কোরিয়ার ইতিহাস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন


এই নিবন্ধটি ১৯৪৫ সালের কোরিয়া বিভাজনের ইতিহাস পর্যন্ত। বিভক্ত কোরিয়ান ইতিহাসের জন্য, উত্তর কোরিয়ার ইতিহাস এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাস দেখুন।

প্রাচীন প্রস্তরযুগীয় কোরীয় উপদ্বীপ মঞ্চুরিয়ার সূচনা আজ থেকে প্রায় অর্ধশত কোটি বছর আগে। প্রাচীন কোরিয়ান মৃৎশিল্পের সূচনাকাল ছিল ৮০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে, এবং নব্য প্রস্তর যুগের সূচনা হয় ৬০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের পরে এবং এরপর পর্যায়ক্রমর ২০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে ব্রোঞ্জ যুগ এবং প্রায় ৭০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে লোহার যুগের সূচনা হয়।

পৌরাণিক হিসাব অনুসারে, সামগুক যুগে বর্ণিত গোজেসেওন (ওল্ড জোসেওন) রাজ্য ২৩৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে উত্তর কোরিয়া এবং দক্ষিণ মঞ্চুরিয়াতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

গিজা জোসেওনের রাজ্যটি খ্রিষ্টপূর্ব ১২ শতকে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আধুনিক যুগে এবং পুরাণকথায়ও এর অস্তিত্ব এবং ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। গোজোসনের প্রথম লিখিত ঐতিহাসিক রেকর্ডটি খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতাব্দীর। 'জিন' রাজ্যটি দক্ষিণ কোরিয়ায় খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে গঠিত হয়। দ্বিতীয় শতাব্দীতে, গিজা জোসনকে উইমান জোসেন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়, যা শতাব্দীর শেষের দিকে চীনের হান রাজবংশ দ্বারা পতিত হয়। যার ফলস্বরূপ গোজেসেওন রাজ্যেরও পতন ঘটে এবং পরবর্তীতে যুদ্ধের সূচনা হয়, যা প্রাচীন তিন-রাজ্যের সময়কাল থেকে লোহার যুগ পর্যন্ত স্থায়ী হয়।

৬৭৬ সালে একক সিলা না হওয়া পর্যন্ত, প্রথম শতাব্দী থেকে, কোরিয়ার তিন রাজ্য (৫৭ খ্রিস্টপূর্ব-৬৬৮ খ্রিষ্টাব্দ) হিসেবে পরিচিত গোগুরিও, বেকজি এবং সিলা উপদ্বীপ এবং ম্যানচুরিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল। ৬৯৮ সালে, বেলহের রাজা গো তৎকালীন গোরিও রাজ্যের অঞ্চলগুলোতে বেলহে রাজ্য (আধুনিক বোহাই সাগর) প্রতিষ্ঠা করে, যা বেলহে এবং সিলার সাথে, উত্তর-দক্ষিণ রাজত্বকাল (৬৯৮-৯২৬) পর্যন্ত স্থায়ী হয়।

ওয়াং জিওনের গরিয় বংশের একত্রিকরণের শেষের সাথে সাথে নবম শতাব্দীর শেষের দিকে, সিলাকে পরবর্তী তিন রাজ্যের (৮৯২-৯৩৬) মধ্যে বিভক্ত করা হয়। এদিকে, খাইতিলিয়ো রাজবংশের আক্রমণের পরে বেলহের পতন ঘটে এবং বেলহের রাজকুমার গরিয়োর কাছে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নেন এবং সেখানে রাজকুমারকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানানো হয় এবং ওয়াং জিওনের শাসক পরিবারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, এইভাবে গোগুরিয়োর দুটি উত্তরাধিকারী রাজ্যকে একত্রিত করে। গরিয়োর সময়কালে আইন প্রণনয়ন করা হয়, একটি সিভিল সার্ভিসেস সিস্টেম চালু করা হয়, এবং বৌদ্ধধর্ম দ্বারা প্রভাবিত সংস্কৃতির বিকাশ সাধন করা হয়। যাইহোক, ১৩ শতকের দিকে মঙ্গোল রাজবংশের বিভিন্ন প্রচারণাও ১৪ শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত গরিয়োর প্রভাব বিস্তার করে।

