আহলে হাদীস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

আহলে হাদিস বা আহল-ই-হাদিস বা আসহাবুল হাদিস (আরবি: Ahl al-ḥadīth; أهل الحديث) অথবা (Aşḥāb al-ḥadīth; أصحاب الحديث) হলেন ইসলাম ধর্মের অন্তর্বর্তি একটি দল, যারা ইসলামের ব্যাখ্যায় প্রসিদ্ধ চার মাজহাবের কোনো ইমামের অনুসরণ না করে কেবল হাদিসের উপর নির্ভর করেন, যার সনদ বা পরম্পরা [শেষ বাণীবাহক] মুহাম্মদ [স.] পর্যন্ত পৌঁছেছে। ইমাম আবু হানিফা [রহ.] ও ইমাম মালিকের [রহ.] মতো এরা হাদিসের শুদ্ধাশুদ্ধ বিচারে আগ্রহী নন, বরং সকল প্রকার হাদিসই গ্রহণে আগ্রহী। মুহাম্মদ [স.] থেকে আগত কোনো হাদিস বিখ্যাত না হলেও এবং বর্ণনাকারীর ইসনাদ সকল শর্ত পূরণ করলেও তাঁরা হাদিসকে শুদ্ধ বলে গ্রহণ করতেন, এবং শাহ ওয়ালিউল্লাহ ও মুহাম্মদ-ইবন আল-ওয়াহাবের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করেন, দেওবন্দির মতো তারা সুদি সমালোচনা করেন। তারা আলাদা ধরণের দাড়ি রাখেন এবং নামাজও কিছুটা রকমে আদায় করে থাকেন। তারা ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গির উপর প্রাধান্য দিয়ে বিচার করেন।[১] এই মতানুসারীরা ইসলাম ধর্মসংশোধনের আন্দোলনকারী বলে দাবী করেন। মাজহাব-বিরোধী ধ্যান-ধারণার অধিকারী হওয়ায় মাজহাবপন্থিগণ তাদেরকে লা-মাজহাব বা মাজহাবশূণ্য বলে থাকেন।


আল্লাহ তা'য়ালা আদম (আঃ) কে সৃষ্টি করে সুখময় থাকার জন্য বেহেশতে হাওয়া (আঃ) কেও জীবন সঙ্গিনী করে উনার পাশে থাকতে দেন। তারা দু'জন বেহেশতে বসবাস করতে থাকেন। একপর্যায়ে শয়তানের ধোকায় পড়ে নিষিদ্ধ গাছের ফল খাওয়াতে তাদের দুনুজনকে জান্নাত থেকে বের করে এই পৃথিবীতে প্রেরণ করেন। এদিকে, পাঠাবার সময় তাদের দুনুজনকে আর তাদের মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে বলে দেনঃ-

তোমরা এখান অর্থ্যাৎ বেহেশত থেকে পৃথিবীতে নেমে যাও। অতঃপর আমার পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট আবার জান্নাতে যাওয়ার পথ প্রদর্শক আসবে। তখন যারা আমার পথের অনুসরণ করবে, তাদের জন্য ভবিষ্যতেও কোন ভয় নেই এবং অতিতেরও কোন চিন্তা থাকবে না। আর যারা অবাধ্য হবে এবং আমার বাণীসমূহ অস্বীকার করবে,তারা হবে চিরস্থায়ী দোযখী। আল্লাহ তা'য়ালা সেই প্রতিশ্রুতি অনুসারে মানুষকে আবার জান্নাতে ফিরে যাওয়ার পথ-প্রদর্শনের জন্য লক্ষাধিক নবী-রাসূল ও শতাধিক আসমানী ঐশীগ্রন্থ অবতীর্ণ করেন। সে সকল নবী রাসূলের মধ্যে সর্বশেষ ও সর্বশেষ্ট্র রাসূল হলেন আমাদের নবী মহানবী হযরত মুহাম্মাদ সা. । আর তার নিকট অবতীর্ণ করেন সর্বশেষ ও সর্বশেষ্ট্র আসমানী কিতাব মহাগ্রন্থ আল-ক্বোরআন। পবিত্র ক্বোরআনের ভাষায় আল্লাহর প্রতিশ্রুত সেই পথ-প্রদর্শনকে বলা হয়েছে হেদায়াত বা পথ দেখানো। আর তার প্রদর্শিত সেই পথ কে বলা হয়েছে ছিরাতে মুস্তাকীম, যার সহজ-সরল অর্থ " সোজা রাস্তা বা সরল পথ"। কাদের জন্য সোজা পথ? উত্তরে বলা যায়, পৃথিবীর মানুষের জন্য। কোথায় যাওয়ার সোজা পথ? উত্তরে বলা যায়, জান্নাতে যাওয়ার সোজা পথ। এখানে প্রশ্ন জাগে যে, সেই সোজা পথের ব্যাখ্যা কী? উত্তরে পবিত্র ক্বোরআনের সম্মানিত ব্যাখ্যাকারগণ "সীরাতে মুস্তাকীম বা সোজা পথের বিভিন্ন ব্যাখ্যা করেছেন। যেমনঃ- ১। ইসলামের পথ। ২। ক্বোরআনের পথ। ৩। নবীগণের পথ। ৪। সিদ্দিকগণের পথ। ৫। শহীদগণের পথ। ৬। সালেহগণের পথ। ৭। