উইকিপিডিয়া:উৎকৃষ্ট নিবন্ধ লিখন
| এই পাতাটি বাংলা উইকিপিডিয়ার রচনাশৈলী নির্দেশনার একটি নথি। এটি একটি গ্রহণযোগ্য আদর্শ, যা সম্পাদকের অনুসরণের চেষ্টা করা উচিত, যদিও তা সাধারণ জ্ঞানে ও ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে সেরা পন্থা অবলম্বন করা হয়। এই পাতার যেকোনো স্বতন্ত্র সম্পাদনা জনমতের ভিত্তিতে করা উচিত। কোনো সন্দেহ থাকলে, প্রথমে তা আলাপ পাতায় আলোচনা করুন। |
| এই পাতার মূল বক্তব্য: একটি চমৎকার নিবন্ধ লিখতে পাঠককে চমকে না দিয়ে সহজভাবে তথ্য উপস্থাপন করুন, নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তথ্য যাচাই করুন এবং অতিরঞ্জিত প্রশংসা বা অস্পষ্ট দাবি বর্জন করে মূল বিষয়ে অনড় থাকুন। |
| রচনাশৈলী নির্দেশনা (রচনি) |
|---|
এই পাতাতে কি ভাবে উৎকৃষ্ট নিবন্ধ লেখা সম্ভব তার উপদেশ দেওয়া আছে। তার সাথে নিবন্ধের বিন্যাস তথ্য এবং কি ভাবে পাঠকের কাছে একটি যথাযত এবং প্রাসঙ্গিক নিবন্ধ তৈরি করা যায় তার বর্ননা আছে। উইকিপিডিয়ায় উৎকৃষ্ট নিবন্ধ লিখতে হলে তা বিশ্বকোষীয় আঙ্গিকে লিখতে হবে।
- আপনি উইকিপিডিয়ায় বাংলা ভাষার ব্যাকরণ এবং ব্যবহারের রীতি-নীতির সম্বন্ধে জানতে উইকিপিডিয়া:বাংলা বানানের নিয়ম ও উইকিপিডিয়া:বাংলা প্রয়োগবিধি দেখুন।
- যদি আপনি উইকিপিডিয়ার উৎকৃষ্ট ও সুলিখিত নিবন্ধ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখতে চান, উইকিপিডিয়া:নির্বাচিত নিবন্ধ দেখুন।
( এখনও পর্যন্ত উইকিপিডিয়ার উৎকৃষ্ট ও সুলিখিত নিবন্ধ বাংলাদেশ ও ভারত, সত্যজিৎ রায় দেখতে পারেন।)
- কীভাবে উৎস নির্দেশ করা তার তথ্য জানার জন্য , উইকিপিডিয়া:উৎস নির্দেশ দেখুন।
- আমাদের রচনাশৈলী নির্দেশনার জন্য রচনাশৈলী নির্দেশনা ও তাদের উপতাতাগুলি দেখুন বা ডানদিকের টেমপ্লেটের তালিকা দেখতে পারেন।
- উইকিপিডিয়ায় প্রবন্ধ সম্পাদনার মার্ক আপ এর ব্যাপারে আরো তথ্যের জন্য এই লিঙ্কটি দেখুন। কীভাবে একটি পৃষ্ঠা সম্পাদনা করতে হয়?.
- তালিকা, দ্ব্যর্থতা পৃষ্ঠা এবং ছবির ব্যাপারে আরো তথ্যের জন্য এই লিঙ্কগুলি দেখুন। উইকিপিডিয়া:তালিকা, উইকিপিডিয়া:দ্ব্যর্থতা নিরসন ও উইকিপিডিয়া:ছবির মাধ্যমে চিহ্নিত করণ.
বিন্যাস
[সম্পাদনা]উইকিপিডিয়ায় প্রবন্ধের সঠিক বিন্যাস অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। একটি ভাল প্রবন্ধের শুরুতে সূচনা, মাঝে স্পষ্ট ব্ক্তব্য ও শেষে সঠিক উল্লেখ এবং প্রবন্ধের প্রয়োজন।
নিবন্ধের কাঠামো
[সম্পাদনা]প্রস্তাবনামূলক উপাদান
[সম্পাদনা]যে কোন উচ্চমানের প্রবন্ধ শুরু হয় একটি সংক্ষিপ্ত অধ্যায়ের দ্বারা। সেটি প্রবন্ধের সূচনা করে। নিম্নলিখিত অংশে সূচনা আরো বিস্তারিত ভাবে দেওয়া আছে।এই অংশটি প্রথম header-এর পূর্বে থাকবে। সূচনায় ==Introduction== অপ্রয়জনীয়। বিশেষ ক্ষেত্রে, অধ্যায়ের সূচনার পরে বিষয়টির মূল সারাংশ থেকে থাকে, যদিও অধ্যায়সহ নির্দিষ্ট ও বিশদ বিবরণ উপযুক্ত।
অনুচ্ছেদ
[সম্পাদনা]অনুচ্ছেদগুলো পড়ার সুবিধার্থে যথেষ্ট ছোট হওয়া উচিত, তবে একটি ধারণাকে সম্পূর্ণরূপে ফুটিয়ে তোলার জন্য যথেষ্ট দীর্ঘও হওয়া প্রয়োজন। অতিরিক্ত দীর্ঘ অনুচ্ছেদগুলোকে ভেঙে নেওয়া উচিত, তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন পারস্পরিক সম্পর্কিত অনুচ্ছেদগুলোর মূল ভাব একই থাকে।
এক লাইনের বা এক বাক্যের অনুচ্ছেদগুলো সাধারণত অতিরিক্ত মাত্রায় জোর দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়, তাই এগুলো কম ব্যবহার করা উচিত। উইকিপিডিয়ার কোনো নিবন্ধে কেবল এই ধরনের অনুচ্ছেদ থাকা মোটেও কাম্য নয়।
কিছু অনুচ্ছেদ আসলে ছদ্মবেশী সারণী বা তালিকা। এগুলোকে সাধারণ গদ্যে রূপান্তর করা উচিত অথবা সরাসরি সারণী বা তালিকা আকারে প্রকাশ করা উচিত। এই উপাদানগুলোর সঠিক ব্যবহারের নির্দেশনার জন্য কখন সারণী ব্যবহার করবেন এবং অন্তর্ভুক্ত তালিকা পাতাগুলো দেখতে পারেন।
শিরোনাম
[সম্পাদনা]শিরোনামগুলো নিবন্ধকে সুস্পষ্ট করতে এবং সূচিপত্রে একটি কাঠামো তৈরি করতে সাহায্য করে। মিডিয়াউইকি সফটওয়্যার কীভাবে অনুচ্ছেদ বা পরিচ্ছেদ পরিচালনা করে তা জানতে সাহায্য:পরিচ্ছেদ পাতাটি দেখুন।
শিরোনামগুলো ক্রমানুসারে সাজানো থাকে। নিবন্ধের মূল নামের জন্য ১ম স্তরের শিরোনাম ব্যবহৃত হয়, তাই আপনার ২য় স্তরের শিরোনাম (==শিরোনাম==) দিয়ে শুরু করা উচিত এবং এর অধীনে নিম্ন স্তরের শিরোনাম ব্যবহার করা উচিত: যেমন ===উপ-শিরোনাম===, ====উপ-উপ-শিরোনাম==== ইত্যাদি। কোনো একটি ব্যাপক উপ-বিষয়কে একই পাতায় রাখা হবে নাকি আলাদা পাতায় স্থানান্তর করা হবে, তা ব্যক্তিগত বিবেচনার বিষয়। এই বিষয়ে নিচে সংক্ষিপ্ত শৈলী অংশটি দেখুন।
শিরোনামের ভেতরে কোনো উইকিলিংক দেওয়া উচিত নয়। কারণ শিরোনাম নিজেই একটি নতুন তথ্য বা বিষয়ের সূচনা করে এবং পাঠককে জানিয়ে দেয় যে নিচে কী কী উপ-বিষয় আলোচনা করা হবে যা অনেকটা যুক্তি তত্ত্বের দিকনির্দেশকের মতো কাজ করে। উইকিলিংকগুলো সর্বদা পরিচ্ছেদের ভেতরের মূল লেখার সাথে যুক্ত করা উচিত।
চিত্র
[সম্পাদনা]যদি কোনো নিবন্ধকে ছবির মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব হয়, তবে চিত্রগুলো স্থাপন করার জন্য এমন একটি উপযুক্ত স্থান বেছে নিন যা সংশ্লিষ্ট লেখার খুব কাছাকাছি থাকে। যদি কোনো বিভ্রান্তির সুযোগ থাকে, তবে লেখার মধ্যেই চিত্রের প্রতি পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করুন (যেমন: ডানের চিত্রটি দেখুন)। চিত্র ব্যবহারের বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্যের জন্য উইকিপিডিয়া:বিন্যাস#চিত্র এবং উইকিপিডিয়া:চিত্র সহায়িকা পাতাগুলো দেখুন।
প্রামান্য নির্ঘন্ট
[সম্পাদনা]উইকিপিডিয়া:বিন্যাস#আদর্শ পরিশিষ্ট পাতায় বিস্তারিত ব্যাখ্যা অনুযায়ী, নিবন্ধের মূল অংশের পর নিচের তথ্য সংবলিত ঐচ্ছিক পরিশিষ্ট অনুচ্ছেদগুলো এই ক্রমানুসারে যুক্ত করা যেতে পারে:
- নিবন্ধের বিষয়ের দ্বারা তৈরি বই বা অন্যান্য কাজের তালিকা (রচনাবলী),
- সম্পর্কিত অন্যান্য উইকিপিডিয়া নিবন্ধের অভ্যন্তরীণ "উইকিলিংকের" তালিকা (আরও দেখুন),
- টীকা এবং তথ্যসূত্র (টীকা, পাদটীকা, বা তথ্যসূত্র),
- উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়নি এমন প্রাসঙ্গিক ও সুপারিশকৃত বই, নিবন্ধ বা অন্যান্য প্রকাশনার তালিকা (আরও পড়ার জন্য), এবং
- উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়নি এমন প্রাসঙ্গিক ও সুপারিশকৃত ওয়েবসাইটের তালিকা (বহিঃসংযোগ)।
কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া, অন্যান্য উইকিমিডিয়া প্রকল্পের যেকোনো লিংক সাধারণত আরও পড়ার জন্য অথবা বহিঃসংযোগ অনুচ্ছেদে যুক্ত করা হয়। উত্তরাধিকার বাক্স এবং দিকনির্দেশক ফুটারগুলো নিবন্ধের একদম শেষে, সর্বশেষ পরিশিষ্ট অনুচ্ছেদের পরে, তবে বিষয়শ্রেণী এবং আন্তঃউইকি টেমপ্লেটের আগে বসাতে হয়।
আকার
[সম্পাদনা]