১৩৯২ সালে জেনারেল ই সিং-গেই একটি অভ্যুত্থানের পর জোসেয়ান রাজবংশ (১৩৯২-১৯১০) প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যা ১৩৮৮ সালে গরিয় রাজবংশকে উৎখাত করেছিল। রাজা সেজং দ্য গ্রেট (১৪১৮-১৪৫০) রাজবংশীয় কর্তৃপক্ষ গঠন করেন এবং বহু প্রশাসনিক, সামাজিক, বৈজ্ঞানিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সংস্কারকার্য পরিচালনা করেন এবং ব্যক্তিগতভাবে 'হ্যাঙ্গুল',কোরিয়ান বর্ণমালা তৈরি করে।

প্রায় দুই শতাব্দী ধরে শান্তির সময় উপভোগ করার পর, জোসেয়ান রাজবংশকে ১৫৯২ থেকে ১৬৩৭ সাল পর্যন্ত বিদেশি আক্রমণ এবং অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বের মুখোমুখি হতে হয়। এই আক্রমণগুলির মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল কোরিয়ায় জাপানি আক্রমণ, যা জোসেনের রাজবংশের প্রথম যুগের সমাপ্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। চীনের মিং রাজবংশের যৌথ বাহিনী এবং জোসেও রাজবংশের এই জাপানি আক্রমণগুলি এড়ানোর জন্য প্রচুর মূল্য দিতে হয়। পরবর্তীতে, জোসন ধীরে ধীরে আরও বেশি বিচ্ছিন্ন এবং বদ্ধ হয়ে পড়ে। উনবিংশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে, আধুনিকীকরণের জন্য এবং ইউরোপীয় শক্তির আগ্রাসনের আওতায় জোসেওন কোরিয়াকে বিদেশী শক্তির সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়। ১৮৯৫ সালে সম্রাট মায়ংসংশংকে হত্যার পর, দংহাক কৃষক বিপ্লব, এবং ১৮৯৪ থেকে ১৮৯৫ সালের গাবো সংস্কারসমূহ, কোরিয়ান সাম্রাজ্য (১৮৯৭-১৯১০) এর উত্থান ঘটায় এবং সামাজিক সংশোধন ও আধুনিকীকরণের সংক্ষিপ্ত কিন্তু দ্রুত সময়ের সূচনা করে। যাইহোক, ১৯০৫ সালে, কোরিয়ার সাম্রাজ্য একটি নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষর করে এবং ১৯১০ সালে জাপান কোরিয়ান সাম্রাজ্যকে সংযুক্ত করে।

১৯১২ সালের মার্চ মাসের প্রথম দিকে অহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে কোরিয়া প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এরপর নির্বাসনে থাকা কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের অস্থায়ী সরকার দ্বারা সংহত প্রতিরোধ আন্দোলন ও কোরিয়ার শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে প্রতিবেশী ম্যানচুরিয়া, চীন এবং সাইবেরিয়ার বিভিন্ন সংস্থা ব্যাপকভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী কোরিয়ায় এই সংস্থাগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর, জোটের দেশগুলি উত্তর অঞ্চলে (সোভিয়েত দ্বারা সুরক্ষিত) এবং একটি দক্ষিণ অঞ্চল (প্রাথমিকভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্বারা সুরক্ষিত) বিভক্ত হয়। ১৯৪৮ সালে ক্ষমতাসীনরা একক সরকার গঠনের ব্যাপারে একমত হতে ব্যর্থ হলে এই অংশটি উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার আধুনিক রাষ্ট্রগুলি তে পরিণত হয়। "কোরিয়া প্রজাতন্ত্র" দক্ষিণ ও দক্ষিণ ইউরোপের পশ্চিমাঞ্চলীয় পশ্চিমাঞ্চলে এবং দক্ষিণে "গণতান্ত্রিক গণপ্রজাতন্ত্রী কোরিয়া" সোভিয়েত ও কমিউনিস্ট গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের সমর্থন সহ উপদ্বীপটি দুইটি ভাগে বিভক্ত হয় ৩৮ তম সমান্তরাল বা ৩৮ ডিগ্রি অক্ষরেখা সীমানারেখায়। উত্তর কোরিয়ার নতুন প্রধানমন্ত্রী কিম -উল- সুং কমিউনিস্ট শাসনের অধীনে দেশটিকে পুনর্মিলিত করার প্রচেষ্টায় ১৯৫০ সালে কোরিয়ায় যুদ্ধ শুরু করেন। প্রচুর পরিমাণে ধ্বংসযজ্ঞের পর ১৯৫৩ সালে সংঘর্ষের অবসান ঘটে। ২০১৮ সালের মধ্যে উভয় দেশ কোরিয়ার যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করার জন্য চূড়ান্ত নিষ্পত্তিতে কাজ করার জন্য সম্মত হয়। ১৯৯১ সালে উভয় রাজ্য জাতিসংঘে গৃহীত হয়।

