আসিয়া বিবির ধর্ম অবমাননার ঘটনা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(আসিয়া বিবির ধর্মনিন্দার ঘটনা থেকে পুনর্নির্দেশিত)
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
আসিয়া বিবি বনাম রাষ্ট্র
Asia Bibi with her husband Ashiq Masih in May 2013.jpg
আদালতপাকিস্তানের প্রধান আদালত
সিদ্ধান্তঅক্টোবর ২০১৮
Transcript(s)বিচারকাজ
Case history
Appealed fromশেখপুরা জেলার বিচারিক আদালত
Appealed toলাহোর উচ্চ আদালত
(১৬ অক্টোবর ২০১৪ খ্রিষ্ঠাব্দে বাতিল হয়)
Subsequent action(s)পাকিস্তানের প্রধান আদালত
(২০১৫ খ্রিষ্ঠাব্দে বিচারকার্যের সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষ না হওয়া অবধি মৃত্যুদণ্ডাদেশ সাময়িকভাবে বাতিল হয়)।
২০১৮ খ্রিষ্ঠাব্দে মৃত্যুদণ্ডাদেশ সম্পুর্ণভাবে বাতিল হয়
Case opinions
Decision byমিলান সাকিব নিসার
Concurrenceআসিফ সাঈদ খোসা
Keywords

আশিয়া বিবি ব্লাসফেমি নামক ঘটনা পাকিস্তানী খ্রিস্টান নারী আশিয়া নওরীনকে (উর্দু: آسیہ نورین‎‎ – Āsiyaah Naurīn [ˈɑːsiɑː nɔːˈriːn], জন্ম আনু. 1971 1971;[১] নিয়ে। বর্তমানে তিনি আসিয়া বিবি নাামে সম্যক পরিচিত। তিনি ব্লাসফেমি আইনে অভিযুক্ত হওয়ায় পাকিস্তানের একটি আদালত ২০১০ সালে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।[২] ২০১৮ সালের অক্টোবরে পাকিস্তানের উচ্চ আদালত তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের প্রমাণের অপর্যাপ্ততার জন্য তাকে বেকসুর খালাস দেয়।[৩]

২০০৯ সালের জুন মাসে নরিন বেরী ফল সংগ্রহের সময় তার সহযোগীদের সাথে তর্কে লিপ্ত হয়, এরপরই তার বিরুদ্ধে নবী অবমাননার অভিযোগ উঠে।[৪][৫] তিনি পরবর্তীকালে গ্রেফতার ও কারারুদ্ধ হন। ২০১০ এর নভেম্বরে, শেখপুরা বিচারালয়ের আদালতের বিচারক তাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে। এরপর আসিয়া বিবি লাহোরের উচ্চ আদালতে আপীল করেন। আর তখনি এ মামলা বিশ্বব্যাপীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ভয়েস অব মার্টায়ারের মত বিভিন্ন সংগঠন তার মুক্তির জন্য পিটিশন দাখিল করে।[৬] তার মধ্যে একটি সংগঠন ৪ লক্ষ স্বাক্ষর সংগ্রহ করে। পোপ ষোড়শ বেনেডিক্ট এবং পোপ ফ্রান্সিস তার মুক্তির জন্য পাকিস্তান সরকারের প্রতি আহ্বান করে।[৭] তবে আসিয়া তার নিজের দেশের মানুষ থেকেই সবচেয়ে কম সহানুভূতি পান। বিশেষত দেশটির ইসলামী ধর্মীয় নেতারা বিচারের তোয়াক্কা না করে তার মৃত্যুদন্ড কার্যকর করতে আহ্বান জানান। সংখ্যালঘু মন্ত্রী শাহবাজ ভাট্টি ও পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী সালমান তাসির আসিয়ার পক্ষ সমর্থন করা এবং ব্ল্যাসফেমী আইনের বিরোধিতা করায় উভয়েই হত্যার শিকার হন।[৮] নওরীনের পরিবার অসংখ্য মৃত্যুর হুমকি পাওয়ার পর লুকিয়ে যেতে বাধ্য হয়। মাওলানা ইউসুফ কোরেশী নামক একজন ধর্মীয় নেতা যে নওরীনকে হত্যায় সক্ষম হবে; তার জন্য ৫ লক্ষ পাকিস্তানী রুপি দেওয়ার ঘোষণা দেয়।

৩১ অক্টোবর ২০১৮ খ্রিষ্ঠাব্দে পাকিস্তানের উচ্চ আদালত আসিয়াকে[৩] বেকসুর খালাস দেন। রায়ে বলা হয়, যারা অভিযোগ দাখিল করেছেন, তাদের কথাবার্তা অসংলগ্ন পরস্পরবিরোধী। আসিয়া এজাতীয় কিছু বলেছেন কিনা তা যেমন নিশ্চিত না। পুরো ঘটনাগুলোই একপ্রকার ধোঁয়াশায় পরিপূর্ণ।[৯] এরায়ের ফলে ইসলামী দলগুলো বারুদের মক্ত ফেটে পরে। নিরবিচ্ছিন্নভাবে প্রধান প্রধান সড়কে তারা ভাঙচুর চালাতে থাকে।[১০][১১] অন্যদিকে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও খ্রিষ্ঠান ধর্মীয় সংগঠন এ রায়কে স্বাগত জানায়।[১২]

পাকিস্তানে ব্লাসফেমী আইনের কারণে সব ঘটনায় ৬০ জনকে হত্যা করা হয়েছে। সেই সাথে বিভিন্ন সময় ব্লাসফেমীকে জুজু করে সংখ্যালঘুদের উপর সাম্প্রদায়িক হামলা চালানো হয়েছে।[১৩] এবং একইসাথে কারো বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে চাইলে ধর্ম অবমাননাকে অজুহাত করে এই আইনের অপপ্রয়োগ করা হয়েছে।[১৪] ১৯৮৭ থেকে ২০১৪ অবধি ১৩০০ জন মানুষ ব্লাসফেমির অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন এবং আসিয়া বিবি প্রথম নারী যিনি এই আইনের প্রয়োগে নিম্ন আদালতে মৃত্যুদন্ড দন্ডিত হয়েছিলেন।[১৫][১৬]

প্রেক্ষাপট এবং গ্রেফতার[সম্পাদনা]