নিবন্ধগুলো তুলনামূলকভাবে সংক্ষিপ্ত রাখা উচিত। যা বলা প্রয়োজন তা বলুন, তবে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করবেন না। নিবন্ধের মূল গদ্যের আকার যেন ৩০ কিলোবাইটের কম হয়, সেই লক্ষ্য রাখা উচিত। যখন কোনো নিবন্ধে পঠনযোগ্য লেখার পরিমাণ এই সীমা পার হয়ে যায়, তখন পড়ার সুবিধার্থে এবং সম্পাদনা সহজ করতে এটিকে ছোট ছোট নিবন্ধে ভেঙে ফেলা যেতে পারে। মূল নিবন্ধে সেই পরিচ্ছেদের শিরোনামটি রেখে দেওয়া উচিত এবং যে অংশটুকু সরিয়ে নেওয়া হয়েছে তার একটি সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ সেখানে যুক্ত করতে হবে; সাথে বাঁকা অক্ষরে একটি মূল শিরোনাম লিংক দিতে হবে, যেমন: মূল নিবন্ধ: History of Ruritania (এই ধরনের শিরোনাম তৈরির জন্য ব্যবহৃত টেমপ্লেটগুলোর একটি তালিকা Category:Wikipedia page-section templates এ পাওয়া যাবে)। অন্যথায়, বিষয়টির প্রেক্ষাপট হারিয়ে যায় এবং সামগ্রিক উপস্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উপ-বিষয়ের ওপর তৈরি প্রতিটি নিবন্ধই একটি স্বাধীন বা স্বতন্ত্র নিবন্ধ হিসেবে লেখা উচিত অর্থাৎ, সেটির একটি ভূমিকাংশ , নিজস্ব শিরোনাম ইত্যাদি থাকতে হবে।
যখন কোনো নিবন্ধ অনেক বড় হয় এবং এর অধীনে অনেকগুলো উপ-নিবন্ধ থাকে, তখন মূল পাতাটির ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করুন। নিবন্ধের অন্য অংশের ক্ষতি করে কোনো একটি নির্দিষ্ট অংশে অযথা অতিরিক্ত গুরুত্ব দেবেন না। অপেক্ষাকৃত ছোট নিবন্ধগুলোতে যদি কোনো একটি উপ-বিষয়ে অন্য উপ-বিষয়ের তুলনায় অনেক বেশি লেখা থাকে, তবে তা নির্দেশ করে যে ওই উপ-বিষয়টির জন্য একটি আলাদা পাতা তৈরি করা উচিত এবং মূল পাতায় কেবল সেটির একটি সারসংক্ষেপ রাখা প্রয়োজন।
নিবন্ধের উপ-বিষয়গুলো তুলে ধরা
[সম্পাদনা]উইকিপিডিয়ার নিবন্ধগুলো সাধারণত এমনভাবে বড় হয় যা প্রাকৃতিকভাবেই নতুন নতুন নিবন্ধ তৈরির সুযোগ করে দেয়। যেকোনো নিবন্ধের মূল লেখা পারস্পরিক সম্পর্কিত অথচ স্বতন্ত্র কিছু উপ-বিষয়ের একটি ধারাবাহিকতা মাত্র। যখন কোনো একটি নির্দিষ্ট উপ-বিষয়ে নিজস্ব একটি পূর্ণাঙ্গ নিবন্ধ হওয়ার মতো যথেষ্ট লেখা তৈরি হয়, তখন বর্তমান নিবন্ধে সেই লেখাটিকে সংক্ষিপ্ত আকারে প্রকাশ করা যেতে পারে এবং আরও বিস্তারিত নিবন্ধটির একটি লিংক সেখানে যুক্ত করে দেওয়া যায়।এই ধরনের উপ-বিষয় নিয়ে তৈরি নিবন্ধের একটি চমৎকার উদাহরণ হলো ক্রিকেট: এটি এমন কিছু উপ-পরিচ্ছেদে বিভক্ত যা খেলাটির একটি সামগ্রিক ধারণা দেয় এবং প্রতিটি উপ-পরিচ্ছেদ পাঠককে এক বা একাধিক উপ-বিষয়ের বিস্তারিত নিবন্ধের দিকে নিয়ে যায়।
তথ্য রচনাশৈলী এবং ভঙ্গিমা
[সম্পাদনা]উইকিপিডিয়ার নিবন্ধগুলোর ক্ষেত্রে কাছাকাছি সম্পর্কযুক্ত দুটি শৈলী বা স্টাইল ব্যবহার করার প্রবণতা দেখা যায়। তবে, লেখার সুর বা ভঙ্গি সর্বদা আনুষ্ঠানিক, নৈর্ব্যক্তিক (ব্যক্তিগত প্রভাবমুক্ত), এবং আবেগহীন (নিরপেক্ষ) হওয়া উচিত।
সংবাদ শৈলী
[সম্পাদনা]কিছু উইকিপিডিয়ান[কে?] সংবাদ শৈলী ব্যবহারের পক্ষে মত দেন। সংবাদ শৈলী হলো সংবাদপত্রের প্রথম পাতার ছোট ও সরাসরি প্রতিবেদন এবং রেডিও বা টেলিভিশনে প্রচারিত সংবাদ বুলেটিনের মতো একধরণের গদ্যশৈলী। এই শৈলীর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো প্রথমে স্থাপন করা এবং নিবন্ধটি যত সামনের দিকে এগোবে, তথ্যের গুরুত্ব তত কমতে থাকবে। মূলত এটি এভাবে তৈরি হয়েছিল যাতে সংবাদপত্রের সম্পাদকরা নির্দিষ্ট পাতার জায়গার সাথে মেলাতে নিচের দিক থেকে লেখা কেটে ছোট করতে পারেন। এটি তথ্যের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে, কারণ অনেক পাঠকই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো লেখার শুরুতেই আশা করেন এবং আগ্রহ কমে যাওয়ার কারণে কম গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো শেষের দিকে খোঁজেন। বিশ্বকোষের নিবন্ধগুলো সংবাদ শৈলীতেই হতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, তবে এই নিয়মটি সম্পর্কে ধারণা থাকলে কোনো নিবন্ধের শৈলী এবং বিন্যাস পরিকল্পনা করতে সুবিধা হতে পারে।
সারাংশ শৈলী
[সম্পাদনা]সারাংশ শৈলী হলো একটি সাংগঠনিক শৈলী যা অনেকটা সংবাদ শৈলীর মতোই, তবে পার্থক্য হলো এটি নিবন্ধের পরিবর্তে সামগ্রিক বিষয়ের ওপর এবং প্রথম বাক্যের পরিবর্তে মূলত ভূমিকাংশের ওপর প্রযোজ্য হয়।
এর মূল উদ্দেশ্য হলো তথ্যকে এমনভাবে বিন্যস্ত করা যাতে উইকিপিডিয়া বিভিন্ন মাত্রার বিস্তারিত তথ্য সন্ধানকারী পাঠকদের প্রয়োজন মেটাতে পারে। পাঠক নিজেই বেছে নেবেন তিনি কতটুকু বিস্তারিত তথ্য জানতে চান। ধাপে ধাপে ক্রমান্বয়ে বড় সারাংশ ব্যবহারের ফলে পাঠক একবারে অতিরিক্ত লেখার চাপে পড়েন না। সত্যজিৎ রায় এবং চর্যাপদের মতো নির্বাচিত নিবন্ধগুলোতে এই শৈলী অনুসরণ করা হয়েছে।
উইকিপিডিয়ার নিবন্ধগুলোতে সারাংশ শৈলী ব্যবহারের দুটি প্রধান কারণ রয়েছে। প্রথমত, ভিন্ন ভিন্ন পাঠকের বিস্তারিত জানার আগ্রহ ভিন্ন স্তরের হয়ে থাকে: কিছু পাঠকের কেবল একটি দ্রুত সারসংক্ষেপের প্রয়োজন হয় এবং তারা ভূমিকাংশ পড়েই সন্তুষ্ট হন; অধিকাংশ মানুষের একটি মাঝারি পরিমাণের তথ্যের প্রয়োজন হয় এবং এই নিবন্ধটি তাদের চাহিদা পূরণ করে; আবার কিছু পাঠকের প্রচুর বিস্তারিত তথ্যের প্রয়োজন হয় এবং তারা উপ-নিবন্ধগুলো পড়তে আগ্রহী হন। দ্বিতীয় কারণটি হলো, কোনো নিবন্ধ খুব বেশি দীর্ঘ হলে তা পড়া ক্লান্তিকর হয়ে ওঠে এবং সেখানে একই কথার পুনরাবৃত্তি হতে পারে অথবা লেখাটি আরও সংক্ষিপ্ত করার সুযোগ থেকে যায়।
সুর বা ভঙ্গি
[সম্পাদনা]উইকিপিডিয়ার নিবন্ধ এবং অন্যান্য বিশ্বকোষীয় বিষয়বস্তু একটি আনুষ্ঠানিক সুরে লেখা উচিত। বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে আনুষ্ঠানিক সুরের মানদণ্ড ভিন্ন হতে পারে, তবে তা স্পষ্ট ও বোধগম্য রাখার পাশাপাশি সর্বদা নির্ভরযোগ্য উৎসগুলোতে ব্যবহৃত শৈলী অনুসরণ করা উচিত। আনুষ্ঠানিক সুরের অর্থ হলো নিবন্ধে কোনো দুর্বোধ্য অপভাষা, দ্ব্যর্থবোধক শব্দ , আইনি জটিল ভাষা , বা পারিভাষিক শব্দ ব্যবহার করা যাবে না; এর অর্থ হলো ভাষাটিকে একটি পেশাদার ও গোছানো ভঙ্গিতে ব্যবহার করতে হবে।
নিবন্ধগুলো সাধারণত উত্তম পুরুষ বা মধ্যম পুরুষ দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা উচিত নয়। গদ্য লেখার ক্ষেত্রে, উত্তম পুরুষ ("আমি" এবং "আমরা") এবং মধ্যম পুরুষ ("তুমি/আপনি" এবং "তোমার/আপনার") সাধারণত একজন শক্তিশালী বর্ণনাকারীর উপস্থিতি প্রকাশ করে। কথাসাহিত্যের ক্ষেত্রে এটি গ্রহণযোগ্য হলেও একটি বিশ্বকোষের জন্য এটি সাধারণত অনুপযুক্ত, কারণ এখানে লেখকের উপস্থিতি পাঠকের কাছে অদৃশ্য থাকা উচিত। তদুপরি, উইকিপিডিয়ার সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আলোকে, উত্তম পুরুষ ব্যবহারের ফলে প্রায়শই এমন একটি দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পায় যা নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গির (NPOV) সাথে সাংঘর্ষিক। অন্যদিকে, মধ্যম পুরুষ ব্যবহারের ফলে লেখাটি নির্দেশনামূলক বা "কীভাবে করতে হবে" টাইপের নির্দেশিকার মতো দেখায় (দেখুন WP:NOTHOWTO)। উত্তম ও মধ্যম পুরুষের সর্বনামগুলো সাধারণত কেবল নিবন্ধের বিষয়ের সাথে প্রাসঙ্গিক ও উদ্ধৃত কোনো সরাসরিউদ্ধৃতির ভেতরেই ব্যবহার করা উচিত। তবে অন্যান্য অনেক নির্দেশিকার মতো এখানেও কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে: যেমন, পেশাদার গণিত লেখার ক্ষেত্রে রূপান্তরকালীন সর্বনাম হিসেবে উত্তম পুরুষের বহুবচন ("আমরা") ব্যবহার ব্যাপকভাবে প্রচলিত। নির্বাচিত দৃষ্টিকোণটি এই নির্দেশিকার মূল ভাব বজায় রাখছে কি না, তা নির্ধারণ করতে সাধারণ বুদ্ধি প্রয়োগ করুন।
