ডাটো পেঞ্জিরান মোহাম্মদ ইউসুফ বিন আব্দুল রহিম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
মালয় পদবী
পেঞ্জিরান ড হাজী মোহাম্মদ ইউসুফ বিন পেঞ্জিরান হাজী আব্দুল রহিম
জাপানে নিযুক্ত ব্রুনাইয়ের রাষ্ট্রদূত
কাজের মেয়াদ
২০০১ – ২০০২
মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত ব্রুনাইয়ের হাই কমিশনার
কাজের মেয়াদ
১৯৯৫ – ২০০১
ব্রুনাইয়ের মুখ্য মন্ত্রী
কাজের মেয়াদ
১৯৬৭ – ১৯৭২
সার্বভৌম শাসকহাসসান আল-বলকিয়াহ
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্মপেঞ্জিরান মোহাম্মদ ইউসুফ বিন পেঞ্জিরান আব্দুল রহিম
(1923-05-02) ২ মে ১৯২৩ (বয়স ৯৬)
টুটং, ব্রুনাই
মৃত্যু১১ এপ্রিল ২০১৬(2016-04-11) (বয়স ৯২)
জাতীয়তাব্রুনাইয়
প্রাক্তন শিক্ষার্থীহিরোশিমা বিশ্ববিদ্যালয়
ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ককুসাই গাকুয়ুকাই
সুলতান ইদ্রিস টিচার্স কলেজ
জীবিকারাজনীতিবিদ, কূটনীতিবিদ
ধর্মইসলাম

ডাটো পেঞ্জিরান মোহাম্মদ ইউসুফ বিন আব্দুল রহিম (২ মে, ১৯২৩ – ১১ এপ্রিল, ২০১৬), সাহিত্যিক নাম য়ুরা হালিম, ছিলেন একজন ব্রুনাইয় রাজনীতিবিদ, সিভিল কর্মী, কূটনীতিবিদ, এবং লেখক। ১৯৬৭ থেকে ১৯৭২ সাল পর‍্যন্ত তিনি ব্রুনাইয়ের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বপালন করেন। হালিম ব্রুনাইয়ের জাতীয় সঙ্গীত, "আল্লাহ্‌ পেলিহারাকান সুলতান," ১৯৪৭ সালে রচনা করেন।[১] এই সঙ্গিতটি ১৯৫১ সালে ততকালীন বৃটিশ শাসনাধীন সময়ে দেশটির সরকারি জাতীয় সঙ্গিত হিসেবে গৃহীত হয়।[১] হালিম ব্রুনাই জাতীয় সংসদের একজন দীর্ঘমেয়াদী সদস্য ছিলেন, যেখানে তিনি ২০১৬ সালে মৃত্যুর আগমুহূর্ত পর‍্যন্ত নিয়োজিত ছিলেন।[১][২]

প্রথম জীবন[সম্পাদনা]

হালিম ২ মে, ১৯২৩ সালে ব্রুনাইয়ের টুটংয়ে জন্মগ্রহণ করেন।[৩] তিনি টুটংয়ের বুকিত বেন্দেরা মালয় বিদ্যালয়ে তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু করেন, যেখানে তিনি ১০ বছর বয়স থেকে পঞ্চম গ্রেডে উন্নীত হওয়ার আগপর্যন্ত অধ্যয়ন করেন।[১] ১৯৩৯ সালে, তিনি টুটংয়ের বুকিত বেন্দেরা মালয় বিদ্যালয়ের (যা বর্তমানে মুদা হাশিম মাধ্যমিক বিদ্যালয় নামে পরিচিত) একজন প্রশিক্ষণার্থী শিক্ষক, বা ছাত্রশিক্ষক হন।[১] তিনি ব্রিটিশ মালয়ের পেরাকে অবস্থিত সুলতান ইদ্রিস টিচার্স কলেজের শিক্ষক হওয়ার জন্য ১৯৩৯ সালের শুরুতে তালিকাভুক্ত হন।[১] ১৯৪১ সালে জাপানি সৈন্য্রা মালয় আক্রমণের পর হালিমকে জাপানি ভাষা অধ্যয়নের জন্য সারাওয়াকের কুচিংয়ে অবস্থিত কিটা ব্রনেই কানরি য়সেই জ'তে স্থানান্তর করা হয়।[১]