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'তের পথ। হাওলা তাফসীরে ইবনে কাসিরঃ ১/৪২-৪৩ অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়া'লা বলেনঃ- অর্থ্যাৎ, আর নিশ্চই এটি আমার প্রদর্শিত সোজা পথ, তাই তোমরা এ পথে চল, এছাড়া অন্যান্য পথে চলো না। অন্যথায় সেগুলি তোমাদেরকে তার পথ থেকে বিচ্যুত করে দিবে। আল্লাহ অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তোমাদের এ উপদেশ দিচ্ছেন, যাতে তোমরা ভ্রান্ত পথ থেকে বাচতে পার। সূরায়ে আনআমঃ ১৫৩ এই আয়াতে ছিরাতে মুস্তাকীম বা সোজা পথ কথার অর্থ ইসলাম বা ক্বোরআন পথও হতে পারে, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের পথও হতে পারে। যদি ইসলাম বা ক্বোরআনের পথ গন্য করা হয়, তাহলে অন্যান্য পথ বলতে অন্যান্য ধর্মের পথ বুঝাতে হবে। আর যদি এখানে সোজা পথ বলতে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত পথ গন্য করা হয়, তাহলে অন্যান্য পথ বলতে ইসলামের মনগড়া অপব্যাখ্যাকারী ৭২ দলের ভ্রান্ত মতবাদ বুঝাতে হবে। তাফসীরে কামালাইন শরীফঃ ১/৩৫

প্রকৃত আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত এবং তাদের বিশ্বাস নিয়ে আলোচনা করব। আচ্ছা যাই হোক, বলতেছিলাম যে, সোজা পথের বর্ণনা দিতে গিয়ে হাদিছে বর্ণিত রাসূল সা. এর দু'টি হাদিছ উল্লেখ করছি, ১। মৌখিক বিবরণ সম্বলিত হাদিছের এক পর্যায়ে রাসূল সা. বলেনঃ- " বনী ইসরাইল অর্থ্যাৎ হযরত ইয়াকুব আঃ এর পরবর্তী বংশধর ৭২ দলে বিভক্ত হয়েছিল এবং আমার উম্মত ৭৩ দলে বিভক্ত হবে। তন্মধ্যে একটা দল ব্যতীত সবাই হবে ক্ষণস্থায়ী জাহান্নামী। সমবেত সাহাবাগণ জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! এ দলটির পরিচয় কী বা এরা কারা? উত্তরে রাসূল সা. বললেন, যারা আমার সুন্নাত এবং আমার সাহাবাগণের মতাদর্শে অবিচল থাকবে। (তিরমিযী শরীফ) এদিকে, ইমাম আহমদ এবং আবু দাউদের বিবরণে আছে, আমার উম্মাতের মধ্যে এমন কতগুলি দল বের হবে, যাদের প্রতিটি ধমনী ও জোড়ায় বনী ইসরাইলের কুপ্রবৃত্তি সমূহ প্রবাহিত হয়। যেভাবে জলাঙ্ক রোগীর মধ্যে তার জীবানু প্রবাহিত হয়। মেশকাত শরীফ ১/৩০ ২। এই হাদিছে রাসূল সা. রেখা অংকন করে সোজা পথের সন্ধ্যান দিয়েছেন। হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রা. বলেন, হযরত রাসুল সা. আমাদের বুঝাবার জন্য একটা সরল রেখা টেনে বলেন, এটা আল্লাহর পথ। তারপর উক্ত সরল রেখার ডানে-বামে আরও রেখা টেনে বললেন, এগুলো ভিন্ন পথসমুহ এর উদাহরণ। যার প্রতিটি পথের দিকে শয়তান ডাকছে। এ কথা বলে রাসূল সা. সেই আয়াত তিলাওয়াত করেন, যে আয়াতে আল্লাহ বলেন, এটাই আমার সীরাতে মুস্তাকিম। অর্থ্যাৎ এভাবে রেখা টেনে রাসূল সা. উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যা করলেন। মোট কথা, এই দুই হাদিছের সারমর্ম হল এই যে, মুসলমান উম্মতের ৭২টি দল কুপ্রবৃত্তির শিকারে পরিণত হয়ে শয়তানের ডাকে ইসলামের নামে ভ্রান্ত বিশ্বাস পোষণ করার দরুণ জাহান্নামে যাবে। আর একটি মাত্র দল সীরাতে মুস্তাকিম বা সোজা পথে চলে অর্থ্যাৎ ইসলামের বিশুদ্ধ বিশ্বাসে অটল থেকে জান্নাতে যাবে। সেই বিশুদ্ধ বিশ্বাসের ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে কোথায়? পাওয়া যাবে রাসূলের সুন্নাত আর সাহাবাগণের জামা'ত। সুতরাং মুসলমানের একটি মাত্র দল ইসলামী আক্বীদা বিশ্বাসের ক্ষেত্রে নিজেদের মনগড়া ব্যাখ্যার আশ্রয়ে না গিয়ে, সুন্নাতে রাসূল এবং জামা'তে সাহাবার আদর্শকে মাপকাঠি হিসাবে অবলম্বন করায় জান্নাতী হবে। তাই দলটি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'ত নামে অভিহিত হয়েছে। তাই এর অর্থ দাড়ালো যে, রাসূল সা. এর সুন্নাত এবং সাহাবাগণ রা. এর জামা'তের মতাদর্শে বিশ্বাসী।

