আদার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
শেভাত       আদার (אֲדָר‬)       নিসান
উইলিয়ামসবার্গে পুরিম, ২০১২
৪৭৪ খ্রিস্টপূর্ব সালে সংঘটিত পারস্য সাম্রাজ্যে হাসিদিক ইহুদিদের পুরিম নামক মুক্তির উৎসব উদযাপন।
মাসের ক্রম: ১২
দিবসের সংখ্যা: ২৯
ঋতু: শীত (উত্তর গোলার্ধে)
গ্রেগরীয় সমতুল্য: ফেব্রুবারি–মার্চ

আদার (হিব্রু ভাষায়: אֲדָרআদার; আক্কাদীয় আদারু থেকে) সাধারণ পঞ্জির ষষ্ঠ এবং ইহুদি ধর্মপঞ্জির দ্বাদশ ও শেষ মাস যা গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জির ফেব্রুয়ারি-মার্চে পড়ে। এই মাসে ২৯ দিন বিদ্যমান। পুরিম সম্পর্কিত এই মাসে সংঘটিত মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাসমূহ উল্লেখ রয়েছে ইষ্টের পুস্তক নামক হিব্রু বাইবেলের নবম অধ্যায়ে।

নাম[সম্পাদনা]

হিব্রু বর্ষপঞ্জির অন্যান্য মাসের মতই এই মাসের নাম ব্যাবিলনীয় বন্দিদশার সময়ে দেওয়া হয়েছে। ব্যাবিলনীয় বর্ষপঞ্জিতে এই মাসের নাম ছিলো আরা আদ্দারু বা আদার ('আদারের মাস')।

অধিবর্ষে এই মাস আরেকটি ত্রিশ দিন বিশিষ্ট অন্তর্বর্তী মাস দ্বারা পূর্ববর্তী হয় যার নাম আদার আলেফ (হিব্রু ভাষায়: אדר א׳‎, আলেফ হিব্রু বর্ণমালার প্রথম অক্ষর), আদার আলেফ ছাড়াও একে "আদার রিসন" (প্রথম আদার) বা "আদার ১" নামে বলা হয়ে থাকে এবং অন্তর্বর্তী মাসটিকে বলা হয় আদার বেথ (হিব্রু ভাষায়: אדר ב׳‎, বেথ হিব্রু বর্ণমালার দ্বিতীয় অক্ষর)। আদার বেথ বলার পাশাপাশি এই মাসকে "আদার শেনি" (দ্বিতীয় আদার বা "আদার ২") নামে ডাকা হয়। কোন কোন ক্ষেত্রে এই দুটি মাসের জন্য আদার ১ এর স্থানে "আদার" ও আদার ২ এর জন্য "ভে'আদার" ব্যবহার করা হয়ে থাকে (ভে অর্থ 'এবং' অর্থ্যাৎ: এবং-আদার)। আদার ১ এর ২ দুটোই গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জির ফেব্রুয়ারি-মার্চে পড়ে।

ঐতিহ্য[সম্পাদনা]

দ্বিতীয় মন্দির যুগে, আদার মাসের প্রথম দিবসে জনসাধারণের নিকট মন্দিরে অর্থ উৎসর্গের প্রস্তুতির নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার রীতি ছিলো যাকে অর্ধ-শেকেল বলা হতো।[১]

মিশনাহের একটি বাক্য অনুযায়ী নিয়ম রয়েছে পুরিম দিবস অধিবর্ষের "আদার ২" মাসে পালন করতে হবে। (মেগিলাহ ১:৪), আদার ১ কে "অতিরিক্ত" মাস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলাফলস্বরূপ কেউ যদি সাধারণ বর্ষের আদার মাসে জন্মায় সে অধিবর্ষে তার জন্মদিন "আদার ২" মাসে পালন করবে। তবে কেউ যদি আদার মাসের ত্রিশ তারিখে জন্মায় সেক্ষেত্রে সে সাধারণ বর্ষের ১ নিসান তারিখে তার জন্মদিন পালন করবে কেননা সাধারণ বর্ষে আদার মাসে ২৯টি দিবস থাকে।

ছুটির দিন ও উদযাপিত দিবস সমূহ[সম্পাদনা]

ইতিহাস ও ধর্মে[সম্পাদনা]