যেখানে লিঙ্গ নির্দিষ্ট নয়, সেখানে লিঙ্গ নিরপেক্ষ সর্বনাম ব্যবহার করা উচিত; বিস্তারিত তথ্যের জন্য লিঙ্গ নিরপেক্ষ ভাষা, লিঙ্গ নিরপেক্ষ সর্বনামের অনুসন্ধান এবং সংশ্লিষ্ট আলোচনা পাতাটি দেখুন।
নিবন্ধে ব্যবহৃত বিরামচিহ্নগুলো কেবল সাধারণ স্বীকৃত নিয়ম অনুযায়ী ব্যবহার করা উচিত। বিস্ময়সূচক চিহ্ন (!) কেবল তখনই ব্যবহার করা উচিত যখন তা কোনো সরাসরি উদ্ধৃতির অংশ হিসেবে আসে।
পাঠকের জন্য প্রেক্ষাপট প্রদান করুন
[সম্পাদনা]উইকিপিডিয়া একটি আন্তর্জাতিক বিশ্বকোষ। যারা উইকিপিডিয়া পড়েন তাদের পটভূমি, শিক্ষা এবং বিশ্বদর্শন ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। আপনার নিবন্ধটি যত বেশি সম্ভব পাঠকের জন্য সহজলভ্য এবং বোধগম্য করে তুলুন। ধরে নিন পাঠকেরা কিছু শেখার জন্যই নিবন্ধটি পড়ছেন। এমনও হতে পারে যে পাঠক এই বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানেন না; তাই নিবন্ধটিতে বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন।
যতটা সম্ভব পারিভাষিক শব্দ ব্যবহার করা এড়িয়ে চলুন। পাঠকের কথা বিবেচনা করুন। "কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞানের গাণিতিক ভিত্তি" শিরোনামের একটি নিবন্ধ সম্ভবত পদার্থবিদ বা গণিতবিদরাই পড়বেন, তাই সেখানে উচ্চতর প্রযুক্তিগত বিবরণ এবং বিশেষায়িত ভাষা (যা সেই বিশেষায়িত ভাষা ব্যাখ্যাকারী নিবন্ধের সাথে লিংক করা থাকবে) ব্যবহার করা উপযুক্ত।
অন্যদিকে, "পদার্থবিজ্ঞান" শিরোনামের একটি নিবন্ধ সম্ভবত সাধারণ পাঠকেরা পড়বেন যারা একটি সংক্ষিপ্ত এবং সহজ ভাষায় লেখা সামগ্রিক ধারণা চান, যেখানে বিস্তারিত তথ্যের লিংক দেওয়া থাকবে। যখন কোনো নিবন্ধে পারিভাষিক শব্দ ব্যবহার করা হয়, তখন নিবন্ধের ভেতরেই তার একটি সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত। বোধগম্যতা এবং বিস্তৃতির মধ্যে এমন একটি ভারসাম্য বজায় রাখার লক্ষ্য রাখুন যাতে পাঠকেরা নিবন্ধটি থেকে সহজে তথ্য লাভ করতে পারেন।
প্রেক্ষাপট মূল্যায়ন
[সম্পাদনা]আপনি নিবন্ধে পর্যাপ্ত প্রেক্ষাপট দিয়েছেন কি না, তা নিজে নিজে পরীক্ষা করার জন্য নিচের বিষয়গুলো ভেবে দেখতে পারেন:
- কোনো পাঠক যদি দৈবচয়ন পাতার মাধ্যমে এই নিবন্ধে আসেন, তবে কি এটি তার কাছে অর্থপূর্ণ মনে হবে? (বিশেষ:অজানা পাতা)
- নিজেকে বাংলা ভাষাভাষী অন্য কোনো অঞ্চলের একজন সাধারণ পাঠক হিসেবে কল্পনা করুন। আপনি কি বুঝতে পারছেন নিবন্ধটি কী নিয়ে লেখা হয়েছে?
- নিবন্ধের প্রথম পাতাটি মুদ্রণ করে বা ছেপে কারো হাতে দিলে, তিনি কি বুঝতে পারবেন নিবন্ধটির মূল বিষয়বস্তু কী?
- কোনো পাঠক কি ভেতরে দেওয়া লিংকগুলোর কোনো একটিতে প্রবেশ করতে আগ্রহী হবেন?
উইকি-নেটওয়ার্ক তৈরি করুন
[সম্পাদনা]মনে রাখবেন, উইকিপিডিয়ার প্রতিটি নিবন্ধই অন্যান্য বিষয়ের একটি নেটওয়ার্ক বা জালের সাথে শক্তভাবে যুক্ত। উইকিলিংকের মাধ্যমে এই ধরনের সংযোগ তৈরি করা প্রেক্ষাপট স্পষ্ট করার একটি চমৎকার উপায়। উইকিপিডিয়া কোনো কাগজের বিশ্বকোষের মতো সুবিন্যস্ত বা ক্রমানুসারে সাজানো নিবন্ধের সংগ্রহ নয়; বরং এটি যেকোনো সময় সহজে প্রবেশযোগ্য এবং পরস্পরের সাথে গভীরভাবে যুক্ত পাতার একটি ভাণ্ডার। তাই প্রতিটি নিবন্ধেই আরও কিছু সাধারণ বিষয়ের লিংক থাকা উচিত যা নিবন্ধটিকে বিষয়শ্রেণীভুক্ত করতে সাহায্য করে। তবে লিংক তৈরি করার সময় অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করবেন না এবং লিংকগুলো যেন প্রাসঙ্গিক হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। একই শব্দকে বার বার (যেমন বারো বার) লিংক করার কোনো প্রয়োজন নেই (তবে শব্দটি যদি একবার ভূমিকার দিকে এবং অনেক পরে নিবন্ধের শেষের দিকে আবার আসে, তবে দুইবার লিংক করা যেতে পারে)।
আপনার তৈরি নিবন্ধটি যেন সংযোগহীন পাতা হয়ে না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখুন। যখন আপনি একটি নতুন নিবন্ধ লিখবেন, তখন নিশ্চিত করুন যেন অন্য এক বা একাধিক পাতা থেকে সেটিতে লিংক দেওয়া থাকে। এটি করলে অন্য কারও সম্পাদনা বা পুনর্গঠনের কারণে আপনার নিবন্ধটি লিংকহীন হয়ে পড়ার ঝুঁকি কমে যাবে। অন্যথায়, নিবন্ধটি যখন সাম্প্রতিক পরিবর্তনসমূহ পাতার তালিকা থেকে নিচে নেমে যাবে, তখন এটি উইকিপিডিয়ার বিশাল পাতালপুরীতে হারিয়ে যেতে পারে। উইকিপিডিয়ার প্রধান পাতা থেকে শুরু করে প্রতিটি নিবন্ধ পর্যন্ত সবসময় একটি অবিচ্ছিন্ন লিংক শৃঙ্খল থাকা উচিত; আপনি নিজে যে পথ ধরে এই নিবন্ধটি খুঁজে পাওয়ার আশা করেন, সেটি নিয়ে ভাবলেই বুঝতে পারবেন কোন কোন নিবন্ধ থেকে আপনার এই নতুন পাতটিতে লিংক দেওয়া উচিত।
স্পষ্ট বা জানা বিষয়গুলোও উল্লেখ করুন
[সম্পাদনা]এমন সব তথ্য বা সত্য উপাদানও উল্লেখ করুন যা আপনার কাছে খুব স্পষ্ট মনে হতে পারে, কিন্তু পাঠকের কাছে তা স্পষ্ট নাও হতে পারে। সাধারণত এই ধরণের বক্তব্য নিবন্ধের প্রথম বা দ্বিতীয় বাক্যের মধ্যেই থাকা উচিত। উদাহরণস্বরূপ, এই বাক্যটি লক্ষ করুন:
চেভ্রোলেট কর্ভেটের জবাব হিসেবে ফোর্ড থান্ডারবার্ডের পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং এটি ১৯৫৫ মডেল বর্ষে উৎপাদনে প্রবেশ করে।
এখানে ফোর্ড থান্ডারবার্ডের মূল পরিচয় বা প্রকৃতির কোনো উল্লেখ নেই এটি যে একটি গাড়ি, তা বলা হয়নি। এতে ধরে নেওয়া হয়েছে যে পাঠক এটি ইতিমধ্যেই জানেন যা ভুলও হতে পারে, বিশেষ করে পাঠক যদি ফোর্ড বা চেভ্রোলেট ব্র্যান্ডের সাথে পরিচিত না হন। এর চেয়ে বরং এভাবে লেখা যায়:
ফোর্ড থান্ডারবার্ড হলো যুক্তরাষ্ট্রে ফোর্ড মোটর কোম্পানি কর্তৃক তৈরিকৃত একটি গাড়ি।
তবে এই ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করার কোনো প্রয়োজন নেই। "গাড়ি"র মতো একটি সাধারণ শব্দের আলাদা কোনো ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই। একইভাবে তথ্যের অনাবশ্যক পুনরাবৃত্তিও এড়িয়ে চলা উচিত, যেমন:
শোইচি ইয়োকোই ১৯৪১ সালে ইম্পেরিয়াল জাপানিজ আর্মি-তে যোগ দেন।
এই বাক্যটি প্রয়োজনীয় তথ্যটুকু প্রকাশ করলেও, অন্য কিছু ত্রুটির কারণে এটি নিবন্ধের শুরুর বাক্য হিসেবে আদর্শ নয়। তবে নিচের বাক্যটি অতিরিক্ত শব্দবহুল বা দীর্ঘ:
শোইচি ইয়োকোই জাপানের একজন জাপানি সৈনিক ছিলেন যিনি ১৯৪১ সালে ইম্পেরিয়াল জাপানিজ আর্মি তে যোগ দেন।
