rosa chinensis নামে উদ্ভিদটির বর্ণনা করেন।

বর্ণনা[সম্পাদনা]

এরা এক ধরনের গুল্ম-জাতীয় উদ্ভিদ। এরা ১–২ মিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এরা ঘন হয়ে অনেকটা ঝোপের আকার ধারণ করে। এদের পাতাগুলো পক্ষল, পাতায় ৩–৫টি উপপত্র থাকতে পারে। প্রতিটি উপপত্র ২.৫–৬ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা এবং ১–৩ সেন্টিমিটার পর্যন্ত চওড়া হতে পারে। বন্য প্রজাতি বা প্রকরণগুলোতে (কখনো Rosa chinensis var. spontanea হিসেবে বর্ণিত) পাঁচটি ঈষৎ গোলাপি থেকে লাল রঙের পাপড়ি থাকে। এদের ফলগুলো ১–২ সেন্টিমিটার ব্যাসবিশিষ্ট। উদ্ভিদের শক্ত, সরু শাখাগুলোতে উন্মুক্ত, ঈষৎ বাদামি বাকল থাকে। শাখা ও কাণ্ডে বাঁকা, পুরু, সরল কণ্টক বা কাঁটা থাকতে পারে। পর্যায়ক্রমে সজ্জিত পাতা বৃন্ত ও পত্রফলকে বিভক্ত। পাতাগুলো দৈর্ঘ্যে ৫ থেকে ১১ ইঞ্চি পর্যন্ত হতে পারে।

উদ্ভিদের বৃন্ত ও র‍্যাকিস সামান্য প্রলম্বিত, গ্রন্থিময় ও লোমশ। এদের পক্ষল পাতায় তিন থেকে পাঁচটি এবং কখনো কখনো সাতটি পর্যন্ত পিনা বা উপপত্র থাকতে পারে। উপপত্রগুলো গোলাকার, প্রলম্বিত গোলাকার, ঈষৎ গোলাকার বা প্রশস্ত কীলকাকৃতির হতে পারে। এগুলো উপর থেকে নিচের দিকে ক্রমশ সরু হয়ে যায়। উপপত্রগুলো ২.৫ থেকে ৬ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা এবং ১ থেকে ৩ সেন্টিমিটার পর্যন্ত চওড়া হয়। পাতাগুলো প্রায় অনাবৃত এবং এদের উপরিভাগ চকচকে গাঢ় সবুজ রঙের। উপপত্রগুলো মূলত পাতার বৃন্তের সাথে যুক্ত। বৃন্তের মুক্ত অঞ্চল কাণ্ডের সাথে যুক্ত, সম্পূর্ণটি উপরের দিকে উত্থিত এবং প্রায়শই গ্রন্থিময় ও লোমশ হয়ে থাকে।[৭]

ফুল[সম্পাদনা]

রোসা চিনেনসিস 'ওল্ড ব্লাশ'

চীনে এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাসে উদ্ভিদে ফুল আসে। একটিমাত্র ফুল আসা দুর্লভ। সাধারণত, চার থেকে পাঁচটি ফুল একসাথে ফোটে। ২.৫ থেকে ৬ সেন্টিমিটার লম্বা পেডিসেল লোমশ কিংবা গ্রন্থিময় হয়ে থাকে। এক থেকে তিনটি মঞ্জরিদণ্ড উপরের দিকে উত্থিত থাকে এবং মসৃণ বা গ্রন্থিময় হয়ে থাকে। ফুলগুলোতে মৃদু সুগন্ধ থাকে।