লাহোর থেকে ৩০ মাইল দূরে অবস্থিত[১৭] পাঞ্জাবের শেখপুরা জেলার ইত্তান ওয়ালী নামক একটি গ্রামে আশিয়া নওরীন জন্মগ্রহণ করেছেন এবং সেখানেই বেড়ে উঠেছেন।[১৮][১৯] তার গ্রামটিতে এমনকি পাকিস্তানের সর্বত্র দরিদ্র খ্রিশ্চানরা পয়ঃনিষ্কাশন বা পরিস্করণের মত নিম্নস্তরের পেশা অধিগ্রহণ করে থাকে।[১৭] একজন রোমান ক্যাথলিক [২০] নওরীন তার পরিবারকে আর্থিকভাবে সাহায্য করার জন্য শেখপুরায় খেতিমজুর হিসেবে কাজ করতেন।[২০] তার সাথে আশিক মাশিয়ার বিবাহ হয়। আশিকের পূর্বঘরের তিনজন সন্তান ছিল[২১] এবং নওরীনের সাথে বিবাহের পর তাদের ঘরে আরো দুইজন সন্তান জন্মগ্রহণ করে। আশিক ইট ভাঙার কাজ করতেন।[২২][২৩]একমাত্র তাদের পরিবারই ওই গ্রামটিতে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী ছিল।[২৪] কারারুদ্ধ হওয়ার পূর্বে সেই গ্রামে তার সহকর্মীরা তাকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার জন্য বারবার চাপ দিয়েছিল।[২৫]

২০০৯ সালের জুনে, নওরীন তার সহকর্মী মহিলাদের সাথে একত্রে শেখপুরা জেলার একটি ক্ষেতে ফলসা বেরী নামক ফল সংগ্রহ করছিলেন।[২০] মাঠ সংলগ্ন কুয়া থেকে পানি আনার জন্য তাকে বলা হয়;[১৬] তিনি কথামত পানি আনয়নের উদ্দেশ্যে সেখানে যান। তার তৃষ্ণা পাওয়ায় এবং কুয়ার কাছে একটি পুরাতন ধাতুর তৈরী কাপ পরে থাকতে দেখে তিনি কাপ দিয়ে পান পান করেন।[২১][২৬] মুসারাত নামক নওরীনের এক প্রতিবেশী নওরীনকে পানি পান করতে দেখেন। মুসারাতের সাথে নওরীনের পরিবারের পূর্ব থেকেই জমিজমা সংক্রান্ত একটি বিরোধ চলছিল।[১] মুসারাত অগ্নিশর্মা হয়ে নওরীনকে বলেন, যে পাত্র দিয়ে মুসলিমরা পানি পান করে সেই একই পাত্র দিয়ে খ্রিষ্ঠানরাও পানি পান করবে এটা ইসলামে নিষিদ্ধ। সেখানে অবস্থিত কিছু কর্মী পাকিস্তানের বর্ণপ্রথাকে হিসেবে ব্যবহার করে নওরীনকে খ্রিষ্টান হওয়ার সুবাদে নাপাক,[৪][৫] অপরিচ্ছন্ন বলে অভিহিত করে।[২১] নওরীনের বর্ণনা মতে মুসারাত তাকে বলেছে: "সত্য, তুমি একজন নোংরা খ্রিষ্ঠান! তুমি আমাদের পানি দূষিত করেছ এবং তোমার কত বড় সাহস, তুমি নবীকে নিয়ে কথা বলো! মুঢ় দুশ্চরিত্রা, তোমার যীশুর তো বাবারই ঠিক ঠিকানা নাই। সে ছিল একটা বেজন্মা। তুমি কী তা জানো না?"[২১] নওরীন সেই দিনের কথা স্মরণ করে বলে যখন তারা খ্রিষ্ঠান ধর্মের বিরুদ্ধে অবমাননাকর বক্তব্য দিচ্ছিল এবং আমাকে ইসলাম ধর্মে রুপান্তরের জন্য বারবার চাপ দিচ্ছিল, আমি তখন বলেছিলাম, "আমি আমার ধর্ম এবং যীশু খ্রিষ্ঠকে বিশ্বাস করি। তিনি মানবজাতির পাপের বোঝাকে মাথায় নিয়ে ক্রুশবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুকে গ্রহণ করেছিলেন। তোমার নবী মুহম্মদ মানবজাতিকে বাচাতে কী করেছে হে? আর আমিই বা কেন ধর্মান্তরিত হব, তোমরা কেন নও?"[২১][২৬][২৭] এরপর এক তীব্র বাকযুদ্ধের শুরু হয়।[২৮]

নওরীনের বক্তব্য অনুযায়ী ঘটনার পাচঁদিন পরে সে যে মাঠে ফল সংগ্রহ করত সেখানে মুসারাত উত্তেজিত জনতাকে নিয়ে চলে আসে। তার বিরুদ্ধে সর্বসম্মুখে অভিযোগ করা হয়, সে নবী মুহম্মদকে অপমান করেছে।[২১] এরপর জনতা তাকে টেনে হিচড়ে নিয়ে যেতে থাকে, তার নাকে ঘুষি মারা হয়।[২১] স্থানীয় ইমাম তার বয়ানে বলে, নওরীনের সম্মুখে দুইটি রাস্তা খোলা। হয় নওরীনকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে হবে অথবা মুসলিম হয়ে যেতে হবে। নওরীন জানিয়ে দেয়, সে তার ধর্ম ত্যাগ করতে পারবে না। কিন্তু তাকে ক্ষমা করে দেওয়া উচিত কারণ মুসারাত তার বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ করেছে।[২১] What they accused her of saying, which would be stated in the later court verdict, differs from her version.[২৯] নওরীনকে পুলিশ গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়ার পূর্বে উত্তেজিত জনতা তার ঘরে আসে, তাকে এবং তার পরিবারের সদস্যদের প্রহার করে।[১৬] পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং পাকিস্তানের পেনাল কোডের ২৯৫ সি ধারা অনুযায়ী তাকে গ্রেফতার করে।[১৫]