ভূমিকাংশ
[সম্পাদনা]উইকিপিডিয়া:Lead section TT text
সূচনা অনুচ্ছেদ
[সম্পাদনা]সাধারণত, সূচনা অনুচ্ছেদটি নিবন্ধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট বা বিষয়গুলোর সারসংক্ষেপ প্রকাশ করে। এটি মূল বিষয়বস্তুকে এমনভাবে পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করবে যাতে পাঠক পরবর্তীতে আসা আরও বিস্তারিত তথ্যের জন্য প্রস্তুত হতে পারেন। প্রথম পরিচ্ছেদের আগে যদি আরও কোনো পরিচিতিমূলক তথ্যের প্রয়োজন হয়, তবে তা ভূমিকাংশের পরের অনুচ্ছেদগুলোতে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। জীবনীসংক্রান্ত নিবন্ধগুলোর সূচনা অংশটি সাধারণত একই সাথে সারসংক্ষেপ হিসেবেও কাজ করে, যেখানে ওই ব্যক্তির সবচেয়ে সুপরিচিত কৃতি বা অর্জনগুলোর তালিকা থাকে। যেহেতু কিছু পাঠক কেবল নিবন্ধের শুরুর অংশটুকুই পড়েন, তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো এই প্রথম অনুচ্ছেদেই থাকা উচিত।
উইকিপিডিয়া:Lead section TT first sentence contentউইকিপিডিয়া:Lead section TT first sentence format
সূচনা অনুচ্ছেদের বাকি অংশ
[সম্পাদনা]এরপর মূল বিষয়ের বর্ণনা দিয়ে লেখা এগিয়ে নিয়ে যান। মনে রাখবেন, কোনো বিষয়ের মূল তাৎপর্য বা গুরুত্ব একজন অ-বিশেষজ্ঞ বা সাধারণ পাঠকের কাছে স্পষ্ট নাও হতে পারে, এমনকি তারা বিষয়টির প্রাথমিক সংজ্ঞা বা ধরণ বুঝতে পারলেও। তাই বিষয়টি তাদের বুঝিয়ে বলুন। উদাহরণস্বরূপ:
- পিয়ার রিভিউ , যা কিছু একাডেমিক ক্ষেত্রে রেফারিং নামেও পরিচিত, হলো একটি পাণ্ডিত্যপূর্ণ প্রক্রিয়া যা বিভিন্ন পাণ্ডুলিপি প্রকাশ এবং গবেষণার জন্য অর্থ বা অনুদান প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। প্রকাশক এবং সংস্থাগুলো তাদের কাছে জমা পড়া লেখাগুলো বাছাই ও যাচাই করার জন্য পিয়ার রিভিউ পদ্ধতি ব্যবহার করে। একই সাথে, এই প্রক্রিয়াটি লেখকদের তাদের নিজস্ব বিষয়ের নির্ধারিত মানদণ্ড বজায় রাখতে সাহায্য করে। যেসব প্রকাশনা এবং পুরস্কার পিয়ার রিভিউ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়নি, সেগুলোকে সাধারণত অনেক ক্ষেত্রের গবেষক এবং পেশাদাররা সন্দেহের চোখে দেখে থাকেন।
ভূমিকাংশের বাকি অংশ
[সম্পাদনা]নিবন্ধটি যদি যথেষ্ট বড় হয় এবং এর ভূমিকাংশে কয়েকটি অনুচ্ছেদ থাকে, তবে প্রথম অনুচ্ছেদটি সংক্ষিপ্ত ও সুনির্দিষ্ট হওয়া উচিত, যেখানে পাতার মূল বিষয়টি পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করা থাকবে। পরবর্তী অনুচ্ছেদগুলোতে পুরো নিবন্ধের একটি সারসংক্ষেপ তুলে ধরতে হবে। সেগুলোতে নিবন্ধের মূল পয়েন্টগুলোর একটি রূপরেখা থাকা উচিত, যা বিষয়টির আকর্ষণীয় বা উল্লেখযোগ্য হওয়ার প্রধান কারণগুলো সংক্ষেপে প্রকাশ করবে। যদি বিষয়টিতে কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক থেকে থাকে, তবে তাও এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন।
ভূমিকাংশের উপযুক্ত দৈর্ঘ্য মূলত নিবন্ধের মোট আকারের ওপর নির্ভর করে। একটি সাধারণ নির্দেশিকা হিসেবে, ভূমিকাংশ দুই বা তিন অনুচ্ছেদের বেশি দীর্ঘ হওয়া উচিত নয়। এই ক্ষেত্রে নিচের সুনির্দিষ্ট নিয়মগুলো প্রস্তাব করা হয়েছে:
| নিবন্ধের দৈর্ঘ্য | ভূমিকাংশের দৈর্ঘ্য |
|---|---|
| ১৫,০০০ অক্ষরের কম | এক বা দুটি অনুচ্ছেদ |
| ১৫,০০০–৩০,০০০ অক্ষর | দুই বা তিনটি অনুচ্ছেদ |
| ৩০,০০০ অক্ষরের বেশি | তিন বা চারটি অনুচ্ছেদ |
অন্যান্য ভাষার ব্যবহার সীমিত রাখুন
[সম্পাদনা]অতিরিক্ত তথ্য হিসেবে বিদেশি শব্দ যোগ করা কোনো সমস্যা নয়, তবে এমনভাবে নিবন্ধ লেখা এড়িয়ে চলুন যা বুঝতে পাঠককে অবশ্যই সেই বিদেশি ভাষাটি জানতে হবে। এই ধরনের শব্দগুলো মূলত পারিভাষিক বা জটিল শব্দের মতোই, যা নিবন্ধের কোথাও না কোথাও ব্যাখ্যা করা উচিত। বাংলা উইকিপিডিয়ায় বাংলা প্রতিশব্দটিই যে সবসময় প্রথমে বসাতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই; কখনো কখনো মূল টেক্সটে মূল বিদেশি শব্দটি রাখাই বেশি মাননসই হয় এবং পরে বন্ধনী বা কমা দিয়ে তার বাংলা অর্থ উল্লেখ করা যেতে পারে, আবার কখনো এর উল্টোটাও হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে রেনেসাঁ নিবন্ধটি দেখতে পারেন।
বাংলা উইকিপিডিয়ায় বাংলা ছাড়া অন্যান্য ভাষার শব্দ বা পরিভাষাগুলোকে সাধারণত বাঁকা অক্ষরে লেখা উচিত। একেবারে শেষ উপায় বা কোনো বিকল্প না থাকলে তবেই কোনো নিবন্ধের শিরোনাম হিসেবে বিদেশি শব্দ সরাসরি ব্যবহার করা উচিত। এর জন্য পুনরায় রেনেসাঁ নিবন্ধটি দেখতে পারেন।
যেসব বিদেশি শব্দ বাংলা লিপিতে লেখা হয়, কিন্তু সেগুলো এমন কোনো ভাষা থেকে এসেছে যা ল্যাটিন বা বাংলা বর্ণমালা ব্যবহার করে না, সেগুলোর ক্ষেত্রে বন্ধনীর ভেতর তাদের মূল দেশীয় বানানটি যুক্ত করা যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ: আই চিং (সরলীকৃত চীনা: 易经; প্রথাগত চীনা: 易經; ফিনিন: yì jīng) বা সোফোক্লেস (গ্রিক: Σοφοκλῆς)। বিদেশি শব্দগুলোকে নিখুঁতভাবে চেনার জন্য তাদের মূল দেশীয় বানানটি বেশ কার্যকরী, কারণ প্রতিবর্ণীকরণ অনেক সময় ভুল বা অস্পষ্ট হতে পারে। নিবন্ধের ভেতরের অংশে ব্যবহৃত বিদেশি শব্দগুলোর মূল দেশীয় বানান দেওয়ার প্রয়োজন নেই, যদি সেগুলোকে আলাদা কোনো নিবন্ধের মূল শিরোনাম হিসেবে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়ে থাকে।
রঙের ব্যবহার সীমিত রাখুন
[সম্পাদনা]নিবন্ধের টেক্সট বা টেবিলের ভেতরে কোনো তথ্যকে যদি কেবল রঙের মাধ্যমে উপস্থাপন করা এড়ানো সম্ভব হয়, তবে তা এড়িয়ে চলুন।
রঙের ব্যবহার অত্যন্ত সীমিত হওয়া উচিত এবং তা কেবল একটি গৌণ বা দ্বিতীয় স্তরের চাক্ষুষ সহায়িকা হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। একেক কম্পিউটারে এবং ব্রাউজারে রঙের প্রদর্শন একেক রকম হতে পারে, আর পাঠকের ডিভাইসে রঙটি কেমন বা আদৌ দেখা যাচ্ছে কি না, তা আপনার পক্ষে জানা সম্ভব নয়। তাছাড়া উইকিপিডিয়া একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম; ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতিতে রঙের অর্থও ভিন্ন হতে পারে। একটি পাতায় খুব বেশি রঙের ব্যবহার হিজিবিজি দেখায় এবং তা বিশ্বকোষের মানানসই শৈলীর পরিপন্থী। বিশেষভাবে, লাল রঙ কেবল কোনো সতর্কবার্তা বা বিপদের সংকেত দেখানোর জন্যই ব্যবহার করুন।
স্বল্পদৃষ্টিসম্পন্ন বা দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতার শিকার পাঠকদের কথা মাথায় রেখে রঙের ব্যবহারের ব্যাপারে সচেতন হওয়া উচিত; যেমন কম আলো, বর্ণান্ধতা, অতিরিক্ত অন্ধকার বা উজ্জ্বল স্ক্রিন, এবং ডিসপ্লে স্ক্রিনের ভুল কনট্রাস্ট বা রঙ নির্ধারণের বিষয়গুলো বিবেচনা করা প্রয়োজন।
পরিষ্কার, সুনির্দিষ্ট এবং সঠিক পদের ব্যবহার
[সম্পাদনা]সংক্ষিপ্ত ও সুনির্দিষ্ট হোন