৪ থেকে ৫ সেন্টিমিটার ব্যাসবিশিষ্ট উভলিঙ্গ ফুলগুলো অরীয়ভাবে প্রতিসম এবং দুইটি বৃতিতে বিভক্ত। চাষকৃত উদ্ভিদে ফুলগুলো আরও ঘনসন্নিবিষ্ট বা হালকা হতে পারে। বুনো পরিবেশে এ সকল ধরনের গোলাপ চীন ও ক্রান্তীয় অক্ষাংশের অন্যান্য অঞ্চলে পাওয়া যায়। ফাঁকা পুষ্পাধার অনেকটা ডিম্বাকৃতির গোলাকার বা নাশপাতি আকার। প্রথম অবস্থায় বৃত্যাংশগুলো গোলাকার বা পাতার মতো, সরল বা লোবড। এগুলোর অভ্যন্তরভাগ মসৃণ এবং বহির্ভাগ রুক্ষ বা রোমশ।

রূপভেদের ওপর নির্ভর করে ফুলগুলোতে গোলাপি থেকে লাল বা রক্তবর্ণের পাঁচ বা তার বেশি সংখ্যক পাপড়ি থাকে। পাপড়িগুলো অবোভেট ধরনের; অর্থাৎ মূল অংশটি সরু এবং প্রান্তভাগ চওড়া ও মসৃণ। ফুলে বহু পুংকেশর বিদ্যমান। মুক্ত ও চুলের মতো স্টাইলাসগুলো পাপড়ির ওপর সজ্জিত এবং পুংকেশরগুলোর প্রায় সমান। চীনে জুন থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত গোলাপের ফলগুলো পাকতে থাকে এবং লালবর্ণ ধারণ করে। ১ থেকে ২ সেন্টিমিটার ব্যাসবিশিষ্ট মসৃণ ফলগুলো অনেকটা ডিম্বাকৃতির বা নাশপাতি আকৃতির হয়ে থাকে।[৮]

চাষাবাদ[সম্পাদনা]

চীনে অনেক আগে থেকেই বাগানে চীনা গোলাপ বা বাংলা গোলাপের চাষ হয়ে আসছে। এ কারণে এই প্রজাতির গোলাপের বন্য প্রকরণ ও চাষাবাদকৃত প্রকরণ আলাদা করা কঠিন। উদ্যানকৃষিতে বাংলা গোলাপের বহু জাত সৃষ্টি করা হয়েছে। এই ধরনের গাছগুলো মূলত উদ্যানে শোভাবর্ধক গাছ হিসেবে লাগানো হয়। বিশেষ করে চীনে উদ্যান উদ্ভিদ হিসেবে অনেক ধরনের কাল্টিভার নির্বাচন করা হয়েছে, যা সম্মিলিত “চায়না রোজ” নামে পরিচিত। রোসা জাইগ্যান্টি উদ্ভিদের সাথে এদের বহুল পরিমাণে আন্তঃপ্রজাতিক ঘটিয়ে রোসা × ওডোরাটা জাতের গোলাপ উৎপাদন করা হয়েছে। এদের আরও সংকরায়নের মাধ্যমে চা-গন্ধী গোলাপ বা টি-রোজ এবং হাইব্রিড টি-রোজ উৎপাদন করা হয়েছে। এই জাতগুলো গ্রীষ্মকালে ব্যাপক ফুল উৎপাদন করে বিধায়, এগুলোকে গোলাপের “উদীয়মান” প্রকরণের উৎস হিসেবে গণ্য করা হয়।[৯]

প্রকরণ[সম্পাদনা]

ফ্লোরা অব চায়না গ্রন্থে এই প্রজাতির তিনটি প্রকরণ শনাক্ত করা হয়েছে:[১০]

  • R. chinensis var. chinensis, চাষাবাদের মাধ্যমে উৎপন্ন, এদের পাপড়ি লালবর্ণের
  • R. chinensis var. spontanea, কুয়েইচৌ, হুবেই ও সিচুয়ান প্রদেশের স্থানীয় প্রকরণ, এদের পাপড়ির রঙও লাল
  • R. chinensis var. semperflorens (Curtis) Koehne, চাষাবাদের মাধ্যমে উৎপন্ন, এদের পাপড়ি গাঢ় লাল বা রক্তবর্ণ

