ফলের স্যুপ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
চাইনিজ ফলের স্যুপ
তরমুজের স্যুপ

ফলের স্যুপে ফল প্রাথমিক উপাদান হিসাবে ব্যবহার করে প্রস্তুত করা এক ধরনের স্যুপ। এবং এটি রেসিপিটি নির্ভর করে গরম বা ঠান্ডা পরিবেশন করা যায়। কিছু ফলের স্যুপে বিভিন্ন ধরনের ফল ব্যবহার করে। এবং কিছু সময়ে মদ্যপ পানীয় যেমন রাম, শেরি এবং কির্চ (একটি ফলের ব্র্যান্ডি) ব্যবহার করা হয়। [১] ফলের স্যুপ কখনও কখনও ডেজার্ট (মিষ্টান্ন) হিসাবে পরিবেশন করা হয়।

যখন উষ্ণ আবহাওয়ার সময় ফল মৌসুমে থাকে তখন অনেক রেসিপিতে শীতল স্যুপের জন্য বরফ দেওয়া হয় । [২] পরিবেশনের উপর নির্ভর শুকনো ফল যেমন শুকনো হিসাবে আলুবোখারা, এপ্রিকট [৩] এবং কিশমিশ দেওয়া হয়। এইভাবে কোন মরসুমে প্রস্তুত করা তার উপর নির্ভর করে ফলের ব্যবহার ভিন্ন হতে পারে। ফলের স্যুপে দুধ [১] বা ক্রিম, মিষ্টি বা সুস্বাদু ডাম্পলিংস, মশলা বা মদ্যপ পানীয় যেমন মিষ্টি ওয়াইন, হোয়াইট ওয়াইন, ব্র্যান্ডি বা শ্যাম্পেন দেওয়া থাকতে পারে।

বৈচিত্র্য[সম্পাদনা]

টক চেরি স্যুপ

অ্যাভোকাডো স্যুপ একটি ফলের স্যুপ যা একটি ঠান্ডা বা গরম পানীয় হিসাবে প্রস্তুত এবং পরিবেশিত করা হয়। [৪][৫]

ব্লাবার্সোপ্পা একটি সুইডিশ রন্ধনপ্রণালী, যা সাধারণত প্রচুর পরিমাণে কয়েক ধরনের বেরি (উদাহরণস্বরূপ ব্লুবেরি,[৬] বিলবারি, রাসমবেরি, স্ট্রবেরি এবং / অথবা লিংগনবেরি), চিনি, জল এবং লেস সিডার বা আজকাল সাধারণত কম পরিমাণে শ্যাম্পেন থাকে। বেরি, চিনি এবং জল এক সাথে সিদ্ধ করে একটি স্যুপ তৈরি করা হয়, যা পরে ঠান্ডা করে পরিবেশন করা হয়। যখন এটি ঠান্ডা পরিবেশিত হয় তখন এতে সিডার বা শ্যাম্পেন যুক্ত করা হয় যা স্যুপকে আরও সতেজ এবং সামান্য কার্বনেটেড করে তোলে।

নারকেল স্যুপ একটি ফলের স্যুপ যাতে নারকেলের দুধ এবং নারকেল ফল ব্যবহার করে প্রস্তুত করা যায়।

টক ক্রিম, চিনি এবং পুরো টাটকা টক চেরি দিয়ে তৈরি এবং কাঁচা মজাদার টক চেরি স্যুপ। এটি সামান্য মিষ্টি জাতীয় স্যুপ । হাঙ্গেরীয় রান্নায় উদ্ভূত এই স্যুপটি বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের খাবারে গ্রীষ্মের সময়ে পরিবেশন করা হয় । এটি ওয়াইন [৭][৮] বা পোর্ট ওয়াইন ব্যবহার করে প্রস্তুত হতে পারে।

মাড়, বিশেষত আলুর মাড়, ফলের স্যুপ ঘন করতে এবং কিসেল নামে সান্দ্র মিষ্টান্নের ফলের রেসিপি বা পদ তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়।

অঞ্চল ও দেশ অনুসারে[সম্পাদনা]

ব্লুবেরি স্যুপ

স্ক্যান্ডিনেভিয়ান, বাল্টিক,[৯] পূর্ব ইউরোপীয়,[২][১০][১১] মধ্য ইউরোপ এবং নর্ডিক রন্ধনশৈলীতে ঠান্ডা এবং উষ্ণ ফলের স্যুপ জনপ্রিয় খাদ্য (উদাঃ নাইপোনসপা, ব্লাবারসোপা, কিসেল, হিগড মেগিলেভস এবং ক্রেন্টজেব্রিজ) )। গরম ফলের স্যুপের মধ্য প্রাচ্য, মধ্য এশীয় এবং চীনা রন্ধনশৈলীতে দেখা যায়। এই উত্তরোত্তর অঞ্চলে কিছু ফলের স্যুপ ঠান্ডা পরিবেশন করা হয়। এবং উপাদান হিসাবে মাংস ব্যবহার করে প্রস্তুত করা হয়।

চীন[সম্পাদনা]