যে হাদীসে মুসলমানদের ৭৩ দলে বিভক্ত হওয়ার কথা বর্ণিত হয়েছে, সে হাদীসকে " হাদিসে ইফতেরাকে উম্মাত" বলা হয়। এর অর্থ, উম্মতের দলাদলির বিবরণ সম্বলিত হাদিছ। হাদিছটি তিরমীযী শরীফ, আবু দাউদ শরীফ ও মিশকাত শরীফসহ বিভিন্ন কিতাবে বহু সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। এ হাদিছের মুল আলোচনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে শব্দগতভাবে সামান্য ব্যবধান থাকলেও সেগুলি মর্মে কোন ব্যবধান নেই। তাই অর্থগত দিক থেকে হাদিছটা মুতাওয়াতির বা সন্দেহতীতভাবে গৃহীত। এ হাদিছের এক বর্ণনায় জান্নাতী দলটির পরিচয়ে রাসুল সা. বলেছেনঃ- "মা-আনা আলাইহি ওয়া আছহাবী" অর্থ্যাৎ যে তরিকায় আমি আছি, আর আমার সাহাবাগণ আছেন। রাসূল সা. এর তরিকা বা তার অনুসৃত পদ্ধতিকে তার সুন্নাত, আর সাহাবাগণের সমষ্টিকে সাহাবাগণের জামাত বলা হয়। তাই আলোচ্য হাদিছের এ অংশটির মর্মার্থ হল, রাসূলের সুন্নাত এবং তার সাহাবাগণের জামাত এর আদর্শে প্রতিষ্টিত দল। তাই এই মর্মে হাদিছটিকে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত নামের উৎস হিসেবে অবলম্বন করা হয়েছে। এছাড়া দারুল উলুম দেওবন্দের সাবেক মুহতামিম হাকীমুল ইসলাম আল্লামা ক্বারী তৈয়ব সাহেব র. "আক্বীদাতুত তাহাবী" এর ব্যাখ্যায় বলেন যে, মসনদে আহমদ ও আবু দাউদ শরীফের বর্ণনায় উক্ত হাদিছের শেষাংশে উল্রেখ আছে, জান্নাতী দলটিই হচ্ছে জামাত। আরেক বিবরণে উল্লেখ আছে যারা সুন্নাত এবং জমাতের উপর প্রতিষ্টিত তারাই জান্নাতী দল। বিবরণ মতে রাসুল সা. এর হাদিছের মর্মই শুধু আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত নামের উৎস নয় বরং হাদিছের সরাসরি শব্দ থেকেই হকপন্থী মুসলমান দলের নামটি গৃহীত। হাওলাঃ- আক্বীদাতুত তাহাবী মায়াল হাওয়াশী। এরপর তিনি বলেন, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত নামের দুটি অংশ, (এক) প্রথম অংশ, সুন্নাত তরিকা যা আলোচ্য হাদিছে আরবী "মা" শব্দটির মর্ম । (দুই) দ্বিতীয় অংশ, সাহাবাগণের পবিত্র আত্মাসমূহ, যা আবরী "জামাত" শব্দটির মর্ম। সুতরাং এ হাদিছ দ্বারা মিয়ারে হক বা সত্যের মাপকাঠি অর্থাৎ মুসলমানদের ৭২টি বাতিল দল থেকে একমাত্র হক বা সত্যপন্থী দলটি পরখ করার মানদন্ড একটি নয়। দুটি সাব্যস্ত হল। একটি হচ্ছে রাসুলের সুন্নাত আর অপরটি হচ্ছে তার অনুসারী দল সাহাবাগনের জামাত। সুতরাং সুন্নাত এবং জামাত একটা অপরটা থেকে অবিচ্ছেদ্য । কারণ, সুন্নাতের উপরই জামাত প্রতিষ্ঠিত, আর সাহাবের জামাতের দ্বারাই সুন্নাত অনুসৃত। এ বিবরণ দ্বারা এ কথা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট যে, রাসুলের একটা প্রসিদ্ধ হাদিছের ভিত্তিতেই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের নামকরণ করা হয়েছে এবং সুন্নাতে রাসূল এবং জামাতে সাহাবা সত্যের মাপকাঠি হওয়াই এ নামকরণের কারণ।

আপনাদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, বাকী ৭২ দলই কি জাহান্নামী? এ প্রশ্নের জবাবের জন্য আগে একটা বিষয় জানা দরকার, আর তা হল, মহানবীর উম্মাত দু'প্রকার। এক প্রকার উম্মতের নাম " উম্মতে দাওয়াত। আর দ্বিতীয় প্রকার উম্মতের নাম " উম্মতে ইজাবত" । আল্লাহ আমাদের মহানবীকে সারা বিশ্বের সকল মানুষের প্রতি ইসলামের দাওয়াত দিতে পাঠিয়েছেন। এ হিসেবে মুসলমান- অমুসলমান নির্বিশেষে সারা বিশ্বের মানুষই মহানবীর উম্মতে দাওয়াত। আর এ দাওয়াত যারা গ্রহন