স্থানীয় পুলিশ অফিসার মুহম্মদ ইলিয়াস সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দাবী করেন, নওরীন সেদিনের বাকবিতণ্ডায় বলেছিল, "কুরান হচ্ছে জাল এবং তোমাদের নবী মৃত্যুর আগে একমাস বিছানায় শুয়ে ছিল কারণ তার মুখে এবং নাকে পোকা হয়েছিল। তিনি খাদিজাকে শুধুমাত্র টাকার লোভে বিবাহ করেছিল এবং তার সব সম্পত্তি নিজের হস্তগত করার পর তাকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছিল"।[৩০] Village imam Qari Muhammad Salim, to whom Noreen's coworkers reported the alleged blasphemy, claimed that Noreen confessed to him and apologized.[৩০] পক্ষান্তরে এশিয়ান হিউমক্সান রাইটস কমিশন দ্বারা প্রকাশিত চিঠিতে উদ্ধৃত করা হয়:[৩১]

ঘটনার পাচদিন পরে স্থানীয় মুসলিম নেতা ও ইমাম কারী সালেম, হঠাৎই ঘটনার মধ্যে প্রবেশ করেন এবং এলাকার লোকজনকে উত্তেজিত করতে থাকেন, এই বলে যে, নওরীন নবী অবমাননা করেছে। আয়েশা বিবির স্বীকারোক্তি আদায়ের কোনো উপায় না পেয়ে শেষমেষ তিনি মসজিদের লাউডস্পিকারের সাহায্যে, জনতাকে আহ্বান করেন, যাতে সবাই জড়ো হয়, কারণ নওরীন ধর্ম অবমাননা করেছে। স্নানীয় লোকজন নওরীনকে তার সন্তানের সামনেই তীব্রভাবে প্রহার করে।[৩১]

তাকে এরপরপরই পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয় এবং তার বিরুদ্ধে কোনো সরকারী/পুলিশি অভিযোগ গঠিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত একবছরের বেশি সময় ধরে তিনি কারারুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন।[৩২]

বিচার ও কারাদণ্ড[সম্পাদনা]

নওরীন ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে প্রত্যাখান করে বলে তার প্রতিবেশী শুধুমাত্র পূর্বোক্ত কিছু সমস্যার জেরে এই ষড়যন্ত্রমূলক কাজ করেছে।[২৪][৩২][৩৩] ২০১০ সালের নভেম্বরে পাঞ্জাবের সেখপুড়া জেলার আদালতের বিচারক মুহম্মদ নাভেদ ইকবাল তার ফাসির দণ্ডাদেশ দেয়। অধিকন্তু ১১০০ মার্কিন ডলার জরিমানা করা হয়।[৩৪]

ধর্ম অবমাননার দরুণ মৃত্যুদণ্ডাদেশ পেয়েছেন, এরূপ ব্যাক্তিদের মধ্যে নওরীনই প্রথম নারী পাকিস্তানী।[২২] নওরীন তার মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তির ঘটনার দিনকে নিম্নোক্তভাবে বর্ণনা করেছেন:

আমি নিজের মাথাকে দুই হাতের মধ্যে গুজে রেখে একাকী কাদঁছিলাম। একজন দরিদ্র ক্ষেতমজুরের মৃত্যুদণ্ডাদেশে মানুষের হাততালির শব্দ, সংঘবদ্ধ মানুষের এই তীব্র ঘৃণাবোধ আমি আর সহ্য করতে পারছিলাম না। আমি তাদের দেখছিলাম না। কিন্তু আমি তাদের শব্দ শুনছিলাম। সেখানে উপস্থিত জনতা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বিচারককে নির্দেশ দিচ্ছিল: "তাকে হত্যা করো, হত্যা করো! আল্লাহু আকবর!" উৎসাহিত জনতা আদালতের দ্বার ভেঙে ফেলেছিল, তারা "পবিত্র নবীর অবমাননার জন্য। আল্লাহ মহান" এই বলে স্লোগান দিচ্ছিল। আমাকে সেসময় পুরাতন এক বস্তার মত ভ্যানগাড়িতে ছুড়ে ফেলা হয়...... আমি সেদিন তাদের চোখে মানবতাকে হারিয়ে যেতে দেখেছিলাম।[৩৫]

নওরীনের স্বামী ৫১ বছর বয়সী আশিক মাইসী উচ্চ আদালতে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করবেন বলে ঘোষণা দেন,[৩৬] যার নিষ্পত্তি লাহোরের উচ্চ আদালতে হয়ে থাকে।[১৫] এক মাস পরে রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারির হয়ে তদন্ত কমিটিতে কাজ করা সালমান তাসীর বলেন, উচ্চ আদালত আসিয়া নওরীনের শাস্তি মওকুফ না করলেও খুব সম্ভবত তিনি ক্ষমা পাবেন।[৩৭] জারদারির উপর আসিয়া বিবিকে ক্ষমা ঘোষণআর চাপ প্রয়োগ করা হয় কিন্তু উচ্চ আদালত রাষ্ট্রপতির ক্ষমা আসিয়া বিবির জন্য অকার্যকর বলে ঘোষণআ দেন, যা আজ অব্দি বহাল আছে। .[৩৮][৩৯] আদালতের প্রতিলিপিতে একাধিক গড়মিল থাকলেও রিপোর্টাররা তা নিয়ে ব্লাসফেমীর ভয়ে মুখ খুলতে চান না। .[২৯]

আসিয়া বিবিকে ৮-বাই-১০-ফুট (২.৪ মি × ৩.০ মি) সেলে রাখা হয়l[৪০], লাহোরের এই হাজতে কোনো জানালা ছিলো।.[১৮] আততায়ী দ্বারা হত্যার আগে তাসীর , তার স্ত্রী- আমনা ও কন্যা শেহরবানো কয়েকবার আসিয়া বিবির সাথে এই জেলে দেখা করতে যান।[১৭] tঅবশ্য পরবর্তীতে পাকিস্তানের আদালত থেকে আসিয়া বিবি শুধুমাত্র তার অর্ধাঙ্গের সাথেই দেখা করতে পারবে বলে নির্দেশ দেয়া হয়।[১৮] লাহোর হাজতে নির্বাহী পরিচালক বলেন, অন্যান্য হাজতবাসীর মতই আসিয়া বিবির সাথে আচরন করার উচ্ছে থাকলেও , আসিয়ার নিরাপত্তার জন্যই তাকে অন্যান্য হাজতবাসীর থেকে আলাদা রাখা হয়েছিলো।[৪১] কেননা ধর্মনিন্দার অভিযোগে গ্রেফতার পূর্বের হাজতবাসীরা হাজতে থাকাকালী অবস্থাতেই হত্যা হয়েছিলেন।[২৪][৪২] বিষপ্রয়োগের ভয়ে আসিয়া বিবিকে হাজতে নিজের খাবার নিজেই রান্না করে দেয়ার ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছিলো।.[৪৩] মানবাধিকার নিয়ে করে এমন সংস্থা, মাসিহি ফাউন্ডেশন হাজতে থাকাকালীন আসিয়া বিবির স্বাস্থ্য ভেঙে পড়েছিলো বলে বর্ননা করে। [৩২][৪৪] অন্যান্য হাজতবাসী ছাড়াও হাজতে নিরাপত্তা রক্ষ্রাও তাকে বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়েছিলো বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।[২৫][৪৫]

