কেউটে সাপ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
কেউটে সাপ
NajaKaouthia.jpg
গোক্ষুর গোখরা
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস e
অপরিচিত শ্রেণী (ঠিক করুন): Naja
প্রজাতি: N. kaouthia
দ্বিপদী নাম
Naja kaouthia
Lesson, 1831
South East Asia location-Naja-kaouthia.svg
গোক্ষুর গোখরা বিস্তৃতি

কেউটে সাপ (Naja kaouthia), যাকে monocellate cobra বলা হয়, বাংলায় গোক্ষুর গোখরা গোখরা প্রজাতির একটি সাপ যা দক্ষিণ এবং দক্ষিণপূর্ব এশিয়া দেখা যায়। এটিকে আইইউসিএন কতৃক নূনতম বিপদগ্রস্থ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।[১]এ গোখরোর ফণার পিছনে গরুর ক্ষুর বা পুরোনো দিনের ডাঁটি ছাড়া জোড়া-চোখো চশমার মত মত দাগ থাকে তার থেকে নাম গোক্ষুর। আবার ফণার পিছনে গোল দাগ থাকে তাই গোখরোর দুচোখার পরিবর্তে একচোখা চশমা বা মনোকল-এর উপমা দিয়ে এর ইংরাজী নাম মনোকল্ড কোবরা। গোখরা উত্তেজিত হলে ওদের ঘাড়ের লম্বা হাড় স্ফীত হয়ে ওঠে, তাতে চমৎকার ফণাটি বিস্তৃত হয়।

বাংলাদেশের ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে এ প্রজাতিটি সংরক্ষিত।[২]

ব্যুৎপত্তি[সম্পাদনা]

কেউটে শব্দটি এসেছে সংস্কৃত শব্দ কালকূট থেকে।

বৈশিষ্ট[সম্পাদনা]

অল্প বয়েসি গোক্ষুর সাপ

গোক্ষুর গোখরার ইংরেজি ও অক্ষরের মত ফনা রয়েছে যা প্রায় খইয়া বা খড়মপায়া গোখরার কাছাকাছি। ছোট সাপের রং স্থিত থাকে। গায়ে হলুদ, বাদামি, ছাই বা কাল ধরনের রংয়ের সাথে ক্রসব্যান্ড দেখা যায়। ফনার দুই ধারে নিচের দিকে কাল ছোপ দেখতে পাওয়া যায় এবং একটি বা দুটি ক্রশ আকারের রেখা কালো ছোপের পেছন থেকে পেটের দিকে নামে। বয়সের সাথে সাথে সাপের গায়ের রং ফিকে হতে শুরু করে। এর দুটি সরু, লম্বা বিষ দাত আছে। সবচেয়ে বড় বিষ দাতের রেকর্ড হল ৬.৭৮ মিমি (০.৬৭৮ সেমি)। বিষদাতগুলো বিষছুড়ে মারার জন্য কিছুটা উপযুক্ত।[৩] পূর্ন বয়স্ক গোক্ষুর গোখরা প্রায় ১.৩৫ থেকে ১.৫ মি (৪.৪ থেকে ৪.৯ ফু) হয়, লেজ সহ তা দাড়ায় প্রায় ২৩ সেমি (৯.১ ইঞ্চি)। আরো অনেক বড় প্রজাতি পাওয়া গেছে তবে তা খুব বিরল। পূর্ন বয়স্ক হলে এরা লম্বায় প্রায় ২.৩ মি (৭.৫ ফু) হয়।[৪][৫]

বিস্তৃতি ও আবাস[সম্পাদনা]

গোক্ষুর গোখরা পাওয়া যায় ভারত এর পশ্চিম থেকে চীন, ভিয়েতনাম এবং কম্বোডিয়াতেমালয় দ্বীপপুঞ্জ, বাংলাদেশ, ভুটান, মিয়ানমার, লাওস, নেপালথাইল্যান্ড এদের আদি নিবাস।

আচরণ[সম্পাদনা]

