নাজমা চৌধুরী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
নাজমা চৌধুরী
Najma Chowdhury speaking.jpg
ড. নাজমা চৌধুরী
জন্ম (1942-02-26) ২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৪২ (বয়স ৮০)
মৃত্যু৮ আগস্ট ২০২১
ঢাকা
মৃত্যুর কারণকোভিড১৯
জাতীয়তাবাংলাদেশী
পেশাবুদ্ধিজীবী
কর্মজীবন১৯৬২–২০০৮
পরিচিতির কারণinstitutionalization of gender and women education in Bangladesh
উপাধিইমেরিটাস অধ্যাপক
দাম্পত্য সঙ্গীমাইনুর রেজা চৌধুরী
সন্তানলামিয়া চৌধুরী
বুশরা হাসিনা চৌধুরী
আত্মীয়মুর্তজা রেজা চৌধুরী (শশুর)
ফজলুল কাদের চৌধুরী (খালু শশুর)
পুরস্কারএকুশে পদক (২০০৮)
উচ্চশিক্ষায়তনিক পটভূমি
মাতৃ-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
সোয়াস, লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়

নাজমা চৌধুরী (২৬ ফেব্রুয়ারী ১৯৪২ - ৮ আগস্ট ২০২১) একজন বাংলাদেশী শিক্ষাবিদ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা।[১] তিনি বিভাগটির ইমেরিটাস অধ্যাপক ছিলেন। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৭ সালে তিনি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন কর্তৃক রোকেয়া চেয়ার মনোনীত হন। ২০০৮ সালে একুশে পদক পেয়েছেন এই প্রবীণ শিক্ষাবিদ।[২][৩]

জন্ম ও বংশ[সম্পাদনা]

১৯৪২ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি সিলেটে জন্ম নেয়া নাজমা চৌধুরী ছিলেন তার বাবা ইঞ্জিনিয়ার ইমামুজ্জামান চৌধুরী ও মা আমিরুন্নেসা খাতুনের তৃতীয় সন্তান।[৪] তাঁর পৈতৃক বাড়ী নবিগঞ্জের পিটুয়া-সদরাবাদ গ্রামের চৌধুরী বাড়ী। তাঁদের পূর্বপুরুষ শাহ সদরউদ্দীন কোরেশী ছিলেন শাহজালালের সফরসঙ্গী[৫]

শিক্ষা[সম্পাদনা]

তার শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিলো ভারতের আসামে। পরে পিতার কর্মস্থল পরিবর্তনের কারণে ঢাকা ও রাজশাহীতে স্থানান্তর হয় তাদের পরিবার। নাজমা চৌধুরী স্কুল জীবন কেটেছে ঢাকা ও রাজশাহীতে। পূর্ব পাকিস্তান মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে মেয়েদের মধ্যে অষ্টম স্থান পেয়েছিলেন তিনি। পরে হলিক্রস কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন এবং মেধা তালিকায় তার অবস্থান ছিলো নবম। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন নাজমা চৌধুরী। ১৯৬৬ সালে কমনওয়েলথ স্কলারশিপ নিয়ে ইউনিভার্সিটি অফ লন্ডনে যান পিএইচডি করতে এবং পিএইচডি শেষে ১৯৭২ সালে দেশে ফিরে আসেন। ১৯৮৪ সাল থেকে পরবর্তী তিন বছর রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং বিভাগে নারীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়ন বিষয়ক নানা কোর্স অন্তর্ভুক্ত করেন।

১৯৮৮ সালে ভিজিটিং স্কলার হিসেবে ফুলব্রাইট স্কলারশিপ নিয়ে মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ে যান তিনি।

পরে ২০০০ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগ প্রতিষ্ঠার পর তিনি বিভাগীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। অবসরের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমিরেটাস অধ্যাপক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

এর আগে ১৯৭৮ ও ১৯৮৬ সালে তিনি বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে যোগ দেন। এছাড়া তিনি বেলগ্রেডে ইউনেস্কো সাধারণ সম্মেলন এবং নাইরোবিবেইজিংয়ে বিশ্ব নারী সম্মেলনেও অংশ নিয়েছেন।

রাজনৈতিক জীবন[সম্পাদনা]

নাজমা চৌধুরী ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এসময় তিনি মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।

প্রকাশিত গ্রন্থ[সম্পাদনা]

ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নাজমা চৌধুরী ও বারবারা নেলসন সম্পাদিত উইমেন অ্যান্ড পলিটিক্স ওয়ার্ল্ডওয়াইড প্রকাশিত হয়েছে ১৯৯৪ সালে। বইটি ভিক্টোরিয়া চাক পুরস্কার অর্জন করে।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

নাজমা চৌধুরী ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন এবং তার স্বামী মনাকষা জমিদার বাড়ীর মাইনুর রেজা চৌধুরী তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের ছাত্র ছিলেন। মাইনুর রেজা চৌধুরী ছিলেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি। তারা ১৯৬১ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং এই দম্পতির দুটি সন্তান রয়েছে। মাইনুর রেজা চৌধুরী ২০০৪ সালে মারা যান। সাবেক অর্থমন্ত্রী মুর্তজা রেজা চৌধুরী ছিলেন নাজমা চৌধুরীর শশুর এবং পাকিস্তানের সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী তাঁর খালু শশুর।[৫]

মৃত্যু[সম্পাদনা]

নাজমা চৌধুরী ৮ আগস্ট ২০২১ এ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।[৬]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Workshop on gender begins"দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৭। সংগ্রহের তারিখ ১০ অক্টোবর ২০১৬ 
  2. "নাজমা চৌধুরী: কর্মে জীবন ভরা"প্রথম আলো। ৮ আগস্ট ২০২১। ১ নভেম্বর ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১ নভেম্বর ২০২১ 
  3. "9 get Ekushey Padak 2008"দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০০৮। 
  4. Shiropa, Touhida (৪ ডিসেম্বর ২০১০)। কর্মে জীবন ভরা [Life of works]। Prothom Alo। Dhaka। ১২ অক্টোবর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ অক্টোবর ২০১৬ 
  5. সৈয়দ কামালউদ্দীন আহমদ (৩০ জুন ২০২১), তরফের সৈয়দ বংশ ও লাকসাম নবাব পরিবার 
  6. সংবাদদাতা, নিজস্ব; ঢাবি (২০২১-০৮-০৮)। "ইমেরিটাস অধ্যাপক নাজমা চৌধুরী মারা গেছেন"The Daily Star Bangla (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৮-০৮