মানবাধিকার কমিশনের মতে, নওরীনের সাথে যা ঘটছে, তা বিরল নয়।[৪৬] যদিও ধর্ম অবমাননা মামলায় পাকিস্তানে এখন অবধি কারো ফাসি হয় নি,[৪৭] তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দীর্ঘসময় ধরে কারারুদ্ধ থাকতে হয়েছে।[৪৫] মে ২০১৪ তে নওরীনের আপিল শুনানীর দিন ৫ম বারের মত পিছানো হয়।[৪৮]

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া[সম্পাদনা]

নওরীনের দণ্ডাদেশের খবর শুনার পর, ধর্ম অবমাননা আইন নিয়ে পাকিস্তানের মানুষকে দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পরে। পাকিস্তানী মানবাধিকার কমিশন বিষয়ক গবেষক আলি দাওয়ান হাসান বলেন, "এ আইন এমন এক বৈধ অবকাঠামো গড়ে তুলেছে, যার মাধ্যমে যে কাওকে নিগৃহীত, নির্যাতিত ও নিপীড়িত করার সুযোগ তৈরী করে।"[৪৯] তিনি পরবর্তীতে এ আইনকে "নির্যাতনমূলক ও বৈষম্যমূলক" আইন বলে অভিহিত করেন।[২৪] পাঞ্জাব মুখ্যমন্ত্রূ সালমান তাসির এবং পাকিস্তানী সংখ্যালঘু মন্ত্রী শাবাজ ভাট্টি উভয়েই নওরীনকে সমর্থন করেছিলেন।[২৪]তিনি পাকিস্তানী রাজনীতি বিজ্ঞানী রসূ বক্স ও স্থানীয় যাজক স্যামসন দিলওয়ারের সমর্থন পেয়েছিলেন।[২২] নওরীনের কারারুদ্ধকরণ পাকিস্তানী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে ভীত-বিহ্বল করেছিল এবং উদারমনা মুসলিমরা হয়ে উঠেছিল বিচলিত।[৪১]

নওরীন পাকিস্তানের সাধারণ জনতার সমর্থন পান নিন শেখপুড়া এবং তৎসংশ্লিষ্ট অসংখ্য গ্রামাঞ্চল গুলোর মানুষরা ধর্ম অবমাননার এই আইনকে সমর্থন করেছিল। অনেকে তার মাথা কেটে ফেলার প্রতিও আহ্বান করেছিল।[৪১] জামাত উলেমা-ই-পাকিস্তান নামক সংগঠনের সদস্য মোহাম্মদ সালেম তাকে ফাসিকাষ্ঠে ঝুলানোর আহ্বান করে মিছিল বের করেন।[২২] নওরীনের দণ্ডাদেশের একমাস পরে, ২০১০ সালের ডিসেম্বরে মহব্বত খান মসজিদের ইমাম মাওলানা ইউসুফ কোরায়েশী, যে ব্যক্তি নওরীনকে হত্যা করতে পারবে, তার পুরষ্কার হিসেবে ৫ লক্ষ পাকিস্তানী রুপির ঘোষণা দেন।[৫০][১৮][১৫] একটি সমীক্ষায় ১০ মিলিয়ন পাকিস্তানি আসিয়া বিবিকে নিজ হাতে হত্যার ইচ্ছে প্রকাশ করে। [১৮] আসিয়ার গ্রামের মসজিদের ইমাম, ক্বারী মোহাম্মদ সালিম এই রায়ে আনন্দে চোখে পানি এসে গিয়েছিলো বলে বকব্য দেন। তিনি এও বলেন, আসিয়া বিবিকে ক্ষমা করা হলে বা মুক্তি দেয়া হলে, কিছু মানুষ "নিজ হাতে আইন তুলে নিয়ে" আসিয়াকে হত্যা করতো। [২৪] অবশ্য সাংবাদিক জুলু ম্যাকার্থি "দেশটির অধিকাংশ শান্তিপ্রিয় মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি" মৌলবাদীদের গর্জনে ঢাকা পড়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন।[২২]

নওরীনের পরিবার ক্রমাগত হত্যার হুমকি পেতে থাকায় নিজেদের লুকিয়ে ফেলেন।[২৪] তার স্বামী আশিক উদ্ধৃতিতে বলেন, তিনি অত্যন্ত ভীত এবং এজন্য সন্তানদের বাহিরে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছেন। তিনি আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে বলেন, "নওরীন যদি মুক্তি পেয়েও যায়, সে কিভাবে বেঁচে থাকবে। সে কারাগার থেকে বের হলেই এই মোল্লারা তাকে মেরে ফেলবে, এবিষয়টি তারা জনসম্মুখে জানিয়ে দিয়েছে।"[২৪] যতক্ষণ নওরীন কারারুদ্ধ থাকবে, ততক্ষণ তার পরিবার দেশ ছেড়ে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। ইতালী, ফ্রান্স এবং স্পেন সহ অসংখ্য দেশ নওরীন ও তার পরিবারকে গ্রহণ করতে ইচ্ছা প্রকাশ করে।[২৬]

তাসির এবং ভাট্টির হত্যা[সম্পাদনা]