[সম্পাদনা]নিবন্ধে কেবল প্রয়োজনীয় শব্দগুলোই ব্যবহার করা উচিত। এর অর্থ এই নয় যে শব্দসংখ্যা যত কম হবে ততই ভালো; বরং, যখন একই অর্থ প্রকাশের একাধিক উপায় থাকে, তখন সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত বা ছাঁটা রূপটি বেছে নেওয়া উচিত। বাংলা সাহিত্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও প্রাবন্ধিক প্রমথ চৌধুরী তাঁর বিখ্যাত সবুজ পত্র পত্রিকায় ভাষার এই মিতব্যয়িতা ও সংক্ষিপ্ততার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছিলেন। তাঁর ভাষারীতি অনুযায়ী:
- "লেখার প্রধান গুণ হলো তা অনাবশ্যক শব্দবাহুল্য থেকে মুক্ত এবং সুনির্দিষ্ট হওয়া উচিত। এর মানে এই নয় যে বিবরণ এড়িয়ে যেতে হবে বা বিষয়টিকে কেবল একটি খসড়া রূপ দিতে হবে; বরং মূল কথা হলো, ব্যবহৃত প্রতিটি শব্দের যেন একটি নিজস্ব গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা থাকে এবং অতিরিক্ত কোনো মেদ বা অলংকার যেন লেখার মূল বক্তব্যকে ঢাকা না দেয়।"
বাক্যগুলোকে কেবল অপরিহার্য অংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখুন। অনাবশ্যক শব্দবাহুল্য উইকিপিডিয়ার নিবন্ধের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ায় না। যেমন "কারণ" এর পরিবর্তে "এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে যে" বা "বর্তমানে"র পরিবর্তে "বর্তমান সময়কালে"র মতো দীর্ঘ ও সাময়িক অভিব্যক্তিগুলো এড়িয়ে চলুন। চলমান বা কোনো ধারাবাহিক ঘটনা সুনির্দিষ্ট করার সবচেয়ে আদর্শ উপায় হলো "২০২৬ সাল নাগাদ" ফরম্যাট ব্যবহার করা। উইকিপিডিয়ার ব্যাকরণ সংশোধনকারী স্বয়ংক্রিয় বটগুলো সাধারণত এই ধরণের শব্দবাহুল্যকে সঠিক ও সংক্ষিপ্ত শব্দ দিয়ে প্রতিস্থাপন করে দেয়।
তবে মনে রাখবেন, সংক্ষিপ্ত করার অজুহাতে নিবন্ধ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য মুছে ফেলা যাবে না। এছাড়া লেখায় ব্যক্তিগত বা আবেগীয় বিশেষণ ব্যবহার করা এড়িয়ে চলা উচিত।
ন্যূনতম বিস্ময়ের নীতি
[সম্পাদনা]যখন ন্যূনতম বিস্ময়ের নীতি সফলভাবে প্রয়োগ করা হয়, তখন পাঠক কোনো রকম বেগ পাওয়া ছাড়াই তথ্যটি সহজে বুঝতে পারেন। আপনার লেখা নিবন্ধটি পড়ে একজন সাধারণ পাঠক যেন আচমকা ধাক্কা না খান, চমকে না যান কিংবা চরম বিভ্রান্তিতে না পড়েন। উদাহরণস্বরূপ, এমনটি লিখবেন না: "ঢাকা শহরের বেশিরভাগ মানুষই এখন জ্যামে মৃত। অর্থাৎ, প্রতিদিনের দীর্ঘ যানজটের কারণে তারা মৃতবৎ ক্লান্ত।" লেখক হিসেবে আপনার উচিত বর্ণনায় বা যুক্তিতে কোনো উসকানিমূলক বা বিভ্রান্তিকর ভাষা ব্যবহার না করা। বরং পাঠকের মনে নতুন ধারণার প্রতি কেমন আপত্তি বা জড়তা আসতে পারে, তা আগে থেকেই আঁচ করে সহজ ও সাবলীলভাবে তথ্য উপস্থাপন করুন। যেসব কারিগরি অংশ তুলনামূলক কঠিন, সেগুলোতে একই ধরনের বা সামঞ্জস্যপূর্ণ শব্দভাণ্ডার ব্যবহার করুন। বাক্যের কোন অংশটি পাঠকের জন্য কঠিন হতে পারে তা বুঝতে, সেই বিষয়ের প্রতি পাঠকের সম্ভাব্য জড়তা অনুমান করার চেষ্টা করুন।
আপনার পাতার গঠন এবং লিংকগুলো এমনভাবে পরিকল্পনা করা উচিত যাতে সবকিছু যুক্তিযুক্ত এবং অর্থপূর্ণ মনে হয়। কোনো একটি লিংক যদি পাঠককে তার ধারণার বাইরের কোনো পাতায় নিয়ে যায়, তবে সেটি যেন অন্তত এমন কোনো জায়গায় নিয়ে যায় যা যৌক্তিক এবং প্রাসঙ্গিক।
একইভাবে, পরবর্তী আলোচনার ভিত্তি হিসেবে যেসব ধারণা ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলো যেন আগেই সংজ্ঞায়িত করা থাকে অথবা কোনো সঠিক নিবন্ধের সাথে লিংক করা থাকে। ফলাফলের আগে কারণটি ব্যাখ্যা করুন এবং আপনার যুক্তির ক্রম যেন একজন সাধারণ মানুষের কাছেও পরিষ্কার ও সঠিক মনে হয়, তা নিশ্চিত করুন।
উদাহরণস্বরূপ, কোনো ব্যবহারকারী যদি আমাদের দেশের দীর্ঘতম সেতুটি সম্পর্কে জানতে চান, তবে তিনি অনুসন্ধান বক্সে সাধারণত "পদ্মা সেতু" লিখে খুঁজবেন। বাংলা উইকিপিডিয়ায় পদ্মা সেতু পাতাটি ব্যবহারকারীকে সরাসরি মূল নিবন্ধ পদ্মা বহুমুখী সেতু পাতায় পুনর্নির্দেশ করবে। এর ফলে ব্যবহারকারী কোনো বিভ্রান্তি ছাড়াই তার কাঙ্ক্ষিত তথ্যটি পেয়ে যাবেন এবং উইকিপিডিয়ার কাঠামোর প্রতি তাঁর আস্থা বজায় থাকবে।
'বলতে বোঝায়' বা 'হলো'র ব্যবহার
[সম্পাদনা]উইকিপিডিয়ার নিবন্ধগুলোর একেবারে শুরুতে অনেক সময় বলতে বোঝায় বা বলতে নির্দেশ করে এই ধরণের বাক্যাংশ দেখতে পাওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ, কম্পিউটার বিজ্ঞান নিবন্ধটি যদি এভাবে শুরু হয়: "কম্পিউটার বিজ্ঞান বলতে কম্পিউটারের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক ভিত্তি সংক্রান্ত বিজ্ঞানকে বোঝায়।" তবে এটি আক্ষরিক অর্থে পুরোপুরি সঠিক নয়; এর চেয়ে বরং সহজ ও সরাসরি এভাবে বলা অনেক ভালো: "কম্পিউটার বিজ্ঞান হলো কম্পিউটারের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক ভিত্তি সংক্রান্ত বিজ্ঞান।" লক্ষ্য করুন, "কম্পিউটার বিজ্ঞান" শব্দটি আসলে একটি নির্দিষ্ট বিজ্ঞানকে নির্দেশ করছে। অর্থাৎ, শব্দগুলো ওই বিজ্ঞানের দিকে ইঙ্গিত করে, কিন্তু কম্পিউটার বিজ্ঞান নিজে কোনো বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করে না; এটি নিজেই একটি বিজ্ঞান।
তবে কিছু ক্ষেত্রে পরিভাষা ব্যবহারের সময় এটি বলা সঠিক হতে পারে, যেমন: "ভাষা আন্দোলন পরিভাষাটি দিয়ে সাধারণত ১৯৫২ সালের রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবি ও আন্দোলনকে বোঝানো হলেও, এটি এর পূর্বের ও পরের বিভিন্ন ভাষারীতি সংক্রান্ত আন্দোলনকেও নির্দেশ করতে পারে।" কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই সহজ ও সরাসরি প্রকাশভঙ্গি ব্যবহার করাই শ্রেয়। আপনি যদি কোনো নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক ঘটনাকে নির্দেশ না করে কেবল ভাষা আন্দোলন বাক্যাংশটি একটি শব্দ হিসেবে উল্লেখ করতে চান, তবে সেটি বোঝাতে শব্দটিকে বাঁকা অক্ষরে লিখুন।
একই ধরণের সমস্যা অন্যান্য রূপভেদের ক্ষেত্রেও ঘটে, যেমন "হলো ... এর নাম" বা "হলো ... এর একটি পরিভাষা"।
আরও দেখুন: Use–mention distinction
তথ্য যাচাই করুন
[সম্পাদনা]যা সত্য কেবল সেই তথ্যই লিখুন: আপনার তথ্যগুলো যাচাই করে নিন। কোনো ভুল বা অসত্য তথ্য লিখবেন না। এর জন্য আপনার সংগৃহীত তথ্যগুলোর সত্যতা প্রমাণ করার প্রয়োজন হতে পারে।
নির্ভরযোগ্য উৎস উদ্ধৃত করার ক্ষেত্রে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ: কোনো তথ্য আপনার নিজের জানা থাকলেও, পাঠককে সেই তথ্যের সত্যতা প্রমাণ করার জন্য আপনাকে অবশ্যই তথ্যসূত্র বা রেফারেন্স প্রদান করতে হবে। কোনো উৎস থেকে পাওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে স্বাভাবিকভাবে কোনো অনুমান বা সিদ্ধান্ত টেনে নেওয়া ঠিক নয়, যদি না উৎসে সরাসরি সেই দাবিটি করা হয়ে থাকে। নিবন্ধের জন্য ভালো উৎস খুঁজতে গিয়ে আপনি নিজেও অনেক নতুন তথ্য জানতে পারেন।