যুদ্ধের পর উভয় দেশ মূলত সামরিক শাসনের অধীনে ছিল, তবুও দক্ষিণ কোরিয়া অবশেষে স্বাধীন হয়ে উঠে। ১৯৮৭ সাল থেকে এখানে প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনী ব্যবস্থা আছে। দক্ষিণ কোরিয়ান অর্থনীতির উন্নতি হয়েছে এবং দেশটিকে পশ্চিমা ইউরোপ, জাপান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুরূপ রাজধানী অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সাথে সম্পূর্ণভাবে উন্নত করা হয়েছে মনে করা হয়।

উত্তর কোরিয়া কিম পরিবারের চারপাশের ব্যক্তিত্বদের সংস্কৃতির সাথে মিল রেখে সার্বভৌমত্বপূর্ণ সামরিক শাসন বজায় রেখেছে। অর্থনৈতিকভাবে, উত্তর কোরিয়া বিদেশী সাহায্য উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল রয়ে গেছিল। সোভিয়েত ইউনিয়ন শেষ হওয়ার পর, সেই সাহায্যটি হঠাৎ ভেঙ্গে পড়ে। দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বেশ সীমিত হয়ে পড়ে।

পুরাতন প্রস্তরযুগঃ

কোরিয়ান উপদ্বীপে "হোমো ইরেক্টাস" হতে পাওয়া কোন জীবাশ্ম পাওয়া যায় নি, যদিও একটি নমুনা রিপোর্ট করা হয়েছে। প্যালিওলিথিক যুগের টুল-রাইটিং নিদর্শন বর্তমানে উত্তর হ্যামিওং, দক্ষিণ পিয়ংগান, গিয়োংগি এবং কোরিয়া উত্তর ও দক্ষিণ চুংচোং প্রদেশে পাওয়া গেছে,যা প্যালিওলথিক যুগের অর্ধ মিলিয়ন বছর আগে এসেছে, যদিও এটি প্রায় ৪০০,০০০ বছর আগে বা ৬০০,০০০-৭০০,০০০ বছর আগে শুরু হতে পারে।

নব্যপ্রস্তুরযুগঃ

প্রায় ৮০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের প্রাচীনতম পরিচিত কোরিয়ান মৃৎশিল্পটি মেসোলিথিক পিট-কম ওয়েয়ার সংস্কৃতির প্রমাণ (অথবা ইউংগিমুন পোটারি) যা জেজু আইল্যান্ডের উপদ্বীপ জুড়ে পাওয়া যায়। জিউলমুন মৃৎশিল্প, বা "চিরুনি-প্যাটার্ন মৃৎশিল্প", ৭০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের পর পাওয়া যায় এবং কোরিয়ার উপদ্বীপের পশ্চিম-কেন্দ্রীয় অঞ্চলে এটি ঘনীভূত হয়, যেখানে আমা-দং নামে বহু প্রাগৈতিহাসিক বসতি বিদ্যমান ছিল। জিউলমুন পাত্রী মৌলিক নকশা এবং মঙ্গোলিয়া, সমৃদ্ধ নদী মঞ্চুরিয়া, জাপানের জ্যামনক্লুচার এবং দক্ষিণ চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাইয়ুতে অনুরূপ রূপ ধারণ করে।

প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণগুলি প্রমাণ করে যে মুমুন যুগে মৃৎশিল্পের সময় কৃষি সমাজগুলি এবং সামাজিক-রাজনৈতিক জটিলতার প্রাথমিকতম রূপ আবির্ভূত হয়েছির(১৫০০-৩০০ খ্রি .পূ)

