এড স্মিথ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
এড স্মিথ
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামএডওয়ার্ড টমাস স্মিথ
জন্ম (1977-07-19) ১৯ জুলাই ১৯৭৭ (বয়স ৪৪)
পেমবারি, কেন্ট, ইংল্যান্ড
ডাকনামস্মাজ
উচ্চতা৬ ফুট ২ ইঞ্চি (১.৮৮ মিটার)
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি মিডিয়াম
ভূমিকাব্যাটসম্যান, লেখক, সাংবাদিক, ধারাভাষ্যকার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৬১৭)
১৪ আগস্ট ২০০৩ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
শেষ টেস্ট৪ সেপ্টেম্বর ২০০৩ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৯৬ - ২০০৪কেন্ট
২০০৫ - ২০০৮মিডলসেক্স
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি এলএ টি২০
ম্যাচ সংখ্যা ১৯১ ১৩৪ ২৫
রানের সংখ্যা ৮৭ ১২,৭৮৯ ৩,৭৯৮ ৫৭৩
ব্যাটিং গড় ১৭.৪০ ৪১.৭৯ ৩১.১৩ ২২.৯২
১০০/৫০ ০/১ ৩৪/৫৪ ২/২৬ ০/৩
সর্বোচ্চ রান ৬৪ ২১৩ ১২২ ৮৫
বল করেছে ১০৮
উইকেট
বোলিং গড় ১১৯.০০
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ১/৬০
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৫/– ৮৫/– ২৯/– ৬/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১২ জানুয়ারি ২০২১

এডওয়ার্ড টমাস স্মিথ (ইংরেজি: Ed Smith; জন্ম: ১৯ জুলাই, ১৯৭৭) কেন্টের পেমবারি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী লেখক, সাংবাদিক, ধারাভাষ্যকার এবং সাবেক পেশাদার ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ২০০০-এর দশকের সূচনালগ্নে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্ট ও মিডলসেক্স দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন ‘স্মাজ’ ডাকনামে পরিচিত এড স্মিথ

শৈশবকাল[সম্পাদনা]

কেন্টের পেমবারি এলাকায় এড স্মিথের জন্ম। ইয়ার্ডলি কোর্ট ও টনব্রিজ স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। তার পিতা জোনাথন স্মিথ ঔপন্যাসিক ছিলেন ও কর্মজীবনের অধিকাংশ সময়ই ইংরেজি বিষয়ে পাঠদান করতেন।[১]

কেমব্রিজের পিটারহাউজে ইতিহাস বিষয়ে পড়াশুনো করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিকেট দলের সদস্যরূপে পূর্ণাঙ্গ ব্লুধারী হন। ১৯৯৬ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে অভিষেক ঘটে তার। অভিষেক খেলাতেই তিনি শতরানের ইনিংস খেলেন।[২] ক্রিকেট খেলায় অধিকাংশ সময়ই ব্যস্ত থাকার পরও স্নাতক শ্রেণীতে দ্বৈত প্রথম-শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হন।[৩]

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৯৬ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত এড স্মিথের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। গ্রন্থপ্রিয় ছিলেন তিনি। দীর্ঘদেহী ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন এড স্মিথ। ড্রাইভের দিকেই সবিশেষ পারদর্শী ছিলেন। ইংল্যান্ড দলসহ কেমব্রিজ, কেন্ট ও মিডলসেক্সের পক্ষাবলম্বন করেছেন। ১৯৯৬ সালে ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সদস্যরূপে খেলার জন্যে মনোনীত হন ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিনটি অনানুষ্ঠানিক টেস্টে অংশ নেন।

কেন্টের পক্ষে ছয়টি খেলায় অংশ নিয়ে সমসংখ্যক শতরান করার গৌরব অর্জন করেন। তন্মধ্যে, ব্ল্যাকপুলে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২০৩ রান তুলেন। ফলশ্রুতিতে, মৌসুমের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে সহস্র রান সংগ্রহের মাইলফলক স্পর্শ করেন। নাসের হুসেনের পদত্যাগের ফলে তার এ সুযোগ ঘটে। ২০০৪ সালে গুজব রটে যে, কেন্টের সাজঘরে তাকে এক ঘরে করে রাখা হয়। তবে, গ্রীষ্মের শেষে মিডলসেক্স দলে যুক্ত হয়েছিলেন তিনি। দুই বছর ধারাবাহিকভাবে সহজাত নেতৃত্ব গুণের কারণে ২০০৭ সালে ক্লাবের অধিনায়কের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন।