৪ জানুয়ারী ২০১১ তে ইসলামাবাদের কোশার মার্কেটে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী সালমান তাসির আততায়ীর হাতে নিহত হন। আততায়ী ছিলেন তারই নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ২৬ বছর বয়সী মালিক মুমতাজ হুসেইন কাদরী। নওরীনকে সমর্থন করায় এবং ধর্ম অবমাননা নামক আইনের বিরোধিতা করার জন্যি কাদরী এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। মুমতাজ কাদরীর মৃত্যদণ্ডাদেশ হয় এবং ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৬ তে তাকে ফাসিকাষ্ঠে ঝুলানো হয়। তাসির প্রকাশ্যেই ধর্ম অবমাননা নামক আইনের সমালোচনা করতেন। তার মৃত্যুর পরদিন তালিবান এবং কিছু ধর্মীয় নেতার হুমকি সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রীর জানাজায় সহস্রাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেছিলেন,[২৮] যদিও পাকিস্তানী জনতার একটা উল্লেখযোগ্য অংশ কাদরীর হত্যাকান্ডের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছিলেন এবং কাদরীকে নেতা হিসেবে অভিহিত করেন;[৫১] মুখ্যমন্ত্রীর হত্যাকান্ডের পর সহস্রাধিক সুন্নী মুসলিম ধর্ম অবমাননামূলক এই আইনের সমর্থনে মিছিল বের করেন।[১৭] ৫০০ বালের্ভি আলেম নিজ নিজ অনুসারীদের তাসিরের মৃত্যুতে শোক প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা জারী করেন।[৫২] এই দ্বারাই দেশটির জনগণ মৌলবাদীদের মেনে নিচ্ছে বলে শংকা প্রকাশ করা হয়।[৫২]

কারাগার থেকে জানানো হয়, তাসিরের মৃত্যুসংবাদ শুনার পরপরই নওরীন হাহাকার করে ফেটে পরেন। তিনি বারবার বলতে থাকেন, "মানুষটা এখানে এসেছিল এবং শুধুমাত্র আমার জন্যই তার জীবন বলিদান দিয়েছেন।"[৪১] লাহোরের প্রবীন খ্রিষ্ঠান ধর্মযাজক এন্ড্রু নিসারী পরিস্থিতিকে "তীব্র রকমের বিশৃঙ্ক্ষল" বলে ঘোষণা দেন।[৪১] সাত মাস পরে, তাসিরের ২৮ বছর বয়সী পুত্র শাহবাজ অপহৃত হন।[৫৩] অপহরণের ৫ বছর পরে ৯ মার্চ ২০১৬ তে শাহবাজকে লাহোরে খুঁজে পাওয়া যায়।[৫৪]

সংখ্যালঘু মন্ত্রী শাহবাজ ভাট্টির মতানু্যায়ী জুন ২০১০ এ তিনি প্রথম মৃত্যুর হুমকি পান। সেই হুমকিতে বলা হয়েছিল, তার মাথা কেটে ফেলা হবে, যদি তিনি ধর্ম অবমাননামূলক আইন পরিবর্তনের চেষ্টা করেন। এর প্রতিক্রিয়ায় তিনি প্রতিবেদককে বলেন, "তিনি পাকিস্তানের জনগণের ন্যায়্য বিচারের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ" এবং নওরীনের মুক্তির জন্য তিনি মরতেও রাজি।[২৪] ২ মার্চ ২০১১ তে, ভাট্টি বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত হন। অনুমান করা হয়, ধর্ম অবমাননা মূলক আইনের প্রসঙ্গে তার অবস্থানের দরূনই তাকে হত্যা করা হয়েছে। পাকিস্তানের মন্ত্রীসভায় তিনিই একমাত্র খ্রিষ্ঠান মন্ত্রী ছিলেন।[৫২]

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া[সম্পাদনা]

নওরীনের মৃত্যুদণ্ড আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে শিরোনাম হয়[৫৫] একইসাথে বিভিন্ন বেসরকারী সংগঠন যারা নিপীড়িত খ্রিষ্ঠানদের পাশে দাঁড়ায়, তারা এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এই আইনের বিলোপের জন্য আহ্বান করে। [৪০][২২][২৪] পোপ ষোড়ষ বেনেডিক্ট নওরীনের মুক্তির জন্য আহ্বান করে।[৪৯] তার বিবৃতিতে তিনি বলেন, তিনি নওরীনের সাথে আত্মিক সংযোগ অনুভব করছেন।[৫৬][৫৭]

বিভিন্ন বহিঃস্থ মিডিয়াও তার স্বপক্ষে সোচ্চার হয়। মার্কিন সাংবাদিক জন এল. এলেন জেয়ার লিখেন, "নওরীন পাচ সন্তানের জননী হওয়ার পাশাপাশি পাঞ্জাবের সবচেয়ে বিখ্যাত নিরক্ষর খ্রিষ্ঠান নারী"।[২০] এলেনের মতে, নওরীন খ্রিস্টান কর্মীদের মাঝে সেলেব্রিটি বনে গিয়েছিলেন। [২০] টুইটার, কনসার্টে সহ অনেক অনলাইন পিটিশনের মাধ্যমে তার জন্য নানারকম ক্যাম্পেইন করা হয়। যুক্তরাজ্যে অবস্থিত ওবারফিউজ নামক খ্রিষ্ঠান পপ ব্যান্ড,[৫৮]" ফ্রি আসিয়া বিবি" নামক একটি গান অনলাইনে প্রকাশ করে।[৩৯] এছাড়াও বিভিন্ন বই ও প্রামাণ্যচিত্রে তাকে নিয়ে তথ্যচিত্র প্রকাশ করা হয়।[১৮]

ভয়েস অব মার্টায়ারস নামক নিপীড়িত খ্রিষ্টনদের জন্য পক্ষে দাঁড়ানো একটি সংগঠন ১০০ এর অধিক দেশ থেকে নওরীনের মুক্তির দাবীতে ৪ লক্ষ স্বাক্ষর সংগ্রহ করে।[৪০]

আয়ারল্যাণ্ডের মুসলিম ইমাম উমর আল কাদ্রি নওরীনের মুক্তির জন্য দাবী জানান। তিনি বলেন, "আসিয়া বিবির ঘটনা হলো এমন এক প্রকার ঘটনা যেখানে আসিয়া বিবি ধর্ম অবমাননামুলক কোনো বক্তব্য দিয়েছে, এমন বক্তব্যকেই অস্বীকার করছে। আসিয়াকে খালাস দেওয়ার জন্য যদি কোনো যুক্তির প্রয়োজন হয় তবে এ যুক্তিই যথেষ্ট। কিন্তু দুঃখজনক ভাবে পাকিস্তানের ধর্ম অবমাননামূলক যে আইন আছে তা প্রকৃত ইসলামের প্রতিনিধিত্ব করে না।"[৫৯]

আপীল[সম্পাদনা]