করবে তাদেরকে শুধুমাত্র মুসলমানগণকে বলা হয় উম্মতে ইজাবত। প্রসিদ্ধ মতানুসারে আলোচ্য হাদিছে রাসুলের উম্মত বলতে তার উম্মতে ইজাবত বা মুসলমান বুঝানো হয়েছে। মুসলমানেরা ৭৩ দলে বিভক্ত হয়ে ৭২ দল জাহান্নামী আর একদল জান্নাতী হবে। এখানে আবার প্রশ্ন জাগে যে, হাদিছে আছে যে, যার অন্তরে সরিষার দানা পরিমান ইমান থাকবে সেও জান্নাতে যাবে। সুতরাং ৭২ দল মুসলমান জাহান্নামে যাওয়ার মর্ম কী? আর দ্বিতীয় হল সমস্ত মুসলমান তো একই আল্লাহ একই রাসূল, একাই ক্বোরআন এবং একই কালিমার সাথে এক কিবলায় বিশ্বাসী। তাহলে মুসলমানদের মধ্যে ৭৩ দল হবে কেন? এই সন্দেহের নিরসন হওয়া দরকার। প্রথম প্রশ্নের জবাব, জাহান্নামী ২ প্রকার। প্রথম প্রকার চিরস্থায়ী জাহান্নামী এবং তারা বেইমান কাফিরগণ, যারা ইসলামে অবিশ্বাসী। আর আলোচ্য হাদিসে ৭২ দলের মুসলমান কে এমন জাহান্নামী বল হয়নি। দ্বিতীয় প্রকার, ক্ষণস্থায়ী জাহান্নামী , যারা স্বীয় পাপের শাস্তি ভোগ করার জন্য প্রথমে জাহান্নামে যাবে। এরা একটা মেয়াদ অতিক্রম করার পর মুক্তি পেয়ে জান্নাতে চলে যাবে। এরা হচ্ছে, পাপাচারী মুসলমানগণ। মিরকাত শরহে মিশকাতঃ ১/১৭৫-৭৬ সুতরাং কোন মুসলমানই কাফিরদের মত চিরকাল জাহান্নামে থাকবে না, বরং এক সময় মুক্তি পেয়ে জান্নাতে যাবে। কিন্তু তাদের পাপের কারণে জাহান্নামে যাবে না, তা নয়। দ্বিতীয় প্রশ্নের জবাব, হাদিছে ইফতেরাকে উম্মত এ যেহেতু বলা হয়েছে উম্মাত ইজাবাত মুসলমানগণ ৭৩ দলে বিভক্ত হবে, তাই এদের সকল দলই এক আল্লাহ, এক ক্বোরআন এক কিবলা ইত্যাদিতে বিশ্বাসী হওয়াটাই স্বাভাবিক। কারণ, এগুলি বিশ্বাস না করলে তো মুসলমানই থাকবে না। হ্যাঁ, আসল প্রশ্ন হচ্ছে, মুসলমানদের কোন্ মতভেদটার কারণে এরা কাফিরও হয় না। আবার জাহান্নামী হয়। আর এমন মতভেদটা করবেই বা কেন? এ সম্পর্কে প্রথম কথা হল, কিছু আক্বীদা বা বিশ্বাস এমন এমন আছে, যেগুলি ছাড়া কোন মানুষ মুসলমনা হতে পারে না। যেমন- আল্লাহ কে বিশ্বাস করা, পবিত্র ক্বোরআনকে আল্রাহর নাযিলকৃত কিতাব বিশ্বাস করা ইত্যাদি। আর কিছু আক্বীদা বিশ্বাস আছে, এমন যেগুলি পোষন না করলে কোন মুসলমান আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত হতে পারে না। যেমন সমস্ত নবী রাসুলকে মাসুম এবং মহানবীর সমস্ত সাহাবাকে মাগফুর বলে বিশ্বাস করা। আরো অনেক উদাহরণ যেমন সাহাবাদের শ্রেষ্টত্ব নিয়ে। এ সমস্ত বিষয় বিশ্বাস না করলেও সে কাফির হবে না কিন্তু মুসলমান থাকবে। কিন্তু আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত হতে পারবে না। মোট কথা, মুল আক্বীদা ঠিক রেখে (যেমন আল্লাহকে বিশ্বাস করা ইত্যাদি) উপরোল্লেখিত বিষয়সমুহ বিশ্বাস না করে তাহলে সে জান্নাতী হবে কিন্তু জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করার পর।

ভ্রান্তপন্থী ৭২ দলের পরিচয় আমি পূর্বে যা আলোচনা করেছি, তাতে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত এর পরিচয়সহ সমূহ আলোচনা বলা হয়েছে। আলোচনার মুলে ছিল, যারা রাসুল সা. এর সুন্নাত এবং সাহাবাদের জামাতের আদর্শে অটল থাকবে তারাই উপেরাক্ত দলটি। আর এটাই রাসুল সা. কে সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করেছিলেন। বাকী যারা ভ্রান্ত মতবাদী ৭২ দলের কী পরিচয় তা জিজ্ঞেস করেনি। তাই হাদিসে "ইফতেরাকে উম্মাত" নামক হাদিসটির ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মুহাদ্দিস এবং মুফাস্সিরগণ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতকে সুষ্পষ্টরুপে