আলাপ:বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

নিবন্ধের নাম স্থানান্তর[সম্পাদনা]

বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ পাতাটিকে বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার শিরোনামে স্থানান্তরের আবেদন করছি। 'মজুদ' শব্দটির তুলনায় 'ভান্ডার' শব্দটি অধিকতর গ্রহণযোগ্য। -- অবাঙ্ময় (আলাপ) ২০:০৩, ২৫ ডিসেম্বর ২০১৬ (ইউটিসি)

ভান্ডারের তুলনায় মজুদই অধিক গ্রহণযোগ্য। একটি দেশ তার ভান্ডারে বৈদেশিক মুদ্রা মজুদ করে রাখে। ফেরদৌস
ফেরদৌস, আপনার উদাহরণ একেবারেই সঠিক। 'মজুদ করে রাখা' এবং 'মজুদ' কথাদুটির অর্থ আলাদা। পরিভাষা হিসাবে Reserve কথাটির বাংলা 'ভান্ডার' হওয়াই সমীচীন। 'মজুদ করে রাখা' বাক্যাংশ আমরা নিয়তই ব্যবহার করি, কিন্তু 'মজুদ' শব্দটি বারবার বিশেষ্যরূপে ব্যবহার করলে বিশেষ শ্রুতিমধুর শোনায় না। এটুকুই আমার বক্তব্য। -- অবাঙ্ময় (আলাপ) ২৩:৫৮, ২৭ ডিসেম্বর ২০১৬ (ইউটিসি)

@Obangmoy এবং Ferdous: এখানে কয়েকটি উপপ্রসঙ্গ আছে।

প্রথমত, ইন্টারনেটে দেখছি "রিজার্ভ" কথাটা অনেক ব্যবহৃত হচ্ছে। বাংলা বিশ্বকোষে এটি গ্রহণযোগ্য নয় কেননা বাংলাতেই Reserve-এর জন্য একাধিক শব্দ আছে। আমরা বাংলা পরিভাষাকেই প্রাধান্য দেব।

দ্বিতীয়ত, বাংলাতে বেশি ব্যবহৃত দুইটি পরিভাষা হচ্ছে "মজুদ" ও "ভান্ডার"। কোনটা নেব?

ক) ভাষিক "গ্রহণযোগ্যতা"-র প্রশ্ন উঠলে বলতে হয়, কোনটাই একটি অপরের চেয়ে কম গ্রহণযোগ্য নয়। আমার মতে দুটিই বাংলাতে প্রতিষ্ঠিত শব্দ এবং সমানভাবে গ্রহণযোগ্য। কোথাও এ পর্যন্ত দেখিনি "ভান্ডার" "মজুদ"-এর থেকে উন্নতমানের, বেশি গ্রহণযোগ্য শব্দ। দুটো বিশেষ্যই বাংলাভাষী সবাই বুঝবেন।

খ) অবাঙময় শ্রুতিমাধুর্যের কথাও বলেছেন। কিন্তু আমার কাছে দুটিই শুনতে সমান সুন্দর লাগে। কেন "ভান্ডার" শুনতে বেশি শ্রুতিমধুর, "মজুদ" নয়, এর কোন ব্যাখ্যা পাচ্ছি না। ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ পরিভাষা চয়নের নীতি হিসেবে দুর্বল। এসব কথা বলার মানে এই না যে আমার কাছে ভান্ডার কম গ্রহণযোগ্য বা কম শ্রুতিমধুর। উপরের দুই দৃষ্টিকোণ থেক ভান্ডার হলেও আমার কোন আপত্তি নেই।

গ)কিন্তু টাইব্রেকার বা সমতারোধক হিসেবে তৃতীয় একটি দৃষ্টিকোণ থেকে আমি "মজুদ"-এর পক্ষে, সেটি হল গণমাধ্যমে তথা ইন্টারনেটে গুগল অনুসন্ধানে দেখতে পাচ্ছি "মজুদ" দিলে "ভান্ডার"-এর তিন গুণ বেশি ফলাফল পাওয়া যায়। অর্থাৎ "মজুদ" বেশি প্রচলিত। এর জন্যই আমি আপাতত "মজুদ"-এর পক্ষে। তবে খোলা মন রাখছি। -- অর্ণব (আলাপ | অবদান) ২২:০৫, ২৯ ডিসেম্বর ২০১৬ (ইউটিসি)