লাহোরের উচ্চ আদালত (পাকিস্তানে প্রধান বিচারালয় একটি কিন্তু প্রদেশ ভিত্তিতে ৫টি আলাদা উচ্চ আদালত আছে) ১৬ অক্টোবর ২০১৪ খ্রিষ্ঠাব্দে নওরীনের আপীল কে বাতিল করে দেয় এবং তার মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখে।[৬০] ২০ নভেম্বর ২০১৪ খ্রিষ্ঠাব্দে, তার স্বামী রাষ্ট্রপতির ক্ষমার জন্য আবেদন করেন।[৬১] ২৪ নভেম্বর ২০১৪ খ্রিষ্ঠাব্দে নওরীনের আইনজীবি পাকিস্তানের প্রধান বিচারালয়ে আপীল করেন।[৬২]

২২ জুলাই ২০১৫ খ্রিষ্ঠাব্দে, উচ্চ আদালত তার নির্দেশনায় বলে, যতক্ষণ অবধি না নওরীনের বিচারের রায় পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকাশ না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তার ফাসির রায় বাস্তবায়নে নিষেধাজ্ঞা জারী করে।[৬৩][৬৪] নভেম্বর ২০১৫ তে, বিবির আইনজীবি নাইম শাকির বলেন দুইবার তারিখ পিছানোর পর লাহোরের উচ্চ আদালত নওরীনের আপিল শুনানীর দিন ২৬ মার্চ ২০১৬ তারিখে ধার্য করেছেন।[৬৫] আপীল শুনানী পরবর্তীতে ১৩ অক্টোবর ২০১৬ তে নির্ধারিত হয়। কিন্তু সেই দিন সকালে বেঞ্চের তিনজন বিচারপতির একজন ইকবাল হামিদুর রহমান[৬৬] – সেই বেঞ্চের অংশ হিসেবে এই রায় দিতে অস্বীকৃতি জানান।[৬৭] এরফলে আপীলের রায় কখন হবে, তা নিয়ে একটি অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়। সেই বিচারক পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি মাহমুদ হুসাইনকে প্রেরণ করা হাতে লেখা একটি চিঠিতে জানান তিনি পদত্যাগ করছেন। কী কারণে পদত্যাগ করছেন তার কোনো উল্লেখযোগ্য কারণ পদত্যাগ পত্রে তিনি জানান নি।[৬৬] নওরীনের আইনজীবি সাইফুল মুলক জুনের প্রথম সপ্তাহে আপীল শুনানীর আবেদন করলে পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি মিলান সাকিব নিসার ২৬ এপ্রিল ২০১৭ খ্রিষ্ঠাব্দে সেই আবেদন নাকচ করে দেন।[৬৮]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Kazim, Hasnain (১৯ নভেম্বর ২০১০)। "Eine Ziege, ein Streit und ein Todesurteil"Der Spiegel (German ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০১০ উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা (link)
  2. "Fear for Pakistan's death row Christian woman"BBC News। ৫ ডিসেম্বর ২০১০। ৬ ডিসেম্বর ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৫ ডিসেম্বর ২০১০ 
  3. "Asia Bibi: Pakistan acquits Christian woman on death row"। BBC। ৩১ অক্টোবর ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৩১ অক্টোবর ২০১৮Chief Justice Saqib Nisar read out the ruling saying she was free to go, if not wanted in connection with any other case. 
  4. Samira Shackle (১৮ অক্টোবর ২০১৮)। "The Lahore court's decision to uphold Asia Bibi's death penalty is far from just" (English ভাষায়)। The Guardian। সংগ্রহের তারিখ ১ নভেম্বর ২০১৮Bibi’s alleged blasphemous comments were supposedly made after co-workers refused to share water that she had carried; they said it was unclean because she was a Christian (this is a hangover from the caste system, as most of those who converted to Christianity in pre-partition India were members of the lower castes). 
  5. Rafia Zakaria (১৬ অক্টোবর ২০১৮)। "A Death Sentence Over a Cup of Water?" (English ভাষায়)। The New Republic। সংগ্রহের তারিখ ১ নভেম্বর ২০১৮The question of drinking order is a vestige of the Hindu caste system that has lingered in the area even after most of the population converted to Islam over a hundred years ago. Christians, believed to be converts from the lowest classes of Hinduism, continue to be treated as untouchables in parts of Pakistan. For high caste Hindus, using the same utensils as someone from a lower caste represented contamination or impurity. It seems the women in the field with Asia Bibi on that ill-fated June day believed this as well. 
  6. Murashko, Alex (২৩ জুলাই ২০১১)। "Global Petition Launched to Save Asia Bibi" (English ভাষায়)। International Christian Concern। সংগ্রহের তারিখ ৩১ অক্টোবর ২০১৮ 
  7. Bacon, John (৩১ অক্টোবর ২০১৮)। "Blasphemy: Pakistan frees Asia Bibi, a Christian, from death row" (English ভাষায়)। USA Today। সংগ্রহের তারিখ ৩১ অক্টোবর ২০১৮ 
  8. "Militants say killed Pakistani minister for blasphemy"Reuters। ২ মার্চ ২০১১। 
  9. Asif Aqeel (৩১ অক্টোবর ২০১৮)। "Pakistan Frees Asia Bibi from Blasphemy Death Sentence" (English ভাষায়)। Christianity Today। সংগ্রহের তারিখ ৩১ অক্টোবর ২০১৮In their final judgment, reviewed by CT, reversing Bibi’s convictions by two lower courts and removing her death sentence, the panel of three judges ruled that Bibi was "wrongly" accused by two sisters with the help of a local cleric, based on "material contradictions and inconsistent statements of the witnesses" that "cast a shadow of doubt on the prosecution’s version of facts." "Furthermore, the alleged extra-judicial confession was not voluntary but rather resulted out of coercion and undue pressure as the appellant was forcibly brought before the complainant in presence of a gathering, who were threatening to kill her; as such, it cannot be made the basis of a conviction,” they wrote. “Therefore, the appellant being innocent deserves acquittal," the judges concluded. One even accused Bibi’s accusers of violating a covenant made by Muhammad with Christians in the seventh century but still valid today. "Blasphemy is a serious offense," wrote justice Asif Saeed Khosa, "but the insult of the appellant’s religion and religious sensibilities by the complainant party and then mixing truth with falsehood in the name of the Holy Prophet Muhammad (Peace Be Upon Him) was also not short of being blasphemous. 
