কিথ অ্যান্ড্রু

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
কিথ অ্যান্ড্রু
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামকিথ ভিনসেন্ট অ্যান্ড্রু
জন্ম(১৯২৯-১২-১৫)১৫ ডিসেম্বর ১৯২৯
গ্রীনএকর্স, ওল্ডহাম, ইংল্যান্ড
মৃত্যু২৭ ডিসেম্বর ২০১০(2010-12-27) (বয়স ৮১)
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি লেগ ব্রেক
ভূমিকাউইকেট-রক্ষক, কোচ, প্রশাসক
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৩৭৮)
২৬ নভেম্বর ১৯৫৪ বনাম অস্ট্রেলিয়া
শেষ টেস্ট৬ জুন ১৯৬৩ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৫২ - ১৯৬৬নর্দাম্পটনশায়ার
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ৩৯০
রানের সংখ্যা ২৯ ৪২৩০ ১৫
ব্যাটিং গড় ৯.৬৬ ১৩.৩৮ ৩.৭৫
১০০/৫০ ০/০ ০/৩ ০/০
সর্বোচ্চ রান ১৫ ৭৬ *
বল করেছে ৪৯
উইকেট
বোলিং গড় ১৫.৫০
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট -
সেরা বোলিং ২/৯
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১/০ ৭২৩/১৮১ ৬/০
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ৩ আগস্ট ২০২০

কিথ ভিনসেন্ট অ্যান্ড্রু (ইংরেজি: Keith Andrew; জন্ম: ১৫ ডিসেম্বর, ১৯২৯ - মৃত্যু: ২৭ ডিসেম্বর, ২০১০) ওল্ডহামের গ্রীনএকর্স এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার, কোচ ও প্রশাসক ছিলেন।[১] ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৫০-এর দশকে থেকে ১৯৬০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন। তবে, তিনি মাত্র দুই টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করেছিলেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নর্দাম্পটনশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে লেগ ব্রেক বোলিং করতে পারতেন কিথ অ্যান্ড্রু

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৫২ সাল থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত কিথ অ্যান্ড্রু’র প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। ল্যাঙ্কাশায়ারের ওল্ডহামের গ্রীনএকর্স এলাকায় কিথ অ্যান্ড্রু’র জন্ম। উইকেট-রক্ষণে চমৎকার ভূমিকা রেখেছিলেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আরও খেলতে পারতেন। কিন্তু, ব্যাটিং দূর্বলতার কারণে তার আর হয়ে উঠেনি ও গডফ্রে ইভান্সের সাথে তাকে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হতে হতো।[২]

নর্দাম্পটনশায়ার কর্তৃপক্ষ ল্যাঙ্কাশায়ার লীগ থেকে তাকে খুঁজে পায় ও ১৯৫৪ সালে তাকে কাউন্টির নিয়মিত উইকেট-রক্ষক হিসেবে মনোনয়ন দেয়। তিনিও দ্রুত সফলতার স্বাক্ষর রাখতে শুরু করেন। উইজডেনের ১৯৫৫ সালের সংস্করণে উল্লেখ করা হয় যে, তিনি সাধারণের চেয়ে বেশ ঊর্ধ্বে ছিলেন। তিনি দ্রুতলয়ে প্রত্যেক সুযোগকে কাজে লাগাতে সচেষ্ট হন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে দুইটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন কিথ অ্যান্ড্রু। ২৬ নভেম্বর, ১৯৫৪ তারিখে ব্রিসবেনে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। এরপর, ৬ জুন, ১৯৬৩ তারিখে ম্যানচেস্টারে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

অংশগ্রহণকৃত দুই টেস্টেই তার দল পরাজয়ের শিকার হয়। সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে গডফ্রে ইভান্সের সাথে তাকে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হতে হয়েছে। ১৯৫৪-৫৫ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড গমনার্থে এমসিসি দলে নিয়মিত উইকেট-রক্ষক গডফ্রে ইভান্সের সহকারী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। তবে, ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টের পূর্বে ইভান্স সানস্ট্রোকে আক্রান্ত হলে তাকে খেলার সুযোগ দেয়া হয়।[১] অধিনায়ক লেন হাটনের জন্যে এ টেস্টটি বিভীষিকাময় অধ্যায় ছিল। স্বাগতিক দলকে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানান ও ৬০১ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। খেলায় তার দল ইনিংস ও ১৫৪ রানে পরাভূত হয়। বাজে ফিল্ডিংয়ের খেসারত গুণতে হয় দলকে ও কিথ অ্যান্ড্রু এর ব্যতিক্রম ছিলেন না। আর্থার মরিসের রানের খাতা খোলার পূর্বে অ্যালেক বেডসারের বলে গ্লাভসবন্দী করতে পারেননি ও মরিস ১৫৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন।