সর্বমোট প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তেরো মৌসুম খেলেছেন। ৩৪টি শতরানের ইনিংস রয়েছে তার। ২০০৩ সালে স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করেন। ঐ বছরের জুলাই মাসে কেন্টের পক্ষে খেলে ১৩৫, ০, ১২২, ১৪৯, ১১৩, ২০৩, ৩৬, ১০৮ ও ৩২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ঐ মৌসুমে ৭২.৯৯ গড়ে প্রথম-শ্রেণীর রান তুলেন। ফলশ্রুতিতে, ইংল্যান্ড দলের পক্ষে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা পান।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে তিনটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন এড স্মিথ। সবগুলো টেস্টই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলেছিলেন তিনি। ১৪ আগস্ট, ২০০৩ তারিখে নটিংহামে সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। এরপর, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০০৩ তারিখে ওভালে একই দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি। তাকে কোন ওডিআইয়ে অংশগ্রহণ করার সুযোগ দেয়া হয়নি।

ইংল্যান্ড দলের পঞ্চদশ স্মিথ নামধারী তিনি। বেসবল বিষয়ে প্রথম গ্রন্থ প্রকাশ করেন। তবে, কাউন্টি ক্রিকেটে দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে তার অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। সবমিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে তিন টেস্টে অংশ নেয়ার সুযোগ হয় তার। ২০০৩ সালে নিজ দেশে সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঐ টেস্টগুলো খেলেছিলেন। অভিষেক খেলায় ৬৪ রান তুলেন। তবে, পরবর্তী চার ইনিংসে আর মাত্র ২৩ রান যুক্ত করতে পেরেছিলেন তিনি। ফলশ্রুতিতে, এ সিরিজের পরপরই ভারত উপমহাদেশে গমনার্থে ইংরেজ দলে তাকে রাখা হয়নি।

অবসর[সম্পাদনা]

২০০৪ সালের পর নিজ কাউন্টি দল ত্যাগ করেন। ২০০৫ সালে মিডলসেক্সের সদস্য হন। ২০০৭ ও ২০০৮ সালে দুই বছর কাউন্টি দলের অধিনায়কের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। তবে, ২০০৮ সালের অধিকাংশ সময়ই পায়ের গোড়ালীতে আঘাত পাবার ফলে মাঠের বাইরে অবস্থান করতে বাধ্য হয়েছিলেন। এরফলে, ঐ বছর শেষে তিনি তার অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন।[৪]

অনেকটা বেশ আগেভাগেই পেশাদারী পর্যায়ের ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ করেছিলেন তিনি। ৩১ বছর বয়সে ২০০৮ সালে অবসর নেন তিনি। এরপর লেখক ও সাংবাদিকতায় ঝুঁকে পড়েন। ২০১২ সালে বিবিসি’র টেস্ট ম্যাচ স্পেশালে ধারাভাষ্যকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন।[৫] ২০১৩ সালে বিবিসি’র টেস্ট ম্যাচ স্পেশালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অনুষ্ঠেয় অ্যাশেজ সিরিজে ধারাভাষ্যকার হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করেছিলেন। ২০১৮ সালে ইংল্যান্ডের প্রধান দল নির্বাচক হিসেবে জেমস হুইটেকারের স্থলাভিষিক্ত হন।[৬]

অথর্স একাদশের পক্ষে শৌখিন ক্রিকেটার হিসেবে খেলায় অংশ নিতে থাকেন। দলটি ব্রিটিশ লেখক ও সাংবাদিকদের নিয়ে গঠিত। দলীয়ভাবে প্রকাশিত দি অথর্স ইলাভেন: এ সিজন অব ইংলিশ ক্রিকেট ফ্রম হ্যাকনি ও হ্যাম্বলডন গ্রন্থের একটি অধ্যায় রচনায় অংশ নেন।[৭]

সাহিত্য কর্ম[সম্পাদনা]

এড স্মিথ তার প্রথম গ্রন্থ প্লেয়িং হার্ড বলে খেলার প্রতি তার আগ্রহ, মনোগত ধারণা, ইতিহাস ও আমেরিকান বেসবলের ব্যুৎপত্তির সাথে ক্রিকেটের তুলনা করেছেন। ২০০৩ সালের নিজ দিনপঞ্জী নিয়ে অন এবং অফ দ্য ফিল্ড প্রকাশ করেন। ২০০৫ সালে উইজডেন কর্তৃক বর্ষসেরা গ্রন্থের পুরস্কার লাভ করে এবং উইলিয়াম হিল বর্ষসেরা ক্রীড়া পুস্তক ও ২০০৪ সালে দ্য ক্রিকেট সোসাইটির বর্ষসেরা গ্রন্থ পুরস্কার লাভ করে।[৮][৯] ২০১২ সালে লাক: হোয়াট ইট মিনস এবং হোয়াই ইট ম্যাটার্সে স্মিথ ক্রীড়া ও এর বাইরে ভাগ্য, ভবিষ্যৎ, লক্ষ্য ও পরিণতি বিষয়ে নিজ চিন্তাধারার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন।[১০]