দক্ষিণ কোরিয়াতে আদি মুমুন যুগের মানুষজন (১৫০০-৮৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে) প্রচুর পরিমাণে ফসল দিয়ে শুষ্ক-ক্ষেত্র ও ধান ক্ষেতের কৃষি গ্রহণ করেছিল। মধ্য মুনুন যুগে (৮৫০-৫৫০খ্রি:পূ:) বড় বড় বা প্রধানদের নেতৃত্বে প্রথম সমাজের আবির্ভাব ঘটে এবং প্রথম দর্শনীয় অভিজাত কবরটি ( ৫৫০-৩০০ খ্রি:পূ:) থেকে সনাক্ত করা যেতে পারে। ব্রোঞ্জ উৎপাদনের মধ্য দিয়ে মধ্য মুনুন যুগ ৭০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে আনুষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রম সমাজে ক্রমবর্ধমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সঙ্গগুকরি, ডায়পাইঅঙ্ক, ইগম-ডং, এবং অন্য বিভিন্ন জায়গার প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ নির্দেশ করে যে মুমুন যুগ প্রথম যেখানে সরদারি প্রথার উত্থান হয়, বিকাশ হয় এবং একসময় ধসে পড়ে।। দীর্ঘ দূরত্বের বাণিজ্য বৃদ্ধি, স্থানীয় দ্বন্দ্ব বৃদ্ধি, এবং ব্রোঞ্জ ও লোহা ধাতব পদার্থের প্রবর্তনের জন্য ৩০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের কাছাকাছি সময়ে মুমুন যুগের সমাপ্তি ঘটে।

গোজোসিওন রাজ্যঃ

জিন রাষ্ট্রের দক্ষিণে এবং ম্যানচুরিয়া উপদ্বীপের উত্তরে অবস্থিত গোজোসিওন ছিল প্রথম কোরিয়ানন রাজ্য।

গোজোসিওনের কিংবদন্তী প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে ডাঙ্গুনের নাম সামগুক ইউসা (১২৮১) এবং অন্যান্য মধ্যযুগীয় কোরিয়ান বইগুলিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, উল্লেখ্য, বিভিন্ন বর্ণনা অনুসারে,কথিত আছে দেশটি ২৩৩৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে ডাঙ্গুনের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং ডাঙ্গুন স্বর্গ থেকে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। যদিও এর কোন প্রমাণ খুঁজে পাওয়া যায় না যে এটি এই কথাকে সমর্থন করে। কিন্তু এটি কোরিয়ান জাতীয় পরিচয় বিকাশের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। খ্রিষ্টপূর্ব দ্বাদশ শতাব্দীতে চীনের সাং রাজবংশের একজন রাজকুমার গিজা নামক স্থানে গিজা জোসেনের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কিন্তু ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণের ভিত্তিতে, এর অস্তিত্ব নিয়ে বিংশ শতকে দিকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল, এবং বর্তমান যুগেও সেই সময়কালের নিদর্শন বা বিষয় উপলব্ধি করার মতো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঐতিহাসিক গোজোসিওনের রাজত্বটি প্রথম বার সপ্তম শতকের প্রথম দিকে চীনা রেকর্ডগুলিতে উল্লেখ করা হয়েছিল। চতুর্থ শতাব্দীর দিকে গোজোসিওন এমন অবস্থায় উন্নীত হয়েছিল যারর জন্য তার অস্তিত্ব চীনে সুপরিচিত হয় এবং এই সময়ের কাছাকাছি এর রাজধানী পিয়ংইয়ং এ সরানো হয়।

১৯৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দে, গোজোসিওনের রাজা জুন,ইয়্যান অঞ্চল থেকে উইমান নামে একজনকে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় দেন। পরে উইমান ১৯৪ খ্রিস্টপূর্বাব্দে বিদ্রোহ করে এবং জুন কোরিয়ান উপদ্বীপের দক্ষিণে পালিয়ে যান। ১০৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দে, হান বংশোদ্ভূত উইমান জোসনান্দ উত্তর কোরিয়া উপদ্বীপে চারটি কমান্ডার স্থাপন করেন। কয়েক দশকের মধ্যেই পশ্চিমাঞ্চলে তিনটি কমান্ডার বাহিনীর পতন ঘটে বা তারা পিছু হটতে শুরু করেছিল, কিন্তু লেল্যাং কমান্ডাররা চার শতাব্দী ধরে, ৩১৩ সালে গোগুরিয়েও দ্বারা দখলের আগ পর্যন্ত চলমান চীনা রাজবংশের সাথে সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক বিনিময়ের কেন্দ্র হিসেবে রয়ে গিয়েছিল।

