জৈবপ্রযুক্তি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ইনসুলিন স্ফটিক.

জৈবপ্রযুক্তি (Biotechnology) হল বৈজ্ঞানিক ও প্রকৌশলগত নীতি অনুসরণ ও প্রয়োগ করে জীবদের ব্যবহার করার মাধ্যমে মানুষের জন্য কল্যাণকর ও ব্যবহারযোগ্য প্রয়োজনীয় মালামাল তৈরির বিশেষ প্রযুক্তি। এটি মূলত জীববিদ্যা ভিত্তিক প্রযুক্তি, বিশেষ করে যখন প্রযুক্তি কৃষি, খাদ্য বিজ্ঞান, এবং ঔষধশিল্পে ব্যবহৃত হয়।জাতিসংঘের কনভেনশন অন বায়োলোজিক্যাল ডাইভার্সিটি অনুসারে জৈব প্রযুক্তিকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করা যায়:[১]


যে কোন প্রকারের প্রায়োগিক প্রাযুক্তিক কাজ যা জৈবিক ব্যবস্থা, মৃত জৈবিক বস্তু অথবা এর থেকে প্রাপ্ত কোন অংশকে কোন দ্রব্য বা পদ্বতির নির্দিষ্ট বা বিশেষ ব্যবহারের জন্য ব্যবহৃত হয়।

(Any technological application that uses biological systems, dead organisms, or derivatives thereof, to make or modify products or processes for specific use.)

ইতিহাস[সম্পাদনা]

জৈবপ্রযুক্তির একটি প্রাচীন প্রয়োগ Brewing

যদিও কৃষিকাজে জৈবপ্রযুক্তি বহুকাল পূর্বে থেকে ব্যবহার করা হচ্ছে, তবুও উদ্ভিদের চাষাবাদে এর আধুনিকতম প্রয়োগ দেখা যায়।
প্রস্তর যুগের Neolithic Revolution এর পর থেকেই কৃষিকে খাদ্য উৎপাদনের সবচেয়ে প্রভাবশালী মাধ্যম হিসেবে গণ্য করা হয়। আধুনিক যুগের কৃষকেরা শ্রেষ্ঠ বীজ নির্বাচন ও ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ফলন ঘটিয়ে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা পূরণ করছে। যখন শস্য ও জমির পরিমাণ অনেক বৃদ্ধি পেয়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছিল তখন এমন কিছু জীব এবং তাদের উপজাতকের সন্ধান পাওয়া যায় যারা মাটির উর্বরাশক্তি বৃদ্ধি করে, নাইট্রোজেন সংবদ্ধকরণ করে, এবং ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ বা পেস্ট দমন করে। কৃষির ইতিহাসে দেখা যায়, কৃষক ভিন্ন পরিবেশে ভিন্ন উদ্ভিদের সাথে কোন উদ্ভিদের প্রজনন ঘটিয়ে উদ্ভিদের জিনে কিছু পরিবর্তণ ঘটিয়ে জৈবপ্রযুক্তির প্রাথমিক রূপ উন্মোচন করেছেন।
বিয়ারের গাঁজন ও আদিম জৈবপ্রযুক্তির একটি উদাহরণ।[২] এই পদ্ধতিগুলো মেসোপটেমিয়া,মিসর,চীন এবং ভারত এ প্রচলিত ছিল এবং পদ্ধতি গুলোর জীববিজ্ঞানিক মূলনীতিগুলো এখনো একই রয়েছে। ১৮৫৭ সালে লুই পাস্তুর এর গাঁজন বিষয়ক কাজের আগে এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্টভাবে কিছু বোঝা না গেলেও এটিই একপ্রকার খাদ্যকে অন্য প্রকার খাদ্যে রুপান্তরকারী জৈবপ্রযুক্তির প্রাথমিক রূপ। গাঁজন প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন প্রকার খাদ্যের কার্বোহাইড্রেট ভেঙ্গে অ্যালকোহল উৎপন্ন হয়।
হাজার বছর ধরে মানুষ শস্য এবং জীবজন্তুর উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতি ব্যাবহার করেছে। এই পদ্ধতিতে প্রত্যাশিত উন্নত বৈশিষ্ট্যধারী জীবের মিলনে সৃষ্ট সন্তান একই বৈশিষ্ট্য ধারণ করে। উদাহরণস্বরূপ, এই পদ্ধতি ব্যবহার করে বৃহত্তম ও সর্বাধিক মিষ্টি ভুট্টা উৎপাদন করা হয়েছিল।[৩]
বিংশ শতাব্দীর শুরুতে বিজ্ঞানীগণ অণুজীব সম্পর্কে অনেক তথ্য লাভ করতে থাকেন এবং পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এর নতুন নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। ১৯১৭ সালে Chaim Weizmann বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে প্রথম বিশুদ্ধ অণুজীব কালচারের প্রয়োগ করেন। তিনি Clostridium acetobutylicum ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে ভুট্টার স্টার্চ প্রক্রিয়াজাত করে অ্যাসিটোন উৎপাদন করেছিলেন যা প্রথম বিশ্বযুদ্ধে যুক্তরাজ্যের খুব দরকার ছিল বিস্ফোরক তৈরি করতে।[৪]
জৈবপ্রযুক্তি এন্টিবায়োটিক এর উন্নতিতেও ব্যবহার করা হয়েছে। অ্যালেকজান্ডার ফ্লেমিং ১৯২৮ সালে Penicillium মোল্ড আবিষ্কার করেন। তাঁর কাজ Howard Florey, Ernst Boris Chain এবং Norman Heatley কে পরিচালিত করে পেনিসিলিন উদ্ভাবনের দিকে। ১৯৪০ সাল থেকে পেনিসিলিন মানুষের দেহে ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ নিরাময়ে ব্যবহার হয়ে আসছে।[৫]

