বিষয়বস্তুতে চলুন

ডোরেমন: নোবিতা'স ডাইনোসর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ডোরেমন: নোবিতা'স ডাইনোসর
পরিচালকহিরোশি ফুকুতোমি
প্রযোজক
  • সানকিচিরো কুসুবি
  • সইচি বেসহু
রচয়িতাফুজিকো এফ. ফুজিও
শ্রেষ্ঠাংশে
সুরকারসানসুকি কিকুচি
চিত্রগ্রাহককাতসুজি মিসওয়া
সম্পাদক
  • কাজুও ইনোইউ
  • সেইজি মোরিতা
পরিবেশকতোহো
মুক্তি
  • ১৪ মার্চ ১৯৮০ (1980-03-14) (জাপান)
  • ২৭ নভেম্বর ২০১১ (2011-11-27) (ভারত)
স্থিতিকাল৯২ মিনিট
দেশজাপান
ভাষাজাপানি
আয়¥১.৫৫ বিলিয়ন[]
($১১.৯ মিলিয়ন)

ডোরেমন: নোবিতা'স ডাইনোসর,[] আন্তর্জাতিক বাজারে ডোরেমন: দ্য মোশন পিকচার নামে পরিচিত, ১৯৮০ সালের অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র যা ডোরেমন জাপানি মাঙ্গা এবং অ্যানিমে ধারাবাহিকের উপর ভিত্তি করে নির্মিত। এটি ডোরেমন চলচ্চিত্র সিরিজের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। ২০০৬ সালে চলচ্চিত্রটি পুনরায় নির্মাণ করা হয়।

কাহিনীসংক্ষেপ

[সম্পাদনা]

সুনিও একটি ডাইনোসরের নখের জীবাশ্ম দেখিয়ে সবাইকে চমকে দেয়, কিন্তু নোবিতাকে তা দেখায় না। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে নোবিতা দাবি করে যে, সে জীবিত একটি ডাইনোসর খুঁজে বের করবে। ডোরেমন সাহায্য করতে অস্বীকৃতি জানানোর পর, নোবিতা নিজেই একটি পাহাড়ি ঢালে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করে। তবে সে এক বৃদ্ধ জমির মালিকের রোষানলে পড়ে শাস্তিস্বরূপ মাটি খুঁড়ে ফেলার আদেশ পায়। খনন করতে গিয়ে সে ডিমের মতো দেখতে একটি পাথর খুঁজে পায় এবং সেটিকে টাইম ওয়্যার্প ব্যবহার করে তার অতীত অবস্থায় ফিরিয়ে আনে। তা গরম করার পর ডিমটি ফুটে জন্ম নেয় একটি ফুটাবাসরাস ডাইনোসর, যার নাম নোবিতা রাখে পিসুকে।

নোবিতা প্রথমেই অন্যদের পিসুকে দেখায় না; সে চায় পিসুকে বড় করে তুলতে এবং বাকিদের সাথে শর্তসাপেক্ষে বিষয়টি ভাগাভাগি করতে। কিন্তু পিসুকে দ্রুত বড় হয়ে যাওয়ায়, নোবিতা ও ডোরেমন তাকে কাছের এক হ্রদে লুকিয়ে রাখে। কিন্তু তাদের গতিবিধি নজরে পড়ে ২৪শ শতকের এক রহস্যময় ব্যক্তির, যে পিসুকে নোবিতার কাছ থেকে কিনে নিতে চায়। পিসুকের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে এবং তাকে রক্ষা করার দায়িত্বে ক্লান্ত হয়ে পড়ায়, ডোরেমন ও নোবিতা তাকে নিয়ে যায় ১০ কোটি বছর পূর্বে, অন্তিম ক্রিটেসিয়াস যুগে। সেখানে তারা সেই ব্যক্তির আক্রমণের শিকার হয়, যিনি আগে পিসুকে কেনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তবে তারা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

এরপর যখন জিয়ান ও সুনিও নোবিতার জীবিত ডাইনোসরের দাবি নিয়ে তাকে প্রশ্ন করে, সে শিজুকার সাথে দেখা করে। কিন্তু শিজুকাও মনে করে নোবিতা মিথ্যা বলছে, এতে নোবিতা রেগে গিয়ে তাদের তিনজনকেই তার বাড়িতে নিয়ে যায় পিসুকে দেখাতে। কিন্তু সেখানে পৌঁছে দেখে, কোনো প্রমাণ তার কাছে নেই। তখন সে টেলিভিশন মনিটরে পিসুকে দেখানোর চেষ্টা করে, কিন্তু বুঝতে পারে যে ডোরেমনের সাথে তারা যখন টাইম মেশিনে পিসুকে অতীতে পাঠিয়েছিল, তখন আক্রমণের ফলে টাইম মেশিন ঘুরে গিয়ে পিসুকে উত্তর আমেরিকার উপকূলে পাঠিয়ে দেয়। এরপর তারা পিসুকে উদ্ধারে সেখানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু টাইম মেশিন ওভারলোড হয়ে যায় এবং পৌঁছানোর পর তা ভেঙে পড়ে।

