বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতাল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতাল
বাংলাদেশ মেডিকেল এ্যাসোসিয়েশন
ভৌগলিক অবস্থান
অবস্থানমেলাঘর, আগরতলা, ত্রিপুরা, ভারত
সংস্থা
তহবিলঅস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশ মেডিকেল এ্যাসোসিয়েশন
হাসপাতালের ধরনসাধারণ
পৃষ্ঠপোষকডা. এম এ মবিন
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী
পরিষেবা
বিছানা৪৮০
ইতিহাস
প্রতিষ্ঠিত১৯৭১
বন্ধ১৯৭২

বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতাল হলো অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারের সরাসরি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত একটি এবং একমাত্র স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান।[১] এটি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মেলাঘরে প্রতিষ্ঠা করা হয়।[২]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

এই হাসপাতালের সূচনা হয় ১৯৭১ সালে ভারতের মাটিতে, আগরতলার বিশ্রামগঞ্জে। মুক্তিযুদ্ধের ২ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার খালেদ মোশাররফ তখন সেই এলাকা থেকে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করছিলেন। যুদ্ধে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার জন্যে গড়ে তোলা হয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। নাম দেওয়া হয় বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতাল। ছন, বাঁশ দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল ৪৮০ শয্যার হাসপাতাল, অপারেশন থিয়েটার। যুদ্ধে গুরুতর আহত মুক্তিযোদ্ধাদের জটিল অপারেশনও করা হতো বাঁশের তৈরি এই হাসপাতালে। হাসপাতালটির অন্যতম উদ্যোক্তা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও তৎকালীন পাকিস্তানের একমাত্র কার্ডিয়াক সার্জন ডা. এম এ মবিন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় নানা ঘটনা চক্রে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন। সেই সময় এক জরুরি বৈঠকে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় ১৯৭১ সালে মে মাসের মধ্যেই ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও ডা. এম এ মবিন নিজ খরচে কলকাতা যাবেন প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য। নানান ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে ইন্ডিয়ান এয়ারলাইনসে কলকাতা থেকে আগরতলা আসেন তারা। দুই নম্বর সেক্টরের মেজর খালেদ মোশাররফ, মেজর জিয়া, সফিউল্লাহ, মীর শওকত আলী ও অন্যদের সঙ্গে দেখা করেন তারা। যুদ্ধে ফিল্ড হাসপাতালের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জানান তারা। প্রথমে রাজি না হলেও আহত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা বাড়তে থাকায় মেজর খালেদ মত বদলাতে বাধ্য হন। দুই মাসের নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর দেহরক্ষী হাবুল ব্যানার্জির আনারসবাগানে শুরু হয় ‘বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতাল’।[৩]

প্যারামেডিক প্রশিক্ষণ দিয়ে গড়ে তোলা হয়েছিল একদল সেবাদানকারী। মানবাধিকার কর্মী ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামালও তাদের একজন।মুক্তিযুদ্ধের প্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতাল’  পরিবর্তিত ‘গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র’ নামে যাত্রা শুরু করে ১৯৭২ সালে। [৪]

সংযুক্ত ব্যক্তিবর্গ[সম্পাদনা]

‘২৪ আগস্ট মঙ্গলবার ১৯৭১’