শিরোনাম প্রসঙ্গে[সম্পাদনা]

বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ নিবন্ধের শিরোনাম হিসাবে 'বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার' নামটিই আমার কাছে সর্বজনবোধ্য ও যথার্থ বলে মনে হয়। তাছাড়া, নিবন্ধের সর্বত্র 'মজুদ' শব্দটি বিশেষ্যরূপে ব্যবহার করলে অনেক বাংলাভাষীর পক্ষেই বোঝার অসুবিধা ঘটতে পারে। একই ধরণের অসুবিধা গোসলখানা শীর্ষক অপর একটি নিবন্ধের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এটির ইংরেজি লিংক রয়েছে en:Bathroom এর সাথে, অথচ গোসল নিবন্ধটি en:Bath এর সাথে সংযুক্ত না হয়ে রয়েছে en:Ghusl এর সঙ্গে৷ এক্ষেত্রেও গোসলখানা শিরোনামের সর্বজনীনতা লঙ্ঘিত হচ্ছে। সিক্কিম নামক নিবন্ধটি নিয়েও একই অভিমত। -- অবাঙ্ময় (আলাপ) ১৪:৪৭, ২৭ ডিসেম্বর ২০১৬ (ইউটিসি)

হিন্দী, নেপালি, অসমিয়া সহ ভারতের অন্যান্য উইকি গুলো সিক্কিম/ছিক্কিম লেখা হয়েছে। যদিও বাংলাদেশে সিকিম লেখা হয়। সিক্কিম শব্দটি আপনি বলার পরে জানলাম। কিন্তু সামগ্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে সিক্কিম বানান ভুল বলতে পারছি না। ফেরদৌস

এখানে আমার মতামত হচ্ছে case by case ধরে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধগুলির আলাপ পাতায় আলোচনা করে করে এগোতে হবে। নইলে flexibility থাকবে না। সার্বজনীন নিয়ম সব সময় তৈরি করা সম্ভব নয়। ভাষা নমনীয়, পরিবর্তনশীল। একে অনেক কিছুর সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হয়। এবং কীভাবে খাপ খাওয়াতে হবে, তা নির্ধারণ করেন ভাষিক সম্প্রদায়ের বক্তারা।

আর ইংরেজি ভাষার উইকির সাথে বাংলা ভাষার উইকির নাড়ীর সম্পর্ক থাকতে হবে, এমন কোন কথা নেই। দুই ভাষা দুই রকম, দুই সংস্কৃতি, দুই ধরনের বিশ্ব দেখার দৃষ্টিভঙ্গি। বাংলা উইকির নিবন্ধের সেট আর ইংরেজি উইকির নিবন্ধের সেট point-to-point mirror করা সম্ভব নয়। তাহলে বাংলা উইকি ইংরেজি উইকির একটি subset-এ পরিণত হবে। এটা একটা trap, এক ধরনের ভাষিক-সাংস্কৃতিক আত্মহত্যার সমান। অর্ণব (আলাপ | অবদান) ২২:১৭, ২৯ ডিসেম্বর ২০১৬ (ইউটিসি)

বাংলা উইকিপিডিয়া অনুযায়ী গোসল একটি ধর্মীয় রীতি, অথচ গোসলখানা নিবন্ধ ইংরেজি en:Bathroom অর্থে প্রযুক্ত হচ্ছে। এক্ষেত্রে ইংরেজি Bath-এর বঙ্গার্থ উইকিপিডিয়া অনুসারে কি হবে?

আর অতিপ্রচলনতাই যদি কোন নিবন্ধের শিরোনামের মাপকাঠি হয়, তবে ইংরেজিতে ব্যবহৃত 'Sikkim'-এর ক্ষেত্রে 'সিকিম' শব্দটি বাংলা গণমাধ্যমে অনেক বেশি প্রচলিত। অন্যান্য ভাষায় এর উচ্চারণের সঙ্গে বাংলায় উচ্চারণের যথেষ্ট ফারাক রয়েছে। এক্ষেত্রে সিক্কিম শব্দের আনয়ন কি একধরণের ভাষিক-সাংস্কৃতিক অনুকরণমাত্র নয়? -- অবাঙ্ময় (আলাপ) ০০:১১, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬ (ইউটিসি)