শীতল আমের স্যুপ এবং বাদাম- ফলের স্যুপ চাইনিজ খাবারের রেসিপি হিসাবে তৈরি করা হয়। [১২][১৩] বাদাম-ফলের স্যুপ খাবার শেষে মিষ্টি খাদ্য হিসাবে পরিবেশন করা হয়।

ইউরোপ[সম্পাদনা]

পূর্ব ইউরোপের খাবারে শীতল ফলের স্যুপ একটি ঐতিহ্যবাহী পানীয়। [২]

নরডিক দেশ[সম্পাদনা]

নরডিক দেশে ফলের স্যুপ অনেক জনপ্রিয়। [১৪]

স্ক্যান্ডিনেভিয়ার দেশগুলিতে ফলের স্যুপ প্রচলিত জনপ্রিয় পানীয় হিসাবে প্রচলিত। [১৫] এবং শীতকালে এই অঞ্চলে প্রাতঃরাশের স্যুপ হিসাবে খাওয়া হয় এই জনপ্রিয় পানীয় বা খাদ্য। [১৬] স্ক্যান্ডিনেভিয়ার দেশগুলোতে সুইডিশ ফলের স্যুপ প্রধান খাদ্য এবং শীতের মাসগুলোতে স্যুপ শুকনো ফল থেকে প্রস্তুত করা হয়। [১৭] স্ক্যান্ডিনেভিয়ার খাবারে ঠান্ডা ফলের স্যুপ গ্রহণ একটি ঐতিহ্যবাহী রীতি। [২]

মধ্যপ্রাচ্য[সম্পাদনা]

ফলের স্যুপ মধ্য প্রাচ্যে ঐতিহ্যবাহী একটি খাদ্য। [১৫]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Harris, M.R. (1993). Tropical Fruit Cookbook. Kolowalu Bks. University of Hawaii Press. p. 13. ISBN 978-0-8248-1441-0.
  2. Sethia, A.; Agarwal, M. (2012). Healthy Cooking for Patients with Kidney Ailments. Rupa Publications India. p. 38. ISBN 978-81-291-1796-0.
  3. Munsen, S. (2002). Cooking the Norwegian Way: Revised and Expanded to Include New Low-fat and Vegetarian Recipes. Easy Menu Ethnic Cookbooks 2nd Edition. Ebsco Publishing. p. 55. ISBN 978-0-8225-0537-2.
  4. Sackett, L.; Pestka, J. (২০১০)। Professional Garde Manger: A Comprehensive Guide to Cold Food Preparation। John Wiley & Sons। পৃষ্ঠা 298। আইএসবিএন 978-0-470-17996-3 
  5. Sandler, B. (১৯৭০)। The African Cookbook। Carol Publishing Group। পৃষ্ঠা 146। আইএসবিএন 978-0-8065-1398-0 
  6. Ohlsen, B. (2010). Stockholm Encounter. Encounter (Lonely Planet Publications (Firm))). Lonely Planet. p. 182. ISBN 978-1-74179-286-7.
  7. De Gouy, L.P. (2012). The Soup Book: Over 800 Recipes. Dover Publications. p. 84. ISBN 978-0-486-14449-8.
  8. Ferrary, J.; Fiszer, L. (1995). Good Day for Soup: Over 200 Recipes for Any Occasion. Chronicle Books. p. 231. ISBN 978-0-8118-0467-7.
  9. Roufs, T.G.; Roufs, K.S. (2014). Sweet Treats around the World: An Encyclopedia of Food and Culture. ABC-CLIO. p. 33. ISBN 978-1-61069-221-2.
  10. Goldstein, D.; Mintz, S.; Krondl, M.; Rath, E.; Mason, L.; Quinzio, G.; Heinzelmann, U. (2015). The Oxford Companion to Sugar and Sweets. Oxford University Press. p. 630. ISBN 978-0-19-931361-7.
  11. Woods, D. (2000). Millennium Fruit Soup Cookbook. AuthorHouse. p. 1. ISBN 978-0-595-00182-8.
  12. Foo, Susanna (2002). Susanna Foo Chinese Cuisine: The Fabulous Flavors and Innovative Recipes of North America's Finest Chinese Cook. Houghton Mifflin Harcourt. p. 329. ISBN 978-0-547-34726-4.
  13. ParĂŠ, J. (2003). Chinese Cooking. Company's Coming. Company's Coming Publishing, Limited. p. 148. ISBN 978-1-896891-56-9.
  14. Davidson, A.; Jaine, T.; Vannithone, S. (2014). The Oxford Companion to Food. Oxford Companions Series. Oxford University Press. p. 332. ISBN 978-0-19-967733-7.
  15. McNair, J.K.; Brabant, P. (1990). James McNair's Soups. Chronicle Books. p. 77. ISBN 978-0-87701-753-0.
  16. "Scandinavians, Diet of" ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৪ মার্চ ২০১৬ তারিখে. Diet.com. Retrieved April 10, 2015.
  17. Larsen, L. (2011). Starter Cook: A Beginner Home Cook's Guide to Basic Kitchen Skills and Techniques. Lyons Press. p. 277. ISBN 978-0-7627-7569-9.

আরও পড়ুন[সম্পাদনা]