অন্যদিকে, দ্বিতীয় টেস্টের পূর্বে গডফ্রে ইভান্স আরোগ্য লাভ করলে নিজের সেরা সিরিজ খেলেন। ফলে কিথ অ্যান্ড্রু আর খেলতে পারেননি ও ইংল্যান্ড অ্যাশেজ পুণরুদ্ধার করে। এরপর থেকে অবসর গ্রহণের পূর্ব-পর্যন্ত ইভান্স ইংল্যান্ডের মূল উইকেট-রক্ষক হিসেবে পরবর্তী চার বছর দেশ-বিদেশে খেলেন। তার অবসরের পর কিথ অ্যান্ড্রুকে তার স্থলাভিষিক্ত না করে রয় সুইটম্যান, জিওফ মিলম্যান, জন মারেজিম পার্কসকে খেলানো হয়।

কেবলমাত্র ১৯৬৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে আরেকবার খেলার সুযোগ লাভ করেন।[১] এবারও ইংল্যান্ড দল ফিল্ডিংয়ে নেমে প্রতিপক্ষকে ৫০০-এর অধিক রান তোলার সুযোগ দেয় এবং ফলো-অনের কবলে পড়ে শোচনীয় পরাজয়ের মুখোমুখি হয়। বিপুলসংখ্যক রান প্রতিপক্ষের সংগ্রহে যুক্ত হলেও তিনি মাত্র তিনটি বাই রান দিয়েছিলেন। জন মারেকে শ্রেয়তর ব্যাটিংয়ের কারণে অগ্রাধিকার দেয়া হয়। দ্বিতীয় টেস্টে অংশগ্রহণকালীন তিনি নর্দাম্পটনশায়ারের অধিনায়কের দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন।[১]

অবসর[সম্পাদনা]

১৯৬২ সাল থেকে পরবর্তী পাঁচ মৌসুম নর্দাম্পটনশায়ারের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। তন্মধ্যে, ১৯৬৫ সালে কাউন্টি দলকে নেতৃত্ব দিয়ে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপে দ্বিতীয় স্থানে নিয়ে যান। শিরোপা জয় করা থেকে দলটি মাত্র চার পয়েন্ট পিছিয়ে ছিল ও দলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সাথে যুক্ত হয়।[২] ১৯৬৬ সালের পর অবসর গ্রহণ করেন তিনি।

অবসর গ্রহণের পর কিথ অ্যান্ড্রু প্রভাবশালী যুব কোচ ও প্রশাসক হন, ন্যাশনাল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত কোচিং পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।[১] অবসর গ্রহণের পর এমসিসি’র সম্মানসূচক সদস্যের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন তিনি। ১৯৫৮ সালে জন্মগ্রহণকারী তার সন্তান নীল ভাস্কর শিল্পী।[৩] অনেক জনপ্রিয় ক্রীড়া তারকাদের ভাস্কর্য ও প্রতিকৃতি অঙ্কন করেছেন।[৪] ২৭ ডিসেম্বর, ২০১০ তারিখে ৮১ বছর বয়সে কিথ অ্যান্ড্রু’র দেহাবসান ঘটে।[২][৫]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Bateman, Colin (১৯৯৩)। If The Cap Fits। Tony Williams Publications। পৃষ্ঠা 14আইএসবিএন 1-869833-21-X 
  2. "Ex-Northants captain Keith Andrew dies"। BBC.co.uk। ২৭ ডিসেম্বর ২০১০। সংগ্রহের তারিখ ২০ এপ্রিল ২০১১ 
  3. Wisden 2011, p. 178.
  4. Neale Andrew CV ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৫ নভেম্বর ২০২০ তারিখে Retrieved 6 September 2013.
  5. Daily Telegraph obituary Retrieved 5 Jan 2011.

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]