আপনি শুরু থেকে গোসলকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করছেন। এবং উইকিপিডিয়া নিবন্ধ লেখক এটিকে ইসলামী দৃষ্টিকোন থেকে বর্ণনা করেছেন। যা নি:সন্দেহে বিশ্বকোষীয় দৃষ্টিভংগির সংগে যায় না। এর জন্য নিবন্ধটি পুন:লিখন হতে পারে। আর গোসল শব্দটি মোটেও ধর্মীয়ভাবে ব্যবহার করা হয় না। ভারতের বাংলা রাজ্যে গোছলকে স্নান বলা হয়। বাংলাদেশে মুসলমান বাঙালি স্নানকেই গোসল বলেন এবং আজকাল শিক্ষিত হিন্দুদেরকেও গোছল বলতে শোনা যায়। তাই এটা স্নানের সমার্থক শব্দ ভিন্ন আর কিছুই নয়। আপনার বক্তব্য তখনই সঠিক হবে যদি ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে গোসল নামে নিবন্ধ লেখা হয়। আর বাথরুমের সাথে গোসলখানা/স্নানাগার এবং বাথ এর সাথে গোসল/স্নান এর আন্তউইকি সংযোগ দেওয়া সঠিক হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে সেটা অবশ্যই সংশোধনের দাবী রাখে।

আর আমিও সিকিম রাখার পক্ষে কারণ বাংলায় সিক্কিম উচ্চারণ বা লেখা হয় না। গোসল/স্নান এবং সিকিম/সিক্কিম এর একটাই সমাধান তা হচ্ছে পুন:নির্দেশ। -=-ফেরদৌস

@Obangmoy এবং Ferdous: আপনাদের আলোচনা ভাল লাগছে। আমার মতামত এমন --
১) শুধু অতিপ্রচলনতা, বা শুধু ভাষিক/সাংস্কৃতিক অনুকরণ - কোনটাই সার্বজনীনভাবে বাংলা শিরোনাম চয়নের একক, প্রধান বা শেষ মাপকাঠি নয়। এক দিকে প্রচলনতার ব্যাপকতা, অন্যদিকে বিদেশী শব্দের প্রতিবর্ণীকরণের মূলনীতি - কখনো একটিকে প্রাধান্য দিয়ে, আবার কখনও অন্যটিকে প্রাধান্য দিয়ে, আবার কখনও বা এই দুইয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রেখে শিরোনাম সংক্রান্ত এ ধরনের ৯৫% সমস্যার ত্বরিত্‌ সমাধান করা সম্ভব। ৫% নিয়ে সবসময়ই বিতর্ক চলবে। তখন আরও অন্য মাপকাঠিও ব্যবহার করতে হতে পারে। উপরে যেভাবে বলেছি, এগুলি case by case ধরে এগোতে হবে। এ ব্যাপারে বাংলা উইকিপিডিয়ার নিজস্ব স্বাধীন কন্ঠস্বর থাকবে; এ কণ্ঠস্বর সামগ্রিকভাবে নির্ধারণ করবে বাংলা উইকির ব্যবহারকারী সম্প্রদায়ের অন্তর্বর্তী আলোচনাগুলি। আমাদের এই আলোচনাগুলি তাই গুরুত্বপূর্ণ।
২)গোসল ও গোসলখানা এবং সিকিম/সিক্কিম শিরোনাম সংক্রান্ত বিশদ আলোচনা ঐ নিবন্ধগুলির পাতাতে করাটাই বেশি যুক্তিযুক্ত। আমি বুঝতে পারছি প্রসঙ্গক্রমেই এই উপ-আলোচনাগুলির অবতারণা করা হয়েছে। তারপরেও উপরের আলোচনাটা ঐ নিবন্ধগুলির আলাপ পাতায় নিয়ে গেলে খুবই ভাল হয়। (অর্ণব কর্তৃক মন্তব্য) ০২:২৯, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬ (ইউটিসি)
অর্ণব ভাই। অবশ্যই আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব যদিনা আলোচনাটি আলোচনার মত হয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় অনেকে জীবন পণ বাজি রাখে আপন মতের স্বপক্ষে। আমি সর্বদা যুক্তিগ্রাহ্য মত গ্রহণ করার চেষ্টা করি। এখানে বিষয়গুলো কথার প্রেক্ষিতে চলে এসেছে। -=-ফেরদৌস