  10. "Islamists block roads in Pakistan over Asia Bibi blasphemy case" (English ভাষায়)। Deutsche Welle। ১ নভেম্বর ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ১ নভেম্বর ২০১৮Islamists launched protests after the country's Supreme Court ruled to acquit Bibi of blasphemy in a widely publicized case. 
  11. Sophie Williams (১ নভেম্বর ২০১৮)। "Asia Bibi case: Thousands protest in Pakistan for second day over the acquittal of Christian woman sentenced to death for blasphemy" (English ভাষায়)। Evening Standard। সংগ্রহের তারিখ ১ নভেম্বর ২০১৮Radical Islamists mounted rallies against the verdict, blocking roads and burning tyres in protest as they demanded she be executed. 
  12. Sophia Saifi and James Griffiths (৩১ অক্টোবর ২০১৮)। "Pakistani Christian Asia Bibi has death penalty conviction overturned" (English ভাষায়)। CNN। সংগ্রহের তারিখ ৩১ অক্টোবর ২০১৮ 
  13. Hashim, Asad (১৭ মে ২০১৪)। "Living in fear under Pakistan's blasphemy law"। সংগ্রহের তারিখ ২১ নভেম্বর ২০১৪ 
  14. "Muslims Block Roads, Call for Supreme Court Justices to Be Killed Over Asia Bibi Acquittal" (English ভাষায়)। The Christian Post। ৩১ অক্টোবর ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ১ নভেম্বর ২০১৮In Pakistan, blasphemy (insulting Islam or its prophet Muhammad) is a crime punishable by life imprisonment or death. The law is often abused by Muslims looking to settle scores with religious minorities. Bibi has denied the accusations. In response to the court's announcement that a three-judge panel reversed earlier court rulings against Bibi on grounds that evidence against her was insufficient, TLP supporters have reportedly staged street protests and have also blockaded major roadways. 
  15. Hussain, Waqar (১১ নভেম্বর ২০১০)। "Christian Woman Sentenced to Death"Agence France-Presse। ১৪ নভেম্বর ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ নভেম্বর ২০১০ 
  16. Crilly, Rob; Sahi, Aoun (৯ নভেম্বর ২০১০)। "Christian Woman sentenced to Death in Pakistan for blasphemy"The Daily Telegraph। London। ১১ নভেম্বর ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ নভেম্বর ২০১০ 
  17. Walsh, Declan (৮ জানুয়ারি ২০১১)। "Salmaan Taseer, Aasia Bibi and Pakistan's struggle with extremism"The Guardian। সংগ্রহের তারিখ ৩ মার্চ ২০১১ 
  18. Allen 2013, পৃ. 36।
  19. Munir, Manzer (৭ ডিসেম্বর ২০১০)। "Aasia Bibi and Impurities in the Land of the Pure"। Digital Journal। সংগ্রহের তারিখ ৭ ডিসেম্বর ২০১০ 
  20. Allen 2013, পৃ. 35।
  21. "Sentenced to death for a sip of water"The New York Post। ২৫ আগস্ট ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ২৫ নভেম্বর ২০১৩ 
  22. McCarthy, Julie (১৪ ডিসেম্বর ২০১০)। "Christian's Death Verdict Spurs Holy Row In Pakistan"NPR। সংগ্রহের তারিখ ২৭ নভেম্বর ২০১৩ 
  23. Perlez, Jane (২২ নভেম্বর ২০১০)। "Pakistani Sentenced to Death May Get a Pardon"The New York Times। সংগ্রহের তারিখ ২৫ নভেম্বর ২০১৩ 
  24. Guerin, Orla (৬ ডিসেম্বর ২০১০)। "Pakistani Christian Asia Bibi 'has price on her head'"BBC। ৭ ডিসেম্বর ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৬ ডিসেম্বর ২০১০ 
  25. El Shafie 2012, পৃ. 16।
  26. "'I'm Afraid She'll Be Killed Very Soon if Nothing Happens'"Christianity Today। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ২৫ নভেম্বর ২০১৩ 
  27. Barker, Memphis (৩১ অক্টোবর ২০১৮)। "Asia Bibi: Pakistan court overturns blasphemy death sentence: Christian woman to be freed after being sentenced in 2010, accused of insulting prophet Muhammad" (English ভাষায়)। The Guardian। সংগ্রহের তারিখ ৩১ অক্টোবর ২০১৮Christian farm labourer Bibi, a 47-year-old mother of five, was sentenced to hang for blasphemy in 2010. She had angered fellow Muslim farm workers by taking a sip of water from a cup she had fetched for them on a hot day. When they demanded she convert to Islam, she refused, prompting a mob to later allege that she had insulted the prophet Mohammed. 
  28. "Salman Taseer: Thousands mourn Pakistan governor"। BBC News। ৫ জানুয়ারি ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ২৫ নভেম্বর ২০১৩ 
  29. "Blasphemy in Pakistan: The case of Aasia Bibi"। Al Jazeera। ১৫ জুন ২০১৫। 
  30. Reza Sayah, Nasir Habib (১১ নভেম্বর ২০১০)। "Christian woman sentenced to death for blasphemy in Pakistan" (English ভাষায়)। CNN। সংগ্রহের তারিখ ১ নভেম্বর ২০১৮ 
  31. "Muslim leaders who issued decree to kill a Christian woman should be prosecuted" (English ভাষায়)। Asian Human Rights Commission। ৮ ডিসেম্বর ২০১০। সংগ্রহের তারিখ ১ নভেম্বর ২০১৮ 
  32. Marshall 2013, পৃ. 195।
  33. Shea, Nina (২ মার্চ ২০১২)। "Pakistan's Honorable Shahbaz Bhatti, Murdered with Impunity One Year Ago"National Review Online। ৭ এপ্রিল ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০১৪ 
  34. Sayah, Reza; Habib, Nasir (১১ নভেম্বর ২০১০)। "Christian Woman Sentenced to Death for Blashemy in Pakistan"CNN। ১২ নভেম্বর ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ নভেম্বর ২০১০ 