জিন রাজ্যঃ

প্রায় ৩০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে, জিন নামক একটি রাষ্ট্র কোরিয়ান উপদ্বীপের দক্ষিণ অংশে উত্থিত হয়। জিন সম্পর্কে খুব কমই জানা যায়, তবে এটি হান চীনের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে এবং জাপানের ইয়ইয়ি তে হস্তান্তরিত করে। ১০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের কাছাকাছি সময়ে জিন ত্রি-হান নামে খ্যাত তিন রাজ্যের সাথে মৈত্রী স্থাপন করে সংঘবদ্ধ ছিল।

আলেকজান্ডার ভোভিন এবং জুহা জানুহুনেন সহ বেশ কয়েকজন ভাষাবিদ উল্লেখ করেন দক্ষিণ কোরিয়ার উপদ্বীপের বড় অংশগুলিতে জাপানিক ভাষায় কথাবার্তা বলা হতো। ভভিনের মতে, এই "উপদ্বীপীয় জাপানিক ভাষা" কোরিয়ান ভাষা (সম্ভবত হান-শাখার অন্তর্গত) দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়েছিল। সুতরাং জিন-ভাষাটি জাপানের সাথে সম্পর্কিত ছিল। Janhunen ও উল্লেখ করেন প্রাথমিকভাবে বাকজিতেও নতুন কোরিয়ান ভাষা আসার আগে সেখানকার মানুষজন জাপানিজ ভাষায় কথাবার্তা বলতেন।

ধাতুবিজ্ঞানঃ

কোরিয়ায় ব্রোঞ্জ যুগ প্রায় ৯০০-৮০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের দিকে শুরু হয়েছিল,যদিও ব্রোঞ্জ যুগের রূপান্তরটি প্রায় ২৩০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে পর শুরু হয়। শহরের বিভিন্ন দেওয়ালে ব্রোঞ্জ ড্যাগারস, আয়না, গহনা এবং অস্ত্র ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। চাল, লাল মটরশুটি, সয়াবিন এবং বাগানের চাষ করা হত সেসময় এবং উপদ্বীপের বিভিন্ জায়গায় আয়তক্ষেত্রাকার পিট-হাউস এবং ক্রমবর্ধমান বড় ডলম্যান সমাধি পাওয়া যায়। সমসাময়িক রেকর্ডগুলি ইঙ্গিত দেয় যে, চতুর্থ শতাব্দীর পূর্বে গেজোজোন প্রাচীরযুক্ত শহরগুলির সামন্তবাদী শহর থেকে কেন্দ্রীয় রাজ্যে স্থানান্তরিত হয়েছিল। এটা বিশ্বাস করা হয় যে চতুর্থ শতাব্দীতে কোরিয়াতে লোহার সংস্কৃতির সূচনা হয় আজকের উত্তর রাশিয়ার সামুদ্রিক প্রদেশের প্রভাবের কারণে।

আদিম-তিন রাজ্যঃ

প্রটো-থ্রি কিংডমস বা আদিম তিন রাজ্যের সময় কাল, কখনও কখনও বেশ কয়েকটি রাজ্যের সময়কাল (열국 시대) বলে বিবেচনা করা হয়। কোরিয়ার তিন রাজ্যের উত্থানের সময় গোগুরিও, সিলা এবং বেকজে অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং গোজোসনের পতনের পর ঘটেছিল । এই সময়ের মধ্যে গোজোজোন এর প্রাক্তন অঞ্চল থেকে অনেক রাজ্য উদ্ভূত হয়। এই রাজ্যের মধ্যে, বৃহত্তম এবং সবচেয়ে প্রভাবশালী ছিল Dongbuyeo এবং Bukbuyeo।

বোয়িও এবং অন্যান্য দক্ষিণের রাজ্যঃ

গোজোসনের পতনের পর, বুয়েও আজকের উত্তর কোরিয়া এবং দক্ষিণ মঞ্চুরিয়া দ্বিতীয় শতাব্দী থেকে ৪৯৪ পর্যন্ত গোগুরিয়োর দ্বারা শোষিত হয়েছিল এবং কোরিয়া থ্রি কিংডমগুলির দুজন গোগুরিয়েও এবং বেকজে উভয়ই নিজেদের বিবেচনা করেছিলেন তারা পরবর্তী উত্তরাধিকারী।