তারা উত্তর আমেরিকার উপকূলে অবতরণ করে এবং পিসুকে খুঁজে পায়, ফলে নোবিতার দাবি প্রমাণিত হয় এবং তার বন্ধুরা দুঃখপ্রকাশ করে। ডোরেমন বাকিদের সৈকতে মজা করতে পাঠায় এবং গোপনে টাইম মেশিন মেরামতের চেষ্টা করে। পরে সে জানায়, টাইম মেশিন পুরোপুরি ভেঙে গেছে এবং তাদের ফিরতে হলে এটি জাপানের নোবিতার ডেস্কে ফিরিয়ে নিতে হবে। রাতে খাবারের সময় হঠাৎ একটি বড় টাইরানোসরাস জঙ্গলের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে। ডোরেমন তার মোমোতারো ড্যাঙ্গো ব্যবহার করে ডাইনোসরটিকে বশে আনে এবং ফিরে যেতে নির্দেশ দেয়।

তারা সিদ্ধান্ত নেয় বেরিঞ্জিয়া হয়ে ফিরে যাবে। পথে তারা বিভিন্ন ডাইনোসরের মুখোমুখি হয়, কেউ সাহায্য করে আবার কেউ বাধা দেয়—যেমন ব্রন্টোসরাসঅর্নিথোমিমাস। একটি পাহাড়ের কিনারায় তারা প্টেরানডন ডাইনোসরের হামলার শিকার হয়, যারা তাদের ব্যাম্বো কপ্টার ভেঙে দেয়। ঠিক সেই সময় কয়েকজন রহস্যময় আক্রমণকারী এসে তাদের উদ্ধার করে এবং জানায় তারা ডাইনোসর শিকারি, যারা ২৪শ শতকের জীবাশ্ম সংগ্রাহক ডলম্যানস্টাইনের জন্য কাজ করে। তারা পিসুকে তাদের কাছে বিক্রি করার শর্তে সবাইকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে, সবাই নিজেদের মূর্তির মতো কাদা দিয়ে পুতুল বানিয়ে গাড়িতে বসিয়ে ফাঁদ তৈরি করে, এবং নিজেরা ভেলার সাহায্যে নদী পার হয়। তবে পরে তারা ধরা পড়ে যায় এবং সবাই আলাদা হয়ে যায়—জিয়ান, সুনিও ও শিজুকা শিকারিদের হাতে বন্দি হয়, আর নোবিতা, ডোরেমন ও পিসুকে একটি জলপ্রপাত থেকে পড়ে যায়।

ভাগ্যক্রমে, ডোরেমনের একটি যন্ত্র তাদের রক্ষা করে। তারা পিসুকে নিরাপদে রেখে, ডোরেমন ও নোবিতা শিকারিদের শিবির খুঁজে বের করে, যেখানে জিয়ান, সুনিও ও শিজুকাকে একটি টাইরানোসরাসের সামনে প্রলোভন হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। শিকারিরা দাবি করে, পিসুকে তাদের হাতে তুলে না দিলে বন্ধুদের ছেড়ে দেবে না। কিন্তু টাইরানোসরাসটি আসলে সেই একই, যাকে আগে মোমোতারো ড্যাঙ্গো দিয়ে বশ করা হয়েছিল, এবং তারা এই ডাইনোসর ব্যবহার করে শিকারিদের উপর আক্রমণ চালায়। পরে টাইম পেট্রোল এসে শিকারিদের গ্রেপ্তার করে। পিসুকে ফেরত পাঠানো হয় তার জন্মভূমি লেট ক্রিটেশিয়াস যুগের জাপানে, আর নোবিতা ও তার বন্ধুরা বিদায় জানিয়ে বর্তমান যুগে ফিরে আসে।

অভিনয়ে

[সম্পাদনা]
চরিত্রজাপানি কণ্ঠ অভিনয় শিল্পী
ডোরেমননোবুয়ো ওয়ামা
নোবিতা নোবিনোরিকো ওহারা
নোবিতার মাসিজিমাতসু সাচিকো
নোবিতার বাবাকাতোউ মাসাইয়োকি
শিজুকামিচিকো নোমুরা
পিসুকিইয়োকোয়াওয় কেইকি
জিয়ানকাজুইয়া তাতেকাবে
সুনিওকানেতা কিমোতসুকি
ব্লাক বয়সেইজি কাতউ

আরো দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Jaeger, Eren। "Past Doraemon Films"Forums.BoxOffice.com। সংগ্রহের তারিখ ২০ মে ২০১৪[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  2. English translation as shown on the official website for the 25th anniversary of the movie franchise.

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]

[[বিষয়শ্রেণী:অ্যানিমে চলচ্চিত্র]]