  • ১ আদার (আনু ১৩১৩ খ্রিস্টপূর্ব) – মিশরের উপর নিস্তারপর্বের ছয় সপ্তাহ আগে এই দিন থেকে ঈশ্বরের দশটি অভিশাপের নবম অভিশাপটি নেমে আসে। (আদিপুস্তক ১০:২৩)।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]
  • ১ আদার [২] (১১৬৭/৪ খ্রিস্টাব্দ) – ইবনে এজ্রার মৃত্যু।
  • ১ আদার (আনু ১৬৬৩) – শাখের মৃত্যু।
  • ২ আদার (৫৯৮ খ্রিস্টপূর্ব) – সম্রাট দ্বিতীয় নেবুচাদনেজার জেরুজালেম দখলে নিয়ে নেয় এবং যিহোয়াখিনকে বন্দী করা হয়।[২]
  • ২ আদার (১৯৪১) - পুপার রাব্বাই ইয়াকোভ ইয়েহেজকিয়া গ্রিনওয়াল্ডের মৃত্যু।
  • ৩ আদার (৫১৫ খ্রিস্টপূর্ব) – দ্বিতীয় মন্দির নির্মাণ সম্পূর্ণ হয়।
  • ৪ আদার (১৩০৭) – আলেক্সান্ডার বেন শ্লোমো দ্বারা ১৫ বছর পর মাহারামের দেহের বিনিময়ে মুক্তিপণ আদায় করা হয়।
  • ৪ আদার (১৭৯৬) – রাব্বাই লেইব সারাহের মৃত্যু।
  • ৪ আদার [২] (১৯৯২) – মিনাখিন বেগিনের মৃত্যু।
  • ৫ আদার (প্রথম শতাব্দী) – লুলিয়ানোস ও পাপোস লাওডিকার নিরীহ ইহুদিদের জীবন বাঁচাতে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেন।[৩]
  • ৭ আদার (১৩৯৩ খ্রিস্টপূর্ব) – নবী মোশির জন্ম।
  • ৭ আদার (১২৭৩ খ্রিস্টপূর্ব) – নবী মোশির মৃত্যু।
  • ৭ আদার (১৮২৮) – কালোভের রেব্বে আইজ্যাক তাউবের মৃত্যু।
  • ৯ আদার (খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতাব্দী) – বেইথ হিলেল ও বেইথ শাম্মাইয়ের মধ্যকার বিদ্যা সংক্রান্ত মতবিরোধের জেরে সংঘর্ষে ৩০০০ শিক্ষার্থীর মৃত্যু। পরবর্তীতে দিবসটি শুলখান আরুচ দ্বারা উপবাসীয় শোক দিবস হিসেবে ঘোষিত হয় যদিও তা নির্বিশেষে পালিত হতো না।
  • ১১ আদার (১৮ই শতাব্দী) – চাশিদিক রেব্বেস হানিপলের ঝুসা ও লিঝেন্সকের এলিমেলেখের পিতা রাব্বাই এলাইজার লিপম্যানের মৃত্যু।
  • ১৩ আদার (৪৭৪ খ্রিস্টপূর্ব) – পারস্যে ইহুদি ও তাদের শত্রুদের মধ্যকার যুদ্ধ (ইষ্টেরের পুস্তক, অধ্যায় ৯)।
  • ১৩ আদার (১৬১ খ্রিস্টপূর্ব) – ইয়োম নিকানোর – মাখাবীয়রা হানুক্কাহের ৪ বছর পর সিরিয়ার সেনাপতি নিকেনোরকে যুদ্ধে পরাজিত করে।
  • ১৩ আদার (১৮৯৫–১৯৮৬) – রাব্বাই মোশি ফেইনস্টেইনের মৃত্যু।
  • ১৪ আদার (৪৭৪ খ্রিস্টপূর্ব) – পারস্য সাম্রাজ্যে পুরিমের বিজয় উদযাপন করা হয়।
  • ১৫ আদার (৪৭৪ খ্রিস্টপূর্ব – পুরিমের বিজয় পারস্যের রাজধানী সুসা শহরে উদযাপন করা হয়।
  • ১৫ আদার (খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতাব্দী) – জেরুজালেম ফটক দিবস – রাজা প্রথম আগ্রিপ্পা (আনু. ২১ খ্রিস্টপূর্ব) জেরুজালেমের প্রাচীরের জন্য একটি ফটক নির্মাণ শুরু করেন; ফটক নির্মাণের দিনটি ছুটির দিন হিসেবে উদযাপিত হয়।
  • ১৭ আদার (৫২২ খ্রিস্টপূর্ব) – ইয়োম আদার – এই দিনে ইহুদিরা পুরিমের পর পারস্য ত্যাগ করে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]
  • ১৮ আদার (১৯৫৩) - জোসেফ স্ট্যালিনের মৃত্যু যা ডক্টরস প্লট এর ইতি টানে।