তথ্যসমৃদ্ধ বা বাস্তবসম্মত হতে পারে এমন কোনো তথ্য মুছে ফেলার ক্ষেত্রে সতর্ক হোন। কোনো নিবন্ধ থেকে কিছু মুছে ফেলার ইচ্ছা হলে, প্রথমে যাচাই করে দেখুন তথ্যটি আসলেই সত্য কি না। যদি তথ্যটি স্পষ্টভাবেই বাস্তবসম্মত হয়, অর্থাৎ উপযুক্ত তথ্যসূত্র ও প্রমাণসহ দেওয়া থাকে, তবে তা মুছে ফেলার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করুন। একটি বিশ্বকোষ হলো তথ্যের সমষ্টি। অন্য কোনো সম্পাদক যদি কোনো তথ্য যুক্ত করে থাকেন, তবে তার পেছনে নিশ্চয়ই কোনো কারণ ছিল যা উপেক্ষা করা উচিত নয়। তাই প্রতিটি তথ্যকেই মূল্যবান হিসেবে বিবেচনা করুন। তথ্যটি উপস্থাপনের ধরন বা প্রেক্ষাপট কি ত্রুটিপূর্ণ? যদি তথ্যটি কোনো একটি নির্দিষ্ট নিবন্ধের সাথে খাপ না খায়, তবে তা হয়তো অন্য কোনো নিবন্ধে মানানসই হতে পারে।
অন্যান্য সম্পাদকদের পর্যালোচনার পর আপনার কাজ করা নিবন্ধগুলো পুনরায় পরীক্ষা করে দেখুন। কোনো তথ্য কি বাদ পড়েছে বা মুছে ফেলা হয়েছে? এমনটি হতে পারে যে আপনি তথ্যটির পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ দিতে পারেননি, অথবা আপনার যুক্ত করা তথ্যটির সাথে নিবন্ধের মূল বিষয়ের সম্পর্কটি আরও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। নিজের যুক্ত করা তথ্যের সত্যতা বজায় রাখুন, তবে তা যেন অর্থপূর্ণভাবে উপস্থাপিত হয় তাও নিশ্চিত করুন।
কাল্পনিক বিষয়ের ক্ষেত্রে যাচাইকরণ
[সম্পাদনা]বাস্তব তথ্যের ওপর ভিত্তি করে লেখা নিবন্ধের নিয়মগুলো কাল্পনিক বিষয়ের ওপর লেখা নিবন্ধের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। কাল্পনিক বিষয় বা চরিত্র নিয়ে লেখার সময় কিছু বাড়তি বিষয় মাথায় রাখতে হয়, কারণ সেগুলো প্রকৃতপক্ষে বাস্তব নয়। এই ধরণের নিবন্ধগুলোকে যাচাইযোগ্য এবং বিশ্বকোষীয় মানের রাখা অত্যন্ত জরুরি।
আপনি যদি কোনো কাল্পনিক তথ্য যোগ করেন, তবে বাস্তব এবং কল্পনার মধ্যকার পার্থক্যটি পরিষ্কারভাবে ফুটিয়ে তুলুন। সাধারণ নিবন্ধের মতোই এখানেও প্রেক্ষাপট এমনভাবে তৈরি করুন যাতে বিষয়টি সম্পর্কে পূর্বধারণা নেই এমন একজন পাঠকও বেশ কয়েকটি লিংকে ক্লিক না করেই নিবন্ধের মূল ভাবটি বুঝতে পারেন। যেমন নিচের মতো করে না লিখে:
- "ফেলুদা হলো তোপসের জ্যাঠতুতো দাদা। লালমোহন বাবু যখন তাঁর সাথে যোধপুরে দেখা করতে যান, তখন তিনি রাজস্থানের একটি রহস্য উদ্ঘাটন করছিলেন। তোপসে সবসময় ফেলুদার সাথে ভ্রমণ করে।"
এর পরিবর্তে এভাবে লিখুন:
- "ফেলুদা (প্রকৃত নাম প্রদোষ চন্দ্র মিত্র) হলো বাঙালি সাহিত্যিক সত্যজিৎ রায়ের সৃষ্ট একটি বিখ্যাত কাল্পনিক চরিত্র। ফেলুদা সিরিজের প্রথম গল্পে প্রধান চরিত্র ফেলুদাকে তাঁর খুড়তুতো ভাই তোপসের (তপেশরঞ্জন মিত্র) জবানিতে পাঠকদের সামনে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। কাহিনীর পটভূমিতে, ফেলুদা একজন বেসরকারি গোয়েন্দা যিনি তোপসে এবং পরবর্তীতে তাঁর লেখক বন্ধু লালমোহন বাবুকে (জটায়ু) সাথে নিয়ে বিভিন্ন রহস্যের সমাধান করেন।"
এভাবে পরবর্তী অংশগুলো লিখুন।
সাধারণত ধরে নেওয়া হয় যে, কোনো কাল্পনিক সাহিত্য বা রচনা পড়ার সময় তা পাঠকের মনে "জীবন্ত" হয়ে ওঠে। কাল্পনিক ঘটনাটি "বর্তমান সময়ের" তুলনায় অতীতে বা ভবিষ্যতে যখনই ঘটুক না কেন, তা সবসময় এক ধরণের চিরন্তন বর্তমান কালে অবস্থান করে। তাই কাল্পনিক বিষয় বা চরিত্র নিয়ে লেখার সময় সাধারণত অতীত কালের পরিবর্তে বর্তমান কাল ব্যবহার করা উচিত।
- "হেমন্ত আসে, শকুন্তলা কাঁদে, লক্ষণ অনুগমন করে।"
- "ফেলুদা হলো সত্যজিৎ রায়ের উপন্যাসের একটি কাল্পনিক গোয়েন্দা চরিত্র।"
- "হিমু চরিত্রের মধ্যে এক ধরণের উদাসীনতা দেখা যায়, যা তাকে সাধারণ সমাজ থেকে আলাদা করে।"
- "বাকের ভাই, যিনি নাটকের শেষে ফাঁসির কাঠে ঝুলবেন, তিনি দর্শকদের মনে এক গভীর দাগ কেটে যান।"
এর বিপরীতে, কোনো ঐতিহাসিক ঘটনা বা ইতিহাস নিয়ে আলোচনার সময় সাধারণত অতীত কাল ব্যবহার করা হয় এবং 'কাল্পনিক ইতিহাসের' ক্ষেত্রেও এই নিয়মটি প্রযোজ্য হতে পারে।
- "ইতিহাসবিদরা দাবি করেছিলেন যে, আমাজনের রানি থালেস্ট্রিস মহামতি আলেকজান্ডারকে প্রলোভিত করেছিলেন।"
কাল্পনিক বিষয়বস্তুর নিবন্ধগুলো যেন কেবল কোনো বইয়ের আলোচনা বা কাহিনীর সারসংক্ষেপের মতো না শোনায়; বরং মূল রচনায় এই বিষয়টির তাৎপর্য কী, তা ব্যাখ্যা করা উচিত। নিবন্ধটি পড়ার পর পাঠক যেন সহজেই বুঝতে পারেন যে কেন এই চরিত্র, স্থান বা ঘটনাটিকে ওই কাল্পনিক রচনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
যেসব উৎসের সত্যতা যাচাই করা যায় না কিংবা যা অত্যন্ত সীমিত সংখ্যক পাঠকের মধ্যে সীমাবদ্ধ, যেমন ভক্তদের লেখা গল্প বা ফ্যান ফিকশন এবং অনলাইন রোল প্লেয়িং গেম সেখান থেকে কাল্পনিক তথ্য যোগ করা সাধারণত অনুৎসাহিত করা হয়। অনলাইন গেমের মতো বিষয়ের ক্ষেত্রে যদি আপনাকে লিখতেই হয়, তবে তথ্যসূত্র বা উৎস উদ্ধৃত করার ব্যাপারে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করুন।
যদি কোনো বিষয়, ধরুন একটি টেলিভিশন ধারাবাহিকের কোনো চরিত্র এতটাই ছোট হয় যার জন্য সম্পূর্ণ একটি নিবন্ধ তৈরি করা সম্ভব নয়, তবে সেই চরিত্রের তথ্যগুলো একটি বড় বা মূল নিবন্ধের সাথে যুক্ত করে দিন। কোনো টেলিভিশন ধারাবাহিক বা কাল্পনিক জগতের ওপর একটি বড় এবং সমৃদ্ধ নিবন্ধ তৈরি করা, অনেকগুলো ছোট ছোট অনুচ্ছেদ বা স্টাব তৈরি করার চেয়ে অনেক ভালো, যা সাধারণত কেউ খুঁজে পায় না।
মূল বিষয়ে অনড় থাকুন
[সম্পাদনা]সবচেয়ে পঠনযোগ্য নিবন্ধগুলোতে কোনো অপ্রাসঙ্গিক (কিংবা খুব সামান্য প্রাসঙ্গিক) তথ্য থাকে না। কোনো নিবন্ধ লেখার সময় আপনি হয়তো মূল বিষয় থেকে বিচ্যুত হয়ে কোনো পার্শ্ববর্তী বা উপ-বিষয়ে আলোচনা শুরু করে দিতে পারেন। যদি দেখেন যে আপনি মূল বিষয় থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন, তবে সেই অতিরিক্ত তথ্যগুলো অন্য একটি উপযুক্ত নিবন্ধে স্থানান্তরের কথা ভাবুন, যেখানে তথ্যটি বেশি মানানসই হবে। আপনি যদি সেই অন্য নিবন্ধটির একটি লিংক দিয়ে দেন, তবে যেসব পাঠক ওই পার্শ্ববর্তী বিষয়ে আগ্রহী তারা লিংকে ক্লিক করে বিস্তারিত জানতে পারবেন, আর যারা আগ্রহী নন তারা মূল লেখাটি পড়ার সময় বিভ্রান্ত বা মনোযোগ হারাবেন না। উইকিপিডিয়ার দীর্ঘদিনের পথচলার কারণে অনেক নিবন্ধেই এমন অপ্রয়োজনীয় বা পুনরাবৃত্তিমূলক লেখা রয়ে গেছে। অনুগ্রহ করে সাহসী হয়ে এই ধরণের অপ্রাসঙ্গিক অংশগুলো মুছে ফেলুন।
বানানের প্রতি লক্ষ্য রাখুন
[সম্পাদনা]বানানের প্রতি লক্ষ্য রাখুন, বিশেষ করে নতুন পাতার শিরোনামের ক্ষেত্রে। সঠিক বানান এবং ব্যাকরণ সমৃদ্ধ নিবন্ধগুলো অন্যান্য অবদানকারীদেরও ভালো বিষয়বস্তু যোগ করতে উৎসাহিত করে। কোনো নিবন্ধের শিরোনামের বানান সঠিক হলে অন্যান্য লেখকদের জন্য তাদের নিবন্ধ থেকে আপনার নিবন্ধে লিংক করা সহজ হয়। লেখার যেকোনো একটি অংশে অসাবধানতা থাকলে তা অন্যান্য অংশেও ত্রুটি তৈরি করতে পারে। তাই সর্বদা আপনার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করুন। বানান ভুল হওয়া মানেই বিশাল কোনো বিপর্যয় নয়, তবে তা শুরুতেই সঠিক রাখা ভালো নয় কি?
