বনু আমির

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
বনু আমির ইবনে সাসা
(আরবি: بنو عامر بن صعصعة‎‎)
আদানী/কায়েস আরব গোত্র
Banu Hawazin.png
বনু আমিরের বংশক্রম
Locationখুরমাহ এবং রানিয়াহ, নজদ ও হেজাজের মাঝে
Descended fromআমির ইবনে সাসা ইবনে মুয়াবিয়াহ ইবনে বকর ইবনে হাওয়াজিন '
Branches
Religionপ্রাক ইসলামী আরবে ধর্ম (৬৩০ সালের পূর্বে
ইসলাম (৬৩০ সালের পরে)

বানু 'আমির ইবনে শা'সা'আহ ( আরবি: بنو عامر بن صعصعة‎‎ ) মধ্য ও দক্ষিণ-পশ্চিম আরব থেকে আসা একটি বৃহত এবং প্রাচীন আরব উপজাতি ছিল যারা ইসলামের উত্থানের পর শতাব্দী ধরে নজদ অঞ্চলে আধিপত্য করে। বংশের উত্তর আরব শাখা হাওয়াজিনের মাধ্যমে আদনান এর সাথে যুক্ত এবং তাদে মূলবাসভূমি নজদ এবং হেজাজ এর মধ্যকার খুরমাহ ও রানায়াহ'তে ছিলো। বানু আমির ইসলামের আবির্ভাবের আগে কুরাইশের সাথে দীর্ঘ যুদ্ধে লিপ্ত ছিল। তবে এই গোত্রটি দেরীতে হলে মুহাম্মদ এবং তার উত্তরসূরীদের আনুগত্য স্বীকার করে নেয়। বনু আমির মুহাম্মদের মৃত্যুর পরে রিদ্দা ("ধর্মত্যাগ") এ অংশ নিয়েছিলেন এবং এর পরিবর্তে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ধর্মত্যাগীদের সাথে জোটবদ্ধ হয়েছিলেন। সেই সময়কালে গোত্রটিতে বেশ কয়েকজন সুপরিচিত আরবি কবি জন্ম নেয়। যার মধ্যে সর্বাধিক বিখ্যাত সাতটি ফাঁসি কবিতার লেখক লবিদ ইবনে রাবিয়া ছিলেন। অন্যান্য কবিরা হলেন 'একজন গুরুত্বপূর্ণ গোত্র প্রধান আমির ইবনুল তুফায়াল ; আল-রাই আল-নুমায়রি, জারির একজন প্রতিদ্বন্ধী; এবং মহিলা কবি লায়লা আল-আখালিয়্যাহ । লায়লা মজনু রোমান্টিক কাহিনীর চরিত্র কায়েস এবং লায়লার বনু আমিরের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

শাখা[সম্পাদনা]

বনু 'আমির ইবনে সা'সাহ থেকে শাখা-প্রশাখার গোত্রদের একটি বংশক্রম।

এই সংঘ গঠনকারী প্রধান গোত্রগুলি ছিল:

  • বনু কিলাব - কিলাব ইবনে রাবিয়া ইবনে 'আমির ইবনে সা'সা ইবনে মুয়াবিয়া ইবনে বকর ইবনে হাওয়াযিনের বংশধরগণ। একটি বেদুইন গোত্র যারা পশ্চিম নজদে বাস করতো এবং ইসলামের পূর্বে বনু আমির সংঘকে নেতৃত্ব দিয়েছিল। অন্যান্য আমিরী গোত্রগুলোর মতো তারাও পূর্ব আরবীয় কার্মাতিয়ান আন্দোলনের সাথে জোটবদ্ধ ছিল, তারপর কার্টম্যাতিয়ান শেষ হয়ে যাওয়ার পরে তারা মধ্য আর্রে আধিপত্য বিস্তার করে। পরে গোত্রটি উত্তরে সিরিয়ায় চলে আসে এবং দ্রুত সেখানে মিরাদাসিদ রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করে। এই গোত্রটি মামলু আমলে সেখানে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে বসতি স্থাপন করে।
  • বনু নুমায়র - বেশিরভাগ বেদুইন গোত্র যারা আল-ইয়ামামার পশ্চিম সীমান্তে বাস করত এবং উমাইয়া বংশের সাথে জোটবদ্ধ ছিল। আল-ইয়ামামার বিরুদ্ধে নবম শতাব্দীর আব্বাসীয় সামরিক অভিযানের পরে তারা ইরাকের ফোরাত নদীর তীরে রওয়ানা হয়েছিল।
  • বনু কাব - এই শাখাটি বনী আমীরের বৃহত্তম অংশ ছিল এবং এটি চারটি গোত্রে বিভক্ত ছিল: বনু উকায়ল, বানু জা'দা, বানু কুশায়র এবং আল হারিশ। এরা সবাই আল-ইয়ামামার স্থানীয়, বিশেষত দক্ষিণাঞ্চলের যাজক এবং স্থায়ী কৃষক সম্প্রদায়ের লোক।চারটির মধ্যে বনু উকাইল ছিলো বৃহত্তম ও শক্তিশালী। আব্বাসীয় যুগের শেষের দিকে উত্তর ইরাকের উদ্দেশ্যে যাত্রা করার পরে, বনু উকাইলের সদস্যরা মোসুলের (৫ম ইসলামিক শতাব্দী) উকায়লিদ রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেছিল। পরে গোত্রের কিছু অংশ আরবে ফিরে আসে এবং বাহরাইন প্রদেশে বসতি স্থাপন করে। সেখানে তারা উসফুরিদ এবং জাব্রিদ রাজবংশের জন্ম দেয়। ইরাকের বেশ কয়েকটি উপজাতি গোষ্ঠীর উদ্ভব হয়েছিল উকায়েল থেকে, যার মধ্যে খফাজাহ, উবাদাহ এবং আল-মুনতাফিক অন্যতম। কাবের অন্যান্য শাখাগুলো পরে আল-ইয়ামামাহ এবং নজদ ছেড়ে চলে যায় এবং পারস্য উপসাগরের দুই তীরে স্থায়ী হয়। তারা এখন বানী কাব নামে পরিচিত এবং বেশিরভাগ ইরানের আহওয়াজ অঞ্চলে বাস করে।
  • বনু হিলাল - সম্ভবত সবচেয়ে সুপরিচিত আমিরি গোত্তার। তারা ১১ শতকে মিশরের ফাতেমীয় শাসকদের দ্বারা তালিকাভুক্ত হয়। ১৫৩৫ সালে বনু আমির শাসক ইবনে রেদওয়ান টলেমসেন শহর আক্রমণের সময়ে স্পেনের সাথে সহযোগী হয়। এর লক্ষ্য ছিলো ট্লেমসেনের সুলতান মুহাম্মদকে সরিয়ে রাদওয়ানের ছোট ভাই আবদুল্লাহকে বসানো। সুলতান মুহাম্মদের নেতৃত্বে বনু রশিদ গোত্র তাদের বিরোধিতা করেছিল এবং স্পেনীয় বাহিনী টিবদা দুর্গ দখল করে ৭০ জন বাদে বাকি সবাইকে হত্যা করে। [১]

ইরাকের উকাইলিদ গোত্র ছাড়াও, আধুনিক গোত্রদের মধ্যে সুবায়, নজদের এবং বনু খালিদের কিছু অংশ বনু আমিরের উত্তরসূরী।

নবী মুহাম্মদের আমলে সামরিক অভিযান[সম্পাদনা]

গোত্রটি মুহাম্মদের সাথে সামরিক সংঘাতের সাথে জড়িত ছিল। উহুদ যুদ্ধের চার মাস পর বনু আমিরের একটি প্রতিনিধি দল মুহাম্মদের নিকটে এসে তাঁকে একটি উপহার প্রদান করে। আবু বারা মদিনায় অবস্থান করছিলেন। মুহাম্মদ সেই উপহার গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন। কারণ এটি মুশরিকের কাছ থেকে এসেছিলো। তিনি আবু বারাকে ইসলাম গ্রহণ করতে বলেন। আবু বারা মুহাম্মাদকে কিছু মুসলমানকে নজদের লোকদের ইসলামে ডাকার জন্যে পাঠানোর অনুরোধ করেন। প্রথমে মুহাম্মদ এ সম্পর্কে বেশ ভয় পেয়েছিলেন, কারণ তিনি আশঙ্কা করেছিলেন যে এই মুসলিমদের কোন ক্ষতি হতে পারে। মুহাম্মদের দ্বিধায় আবু বারা মুহাম্মদের দূতদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিয়েছিলেন। [২]

ইবনে ইসহাকের জীবনী দাবি করেছে যে তাদের কাছে চল্লিশ জনকে প্রেরণ করা হয়েছিল; তবে সহিহ আল বুখারী অনুযায়ী এখানে সত্তর জন ছিল - আল-মুন্ধির ইবনে আমর, বানু সা'ইদার অন্যতম একজন, দলটির নেতৃত্ব দেন। দলের সদস্যগণ কুরআন ও আইনশাস্ত্রে সবচেয়ে সেরা এবং সর্বাধিক জ্ঞানী ছিল । [২]

মুহাম্মদ ৬২৯ সালের জুন মাসে সুজা ইবন ওহাব আল-আসাদি অভিযানের জুন নির্দেশ দেন। [৩][৪][৫]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. A history of the Maghrib in the Islamic period by Jamil M. Abun-Nasr p.153ff
  2. Mubarakpuri, The sealed nectar: biography of the Noble Prophet, pp. 352.
  3. Abu Khalil, Shawqi (১ মার্চ ২০০৪)। Atlas of the Prophet's biography: places, nations, landmarks। Dar-us-Salam। পৃষ্ঠা 212। আইএসবিএন 978-9960897714 
  4. William Muir, The life of Mahomet and history of Islam to the era of the Hegira, Volume 4, p. 93 (footnote).
  5. Mubarakpuri, The Sealed Nectar, p. 244. (online)