প্রয়োগ[সম্পাদনা]

একটি গোলাপ গাছ যার জীবন কতগুলো কোষ হিসেবে শুরু হয়েছিল টিস্যু কালচারে।

৪টি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে জৈবপ্রযুক্তির প্রয়োগ দেখা যায়। এগুলো হচ্ছে - ১।স্বাস্থ্য, ২।কৃষি, ৩।শিল্পে শস্য ও অন্যান্য পণ্যের ( উদাহরণ - জৈবিক উপায়ে পচনশীল প্লাস্টিক, উদ্ভিদজাত তেল, জৈব জ্বালানি) ব্যবহার, ৪। পরিবেশ।
অণুজীব দ্বারা জৈব পদার্থ প্রক্রিয়াজাতে জৈবপ্রযুক্তির প্রয়োগ হয়। আকরিক থেকে ধাতু নিষ্কাশনে ব্যাকটেরিয়ার ব্যবহারও জৈবপ্রযুক্তির উদাহরণ। এছাড়া কোন জিনিসকে পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা, বর্জ্য শোধন, কলকারখানা দ্বারা দূষিত এলাকা পরিস্কার এবং জীবাণু অস্ত্র তৈরিতে জৈবপ্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।

ওষুধ[সম্পাদনা]

কৃষি[সম্পাদনা]

তথ্য সূত্র[সম্পাদনা]

  1. "কনভেনশন অন বায়োলোজিক্যাল ডাইভার্সিটি (আর্টিকেল ২,ইউজ অব টার্মস)." জাতিসংঘ. ১৯৯২, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০০৮ এ গৃহীত।
  2. See Arnold, John P. (2005) [1911]. Origin and History of Beer and Brewing: From Prehistoric Times to the Beginning of Brewing Science and Technology. Cleveland, Ohio: BeerBooks. p. 34. ISBN 978-0-9662084-1-2. OCLC 71834130.
  3. Thieman, W.J.; Palladino, M.A. (2008)। Introduction to Biotechnology। Pearson/Benjamin Cummings। আইএসবিএন 0-321-49145-9 
  4. Springham, D.; Springham, G.; Moses, V.; Cape, R.E. (24 August 1999)। Biotechnology: The Science and the Business। CRC Press। পৃ: 1। আইএসবিএন 978-90-5702-407-8 
  5. hieman, W.J.; Palladino, M.A. (2008). Introduction to Biotechnology. Pearson/Benjamin Cummings.