বিষয়বস্তুতে চলুন

দ্বিতীয় আল-ওয়ালিদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
দ্বিতীয় আল-ওয়ালিদ
الْوَلِيد بْنِ يَزِيد
আমিরুল মুমিনীন
খলিফাতুল্লাহ
কুসাইর আমরা থেকে প্রাপ্ত ওয়ালিদ ইবনে ইয়াজিদের ফ্রেস্কো চিত্র
উমাইয়া খিলাফতের ১১তম খলিফা
রাজত্ব৬ ফেব্রুয়ারি ৭৪৩ – ১৭ এপ্রিল ৭৪৪ (১ বছর)
পূর্বসূরিহিশাম ইবনে আবদ আল-মালিক
উত্তরসূরিইয়াজিদ ইবনে আল-ওয়ালিদ
জন্মআনু. ৭০৯
আশ-শাম, উমাইয়া খিলাফত
মৃত্যু১৭ এপ্রিল ৭৪৪ (৩৫ বছর বয়সে)
আশ-শাম, উমাইয়া খিলাফত (বর্তমান জর্ডান)
মৃত্যুর কারণ: হত্যাকাণ্ড
দাম্পত্য সঙ্গীআতিকা বিনতে উসমান ইবনে মুহাম্মদ
বংশধর
  • আল-হাকাম ইবনে আল-ওয়ালিদ ইবনে ইয়াজিদ
  • উসমান ইবনে আল-ওয়ালিদ ইবনে ইয়াজিদ
পূর্ণ নাম
আল-ওয়ালিদ ইবনে ইয়াজিদ ইবনে আবদ আল-মালিক
রাজবংশমারওয়ানি
রাজবংশউমাইয়া
পিতাদ্বিতীয় ইয়াজিদ
মাতাউম্ম আল-হাজ্জাজ বিনতে মুহাম্মদ
ধর্মইসলাম

ওয়ালিদ ইবনে ইয়াজিদ বা দ্বিতীয় ওয়ালিদ (৭০৬ – ১৭ এপ্রিল ৭৪৪) (আরবি: الوليد بن يزيد) ছিলেন একজন উমাইয়া খলিফা। তিনি ৭৪৩ থেকে ৭৪৪ সাল পর্যন্ত শাসন করেন। তার চাচা হিশাম ইবনে আবদুল মালিকের উত্তরসুরি হিসেবে তিনি খলিফার পদে আসীন হন। তার সময়ে যায়েদ ইবনে আলীর পুত্র ইয়াহিয়া বিদ্রোহ ঘোষণা করলে ততকালীন গভর্নর ওমর ৭৪৩ খৃষটাবদে তাকে হত্যা করেন৷ এটিকে উমাইয়াদের পতনের অন্যতম কারণ হিসেবে ধরা হয়৷

জন্ম এবং পটভূমি

[সম্পাদনা]

আল-ওয়ালিদ ৭০৯ সালে উমাইয়া খলিফা দ্বিতীয় ইয়াজিদ এবং তার স্ত্রী উম্ম আল-হাজ্জাজ বিনতে মুহাম্মদ আল-সাকাফির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। তার মা ছিলেন উমাইয়া কর্মকর্তা মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-সাকাফির কন্যা।

তার পিতা দ্বিতীয় ইয়াজিদ ৭২০ থেকে ৭২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত খিলাফত শাসন করেন। ১০৫ হিজরি সনের ২৬ শাবান (২৮ জানুয়ারি ৭২৪ খ্রিস্টাব্দ) জুন্দ দিমাস্ক (দামেস্কের সামরিক জেলা)-এর অন্তর্গত বালকা (অর্থাৎ ট্রান্সজর্ডান) উপ-জেলার ইরবিদ শহরে দ্বিতীয় ইয়াজিদ মৃত্যুবরণ করেন।[১] তার পুত্র আল-ওয়ালিদ অথবা তার সৎ ভাই হিশাম তার জানাজার নামাজে ইমামতি করেন।[২] ইয়াজিদ আল-ওয়ালিদকে তার তাৎক্ষণিক উত্তরসূরি হিসেবে নিযুক্ত করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু মাসলামা তাকে প্ররোচিত করেন যাতে তিনি প্রথমে হিশামকে এবং পরবর্তীতে আল-ওয়ালিদকে উত্তরাধিকারী মনোনীত করেন।[৩]