  • ২০ আদার (খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতাব্দী) – হনি বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করেন (তালমুদ, তা'আনিত ২৩এ)
  • ২০ আদার (১৬১৬) – 'পুরিম ভিঞ্জ': ভিনসেঞ্জ ফেতিলিচের পতন এবং সরকারি সুরক্ষা সমেত ফ্রাঙ্কফুর্টের ইহুদিদের প্রত্যাবর্তন। এই দিনটিও পুরিম হিসেবে পালিত হয়।[৪]
  • ২০ আদার (১৬৪০) – "বাখের" মৃত্যু।
  • ২১ আদার (আদার ২, ১৭৮৬) – লিঝেন্সকের রাব্বা এলিমেলেখের মৃত্যু।
  • ২৩ আদার (আনু ১৩১২ খ্রিস্টপূর্ব) – মিশকান বৈঠক প্রথমবারের মত অনুষ্ঠিত হয়; "সাত দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ" শুরু হয়।
  • ২৩ আদার (১৮৬৬) – গার হাসিদিক সাম্রাজ্যের প্রথম রাব্বাই ইশহাক মেইর আল্টারের মৃত্যু।
  • ২৪ আদার (১৮১৭) – নিস্তারপর্ব পালনের জন্য ইহুদিদের খ্রিস্টান শিশুর রক্ত সংগ্রহের গুজব রাশিয়ার জার প্রথম আলেক্সান্ডার মিথ্যা ঘোষণা করেন। তবুও একশো বছর পরে একই অভিযোগে কিয়েভে মেন্ডেল বেইলিসকে অভিযুক্ত করা হয়।
  • ২৫ আদার (৫৬১ খ্রিস্টপূর্ব) – দ্বিতীয় নেবুচাদনেজারের মৃত্যু (যিরমিয় ৫২:৩১)।
  • ২৫ আদার (১৭৬১) – বা'আল শেম তোভের দুলাভাই রাব্বাই কিতোবের আব্রাহাম গারসনের মৃত্যু।[৫]
  • ২৭ আদার (৫৬১ খ্রিস্টপূর্ব) – ব্যাবিলনীয় বন্দিদশায় সিদিকিয়র মৃত্যু। নেবুচাদনেজারের পুত্র মেরোদুচ তাকে ও তার ভাতিজা যিহোয়াখিনকে এই দিন মুক্ত করে দেয়, কিন্তু সিদিকিয় একই দিনে মৃত্যুবরণ করেন।
  • ২৮ আদার (দ্বিতীয় শতাব্দী পরে) – ইহুদিদের তোরাহ, খতনাসাব্বাথ নিষিদ্ধের রোমান নির্দেশের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ঘটনার তালমুদীয় ছুটির দিবস। রোমানিদের এই নির্দেশ রাব্বাই ইয়েহুদাহ বেন শামুয়া ও তার সহযোগীরা প্রত্যাখান করেছিলেন। (মেগিলাত তা'আনিত, এই ব্যাপারের উপরে একটি বারাইতা এখনো তা'আনিতের ১৮এ এবং রোস হাসানাহ ১৯এ তে পাওয়া যায়)।
  • ২৮ আদার (১৫২৪) – কায়রোর ইহুদিরা হাইন আহমেদ পাশার ষড়যন্ত্র থেকে বেঁচে যায় যিনি ইহুদি মন্ত্রী আব্রাহাম ডি কাস্ট্রো কর্তৃক অটোম্যান সুলতান দ্বিতীয় সেলিমকে আহমেদ পাশার বিদ্রোহের পরিকল্পনা ফাঁস করে দেওয়ার জন্য প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিলেন। এই দিন কায়রো শহরে পুরিম দিবস পালিত হয়ে থাকে।


আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. মিশনাহ শেকালিম ১:১
  2. No 24 WA21946, The Babylonian Chronicles, The British Museum
  3. Mordechai Margoliouth (ed.), Halakhot Eretz Yisrael min ha-Genizah, Mossad Harav Kook: Jerusalem 1973, p. 142 (Hebrew). The Scroll of Fasting places this event on the 12th day of the lunar month Adar.
  4. "CATHOLIC ENCYCLOPEDIA: Frankfort-on-the-Main" 
  5. Rabbi Gershon's gravestone, which lists 25 Adar as his day of passing, was discovered in the Mount of Olives cemetery in Jerusalem after the Six-day War.

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]