যদিও রেকর্ডগুলি অস্পষ্ট এবং দ্বন্দ্বপূর্ণ, তবে মনে হয় ৮৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দে, ডংবুইয়েও (পূর্ব বুয়েও) চারপাশে বিস্তার লাভ করতে শুরু করে। এজন্য মূল বুয়েওকে মাঝে মাঝে বুকবুয়েও (উত্তর বুয়েও) বলা হত। জোলবন বুয়েও গোগুরিয়োর পূর্বসূরী ছিলেন, এবং ৫৩৪ সালে, বেক্জে নিজের নাম নাম্বুয়েও (সাউথ বুয়েও) রাখেন।

ওকেজিও একটি উপজাতীয় রাজ্য ছিল যা উত্তর কোরিয়ার উপদ্বীপে অবস্থিত ছিল এবং গোজোসনের পতনের পর এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ওকেজি তার পতনের আগে গোজোসনের অংশ ছিল। এটি প্রতিবেশী রাজ্যের হস্তক্ষেপের কারণে সম্পূর্ণরূপে উন্নত রাষ্ট্র হয়ে ওঠতে পারেনি। ওকিজো গোগুরিয়োর উপরাজ্য হয়ে ওঠে এবং অবশেষে পঞ্চম শতাব্দীতে গওয়াঙ্গেতেও তাইওয়ানের দ্বারা গোগুরিয়েও যুক্ত হন।

উত্তর কোরিয়ার উপদ্বীপে অবস্থিত ডঙ্গেই আরেকটি ছোট রাজ্য ছিল। ডঙ্গেই ওকেজিও সীমান্তে, এবং দুটো রাজ্যের গোগুরিয়োর ক্রমবর্ধমান সাম্রাজ্যের উপরাজ্য হওয়ার একই ভাগ্য সম্মুখীন হয়েছিল। ডঙ্গেইও তার পতনের আগে গোজোজেনের প্রাক্তন অংশ ছিল।

সামহানঃ

সাম-হান (삼한, 三 韓) উল্লেখ করা হয় মহন, জিনহান ও বাইওনের এর সংঘবদ্ধ সম্মেলন। দক্ষিণ কোরিয়ার কোরিয়ান উপদ্বীপে এটি অবস্থিত। সাম-হান দেশ কঠোরভাবে আইন দ্বারা শাসিত ছিল যেখানে ধর্ম একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। মহন ছিল বৃহত্তম যা ৫৪ টি রাজ্য নিয়ে গঠিত ছিল এবং এজন্য রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্তৃত্ব নিয়ন্ত্রণ করত মহন । বায়োহন ও জিনহান উভয়ই ১২ টি রাজ্য নিয়ে গঠিত, যার ফলে সমা-হানের মোট রাজ্যের সংখ্যা দাঁড়ায় ৭৮টি । শেষ পর্যন্ত চতুর্থ শতাব্দীতে বাকেজি, সিলা ও গায়া এই সংঘবদ্ধ রাজ্যত্রয় দখল করে।

গোগরিয়েওঃ

গোগুরিয়েও ৩৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দে জুমং (পরবর্তীকালে রাজকীয় নাম ডংমিওংসিয়ং নামে হিসেবে চিহ্নিত) দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। পরে, রাজা টেযো সরকারকে কেন্দ্রীয়করণ করেন। রাজা সোসুরিমের রাজত্বের সময়ে ৩৭২ সালে বৌদ্ধ ধর্মকে রাষ্ট্রীয় ধর্ম হিসাবে গ্রহণ করা হয়।কোরিয়ার মধ্যে গোগুরিয়েও ই ছিল প্রথম যে রাজ্য বৌদ্ধ ধর্মকে রাষ্ট্রীয় ধর্ম হিসেবে গ্রহণ করে।

গোগুরিয়ও (কোগুরিও নামেও উচ্চারণ করা হয়) গরিয়ও নামেও পরিচিত ছিল (কোরিও হিসেবেও উচ্চারণ করা হয়) এবং অবশেষে আধুনিক কোরিয়া নামকরনের উৎস হয়ে ওঠে।