- বাংলা বানানের জন্য বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসরণ করুন। এছাড়া ইংরেজি শব্দের ক্ষেত্রে Oxford, Dictionary.com বা গুগলের অনুসন্ধান বক্সের ডিকশনারি সুবিধা ব্যবহার করতে পারেন।
- কোনো নিবন্ধ উইকিপিডিয়ায় সংরক্ষণ করার আগে তা মাইক্রোসফট ওয়ার্ড বা যেকোনো মুক্ত ওয়ার্ড প্রসেসরে (যেমন: LibreOffice.org) নিয়ে বানান পরীক্ষা করে নিতে পারেন।
- বর্তমান সময়ের বেশিরভাগ আধুনিক ব্রাউজার যেমন গুগল ক্রোম , মজিলা ফায়ারফক্স , মাইক্রোসফট এজ বা সাফারিতে লেখার বক্সে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভুল বানান চিহ্নিত করার ব্যবস্থা রয়েছে, যা আপনাকে টাইপ করার সময় বানান ঠিক করতে সাহায্য করবে।
ময়ূরপুচ্ছধারী এবং চাতুর্যপূর্ণ শব্দ বর্জন করুন
[সম্পাদনা]ময়ূরপুচ্ছধারী শব্দ বর্জন করুন যা কোনো প্রকৃত তথ্য প্রদান না করেই নিবন্ধের বিষয়বস্তুকে অতিরঞ্জিত বা অতিরিক্ত প্রশংসা করে। একইভাবে, চাতুর্যপূর্ণ শব্দ বর্জন করুন যা কোনো সঠিক প্রমাণ বা উৎস ছাড়াই কোনো মতামত প্রকাশ করে এবং যা মূলত একটি নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণকে নষ্ট করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
| ময়ূরপুচ্ছধারী শব্দের উদাহরণ | ||
|---|---|---|
| একটি গুরুত্বপূর্ণ... | অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ... | অন্যতম সেরা... |
| সবচেয়ে প্রভাবশালী... | একটি তাৎপর্যপূর্ণ... | সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ... |
| চাতুর্যপূর্ণ শব্দের উদাহরণ | ||
| কিছু লোক বলে যে... | ...ব্যাপকভাবে সমাদৃত... | ..ব্যাপকভাবে বিবেচিত... |
| ...বলে অভিহিত করা হয়েছে... | বিশ্বসা করা হয় যে... | এটি প্রস্তাব করা হয়েছে/লক্ষ্য করা গেছে... |
| অনেকে মনে করেন... | বলা হয়ে থাকে যে... | কেউ কেউ বলবেন... |
| কিংবদন্তি রয়েছে যে... | সমালোচকরা বলেন যে... | অনেকে/কিছু মানুষ দাবি করেছেন... |
আপনার লেখার বিষয়ের ওপর আস্থা রাখুন। তথ্যকেই নিজের কথা বলতে দিন। আপনার বর্ণিত কোনো ক্রিকেটার, কোনো জেলা বা কোনো প্রজাতির গুবরে পোকা যদি পাঠকের সময় পাওয়ার যোগ্য হয়, তবে তা তথ্যের মাধ্যমেই ফুটে উঠবে। তবে কিছু ক্ষেত্রে (যেমন: গ্রাফিক ডিজাইনের ইতিহাস) বর্ণনায় সর্বোচ্চ সূচক বিশেষণ (যেমন: "... ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ...") ব্যবহার করা যেতে পারে, যা এই বিষয়ে পূর্বজ্ঞান না থাকা পাঠকদের বিষয়টির গুরুত্ব বা সাধারণ অবস্থান বুঝতে সাহায্য করে। মনে রাখবেন, এই ধরণের সর্বোচ্চ সূচক বিশেষণ ব্যবহার করার জন্য সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের সবচেয়ে স্বনামধন্য বিশেষজ্ঞদের সমর্থন বা সুনির্দিষ্ট তথ্যসূত্র থাকতে হবে।
যতক্ষণ না আপনি নিজে তথ্যটি যাচাই করছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত ঢালাও কোনো মন্তব্য বা সাধারণীকরণ করা শব্দ ব্যবহার এড়িয়ে চলুন। উদাহরণস্বরূপ, যদি বলা হয় যে বাংলাদেশে "নদী" নামে যতগুলো জেলা বা স্থান রয়েছে, তার অধিকাংশই কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নামে নামকরণ করা হয়েছে তবে এটি একটি ঢালাও বক্তব্য। এটি সত্য হতেও পারে, কিন্তু এর নির্ভরযোগ্য প্রমাণ কোথায়? এই ক্ষেত্রে, সম্পাদকের উচিত নিজে গবেষণা করে তথ্যটি যাচাই করা। সুনির্দিষ্ট গবেষণা ছাড়া এমন বক্তব্য দেওয়া উচিত নয়। আপনি যে গবেষণাটি করেছেন তা সংক্ষেপে বর্ণনা করে নিবন্ধের আলাপ পাতায় স্বাক্ষরসহ লিখে রাখা সবসময় একটি ভালো অভ্যাস।
আপনি যদি কোনো মতামতের উল্লেখ করতে চান বা তা করা জরুরি হয়, তবে প্রথমে নিশ্চিত করুন যে ওই বিষয়ে সমাজে বা সেই ক্ষেত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত কোনো ব্যক্তি এই মতামতটি দিয়েছেন। বাংলাদেশের একজন সাবেক রাষ্ট্রপতির স্থানকাল সম্পর্কে একজন বিখ্যাত ইতিহাসবিদের মতামত পাঠকের কাছে আপনার স্কুলের শিক্ষকের মতামতের চেয়ে অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য ও আকর্ষণীয় হবে। এরপর মতামতটি কার, তা স্পষ্ট করে উল্লেখ করুন এবং সম্ভব হলে তার একটি নির্ভরযোগ্য উৎস বা উক্তি জুড়ে দিন। নিচের উদাহরণ দুটি তুলনা করে দেখুন:
- কিছু সমালোচক দাবি করেন যে অমুক রাজনৈতিক নেতার বুদ্ধিমত্তা অনেক কম।
- গবেষক ও লেখক তাঁর বিখ্যাত বইয়ে উক্ত রাজনৈতিক নেতাকে উদ্দেশ্য করে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন। সেখানে তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, "আপনি কি একজন সমবয়স্ক মানুষের স্তরে চিন্তা করতে বা সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম?"