‘...চেনা হয়ে উঠেছে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ডা. এম এ মোবিন। এরা দুজনে ইংল্যান্ডে এফআরসিএস পড়ছিল। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করে বিলেতে চার বছর হাড়ভাঙা খাটুনির পর যখন এফআরসিএস পরীক্ষা মাত্র এক সপ্তাহ পরে, তখনই বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। ছেলে দুটি পরীক্ষা বাদ দিয়ে বাংলাদেশ আন্দোলনে অংশ নিল, পাকিস্তানি নাগরিকত্ব বর্জন করল, ভারতীয় ট্রাভেল পারমিট যোগাড় করে দিল্লির প্লেনে চড়ে বসল, উদ্দেশ্য ওখান থেকে কলকাতা হয়ে রণাঙ্গনে যাওয়া। প্লেনটা ছিলো সিরিয়া এয়ারলাইন্সের। দামাস্কাসে পাঁচ ঘণ্টা লেট। সব যাত্রী নেমেছে ওরা দুজন আর প্লেন থেকে নামে না। ভাগ্যিস নামেনি। এয়ারপোর্টে এক পাকিস্তানি কর্নেল উপস্থিত ছিল ওই দুজন পলাতক পাকিস্তানি নাগরিককে গ্রেপ্তার করার জন্য। প্লেনের মধ্যে কাউকে গ্রেপ্তার করা যায় না। কারণ প্লেন ইন্টারন্যাশনাল জোন। দামাস্কাসে সিরিয়ান এয়ারপোর্ট কর্মকর্তা ওদের দুজনকে জানিয়েছিলো ওদের জন্যই প্লেন পাঁচ ঘণ্টা লেট। এমনি করে ওরা বিপদের মধ্য দিয়ে মে মাসের শেষাশেষি সেক্টর-টু রণাঙ্গনে হাজির হয়েছে।’

-একাত্তরের দিনগুলি, শহীদ জননী জাহানারা ইমাম[৫]

এই প্রতিষ্ঠানটির সাথে প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে যুক্ত ছিলেন ডা. মোঃ আব্দুল মবিন এবং ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী[২] সেক্টর-২ এর অধীনে সেখানের কমান্ডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করতেন ডা. ক্যাপ্টেন সিতারা রহমান, বীর প্রতীক[৬] এছাড়াও এখানে স্বেচ্ছাসেবী হিসাবে যুক্ত ছিলেন সুলতানা কামাল[১]

ডা. মোবিন সেই সময়ে হাসপাতালে কর্মরত কয়েকজন নার্সের কথা উল্লেখ করেন। নার্সদের প্রধান ছিলেন ঢাকার ইডেন কলেজের শিক্ষক জাকিয়া আপা, তাঁর ডেপুটি ছিলেন সুলতানা কামাল। ছিলেন সাইদা কামাল, তার স্ত্রী সৈয়দা নুরুননাহার। নীলিমা বৈদ্য ছিল একমাত্র পাস করা স্টাফ নার্স।[৭]

মুক্তিযুদ্ধে অবদান[সম্পাদনা]

পুরস্কার ও সম্মননা[সম্পাদনা]

বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতালের কমান্ডিং অফিসারের দায়িত্বে থাকা ডা. ক্যাপ্টেন সিতারা রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অনন্য অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক “বীর প্রতীক” উপাধীতে ভূষিত হয়েছেন।[৬]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও তার গণস্বাস্থ্য"। theprofiles। ১৪ জুলাই ২০১৭। ৪ আগস্ট ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৪ অক্টোবর ২০১৭ 
  2. "আমি শেখ হাসিনারও শুভানুধ্যায়ী : জাফরুল্লাহ চৌধুরী"দৈনিক প্রথম আলো। ১৭ এপ্রিল ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ২৩ অক্টোবর ২০১৭ 
  3. "মুক্তিযুদ্ধের ফিল্ড হাসপাতাল | কালের কণ্ঠ"Kalerkantho। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৮-০৭ 
  4. "মুক্তিযুদ্ধ, গণস্বাস্থ্য, ডা. জাফরুল্লাহ ও মাছ চোর"The Daily Star Bangla। ২০১৮-১১-০১। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৮-০৭ 
  5. "একাত্তরের দিনগুলি : দগ্ধ ও কোমল মৃত্তিকার ইতিহাস"www.bhorerkagoj.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৮-০৭ 
  6. "তোমাদের এ ঋণ শোধ হবে না"দৈনিক প্রথম আলো। ১৩ জুন ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ২৪ অক্টোবর ২০১৭ 
  7. "ফিরে দেখা একাত্তর: একদল চিকিৎসাকর্মী ও একঝাঁক শরণার্থীর কথা | মতামত"opinion.bdnews24.com (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৬-১২-২৬। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৮-০৭ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]