গোগুরিয়েও পঞ্চম শতাব্দীতে তার শক্তি অর্জন করে এবং পূর্ব এশিয়ায় একটি শক্তিশালী সাম্রাজ্য এবং মহান শক্তিগুলির মধ্যে একটি হয়ে ওঠে। যখন গাঁংগেটো গ্রেট এবং তার পুত্র, জংশু, প্রায় দেশটিকে প্রসারিত করেন তখন আন্তর মঙ্গোলিয়ার অংশগুলি ম্যানচুরিয়ার সমস্ত, রাশিয়ার অংশ, এবং বর্তমান শহর বেকজে থেকে সিউলে যুক্ত করেন। গোগুরিয়েও গাঁঙ্গগেটো এবং জাংসু এর মধ্যে একটি সুবর্ণ যুগের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিল, তিনি তাদের সময়কালে বেকজে ও সিলাকে পরাজিত করেছিলেন এবং কোরিয়া থ্রি কিংডমগুলির সংক্ষিপ্ত একত্রীকরণ অর্জন করেছিলেন এবং সর্বাধিক ক্ষমতা অর্জন করেছিলেন। কোরিয়ান উপদ্বীপ। জংসুর দীর্ঘ ৭২ বছর ধরে গোগুরিয়োর তে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার পরিপূর্ণতা স্থাপন করে।

গোগুরিও একটি অত্যন্ত সামরিকবাদী রাষ্ট্র ছিল;কোরিয়ান উপদ্বীপের নিয়ন্ত্রণে লড়াই করার পাশাপাশি গোগুরিওও বিভিন্ন চীনা রাজবংশের সাথে অনেক সামরিক সংঘর্ষের শিকার হয়েছিল, বিশেষত গোগুরিয়ে-সুই যুদ্ধ, যা গোগুরিয়েও পরাজিত করেছিল। দশ মিলিয়ন পুরুষের বিশাল শক্তি সুই রাজবংশের পতনের ক্ষেত্রে অবদান রাখে।

৬৪২ সালে শক্তিশালী জেনারেল ইয়োন গেসোমুন একটি অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেন এবং গোগুরিয়োর উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ লাভ করেন। জবাবে, চীনের সম্রাট তান তাইজং গোগুরিয়োর বিরুদ্ধে একটি প্রচারণা চালান, কিন্তু পরাজিত হন এবং পিছু হটতে শুরু করেন। ত্যাং তাইজংয়ের মৃত্যুর পর, তার পুত্র সম্রাট তং গাউজং কোরিয়ার রাজধানী সিলার সাথে বন্ধুত্ব করেছিলেন এবং গোগুরিয়োর উপর আবার আক্রমণ করেছিলেন, কিন্তু গোগুরিয়োর শক্তিশালি প্রতিরক্ষা পরাস্ত করতে ব্যর্থ হন এবং ৬৬২ সালে পরাজিত হন। যাইহোক, ৬৬৬ সালে ইওন গেসোমুন একটি প্রাকৃতিক কারণের কারণে মারা যান এবং গোগুরিওর সার্বিক অবস্থা তার পুত্র এবং ছোট ভাইয়ের মধ্যে উত্তরাধিকারসূত্রে সংঘর্ষের কারণে দুর্বল হয়ে পড়ে। তার বড় ছেলে টাঙ্গান ও তার ছোট ভাই সিলাকে অপহরণ করে। ৬৬৭ সালে টাঙ্গ-সিল্লা জোট একটি নতুন আক্রমণ চালায়, যার সাহায্যকারী ইয়েওন ন্যামসেইং সাহায্য করেছিলেন এবং ৬৬৮ সালে গোগুরিয়েওকে পরাজিত করতে সক্ষম হন।

গোগুরিয়োর পতনের পর, টং এবং সিলা তাদের জোট শেষ করে কোরিয়ান উপদ্বীপের নিয়ন্ত্রণে লিপ্ত হয়। সিলার বেশিরভাগ কোরিয়ান উপদ্বীপের উপর নিয়ন্ত্রণ অর্জনে সফল হন, যখন টাং গোগুরিয়োর উত্তরাঞ্চলীয় অঞ্চলগুলিতে নিয়ন্ত্রণ অর্জন করেন। যাইহোক, গোগুরিয়োর পতনের ৩০ বছর পর, ডেই জয়য়েং নামে একটি গোগুরিও জেনারেল বেলির কোরিয়ান-মোহে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং বেশিরভাগ প্রাক্তন গোগুরিও অঞ্চলের ট্যানের উপস্থিতি সফলভাবে বহিষ্কৃত করেছিলেন।