ব্যবহার[সম্পাদনা]

ক্রমপুষ্পায়নের অনন্য বৈশিষ্ট্যের জন্য বাংলা গোলাপ আধুনিক উদ্যানতত্ত্বে গোলাপের নতুন জাত বা প্রকরণ উৎপাদনের জন্য গুরুত্ববাহী। তবে ক্রমাগত পুষ্পায়নের বৈশিষ্ট্যটি বন্য প্রজাতির বাংলা গোলাপে পাওয়া যায় না।[১১] এছাড়া বাংলা গোলাপ আরও বিভিন্নভাবে ব্যবহার করা হয়। অঙ্গজ জননের মাধ্যমে উৎপাদিত কচি উদ্ভিদাংশ, ফুলের কুঁড়ি ও ফুল চোলাই করা হয় এবং সবজি হিসেবে স্যুপে ব্যবহার করা হয়। গোলাপের ফলগুলোর পুরু আবরণ কাঁচা অবস্থায় কিংবা রান্না করে খাওয়া হয়। ফলের বীজের লোমশ অংশ কোনোভাবেই মুখে বা গলায় যাওয়া উচিত নয়; খুব সতর্কতার সাথে এগুলো পরিষ্কার করা উচিত। গোলাপের বীজ ভিটামিন ইয়ের খুব ভালো উৎস। বীজগুলোকে গুঁড়ো করে আটা বা অন্যান্য খাবারের সাথে মিশিয়েও খাওয়া যায়।[১২]

চিত্রশালা[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "The Plant List: A Working List of All Plant Species"। সংগ্রহের তারিখ ২৮ ডিসেম্বর ২০১৪ 
  2. "BSBI List 2007"। Botanical Society of Britain and Ireland। ২০১৫-০১-২৫ তারিখে মূল (xls) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জুলাই ২০১৫ 
  3. "Rosa chinensis" (ইংরেজি ভাষায়)। ন্যাচারাল রিসোর্সেস কনসারভেশন সার্ভিস প্ল্যান্টস ডেটাবেস। ইউএসডিএ। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জুলাই ২০১৫ 
  4. Pearson, Dan (২ মে ২০১৭)। Natural Selection: A year in the gardenআইএসবিএন 9781783351190 
  5. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ১২ এপ্রিল ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২১ 
  6. https://www.theguardian.com/lifeandstyle/2007/jun/17/gardens
  7. Gu Cuizhi & Kenneth R. Robertson: Rosa : Rosa chinensis, p 368 - Registered text as printed work , In: Wu Zheng-yi & Peter H. Raven (Ed.): Flora of China , Volume 9 - Pittosporaceae through Connaraceae , Science Press and Missouri Botanical Garden Press, Beijing and St. Louis, 2003. আইএসবিএন ১-৯৩০৭২৩-১৪-৮
  8. Heinrich Schultheis: Roses: the best types and varieties for the garden , p. 58, Ulmer: Stuttgart 1996, আইএসবিএন ৩-৮০০১-৬৬০১-১
  9. Ute Bauer: Old Roses: History, Use, Design, Nursing Practice , p. 14, BLV: Munich 2004, আইএসবিএন ৩-৪০৫-১৬৭১৩-২
  10. Flora of China: Rosa chinensis
  11. Phillips, R.; Rix, M. (২০০৪)। The Ultimate Guide to Roses: A Comprehensive Selection। Macmillan। আইএসবিএন 1-4050-4920-0 
  12. Wu Zheng-yi & Peter H. Raven (ed.): Flora of China , Volume 9 - Pittosporaceae through Connaraceae , Science Press and Missouri Botanical Garden Press, Beijing and St. Louis, 2003. আইএসবিএন ১-৯৩০৭২৩-১৪-৮ (Sections Description, Occurrence and Systematics)

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]