পিটার ওয়াকার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
পিটার ওয়াকার
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামপিটার মাইকেল ওয়াকার
জন্ম (1936-02-17) ১৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৬ (বয়স ৮৩)
ক্লিফটন, ব্রিস্টল, ইংল্যান্ড
উচ্চতা৬ ফুট ৪ ইঞ্চি (১.৯৩ মিটার)
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনবামহাতি
ভূমিকাঅল-রাউন্ডার, ধারাভাষ্যকার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৪০০)
৯ জুন ১৯৬০ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
শেষ টেস্ট৭ জুলাই ১৯৬০ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৪৬৯
রানের সংখ্যা ১২৮ ১৭,৬৫০
ব্যাটিং গড় ৩২.০০ ২৬.০৩
১০০/৫০ –/১ ১৩/৯২
সর্বোচ্চ রান ৫২ ১৫২*
বল করেছে ৭৮ ৫৮,১২৫
উইকেট ৮৩৪
বোলিং গড় ২৮.৬৩
ইনিংসে ৫ উইকেট ২৫
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৭/৫৮
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৫/– ৬৯৭/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১৯ নভেম্বর ২০১৯

পিটার মাইকেল ওয়াকার, এমবিই (ইংরেজি: Peter Walker; জন্ম: ১৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৬) ব্রিস্টলের ক্লিফটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী সাবেক ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার।[১] ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৬০ সালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে গ্ল্যামারগন এবং দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ট্রান্সভাল ও ওয়েস্টার্ন প্রভিন্স দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে কার্যকরী বোলিংশৈলী উপস্থাপন করেছেন পিটার ওয়াকার

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৫৬ সাল থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত পিটার ওয়াকারের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। কাউন্টি ক্রিকেটে অংশগ্রহণকৃত সবগুলো খেলাই গ্ল্যামারগনের পক্ষে খেলেন।[১] ক্রিকেট খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুরদিকে শীতকালে দক্ষিণ আফ্রিকান প্রাদেশিক দল ট্রান্সভাল ও ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের পক্ষে খেলেছেন।

১৯৫২ সালে ১৬ বছর বয়সে কেপ থেকে সাউথ ওয়েলসে দাদাকে দেখার জন্যে চলে আসেন। এ পর্যায়ে গ্ল্যামারগনের পক্ষে যাচাই-বাছাইয়ের খেলায় অংশ নেন। ১৯৫৫ সালে ক্লাবের কর্মকর্তা হিসেবে যুক্ত হন। মাঝারিসারিতে আক্রমণধর্মী ব্যাটসম্যান ও বামহাতি সুই বোলার হিসেবে খেলার জন্যে মনোনীত হন। তবে, খেলোয়াড়ী জীবনের শেষদিকে অর্থডোক্স বামহাতি স্পিনার হিসেবে খেলেন।

ব্রিস্টলের ক্লিফটন এলাকায় পিটার ওয়াকারের জন্ম। তবে, পড়াশোনার কিছুটা সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় অতিবাহিত করেন। দীর্ঘদেহের অধিকারী ডানহাতি মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান ছিলেন তিনি। তবে, বামহাতে ভিন্ন মানসম্পন্ন পেস বোলিংয়ে সক্ষমতা প্রদর্শন করেছেন। মিডিয়াম পেস বোলিং থেকে শুরু করে স্লো স্পিন বোলিং করতে পারতেন। এছাড়াও দর্শনীয়ভাবে পিচের কাছাকাছি এলাকায় ফিল্ডিং করতেন। সচরাচর শর্ট লেগ অঞ্চলে অবস্থান করতেন।

ব্রিস্টলে জন্মগ্রহণ করলেও দক্ষিণ আফ্রিকায় সময় অতিবাহিত করেন। ছয় ফুট চার ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী পিটার ওয়াকার অল-রাউন্ডার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। বিশেষতঃ কাছাকাছি এলাকায় ফিল্ডিং করে ৬৫৬ ক্যাচ নিয়ে সবিশেষ দক্ষতার পরিচয় দেন। প্রায়শঃই স্লিপ কিংবা শর্ট লেগ অঞ্চলে অবস্থান করতেন।

১৯৫৯ সালে চমৎকার মৌসুম অতিবাহিত করেন। ১৫৬৪ রানের পাশাপাশি ৮০ উইকেট লাভ করেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উপেক্ষিত হলেও গ্ল্যামারগনের পক্ষে ব্যাট ও বল হাতে চমৎকার খেলছিলেন। ১৯৬৯ সালে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা জয় করে তার দল।

১৯৭১ সালে টনি লুইস অধিনায়ক হিসেবে অবসর গ্রহণ করলে পিটার ওয়াকারকে এ দায়িত্ব পালনে রাখা হবে বলে ধারনা করা হয়। কিন্তু ক্লাব কর্তৃপক্ষে মজিদ খানকে এ দায়িত্বভার প্রদান করেন। এরপর ১৯৭২ সালের শেষদিকে খেলার জগৎ থেকে অবসর নেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে তিনটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন পিটার ওয়াকার। ৯ জুন, ১৯৬০ তারিখে বার্মিংহামে সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ৭ জুলাই, ১৯৬০ তারিখে নটিংহামে একই দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি। কাউন্টি ক্রিকেটে অপূর্ব ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৬০ সালে সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম তিন টেস্টে খেলার জন্যে ইংরেজ দলে অন্তর্ভূক্ত হন। বেশ ভালো খেলা উপহার দিলেও পরে আর তাকে টেস্ট দলে রাখা হয়নি।