উদাহরণ
[সম্পাদনা]এই ধরণের শব্দ বা পরিভাষা এড়িয়ে যাওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো ঢালাও বক্তব্যের পরিবর্তে সেই দাবির স্বপক্ষে আসল তথ্যটি উপস্থাপন করা:
- "বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ইতিহাসের অন্যতম সেরা একটি ওয়ানডে দল।"
- "বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ঘরের মাঠে টানা ২০টি ওয়ানডে ম্যাচ জয়ের রেকর্ড গড়েছে যা বিশ্বের খুব কম দলেরই রয়েছে।"
সুনির্দিষ্ট এবং তথ্যভিত্তিক লেখার মাধ্যমে আমরা যেকোনো ব্যক্তিগত মতামত দেওয়া পুরোপুরি এড়িয়ে যেতে পারি। এটি লেখাকে আরও অনেক বেশি আকর্ষণীয় করে তোলে, যেমন নিচের উদাহরণটি লক্ষ্য করুন:
- উইলিয়াম পেকেনরিজ, অমনিয়ামের অষ্টম ডিউক (১৬৪২? – ৮ মে, ১৬৯১) ব্যাপকভাবে তাঁর এই উপাধির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত হন।
- উইলিয়াম পেকেনরিজ, অমনিয়ামের অষ্টম ডিউক (১৬৪২? – ৮ মে, ১৬৯১) ছিলেন রাজা প্রথম জেমসের ব্যক্তিগত উপদেষ্টা, ওয়ার্স অব দ্য রোজেসের একজন জেনারেল, একজন রসায়নবিদ, এবং একটি গোপন সোসাইটির পরিচালক। তিনি ওমনিয়ামের ডিউক পদের সীমানা বৃদ্ধি করে গায়ানার অভিভাবকত্ব এবং ভারতে সিভিল সার্ভিস নিয়োগের বিশেষ ক্ষমতা লাভ করেছিলেন।
বর্ণনা করার চেয়ে তথ্য দিয়ে ফুটিয়ে তুলুন। প্রথম উদাহরণটি পাঠককে কেবল বলছে যে উইলিয়াম পেকেনরিজ একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় উদাহরণটি তথ্যের মাধ্যমে পাঠককে বুঝিয়ে দিচ্ছে বা ফুটিয়ে তুলছে যে কেন তিনি গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন।
ব্যতিক্রম
[সম্পাদনা]যখন সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত বা সর্বজনীন কোনো বিশ্বাসের পুনরাবৃত্তি করা হয়, তখন বিষয়ের স্পষ্টতা বজায় রাখার স্বার্থে বিস্তারিত বিবরণ বা উৎসের পেছনে না ছুটে সরাসরি কথাটি উল্লেখ করা সহজ হতে পারে; বিশেষ করে যদি সেই বক্তব্যটি আপনার নিবন্ধের খুব ছোট একটি অংশ জুড়ে থাকে। যেমন: "কোপার্নিকাসের পূর্বে, সাধারণ মানুষ মনে করত সূর্য পৃথিবীর চারপাশে ঘোরে।" তবে সাধারণ নিয়ম হিসেবে, টেক্সটের ভেতরে, ফুটনোট বা সাধারণ তথ্যসূত্র আকারে সবকিছুরই উৎস বা রেফারেন্স থাকা উচিত।
অন্য সম্পাদকদের জন্য বাদ পড়া অংশগুলো স্পষ্ট করুন
[সম্পাদনা]কোনো নিবন্ধ তৈরি বা সম্পাদনা করার সময় বাদ পড়া বিষয়গুলো স্পষ্ট করে উল্লেখ করুন। একটি নিবন্ধ লেখার সময় সর্বদা তা সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য রাখুন। তবে কোনো কারণে যদি এমন কোনো পয়েন্ট বা বিষয় বাদ পড়ে যায় যা ব্যাখ্যা করা উচিত ছিল, তবে সেই বাদ পড়া অংশটি স্পষ্ট করে দিন। আপনি নিবন্ধের আলাপ পাতায় একটি নোট লিখে অথবা লেখার ভেতরে এইচটিএমএল মন্তব্য রেখে এবং পাতার নিচে বাদ পড়া বিষয়গুলো সম্পর্কে একটি বিজ্ঞপ্তি যোগ করে এটি করতে পারেন। এর দুটি উদ্দেশ্য রয়েছে: এটি অন্যদের অবদান রাখতে উৎসাহিত করে এবং সাধারণ পাঠকদের সতর্ক করে যে তারা যে নিবন্ধটি পড়ছেন তা এখনও সম্পূর্ণ তথ্য দিচ্ছে না।
আর এই কারণেই উইকিপিডিয়া একটি সম্মিলিত বিশ্বকোষ ব্যক্তিগতভাবে আমরা যা অর্জন করতে পারতাম না, তা একসঙ্গে কাজ করে অর্জন করি। আপনার যুক্ত করা প্রতিটি বিষয় অন্য কারও কাজের চাপ কমিয়ে দেয়, উপরন্তু আপনি এমন কিছু তথ্য যোগ করতে পারেন যা হয়তো অন্য কেউ ভাবেনি কিন্তু তা বিষয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেসব নিবন্ধের জন্য আপনি কিছু লক্ষ্য, অগ্রাধিকার বা করণীয় কাজ নির্ধারণ করতে পেরেছেন, সেগুলোর আলাপ পাতার একদম ওপরে {{করণীয়}} টেমপ্লেটটি যোগ করুন।
অন্যান্য বিষয়সমূহ
[সম্পাদনা]- শ্রদ্ধাসূচক বা সম্মানসূচক শব্দ
- নিবন্ধে কোনো প্রকার শ্রদ্ধাসূচক শব্দ বা উপাধি ব্যবহার করবেন না যেমন: জনাব, জনাবা, রেভারেন্ড, ডাক্তার, কবিরাজ, স্যার ইত্যাদি (ব্যতিক্রম ছাড়া)। বিস্তারিত জানতে উইকিপিডিয়া:নামকরণ বিধি (নাম ও উপাধি) এবং উইকিপিডিয়া:শৈলী নির্দেশনা (জীবনী) পাতা দুটি দেখুন।
- অনুপযুক্ত বিষয়বস্তু
- আপনি যদি উইকিপিডিয়ার নীতিমালার বাইরে এমন কোনো বিষয়কে সাজিয়ে গুছিয়ে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেন যা আদতে বিশ্বকোষের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যোগ্য নয় যেমন আপনার নিজের গানের ব্যান্ড, আপনার নিজস্ব ওয়েবসাইট, কিংবা আপনার কোম্পানির কোনো পণ্য তবে তা করার আগে দুবার ভাবুন। উইকিপিডিয়া কোনো বিজ্ঞাপনী মাধ্যম বা ব্যক্তিগত হোম পেজ ব্যবহারের জায়গা নয়। উইকিপিডিয়ার অভিজ্ঞ সম্পাদকরা বেশ চতুর; তাই কোনো নিবন্ধ যদি কেবলই ব্যক্তিগত আত্মতৃপ্তি বা প্রকাশ্য বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়, তবে আপনি বিষয়টিকে যতই "গুরুত্বপূর্ণ" দাবি করুন না কেন, তা বেশিদিন টিকবে না।
- পরিবর্তনগুলোর সমন্বয়সাধন
- যখন আপনি কোনো লেখায় পরিবর্তন আনবেন, তখন পাতার নিচে কেবল নতুন টেক্সট বা অংশ যোগ না করে, সম্ভব হলে আপনার লেখাটি এমনভাবে সাজিয়ে ও সম্পাদনা করে বসান যেন তা বর্তমান লেখার সাথে একদম সাবলীলভাবে মিশে যায়। উইকিপিডিয়ার নিবন্ধগুলো কোনো বিষয়ের ওপর বিচ্ছিন্ন কিছু মন্তব্যের সমষ্টি হওয়া উচিত নয়; বরং এটি হওয়া উচিত সুসংহত, সুসংবদ্ধ এবং ক্রমাগত সমৃদ্ধ হতে থাকা একটি ধারাবাহিক বিবরণী।
- সাধারণ ভুলগুলো এড়িয়ে চলা
- উইকিপিডিয়ায় কাজ করার সময় অনভিজ্ঞতাবশত কোনো সামাজিক বা পদ্ধতিগত ভুল হয়ে যাওয়া খুব স্বাভাবিক। এটা কোনো বড় সমস্যা নয় সবাই কমবেশি এমন ভুল করে থাকে! তা সত্ত্বেও, কিছু সাধারণ ভুল রয়েছে যা আপনি এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতে পারেন।
- ব্যক্তিগত অনুলিপি তৈরি করা
- ধরুন আপনি কোনো সম্পাদনা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছেন, কিংবা তার চেয়েও খারাপ কোনো পূর্বাবস্থায় ফেরত নেওয়ার যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছেন। এমতাবস্থায় আপনি নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করছেন। এটি খুবই ভালো গুণ। আপনাকে অভিনন্দন! তবে সবচেয়ে দারুণ ব্যাপার হতো যদি একটি সম্পাদনা যুদ্ধ চলার পরেও আপনি নিবন্ধটির মানোন্নয়নের কাজ চালিয়ে যেতে পারতেন ভুলে সেটি বিতর্কের অন্য পক্ষের পছন্দের কোনো ত্রুটিপূর্ণ সংস্করণই কেন না হোক।
- তাই আপনার ব্যবহারকারী পাতার একটি উপপাতা হিসেবে নিবন্ধটির একটি ব্যক্তিগত অনুলিপি তৈরি করে নিন। কেবল ব্যবহারকারী:আপনার ব্যবহারকারী নাম/নিবন্ধের নাম শিরোনামে একটি নতুন পাতা শুরু করুন এবং সেখানে মূল নিবন্ধের উইকি সোর্সটি কপি-পেস্ট করে এনে রাখুন। এরপর আপনি আপনার নিজের গতিতে নিবন্ধটির মানোন্নয়নের কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন! আপনি চাইলে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধের আলাপ পাতায় একটি ছোট নোট লিখে অন্যদের জানিয়ে দিতে পারেন যে আপনি কী করছেন।
- কিছুদিন পর যখন পরিস্থিতি শান্ত হবে এবং আপনার হাতে পর্যাপ্ত সময় থাকবে, তখন আপনার করা চমৎকার পরিবর্তন ও পরিবর্ধনগুলো মূল নিবন্ধের সাথে নিখুঁতভাবে মার্জ বা একত্র করে দিন। ততদিনে হয়তো অন্য সম্পাদকটি উইকিপিডিয়া ছেড়ে চলে গেছেন, কিংবা অন্য কোনো প্রকল্পে মনোযোগ দিয়েছেন, অথবা নিজের ভুল বুঝতে পেরে মত পরিবর্তন করেছেন। এমনও হতে পারে যে অন্য কোনো সম্পাদক ইতোমধ্যে আপনার মতোই কোনো সম্পাদনা করে ফেলেছেন (যদিও আপনার করা সম্পাদনাটিই বেশি নিখুঁত হতে পারে, কারণ আপনি বিষয়টি নিয়ে ভাবার জন্য বেশি সময় পেয়েছেন)।