এরা নিশাচর। মানুষের বসতবাড়ির আশেপাশে, চাষের জমি, বনাঞ্চল বা ধানক্ষেতের আশেপাশের ইদুরের গর্তে থাকতে ভালবাসে। শিশু গোক্ষুর গোখরা উভচর প্রানী আর বড়গুলো স্তন্যপায়ী প্রাণি, সাপ বা মাছ শিকার করে। যখন বিরক্ত হয় পালাতে পছন্দ করে।[৩] কিন্তু যদি তার কাছে কাউকে প্রাণ সংশয়কারী মনে হয় তাহলে ফণা তুলে জোরে হিস হিস শব্দ করে। আত্মরক্ষার্থে কামড়ও দিতে পারে।[৫]

বাস্তুসংস্থান[সম্পাদনা]

এগুলোকে গাছের গুড়ির গর্ত বা যেখানে ইদুর রয়েছে এমন স্থানে পাওয়া যায়।[৬]

কিছু কিছু গোক্ষুর গোখরার বিষ নিক্ষেপ করার ক্ষমতা রয়েছে।[৭][৮]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Naja kaouthia"বিপদগ্রস্ত প্রজাতির আইইউসিএন লাল তালিকা। সংস্করণ 2016.2প্রকৃতি সংরক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক ইউনিয়ন। ২০১২। 
  2. বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত, জুলাই ১০, ২০১২, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, পৃষ্ঠা-১১৮৫০৮
  3. Wüster, W (১৯৯৮)। "The cobras of the genus Naja in India" (PDF)। Hamadryad 23 (1): 15–32। 
  4. Smith, M. A. (1943) Naja naja kaouthia In: The Fauna of British India, Ceylon and Burma, Including the Whole of the Indo-Chinese Sub-Region. Reptilia and Amphibia. Volume III (Serpentes). Taylor and Francis, London. Pages 428–432.
  5. Chanhome, L.; Cox, M. J.; Vasaruchaponga, T.; Chaiyabutra, N. Sitprija (২০১১)। "Characterization of venomous snakes of Thailand"Asian Biomedicine 5 (3): 311–328। 
  6. "Naja kaouthia: General Details and Information"WCH Clinical Toxinology Resource। University of Adelaide। সংগৃহীত ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  7. Wuster, Wolfgang; Thorpe, Roger S. (১৯৯২)। "Dentitional phenomena in cobra revisited: spitting and fang structure in the Asiatic species of Naja (Serpentes: Elapidae)"Herpetologica 48 (4): 424–434। 
  8. Santra, Vishal & Wolfgang Wüster (2017) Naja kaouthia behavior/spitting. Herpetological Review 48(2):?

আরো পড়ুন[সম্পাদনা]

  • Wüster, Wolfgang (১৯৯৩)। "A century of confusion: Asiatic cobras revisited"। Vivarium 4 (4): 14–18। 
  • Cox, Merel J (১৯৯৫)। "Naja kaouthia"। Herpetological Review 26 (3): 156–157। 
  • Kyi, S. W.; Zug, G. R. (২০০৩)। "Unusual foraging behaviour of Naja kaouthia at the Moyingye Wetlands Bird Sanctuary, Myanmar"। Hamadryad 27 (2): 265–266। 
  • Wüster, W. Thorpe, R.S. (1991). Asiatic cobras: Systematics and snakebite. Experientia 47: 205–209
  • Wüster, W.; Thorpe, R.S.; Cox, M.J.; Jintakune, P.; Nabhitabhata, J. (১৯৯৫)। "Population systematics of the snake genus Naja (Reptilia: Serpentes: Elapidae) in Indochina: Multivariate morphometrics and comparative mitochondrial DNA sequencing (cytochrome oxidase I)"."। Journal of Evolutionary Biology 8: 493–510। ডিওআই:10.1046/j.1420-9101.1995.8040493.x 
  • Wüster, W (১৯৯৬)। "Taxonomic changes and toxinology: Systematic revisions of the Asiatic cobras (Naja naja complex)"। Toxicon 34 (4): 399–406। ডিওআই:10.1016/0041-0101(95)00139-5পিএমআইডি 8735239 
  • Wüster, W (১৯৯৮)। "The cobras of the genus Naja in India"। Hamadryad 23 (1): 15–32। 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

টেমপ্লেট:Naja species