১৯৬০ সালে সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বিপক্ষে তিন টেস্টে অংশ নেন। তিনটি খেলাতেই নিচেরসারিতে খেলে বেশ সফল হন ও বেশ ভালো বোলিং করেন। তবে, এ পরিসংখ্যানও দলে পাকাপোক্ত করার জন্যে যথেষ্ট বলে বিবেচিত হয়নি। এ পর্যায়ে ব্যাটিং সমৃদ্ধ ইংল্যান্ড দলে ডেভিড অ্যালেন, রে ইলিংওয়ার্থফ্রেড টিটমাসের সাথে স্পিন বোলিংয়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হতে হয় তাকে। এরপর আর তাকে কোন টেস্টে খেলতে দেখা যায়নি। ঐ তিন টেস্টেই স্বাগতিক ইংল্যান্ড দল জয় পেয়েছিল।

১৯৬০ সালে লর্ডসে এম. জে. কে. স্মিথফ্রেড ট্রুম্যানের সাথে তিনিও দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেট তারকা জিওফ গ্রিফিনের টেস্ট হ্যাট্রিকে পরিণত হয়েছিলেন। এটিই লর্ডসে একমাত্র হ্যাট্রিক হিসেবে চিত্রিত হয়ে আসছে।

অর্জনসমূহ[সম্পাদনা]

ব্যাটসম্যান হিসেবে এগারো মৌসুমে সহস্রাধিক রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। প্রায়শঃই সতীর্থদের ব্যর্থতায় নিজের এ সাফল্য প্রকাশে সচেষ্ট ছিলেন। তবে, সতেরো বছরের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনে মাত্র তেরোটি শতরানের ইনিংস খেলেছেন তিনি। এছাড়াও, মাত্র ২৬ গড়ে রান তুলেছিলেন। অবশ্য ঐ সময়ে পিচ খোলামেলা থাকতো। তার বোলিং বেশ কার্যকরী ছিল।

১৯৬১ সালে ১০১ উইকেট ও সহস্রাধিক রান সংগ্রহ করে ডাবল লাভের ন্যায় বিশেষ কৃতিত্বের পরিচয় দেন। এছাড়াও, ১৯৫৯ ও ১৯৬২ সালে স্বল্পের জন্যে এ কৃতিত্ব অর্জন থেকে দূরে থাকেন। ফিল্ডার হিসেবে তিনি সর্বকালের সেরাদের তালিকায় অবস্থান করেন। ৪৬৯টি খেলায় ৬৯৭ ক্যাচ তালুবন্দী করেন। তন্মধ্যে, ১৯৬১ সালে ৭৩ ক্যাচ নিয়েছিলেন। এ পর্যায়ে সহস্রাধিক রান ও ১০০ উইকেট পেয়েছিলেন তিনি। ওয়ালি হ্যামন্ডমিকি স্টুয়ার্টের পর এক মৌসুমে ফিল্ডার হিসেবে তৃতীয় সর্বোচ্চ ক্যাচ নেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটের ইতিহাসে রান, উইকেট ও ক্যাচ সংখ্যায় ট্রেবল নিয়ে রেকর্ড গড়েন।

২০১১ সালে ক্রিকেট খেলায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ নববর্ষের সম্মাননায় অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার|এমবিই]] উপাধিতে ভূষিত হন।[২]

অবসর[সম্পাদনা]

১৯৭২ সাল পর্যন্ত গ্ল্যামারগনে বসবাস করেছিলেন। দলের অধিনায়কত্ব প্রদান না করায় ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এরপর তিনি ক্রিকেট লেখক ও ধারাভাষ্যকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। বিবিসি টেলিভিশনের সানডে লীগে অনেকগুলো বছর ধারাভাষ্যকর্মে সংযুক্ত ছিলেন।

১৯৮৫ সালে পিটার ওয়াকার মার্লিন টেলিভিশনের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। ওয়েলসে সর্ববৃহৎ স্বাধীন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি পায় ও ১৯৯৬ সালে তা বিক্রয় করে দেয়া হয়। এরপর ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের প্রথম প্রধান নির্বাহী হিসেবে মনোনীত হন। এছাড়াও, কার্ডিফে গ্ল্যামারগনের প্রধান অনুশীলনী মাঠ সোফিয়া গার্ডেন্সে ওয়েলসের জাতীয় ক্রিকেট কেন্দ্রের উন্নয়নে বিরাট ভূমিকা রাখেন। ২০০৯ সালে গ্ল্যামারগন কাউন্টি ক্রিকেট ক্রাবের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন।

রচনাসমগ্র[সম্পাদনা]

  • উইনিং ক্রিকেট (১৯৬৫)
  • ক্রিকেট কনভার্সেশনস (১৯৭৮)
  • দি অল-রাউন্ডার (১৯৭৯)
  • ইটস নট জাস্ট ক্রিকেট (আত্মজীবনী) (ফেয়ারফিল্ড বুকস, ২০০৬, আইএসবিএন ০-৯৫৪৪-৮৮৬৪-৪)[৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Bateman, Colin (১৯৯৩)। If The Cap Fits। Tony Williams Publications। পৃষ্ঠা 179। আইএসবিএন 1-869833-21-X 
  2. "নং. 59647"দ্যা লন্ডন গেজেট (সম্পূরক) (ইংরেজি ভাষায়)। ৩১ ডিসেম্বর ২০১০। 
  3. "Peter Walker"। Fairfield Books। সংগ্রহের তারিখ জুলাই ৮, ২০১৯ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]