অব্যয় পদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
অব্যয় পদের উদাহরণ

অব্যয় হলো বাংলা ব্যাকরণের একটি পদ, যেটির বাক্যের মধ্যে ব্যবহারের সময় কোনো পরিবর্তন ঘটে না।[১] তবে আধুনিক বাংলা ব্যাকরণে এই পদটি অনুসর্গ, সংযোজকআবেগসূচক পদে বিভক্ত।

সংজ্ঞা[সম্পাদনা]

বাক্যে বা শব্দের সাথে ব্যবহৃত যে সকল ধ্বনি-বিভক্তি, বচন, লিঙ্গকারকভেদে কোনোভাবে পরিবর্তন হয় না, সেসকল পদকে অব্যয় বলে।

প্রকৃতি[সম্পাদনা]

বাংলা ব্যাকরণে অব্যয়ের নির্ধারিত প্রকৃতিসমূহ:

  • এর বহুবচন হয় না।
  • ক্রিয়ার কাল দ্বারা প্রভাবিত হয় না।
  • লিঙ্গান্তর নেই।
  • এর সাথে কোনো বিভক্তি যুক্ত হয় না।

রূপ ও ব্যবহার[সম্পাদনা]

গঠন প্রকৃতির দিক থেকে অব্যয় এক বা একের অধিক বর্ণ বা শব্দ দিয়ে হতে পারে। যেমন–

  • একটি বর্ণ-
  • একাধিক বর্ণ- বটে
  • একটি শব্দ- অতএব, বটে
  • একাধিক শব্দ- হায় হায়, মরি মরি

বাক্যে অব্যয়ের ব্যবহার যেসব কারণে হয়ে থাকে:

  • বাক্যের শোভা বৃদ্ধি করা
  • বাক্যকে সংযুক্ত করা
  • শব্দের অর্থগত পার্থক্য সৃষ্ট করা[২]

প্রকারভেদ[সম্পাদনা]

আধুনিক বাংলা ব্যাকরণে অব্যয়পদ তিনটি মূল ভাগে বিভক্ত:

  • অনুসর্গ: যেসব পদ কোনো শব্দের পরে বসে বাক্যকে সম্পর্কিত করে, যেমন- অবধি, পর্যন্ত, ভিতরে প্রভৃতি।
  • সংযোজক পদ: পদ, বর্গ ও বাক্যকে যেসব শব্দ সংযুক্ত করে, যেমন- এবং, আর, তবে প্রভৃতি।
  • আবেগসূচক পদ: ভাব বা আবেগকে প্রকাশ করে, যেমন- হায় হায়!, বাহ্, ছি! প্রভৃতি।

শব্দ-উৎসের বিচারে অব্যয়[সম্পাদনা]

শব্দ-উৎসের বিচার হলো নির্ধারিত অব্যয়টি কোন ভাষার সূত্রে বাংলা ভাষায় প্রবেশ করেছে। এই বিচারে অব্যয় চার প্রকার।[২]

  1. তৎসম অব্যয়: যে সকল অব্যয় সংস্কৃত থেকে অবিকৃতভাবে গৃহীত হয়েছে। যদি, যথা, সদা, সহসা, হঠাৎ, অর্থাৎ, দৈবাৎ, বরং, পুনশ্চ, আপাতত, বস্ত্তত[টীকা ১]
  2. তদ্ভব বা অর্ধ-তৎসম অব্যয়: যে সকল অব্যয় সংস্কৃত থেকে বিবর্তিত হয়ে বাংলায় প্রবেশ করেছে। যেমন আর= সংস্কৃত অপর>প্রাকৃত আর>বাংলা আর।
  3. বাংলা অব্যয়: যে সকল অব্যয় দেশী উৎস থেকে গৃহীত হয়েছে। আর, আবার, , হাঁ, না
  4. বিদেশী অব্যয়: সংস্কৃত, অর্ধ-তৎসম, তদ্ভব ও দেশী অব্যয় ব্যতীত সকল অব্যয়কেই বিদেশী অব্যয় বলা হয়। আলবত, বহুত, খুব, শাবাশ, খাসা, মাইরি, মারহাবা

ভাবগত ও ব্যবহারিক অর্থের বিচারে অব্যয়[সম্পাদনা]

ভাবগত ও ব্যবহারিক অর্থের বিচারে অব্যয় হলো শব্দ হিসাবে এবং তা বাক্যে কি ভাবগত অর্থে ব্যবহৃত হয়, তার বিচারে অব্যয়কে প্রাথমিকভাবে ৩টি ভাগে ভাগ করা হয়।[২]

  1. সংযোগ-বাচক বা সম্বন্ধবাচক
  2. মনোভাববাচক (রাজা রামমোহন রায়ের মতে অন্তর্ভাবার্থক[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]) অব্যয়।
  3. শব্দ-উৎপাদক বা পরিবর্তক অব্যয়।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

টীকা[সম্পাদনা]

  1. এবংসুতরাং শব্দ দুটি অব্যয় পদ ও সংস্কৃত ভাষা থেকে এসেছে অর্থাৎ তৎসম শব্দ। তবে এ দুটি অব্যয় শব্দের অর্থ বাংলা ভাষায় এসে পরিবর্তিত হয়ে গেছে। সংস্কৃতিতে "এবং = এমন" আর "সুতরাং = অত্যন্ত, অবশ্য" বাংলায় "এবং = ও" আর "সুতরাং = অতএব"

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "বাংলা ভাষার ব্যাকরণ"। মুনীর চৌধুরী, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, ঢাকা।
  2. মো. সুজাউদ দৌলা। "অব্যয় পদ কাকে বলে"দৈনিক ইত্তেফাকঃ অনুশীলন। সংগ্রহের তারিখ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