জন ডার্সি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
জন ডার্সি
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামজন উইলিয়াম ডার্সি
জন্ম (1936-04-23) ২৩ এপ্রিল ১৯৩৬ (বয়স ৮৫)
ক্রাইস্টচার্চ, নিউজিল্যান্ড
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
ভূমিকাব্যাটসম্যান
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৮১)
৫ জুন ১৯৫৮ বনাম ইংল্যান্ড
শেষ টেস্ট২১ আগস্ট ১৯৫৮ বনাম ইংল্যান্ড
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৫৩
রানের সংখ্যা ১৩৬ ২০০৯
ব্যাটিং গড় ১৩.৫৯ ২৩.০৯
১০০/৫০ ০/০ ০/১২
সর্বোচ্চ রান ৩৩ ৮৯
বল করেছে - ২৯
উইকেট -
বোলিং গড় - ১২.০০
ইনিংসে ৫ উইকেট - -
ম্যাচে ১০ উইকেট - -
সেরা বোলিং - ১/০
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং -/- ২৬/-
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ৩১ আগস্ট ২০২০

জন উইলিয়াম ডার্সি (ইংরেজি: John D'Arcy; জন্ম: ২৩ এপ্রিল, ১৯৩৬) ক্রাইস্টচার্চ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী সাবেক নিউজিল্যান্ডীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৫০-এর দশকের শেষদিকে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ক্যান্টারবারি, ওতাগো ও ওয়েলিংটন দলের প্রতিনিধিত্ব করেন জন ডার্সি। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৫৫-৫৬ মৌসুম থেকে ১৯৬১-৬২ মৌসুম পর্যন্ত জন ডার্সি’র প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। সহজাত অপরিসীম ধৈর্য্যশীলতা তার মাঝে বিদ্যমান ছিল। ইংল্যান্ড সফরের পূর্বে প্রথম তিন মৌসুমে ৩০ গড়ে পাঁচটি অর্ধ-শতক সহযোগে ৮১০ রান সংগ্রহ করেছিলেন।[১]

উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান জন ডার্সি ১৯৫৫-৫৬ মৌসুম থেকে ১৯৫৯-৬০ মৌসুম পর্যন্ত ক্যান্টারবারির পক্ষে খেলেন। এরপর, ১৯৬০-৬১ মৌসুম থেকে ১৯৬১-৬২ মৌসুম পর্যন্ত ওতাগোর প্রতিনিধিত্ব করেন। দুইটি সাধারণমানের মৌসুম অতিবাহনের পর ক্রিকেট খেলাকে বিদেয় জানান।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে পাঁচটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন জন ডার্সি। সবগুলো টেস্টই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছিলেন তিনি। ৫ জুন, ১৯৫৮ তারিখে বার্মিংহামে স্বাগতিক ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ২১ আগস্ট, ১৯৫৮ তারিখে ওভালে একই দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

১৯৫০-এর দশকের শেষদিকে দূর্বলমানের নিউজিল্যান্ড দলের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে জন ডার্সি খেলতেন। ১৯৫৮ সালে নিউজিল্যান্ড দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। এ সফরেই তিনি তার অংশগ্রহণকৃত পাঁচ টেস্ট খেলেছিলেন। বার্মিংহামে সিরিজের প্রথম টেস্টের মাধ্যমে তার অভিষেক হয়। খেলায় তিনি ১৯ ও ২৫ রান তুলেন। এ সংগ্রহগুলো দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছিল। লর্ডসের পরবর্তী টেস্ট শুরুর পূর্বে পিতার মৃত্যু সংবাদ সম্পর্কে জ্ঞাত হন। তাসত্ত্বেও ৩৩ ও ১৪ রান করেন। সিরিজের বাদ-বাকী তিন টেস্টের ছয় ইনিংসে তিনি কেবলমাত্র ৪৫ রান যুক্ত করতে পেরেছিলেন। পুরো গ্রীষ্মে ১৬.৩১ গড়ে ৫২২ রান তুলেন।

পাঁচ টেস্টে তিনি মাত্র ১৩৬ রান তুলেন। তাসত্ত্বেও, নিউজিল্যান্ড দলের তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের মর্যাদা পেয়েছিলেন। প্রথম দুই টেস্টে দুইবার সর্বোচ্চ রান তুলেন। তন্মধ্যে, দ্বিতীয় টেস্টে দলের সংগ্রহ ৭৪ হলেও তিনি করেন ৩৩ রান। দলের এ সংগ্রহটি মাত্র দুই ঘণ্টায় সম্পন্ন হয়। তৃতীয় টেস্টে টনি ম্যাকগিবন দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৯ রান তুলে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন।[২]

খেলোয়াড়ী জীবনে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ করেন ৮৯ রান। এরজন্যে তাকে দীর্ঘ প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ক্রিজে অবস্থান করতে হয়েছিল।[৩] এ সফরের শুরুতে গ্ল্যামারগনের বিপক্ষে এ রান তুলেন।

অবসর[সম্পাদনা]

১৯৫৮-৫৯ মৌসুমের প্লাঙ্কেট শীল্ড প্রতিযোগিতায় ৩২.৭০ গড়ে ৩২৭ রান তুলেন। ১৯৫৮-৫৯ মৌসুমে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে অংশগ্রহণের পূর্বে সাউথ আইল্যান্ডের সদস্যরূপে নর্থ আইল্যান্ডের বিপক্ষে যাচাই-বাছাইয়ের খেলায় অংশগ্রহণের জন্যে মনোনীত হন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৭ রান তোলা সত্ত্বেও তাকে দুই টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে রাখা হয়নি।

মাত্র ২৫ বছর বয়সেই তার প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের ইতি ঘটে। ক্রিস্টোফার মার্টিন-জেনকিন্স তার সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন যে, প্রায়শই তিনি রক্ষণাত্মক ধাঁচে খেলতেন। স্ট্রোক খেলতে উৎসাহিত না হবার কারণে বিশেষতঃ আনঅর্থোডক্স ভঙ্গীমায় ব্যাটে হাত রাখায় তার কার্যকারিতা হ্রাস পায়।[৪] অপরদিকে, ১৯৫৮ সালে অধিনায়কের দায়িত্বে থাকা জন রিড মন্তব্য করেন যে, ডার্সি’র সাহস ও ধৈর্য্যের বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। তবে, সীমিত পর্যায়ের স্ট্রোকের কারণেই তাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ব্যাটিং থেকে বাদ দিতে হয়েছে।[৫]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Batting season by season
  2. Wisden 1959, p. 243-53.
  3. Wisden 1959, p. 239.
  4. Christopher Martin-Jenkins, The Complete Who's Who of Test Cricketers, Rigby, Adelaide, 1983, p. 384.
  5. John Reid, Sword of Willow, A.H. & A.W. Reed, Wellington, 1962, p. 133.

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]