প্রারম্ভিক জীবন

[সম্পাদনা]

আল-ওয়ালিদ বড় হওয়ার সাথে সাথে, হিশাম তার ভাইপোর আচরণে (কবিতা এবং যৌনতার প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি সহ) ক্রমশ অসন্তুষ্ট হয়ে ওঠেন এবং এর পরিবর্তে হিশামের নিজের ছেলেকে উত্তরাধিকারী করার কথা বিবেচনা করেন। তিনি আল-ওয়ালিদের মদ্যপান নিয়ে তাকে তিরস্কার করেন এবং আল-ওয়ালিদকে তার প্রিয় মদ্যপায়ী সঙ্গীকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। এছাড়াও তিনি তার উত্তরসূরির তহবিল বন্ধ করে দেন এবং তাকে ধর্মীয় বিষয়ে আরও শ্রদ্ধাশীল হওয়ার জন্য জোরালোভাবে উৎসাহিত করেন।

হিশামের সিংহাসন আরোহণের পর, তিনি মনোনীত উত্তরসূরি, তার পূর্বসূরির পুত্র দ্বিতীয় আল-ওয়ালিদের পরিবর্তে মাসলামা ইবনে হিশামকে উত্তরসূরি হিসেবে নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন।[৪] ৭৩৫ সালের হজ্জের পর আল-ওয়ালিদকে মাসলামার পক্ষে সরে দাঁড়াতে বা আল-ওয়ালিদের উত্তরসূরি হিসেবে মাসলামার প্রতি আনুগত্যের শপথ (বায়াত) দিতে রাজি করানোর হিশামের প্রাথমিক প্রচেষ্টাগুলো আল-ওয়ালিদ প্রত্যাখ্যান করেন।[৫][৬][৭] পরবর্তীতে, হিশাম আল-ওয়ালিদকে অবদমিত করার চেষ্টা করেন এবং গোপনে মাসলামার জন্য সমর্থন সংগ্রহ করেন।[৫] মাসলামার মনোনয়নকে তার চাচা, বিখ্যাত সেনাপতি মাসলামা ইবনে আবদ আল-মালিক, হিশামের মাতামহ, মদিনার সাবেক গভর্নর হিশাম ইবনে ইসমাইল আল-মাখজুমি[৮] এবং তার পুত্র ইব্রাহিম ও মুহাম্মদ, এবং উত্তর সিরিয়ার প্রভাবশালী বানু আবস প্রধান আল-কাকা ইবনে খুলাইদ সমর্থন করেন।[৫] মাসলামার মা উম্মে হাকিমও তার ছেলের উত্তরাধিকারের জন্য প্রচার চালিয়েছিলেন।[৯] মাসলামার প্রস্তাবিত উত্তরাধিকারের বিরোধিতা করেছিলেন ইরাকের গভর্নর খালিদ আল-কাসরি, যার জবাবে মাসলামা তাকে এবং তার মৃত ভাই আসাদকে অপমান করেন।[১০] ৭৩০-এর দশকের শেষের দিকে মাসলামা ইবনে আবদ আল-মালিকের মৃত্যু হিশামের উত্তরাধিকার পরিকল্পনার জন্য একটি বড় ধাক্কা ছিল, কারণ এটি উমাইয়া রাজবংশে এই পরিকল্পনার প্রধান সমর্থকের অবসান ঘটায়।[৮]

হিশামের মৃত্যুর পর ৭৪৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে দ্বিতীয় আল-ওয়ালিদ তার স্থলাভিষিক্ত হন।

গ্রন্থপঞ্জি

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. ↑ Powers 1989, পৃ. 193–194।
  2. ↑ Powers 1989, পৃ. 194।
  3. ↑ Blankinship 1989, পৃ. 87, note 439।
  4. ↑ Marsham 2009, পৃ. 119–120।
  5. 1 2 3 Hillenbrand 1989, পৃ. 89।
  6. ↑ Bosworth 1994, পৃ. 279।
  7. ↑ Judd 2008, পৃ. 453।
  8. 1 2 Marsham 2009, পৃ. 121।
  9. ↑ Marsham 2009, পৃ. 131, note 30।
  10. ↑ Hillenbrand 1989, পৃ. 90–91।
পূর্বসূরী
হিশাম
খলিফা
৭৪৩–৭৪৪
উত্তরসূরী
তৃতীয় ইয়াজিদ