এবং সন্দেহাতীতভাবে সকলের ঐকমত্য চিহ্নিত করেছেন। কিন্তু বাকি ৭২ দল ভ্রান্তপন্থীদের বেলায় এমনটা হয়নি, যার কারণে তাদের বিভিন্ন জন ৭২ দলের তফশীল বিভিন্নভাবে পেশ করেছেন। যেমন তাফসীরে কামালাইনে আলোচ্য আয়াতের ব্যাখ্যায় উল্লেখ আছে, ৭২টি ভ্রান্ত দলের মুল দল হচ্ছে ৬ টি। আর প্রতিটি মুল দলের উপদল হচ্ছে ১২টি। এভাবে তারা ৭২ দলে বিভক্ত হয়েছে। নিম্নে এর সংক্ষিপ্ত বিবরণ উল্লেখ করা হল। ভ্রান্ত দলের মুল ৬টি দল হল এইঃ- ১। রাফিযী ২। খারিজী ৩। জাবরিয়া ৪। ক্বাদরিয়া ৫। জাহমিয়া ৬। মুরজিয়া। এদের প্রত্যেকের উপদলগুলো হল এইঃ- (১)রাফিযী দলের উপদলগুলো ১। উলুভীয়া ২। আইদিয়া ৩। শিয়া ৪। ইসহাকিয়া ৫। যায়দিয়া ৬। আব্বাসিয়া ৭। ইমামিয়া ৮। তানাসুখিয়া ৯। নাদিসিয়া ১০। লাগিয়া ১১। ওয়াজিয়া ১২। ওয়াবিছিয়া। (২) খারিজী দলের উপদলগুলো হল এইঃ- ১। আযারিয়া ২। আবাখানিয়া ৩। তাগলিবিয়া ৪। হারিসিয়া ৫। খালাফিয়া ৬। কুযিয়া ৭। মু'তাযিলা ৮। মায়মুনিয়া ৯। কানযিয়া ১০। মাহকামিয়া ১১। উখতিয়া ১২। শারাফিয়া। (৩) জাবরিয়া দলের উপদলগুলো হল এইঃ- ১। মুসতাররিয়া ২। আফআলিয়া ৩। মায়িয়া ৪। মাগরুয়িয়া ৫। মাজাযিয়া ৬। মুতমাইন্নিয়া ৭। কাসালিয়া ৮। সাবেকিয়া ৯। হাবিবিয়া ১০। খাওফিয়া ১১। ফিকরিয়া ১২। হারিসিয়া। (৪) ক্বাদরিয়া দলের উপদলগুলো হল এইঃ- ১। আহমাদিয়া ২। সানবিয়া ৩। কাসানিয়া ৪। শয়তানিয়া ৫। শরিকিয়া ৬। ওয়াহমিয়া ৭। রুয়াইদিয়া ৮। নাকিশিয়া ৯। মুতাবাররিয়া ১০। ফাসেতিয়া ১১। নেযামিয়া ১২। মনযিলিয়া। (৫) জাহমিয়া দলের উপদল হল এইঃ- ১। মা'খলূকিয়া ২। গায়রিয়া ৩। ওয়াকিফিয়া ৪। খবরিয়া ৫। যানাদিকিয়া ৬। নাফতিয়া ৭। মুরাবিয়া ৮। মুতারাক্বিবিয়া। ৯। ওয়ারিদিয়া ১০। ফানিয়া ১১। হারক্বিয়া ১২। মুয়াত্তালিয়া (৬) মুরজিয়া দলের উপদলগুলো হল এইঃ- ১। তারেকিয়া ২। শানিয়া ৩। রাজিয়া ৪। শাকিয়া ৫। বাহমিয়া ৬। আমলিয়া ৭। মানকুসিয়া ৮। ছাতশানিয়া ৯। আশারিয়া ১০। বিদইয়া ১১। হাশওয়ায়িয়া ১২। মুশতাবিহিয়া। উপরোক্ত ৬টি মুল দলের আপন আপন উপদলগুলি নিয় ৭২ দলে বিভক্ত হয়ে নিজেদের যুগে বাতিল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। যদিও সাম্প্রতিককালে এইদলগুলির অধিকাংশের নামও অনেকের জানা নেই। আবার কেউ কেউ মূল দলের সংখ্যা ৬টার স্থলে ১২টি বলেছেন। এবং প্রতিটি মূল দলের ৬টি করে উপদল বলেছন। আবার মাওয়াক্বিফ নামক গ্রন্থের লেখক সেই কিতাবে ৭২ দলের বিভক্তির বিবরণটা সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে দিয়েছেন। সেই মুল দলের সংখ্যা ৮টা যথাঃ- ১। মু'তাযিলা , এর উপদল -------------------২০টি। ২। শিয়া, এর উপদল--------------------------২২টি। ৩। খারিজী, এর উপদল------------------------২০টি। ৪। মুরজিয়া, এর উপদল ----------------------০৫টি। ৫। নাজ্জারিয়া,এর উপদল-----------------------৩টি। ৬। বাবরিয়া, এর উপদল নেই ০১টি। ৭। মুশববিহা, এর উপদল নেই ০১টি। ৮। নাজিয়া, এর কোনউপদল নেই ০১টি। এরমধ্যে শেষেরটি "নাজিয়া"টাই হল আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত নামে পরিচিত। নাজিয়া অর্থ জাহান্নাম থেকে মুক্ত দল। শুধু এরাই সুন্নাতে রাসুল ও জামাতে সাহাবাকে আদর্শ মাপকাঠি মানার কারণে নাজিয়া বা জান্নাতী হিসেবে চিহ্নিত এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত নামে পরিচিত। মোটকথা, এই ভ্রান্তদলের কত যে দল-উপদল হতে পারে তার কোন হিসেব নাই। গনণা করলে কিন্তু তারা ৭২ দলেই সীমাবদ্ধ থাকবে। [b]উপরোক্তদলগুলো আক্বিদা-বিশ্বাস সমূহ [/b] ১। রাফিযী দলের মৌলিক বিশ্বাসঃ- ক) নামাযের জামাতের জন্য ইক্বামতকে সুন্নাত মনে করে না। খ) নামাযের জামাতকেও সুন্নাত মনে করে না। গ। চামড়ার মোজার উপর মাছেহ করা জায়েজ মনে করে না। ঘ) তারাবীর নামাযকে সুন্নাত মনে করে না। ঙ) নামাযে দাড়ানো অবস্থায় ডানহাত বামহাতের উপর রাখাকে সুন্নাত মনে করে না। চ) রোযার ইফতারকে সুন্নাত মনে করে না। ছ) মাগরীবের নামযের সময় হলে পরে তা অবিলম্বে পড়া সুন্নাত মনে করে না। জ) হযরত ফাতেমা রা.- হযরত আয়েশা রা.- এর চেয়ে শ্রেষ্ট মনে করেন। ঝ) শুধুমাত্র আলী রা. ছাড়া সমস্ত সাহাবা বিশেষতঃ হযরত আবু বকর রা. , হযরত উমর রা. , হযরত তালহা রা. , এবং হযরত যুবায়ের রা. এর প্রতি লা'নত বর্ষন করে। ঞ) একত্রে তিন তালাকের প্রয়োগ বিশ্বাস করে না। ট) আল্লাহর রহমতের আশা করে না। ২। খারিজী দলের মৌলিক বিশ্বাসঃ- ক) মুসলমান কোন প্রকার কবীরাহ গুনাহ করলেই কাফির হয়ে যায়। খ) বিনা শর্তেই অত্যাচারী সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা বৈধ। ঘ) সর্বপুরি এরা- আলী রা. এর প্রতি লা'নত বর্ষন করে। ৩। জাবরিয়া দলের মৌলিক বিশ্বাসঃ- ক) বান্দা পাথরের মত সম্পূর্ণ অক্ষম। তাই সে কোন পাপ-পূণ্য নিজের ক্ষমতায় করে না। খ) ধন-সম্পদ আল্লাহর প্রিয়বস্তু। গ) বান্দা কোন কাজের ইচ্ছা করার পর তাকে সামর্থ্য দান করেন। ৪। ক্বাদরিয়া দলের মৌলিক বিশ্বাসঃ- ক) বান্দাই তার সকল কাজে পূর্ণ ক্ষমতার অধিকারী। খ) কোন কাজ বান্দার কাছে ঈমান এবং আল্লাহর কাছে কুফুর হতে পারে। গ) আহদে মীসাক (অর্থাৎ আল্লাহর সাথে বান্দার আনুগত্যের ওয়াদার ঘটনা) অবাস্তব। ঘ) জানাজার নামায পড়া জরুরী নয়। ঙ) বান্দার কাজের আগে আল্লাহ তাকে সামর্থ্য দান করেন। চ) রাসূল সা. এর মেরাজ শুধু স্বপ্নযোগে হয়েছিল, স্বশরীরে নয়। ৫। জাহমিয়া দলের মৌলিক বিশ্বাসঃ- ক) ঈমানের সম্পর্ক শুধুমাত্র অন্তরের সাথে, মুখের সাথ মুটেও নয়। খ) হযরত মুসা আ. আল্লাহর সাথে আলাপ করেন নাই। তিনি কলীমুল্লাহ নন। গ) কবরের আযাব বলতে কিছু নাই। ঘ) কবরে প্রশ্নকারী মুনকার-নাকীর ফিরিশতা বলতে কেউ নাই। ঙ) মহানবীর হাউজে কাউছার বলতে কিছু নাই। চ) আজরাইল ফিরিশতা বলতে কেউ নাই বরং এসবই হচ্ছে কল্পনা-জল্পনা মাত্র। ছ) প্রাণীর আত্মা সরাসির আল্লাহই বধ করেন। ৬। মুরজিয়া দলের মৌলিক বিশ্বাসঃ- ক) হযরত আদম আ.কে আল্লাহ নিজের আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন। খ) আল্লাহর শরীর আছে। গ) আল্লাহর শরীরের অবস্থানের জন্য স্থানের দরকার। ঘ) ইমান ছাড়া যেমন নেক আমল কোন উপকারে আসবে না, তেমনি ভাবে গুনাহের কারণে ঈমানদারদের কোন শাস্তি হবে না। সুতরাং বান্দার জন্য শুধু ঈমান গ্রহণ করা ফরজ, কোন আমল করা ফরয নয়। ঙ) নারীদের উদাহরণ বাগানের ফুলের মত, যার ইচ্ছা হয় সেই ব্যবহার করবে। সুতরাং নারীদেরকে উপভোগ করার জন্য বিয়ের দরকার নেই। ইনশাআল্লাহ ঃ- চলবে পূ ভ্রান্তপন্থী ৭২ দলের পরিচয় আমি পূর্বে যা আলোচনা করেছি, তাতে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত এর পরিচয়সহ সমূহ আলোচনা বলা হয়েছে। আলোচনার মুলে ছিল, যারা রাসুল সা. এর সুন্নাত এবং সাহাবাদের জামাতের আদর্শে অটল থাকবে তারাই উপেরাক্ত দলটি। আর এটাই রাসুল সা. কে সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করেছিলেন। বাকী যারা ভ্রান্ত মতবাদী ৭২ দলের কী পরিচয় তা জিজ্ঞেস করেনি। তাই হাদিসে "ইফতেরাকে উম্মাত" নামক হাদিসটির ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মুহাদ্দিস এবং মুফাস্সিরগণ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতকে সুষ্পষ্টরুপে এবং সন্দেহাতীতভাবে সকলের ঐকমত্য চিহ্নিত করেছেন। কিন্তু বাকি ৭২ দল ভ্রান্তপন্থীদের বেলায় এমনটা হয়নি, যার কারণে তাদের বিভিন্ন জন ৭২ দলের তফশীল বিভিন্নভাবে পেশ করেছেন। যেমন তাফসীরে কামালাইনে আলোচ্য আয়াতের ব্যাখ্যায় উল্লেখ আছে, ৭২টি ভ্রান্ত দলের মুল দল হচ্ছে ৬ টি। আর প্রতিটি মুল দলের উপদল হচ্ছে ১২টি। এভাবে তারা ৭২ দলে বিভক্ত হয়েছে। নিম্নে এর সংক্ষিপ্ত বিবরণ উল্লেখ করা হল। ভ্রান্ত দলের মুল ৬টি দল হল এইঃ- ১। রাফিযী ২। খারিজী ৩। জাবরিয়া ৪। ক্বাদরিয়া ৫। জাহমিয়া ৬। মুরজিয়া। এদের প্রত্যেকের উপদলগুলো হল এইঃ- (১)রাফিযী দলের উপদলগুলো ১। উলুভীয়া ২। আইদিয়া ৩। শিয়া ৪। ইসহাকিয়া ৫। যায়দিয়া ৬। আব্বাসিয়া ৭। ইমামিয়া ৮। তানাসুখিয়া ৯। নাদিসিয়া ১০। লাগিয়া ১১। ওয়াজিয়া ১২। ওয়াবিছিয়া। (২) খারিজী দলের উপদলগুলো হল এইঃ- ১। আযারিয়া ২। আবাখানিয়া ৩। তাগলিবিয়া ৪। হারিসিয়া ৫। খালাফিয়া ৬। কুযিয়া ৭। মু'তাযিলা ৮। মায়মুনিয়া ৯। কানযিয়া ১০। মাহকামিয়া ১১। উখতিয়া ১২। শারাফিয়া। (৩) জাবরিয়া দলের উপদলগুলো হল এইঃ- ১। মুসতাররিয়া ২। আফআলিয়া ৩। মায়িয়া ৪। মাগরুয়িয়া ৫। মাজাযিয়া ৬। মুতমাইন্নিয়া ৭। কাসালিয়া ৮। সাবেকিয়া ৯। হাবিবিয়া ১০। খাওফিয়া ১১। ফিকরিয়া ১২। হারিসিয়া। (৪) ক্বাদরিয়া দলের উপদলগুলো হল এইঃ- ১। আহমাদিয়া ২। সানবিয়া ৩। কাসানিয়া ৪। শয়তানিয়া ৫। শরিকিয়া ৬। ওয়াহমিয়া ৭। রুয়াইদিয়া ৮। নাকিশিয়া ৯। মুতাবাররিয়া ১০। ফাসেতিয়া ১১। নেযামিয়া ১২। মনযিলিয়া। (৫) জাহমিয়া দলের উপদল হল এইঃ- ১। মা'খলূকিয়া ২। গায়রিয়া ৩। ওয়াকিফিয়া ৪। খবরিয়া ৫। যানাদিকিয়া ৬। নাফতিয়া ৭। মুরাবিয়া ৮। মুতারাক্বিবিয়া। ৯। ওয়ারিদিয়া ১০। ফানিয়া ১১। হারক্বিয়া ১২। মুয়াত্তালিয়া (৬) মুরজিয়া দলের উপদলগুলো হল এইঃ- ১। তারেকিয়া ২। শানিয়া ৩। রাজিয়া ৪। শাকিয়া ৫। বাহমিয়া ৬। আমলিয়া ৭। মানকুসিয়া ৮। ছাতশানিয়া ৯। আশারিয়া ১০। বিদইয়া ১১। হাশওয়ায়িয়া ১২। মুশতাবিহিয়া। উপরোক্ত ৬টি মুল দলের আপন আপন উপদলগুলি নিয় ৭২ দলে বিভক্ত হয়ে নিজেদের যুগে বাতিল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। যদিও সাম্প্রতিককালে এইদলগুলির অধিকাংশের নামও অনেকের জানা নেই। আবার কেউ কেউ মূল দলের সংখ্যা ৬টার স্থলে ১২টি বলেছেন। এবং প্রতিটি মূল দলের ৬টি করে উপদল বলেছন। আবার মাওয়াক্বিফ নামক গ্রন্থের লেখক সেই কিতাবে ৭২ দলের বিভক্তির বিবরণটা সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে দিয়েছেন। সেই মুল দলের সংখ্যা ৮টা যথাঃ- ১। মু'তাযিলা , এর উপদল -------------------২০টি। ২। শিয়া, এর উপদল--------------------------২২টি। ৩। খারিজী, এর উপদল------------------------২০টি। ৪। মুরজিয়া, এর উপদল ----------------------০৫টি। ৫। নাজ্জারিয়া,এর উপদল-----------------------৩টি। ৬। বাবরিয়া, এর উপদল নেই ০১টি। ৭। মুশববিহা, এর উপদল নেই ০১টি। ৮। নাজিয়া, এর কোনউপদল নেই ০১টি। এরমধ্যে শেষেরটি "নাজিয়া"টাই হল আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত নামে পরিচিত। নাজিয়া অর্থ জাহান্নাম থেকে মুক্ত দল। শুধু এরাই সুন্নাতে রাসুল ও জামাতে সাহাবাকে আদর্শ মাপকাঠি মানার কারণে নাজিয়া বা জান্নাতী হিসেবে চিহ্নিত এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত নামে পরিচিত। মোটকথা, এই ভ্রান্তদলের কত যে দল-উপদল হতে পারে তার কোন হিসেব নাই। গনণা করলে কিন্তু তারা ৭২ দলেই সীমাবদ্ধ থাকবে। [b]উপরোক্তদলগুলো আক্বিদা-বিশ্বাস সমূহ [/b] ১। রাফিযী দলের মৌলিক বিশ্বাসঃ- ক) নামাযের জামাতের জন্য ইক্বামতকে সুন্নাত মনে করে না। খ) নামাযের জামাতকেও সুন্নাত মনে করে না। গ। চামড়ার মোজার উপর মাছেহ করা জায়েজ মনে করে না। ঘ) তারাবীর নামাযকে সুন্নাত মনে করে না। ঙ) নামাযে দাড়ানো অবস্থায় ডানহাত বামহাতের উপর রাখাকে সুন্নাত মনে করে না। চ) রোযার ইফতারকে সুন্নাত মনে করে না। ছ) মাগরীবের নামযের সময় হলে পরে তা অবিলম্বে পড়া সুন্নাত মনে করে না। জ) হযরত ফাতেমা রা.- হযরত আয়েশা রা.- এর চেয়ে শ্রেষ্ট মনে করেন। ঝ) শুধুমাত্র আলী রা. ছাড়া সমস্ত সাহাবা বিশেষতঃ হযরত আবু বকর রা. , হযরত উমর রা. , হযরত তালহা রা. , এবং হযরত যুবায়ের রা. এর প্রতি লা'নত বর্ষন করে। ঞ) একত্রে তিন তালাকের প্রয়োগ বিশ্বাস করে না। ট) আল্লাহর রহমতের আশা করে না। ২। খারিজী দলের মৌলিক বিশ্বাসঃ- ক) মুসলমান কোন প্রকার কবীরাহ গুনাহ করলেই কাফির হয়ে যায়। খ) বিনা শর্তেই অত্যাচারী সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা বৈধ। ঘ) সর্বপুরি এরা- আলী রা. এর প্রতি লা'নত বর্ষন করে। ৩। জাবরিয়া দলের মৌলিক বিশ্বাসঃ- ক) বান্দা পাথরের মত সম্পূর্ণ অক্ষম। তাই সে কোন পাপ-পূণ্য নিজের ক্ষমতায় করে না। খ) ধন-সম্পদ আল্লাহর প্রিয়বস্তু। গ) বান্দা কোন কাজের ইচ্ছা করার পর তাকে সামর্থ্য দান করেন। ৪। ক্বাদরিয়া দলের মৌলিক বিশ্বাসঃ- ক) বান্দাই তার সকল কাজে পূর্ণ ক্ষমতার অধিকারী। খ) কোন কাজ বান্দার কাছে ঈমান এবং আল্লাহর কাছে কুফুর হতে পারে। গ) আহদে মীসাক (অর্থাৎ আল্লাহর সাথে বান্দার আনুগত্যের ওয়াদার ঘটনা) অবাস্তব। ঘ) জানাজার নামায পড়া জরুরী নয়। ঙ) বান্দার কাজের আগে আল্লাহ তাকে সামর্থ্য দান করেন। চ) রাসূল সা. এর মেরাজ শুধু স্বপ্নযোগে হয়েছিল, স্বশরীরে নয়। ৫। জাহমিয়া দলের মৌলিক বিশ্বাসঃ- ক) ঈমানের সম্পর্ক শুধুমাত্র অন্তরের সাথে, মুখের সাথ মুটেও নয়। খ) হযরত মুসা আ. আল্লাহর সাথে আলাপ করেন নাই। তিনি কলীমুল্লাহ নন। গ) কবরের আযাব বলতে কিছু নাই। ঘ) কবরে প্রশ্নকারী মুনকার-নাকীর ফিরিশতা বলতে কেউ নাই। ঙ) মহানবীর হাউজে কাউছার বলতে কিছু নাই। চ) আজরাইল ফিরিশতা বলতে কেউ নাই বরং এসবই হচ্ছে কল্পনা-জল্পনা মাত্র। ছ) প্রাণীর আত্মা সরাসির আল্লাহই বধ করেন। ৬। মুরজিয়া দলের মৌলিক বিশ্বাসঃ- ক) হযরত আদম আ.কে আল্লাহ নিজের আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন। খ) আল্লাহর শরীর আছে। গ) আল্লাহর শরীরের অবস্থানের জন্য স্থানের দরকার। ঘ) ইমান ছাড়া যেমন নেক আমল কোন উপকারে আসবে না, তেমনি ভাবে গুনাহের কারণে ঈমানদারদের কোন শাস্তি হবে না। সুতরাং বান্দার জন্য শুধু ঈমান গ্রহণ করা ফরজ, কোন আমল করা ফরয নয়। ঙ) নারীদের উদাহরণ বাগানের ফুলের মত, যার ইচ্ছা হয় সেই ব্যবহার করবে। সুতরাং নারীদেরকে উপভোগ করার জন্য বিয়ের দরকার নেই।

[সম্পাদনা] তথ্যসূত্র

  1. "আহল-ই-হাদিস" ভুক্তি, যার যা ধর্ম, মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান; ঐতিহ্য, বাংলাবাজার, ঢাকা থেকে প্রকাশিত; পৃ. ৭৯; ফেব্রুয়ারি ২০০৯ খ্রি.। পরিদর্শনের তারিখ: জুলাই ১৮, ২০১১ খ্রি.।
নিজস্ব হাতিয়ারসমূহ
নামস্থান

বিকল্পসমূহ
কার্যক্রম
পরিভ্রমন
মুদ্রণ/এক্সপোর্ট
সরঞ্জাম
অন্যান্য ভাষাসমূহ