  35. St. John, Hal (১৪ জুন ২০১২)। "'Ten million people now want to kill me'"Catholic Herald। সংগ্রহের তারিখ ২৮ নভেম্বর ২০১৩ 
  36. "Asia Bibi"JangPakistan। ২৫ নভেম্বর ২০১০। ১৮ ডিসেম্বর ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ জানুয়ারি ২০১১ .
  37. Henderson L, Agrawal A (২৩ নভেম্বর ২০১০)। "Pakistan's president will pardon Christian woman, official says"। CNN। ২৪ নভেম্বর ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩০ নভেম্বর ২০১০ 
  38. "LHC stays Aasia release under Presidential order"The News। Pakistan। ২৯ নভেম্বর ২০১০। ২৯ নভেম্বর ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৯ মার্চ ২০১৭ 
  39. Akkara, Anto (২০ জুলাই ২০১২)। "International Clamor for Asia Bibi's Release Grows"National Catholic Register। সংগ্রহের তারিখ ২৭ নভেম্বর ২০১৩ 
  40. Lane, Gary (১০ নভেম্বর ২০১১)। "Awaiting Justice: Asia Bibi Supporters Call for Mercy"CBN News। সংগ্রহের তারিখ ২৫ নভেম্বর ২০১৩ 
  41. "'Salmaan Taseer came here and he sacrificed his life for me'"The Independent। ৮ জানুয়ারি ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ২৭ নভেম্বর ২০১২ 
  42. Rita Panahi (১ নভেম্বর ২০১৮)। "Asia Bibi is innocent but she'll never be safe in Pakistan" (English ভাষায়)। Herald Sun। সংগ্রহের তারিখ ১ নভেম্বর ২০১৮Since that day in 2009, she has been in prison, in solitary confinement, in a 2.4 by 3m cell without a window. Bibi can’t mix with other prisoners for fear that she’ll be killed, which is often the fate of those accused of blasphemy in Pakistan. 
  43. Bond, Anthony (২৮ আগস্ট ২০১৩)। "'Sentenced to death for being thirsty': Christian woman tells of moment she was beaten and locked up in Pakistan after 'using Muslim women's cup to drink water'"The Daily Mail। সংগ্রহের তারিখ ২৪ নভেম্বর ২০১৩ 
  44. "Aasia bibi 'very frail', not been taken seriously: NGO"The Express Tribune। ২১ ডিসেম্বর ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ৮ জানুয়ারি ২০১৪ 
  45. Tanveer, Rana (২৯ জুন ২০১৩)। "Blasphemy convict: Aasia Bibi's appeal at least two years away"The Express Tribune। সংগ্রহের তারিখ ৮ জানুয়ারি ২০১৪ 
  46. Dayan Hasan, Ali (১৫ নভেম্বর ২০১০)। "Pakistan: Filthy Business"Human Rights Watch। সংগ্রহের তারিখ ১৩ জানুয়ারি ২০১৪ 
  47. Crilly, Rob (৯ নভেম্বর ২০১০)। "Christian woman sentenced to death in Pakistan 'for blasphemy'"The Telegraph। সংগ্রহের তারিখ ১৩ জানুয়ারি ২০১৪ 
  48. "Pakistan: Asia Bibi case delayed for fifth time, court seeks to pardon TV staff"Global Dispatch। ২৮ মে ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ২ জুন ২০১৪ 
  49. Brulliard, Karin (২৬ নভেম্বর ২০১০)। "Both sides in blasphemy case pressure Zardari"The Washington Postaccessdate=27 November 2013 
  50. "Blasphemy case: Cleric offers Rs500,000 for Aasia's execution" (English ভাষায়)। The Express Tribune। ৩ ডিসেম্বর ২০১০। সংগ্রহের তারিখ ১ নভেম্বর ২০১৮Maulana Yousaf Qureshi, the Khateeb of the historic Masjid Mohabaat Khan in Peshawar, offered a Rs500,000 reward for anyone who kills Aasia, Online news agency reported. 
  51. Hughes 2012, পৃ. 138।
  52. Anthony, Augustine (২ মার্চ ২০১১)। "Militants say killed Pakistan minister for blasphemy"Reuters। সংগ্রহের তারিখ ২ মার্চ ২০১১ 
  53. Ali, Muhammad Faisal (২৭ আগস্ট ২০১১)। "Slain Salman Taseer's son kidnapped"The Dawn। সংগ্রহের তারিখ ১১ সেপ্টেম্বর ২০১২ 
  54. Boone, Jon (৯ মার্চ ২০১৬)। "Shahbaz Taseer: Pakistan's high-profile kidnap victim reunited with family"The Guardian 
  55. Sayah, Reza (২৪ নভেম্বর ২০১০)। "Pakistan president urged not to pardon Christian woman"CNN। সংগ্রহের তারিখ ২৭ নভেম্বর ২০১৩ 
  56. "Pope Benedict urges freedom for Asia Bibi"Dawn.com। ১৭ নভেম্বর ২০১০। সংগ্রহের তারিখ ২৮ নভেম্বর ২০১৩ 
  57. Crilly, Rob (১৮ নভেম্বর ২০১০)। "Pope Benedict XVI calls for release of Christian sentenced to hang in Pakistan"The Daily Telegraph। সংগ্রহের তারিখ ২৭ নভেম্বর ২০১৩ 
  58. ooberfuseband (১৪ অক্টোবর ২০১৮)। "Ooberfuse ft Wizard MC – Free Asia Bibi" – YouTube-এর মাধ্যমে। 
  59. Greg Daly (২৫ অক্টোবর ২০১৮)। "Top Muslim calls for Asia Bibi's release"The Irish Catholic 
  60. AFP (১৬ অক্টোবর ২০১৪)। "LHC upholds blasphemy convict Asia Bibi's death penalty"। Dawn.com। সংগ্রহের তারিখ ১৬ অক্টোবর ২০১৪ 
  61. "Asia Bibi's husband asks President Mamnoon for pardon"। DAWN। ২০ নভেম্বর ২০১৪। 
  62. "On death row for blasphemy, Asia Bibi makes final appeal to SC"। DAWN। ২৪ নভেম্বর ২০১৪। 
  63. "Pakistan Supreme Court suspends Asia Bibi death sentence"। BBC। ২২ জুলাই ২০১৫। 
  64. "Pakistan court to hear appeal by woman sentenced to death for blasphemy"। CNN। ২২ জুলাই ২০১৫। 
  65. "Asia Bibi, a new hearing on March 26"। Official Vatican Network। ১৪ নভেম্বর ২০১৫। 
  66. "ASIA/PAKISTAN – The Supreme Court judge, who refused to hear Asia Bibi's death penalty appeal, resigns"www.news.va (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জুলাই ২০১৭ 
  67. "ASIA/PAKISTAN – The hearing of the Supreme Court for the case of Asia Bibi postponed"www.news.va (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জুলাই ২০১৭ 
  68. "Pakistan SC declines early hearing of Asia Bibi case"www.news.va (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জুলাই ২০১৭