১৯৪৪ সালে, হালিম উচ্চতর জাপানী বিদ্যা অধ্যয়নের জন্য টোকিওর ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ককুসাই গাকুয়ুকাইয়ে ভর্তি হন।[১][২] হালিম অতঃপর শিল্পকলা ও বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয় হিরোশিমা, যা বর্তমানে হিরোশিমা বিশ্ববিদ্যালয় নামে পরিচিত, সেখানে ১৯৪৫-এর এপ্রিল থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ অবধি অধ্যয়ন করেন।[১][২] ৬ আগস্ট, ১৯৪৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে পড়ার সময় হালিম হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমাবর্ষণের হাত থেকে বেঁচে যান।[১][২] য়ুরা হালিম দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার শুধুমাত্র তিনজন শিক্ষার্থীর মধ্যে একজন যিনি হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমাবর্ষণে বেঁচে যান। অন্য দুজন বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন- আব্দুল রাজাক, যিনি পরবর্তীকালে মালয়েশিয়ায় জাপানী বিদ্যার অধ্যাপক হন, এবং হাসান রাহায়া, একজন ইন্দোনেশীয় রাজনীতিবিদ ছিলেন।[২]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

য়ুরা হালিম দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে আবার ব্রুনাইয়ে প্রত্যাবর্তন করেন, যেখানে তিনি কুয়ালা বেলাইত মালয় বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হিসেবে পাঠদান করতেন।[১] তিনি ১৯৫৪ সালে ইংল্যান্ডের, ডেভনের সাউথ ডেভন টেকনিক্যাল কলেজে লোকপ্রশাসন বিভাগেও অধ্যয়ন করতেন।[১]

১৯৫৭ সালে তিনি তথ্য অফিসের একজন অফিসার পদে নিযুক্ত হন।[১] ১৯৬২ সালে তিনি ডেপুটি স্বরাষ্ট্র সচিব এবং ব্রডকাস্টিং ও তথ্য পরিচালকের দায়িত্ব পান, যে পদে তিনি ১৯৬২ থেকে ১৯৬৪ সাল পর‍্যন্ত অধিষ্ঠিত ছিলেন।[১]

হালিম ১৯৬৪ সালে ব্রুনাইয়ের স্বরাষ্ট্রসচিবের পদে পদোন্নতি লাভ করেন।[১] ১৯৬৫ সালে তাকে ব্রুনাইয়ের ভারপ্রাপ্ত মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় এবং ১৯৬৭ সালে তাকে এই পদে স্থায়ীভাবে নিয়োগ করা হয়।[১] ১৯৬৭ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত তিনি মেন্তেরি বেসার নামে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৩ সালে তিনি ব্রুনাইয়ের সরকারি চাকরী থেকে অবসর গ্রহণ করেন।[১]

১৯৯৫ সালে য়ুরা হালিম, সুলতান হাসসান আল-বলকিয়াহ কর্তৃক মালয়েশিয়ায় ব্রুনাইয়ের হাই কমিশনার হিসেবে নিযুক্ত হন।[১] পরবর্তীতে তাকে ২০০১ সালে জাপানে ব্রুনাইয়ের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।[১]

টুটংয়ে অবস্থিত কেজি কান্দাং সেংকারাইয়ের বাসিন্দা, হালিম, ২০১৬ সালের ১১ই এপ্রিল ৯২ বছর বয়সে মারা যান।[১] তিনি আটজন সন্তানসন্ততি, ৩৮জন নাতিনাতনি, এবং ২২জন নাতিনাতনির-সন্তান রেখে গেছেন।[১]

সম্মাননা[সম্পাদনা]

য়ুরা হালিম ২২ এপ্রিল, ২০১৩ সালে ব্রুনাই এবং জাপানের মধ্যে শান্তিশৃঙ্খলা এবং বৈদেশিক সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য হিরোশিমা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক সম্মানজনক ডক্টরেট ডিগ্রী লাভ করেন।[১][২] তিনি ছিলেন প্রথম ব্রুনাইয় নাগরিক যে এই সম্মান অর্জন করেন।[১] হিরোশিমা এবং নাগাসাকিতে বেঁচে যাওয়া বাকি দুজন, ইন্দোনেশিয়ার হাসান রাহায়া এবং মালয়েশিয়ার আবুল রাজাককেও পূর্বে সম্মানজনক ডক্টরেট ডিগ্রী প্রদান করা হয়েছিল।[২]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Hab, Rasidah (১২ এপ্রিল ২০১৬)। "HM pays last respects to ex-chief minister"Brunei Times। ২০ মে ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৭ মে ২০১৬ 
  2. Piri, Sally (২৩ এপ্রিল ২০১৩)। "Bruneian who survived Hiroshima bombings honoured"Brunei Times। ৫ নভেম্বর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-০৫-০৭ 
  3. Sidhu, Jatswan S. (২০১০)। "Historical Dictionary of Brunei Darussalam - page 247"Google Books। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-০৫-০৭