এছাড়াও তিনি নিয়মিতভাবে কলামিস্টের দায়িত্ব পালনসহ উইজডেন ক্রিকেটার্স অ্যালমেনাকে ক্রিকেট বিষয়ক গ্রন্থের পর্যালোচনায় অংশ নেন ও সানডে টেলিগ্রাফে ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থের পর্যালোচনা করেন।[১১][১২] নিউ স্টেটসম্যানে সাপ্তাহিক কলাম লিখেন তিনি।[১৩] জুলাই, ২০১৬ সালে এড স্মিথ অপরের লেখা নিজের বলে চালিয়ে নেয়ার দায়ে অভিযুক্ত হন।[১৪][১৫] ইএসপিএনক্রিকইনফোয় তিনি প্রতিবেদন লিখেন। তবে, ঐ ওয়েবসাইট থেকে পরবর্তীতে তা মুছে ফেলা হয়। প্রধান সম্পাদক সম্বিত বাল লক্ষ্য করেন যে, বোর স্ট্রাইকিং সিমিলারিটিজ টু পার্টস অব এ পিস নিবন্ধের অংশবিশেষ কয়েকদিন পূর্বেকার ইকোনোমিস্টে প্রকাশতি হয়েছিল। [১৬]

রচনাসমগ্র[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "The best teachers will always bowl you over"। London: The Guardian। ১৯ জুন ২০১১। 
  2. Llewellyn, David (৩১ ডিসেম্বর ১৯৯৭)। "Cricket: A student's love of the game and attention to detail can bring him first-class honours"। London: The Independent 
  3. "Celebrities tell us about their first year at university"। London: The Guardian। ১৪ আগস্ট ২০০৮। 
  4. Cricinfo staff (২৫ নভেম্বর ২০০৮), Ed Smith announces his retirement, Cricinfo  Retrieved on 25 November 2008.
  5. Mountford, Adam (১৪ মে ২০১৩)। "Test Match Special returns"। BBC। সংগ্রহের তারিখ ৩০ মে ২০১৩ 
  6. Cricket: Ed Smith set to be named new England national selector BBC News, 18 April 2018
  7. Authors Cricket Club (২০১৩)। The Authors XI: A Season of English Cricket from Hackney to Hambledon। London: Bloomsbury। আইএসবিএন 978-1-4088-4045-0 
  8. "Book Club – Luck: What It Means And Why It Matters by Ed Smith"। BBC। ৮ ডিসেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩০ মে ২০১৩ 
  9. "The Cricket Society and M.C.C. Book of the Year Award 2012"The Cricket Society। ২৫ জুন ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩০ মে ২০১৩ 
  10. Ed Kemp (১৯ জুন ২০১৩)। "A Drink With… Ed Smith"All Out Cricket। ১০ নভেম্বর ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ নভেম্বর ২০১৪ 
  11. "The Wisden of umpire Archer"London Evening Standard। ৩০ মে ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ৩০ মে ২০১৩ 
  12. Robinson, James (৭ অক্টোবর ২০০৯)। "Former England cricketer Ed Smith joins the Times"guardian.co.uk। London। সংগ্রহের তারিখ ৩০ মে ২০১৩ 
  13. "Ed Smith"New Statesman। সংগ্রহের তারিখ ৩০ মার্চ ২০১৪ 
  14. "Ed Smith pulls a Melania Trump | The Cricket Couch"thecricketcouch.com। সংগ্রহের তারিখ ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬ 
  15. "A CRICKETING VIEW: Ed Smith Pulls A Melania Trump (But Not As Well As Melania Trump)"cricketingview.blogspot.co.uk। সংগ্রহের তারিখ ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬ 
  16. "An explanation"। সংগ্রহের তারিখ ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬ 
  17. "Baseball Discovered: Who's Who – Ed Smith – Cricket Player/Author"Major League Baseball। সংগ্রহের তারিখ ৩০ মে ২০১৩ 
  18. Lezard, Nicholas (৩০ এপ্রিল ২০০৫)। "Testing times"guardian.co.uk। London। সংগ্রহের তারিখ ৩০ মে ২০১৩ 
  19. Lewis, Tim (২৩ মার্চ ২০০৮)। "No ifs, plenty of butts"guardian.co.uk। London। সংগ্রহের তারিখ ৩০ মে ২০১৩ 
  20. Michaels, Adrian (৫ এপ্রিল ২০১২)। "Luck: What it Means and Why it Matters by Ed Smith"The Daily Telegraph। London। সংগ্রহের তারিখ ৩০ মে ২০১৩ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

ক্রীড়া অবস্থান
পূর্বসূরী
বেন হাটন
মিডলসেক্স ক্রিকেট অধিনায়ক
২০০৭ - ২০০৮
উত্তরসূরী
শন উদাল