আম্পায়ার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ক্রিকেট খেলা পরিচালনারত দুইজন আম্পায়ারের একজন

আম্পায়ার (ইংরেজি: Umpire) একজন বিচারক ও কর্তৃপক্ষ হিসেবে ক্রিকেটের নিয়ম-কানুনের যথাযথ প্রয়োগপূর্বক খেলা পরিচালনা করে থাকেন। ম্যাচ রেফারী মাঠের বাইরে অবস্থানকারী কর্মকর্তা হিসেবে থাকেন। তিনি বিচারকরূপে ক্রিকেট খেলায় যাবতীয় নিয়ম-কানুনের যথাযথ প্রয়োগ এবং আইসিসি প্রণীত আচরণবিধি অপব্যবহারে জরিমানা নির্ধারণ করেন। কিন্তু মাঠে অবস্থানকারী দুই জন আম্পায়ারই ক্রিকেট খেলা পরিচালনায় প্রধান ভূমিকা রাখেন। তবে, প্রয়োজনীয় ও নিখুঁত সিদ্ধান্ত প্রদানের জন্যে মাঠের বাইরে থার্ড আম্পায়ার অবস্থান করে তাঁকে কিংবা তাঁদেরকে সহায়তা করেন।

সহযোগীবৃন্দ[সম্পাদনা]

আম্পায়ারের হাত উঁচু ও অঙ্গুলী নির্দেশনার মাধ্যমে ব্যাটসম্যানকে আউটের সঙ্কেত প্রদান

খেলা চলাকালীন মাঠে দুইজন আম্পায়ার অবস্থান করে খেলা পরিচালনা করে থাকেন। বোলিংপ্রান্তে অবস্থানরত আম্পায়ার পরিচিতি পান ফিল্ড আম্পায়ার হিসেবে এবং বল মোকাবেলায় নিয়োজিত ব্যাটসম্যানের সমান্তরালে থাকেন স্কয়ার লেগ আম্পায়ার। সিদ্ধান্ত গ্রহণে অক্ষমতাজনিত কারণে কিংবা বিতর্কিত সিদ্ধান্ত যাঁচাইকল্পে সর্বোপরি এ দু'জন আম্পায়ারকে সহযোগীতার লক্ষ্যে মাঠের বাইরে একজন অতিরিক্ত আম্পায়ার থাকেন। তিনি ৩য় তৃতীয় আম্পায়ার বা থার্ড আম্পায়ার নামে পরিচিত। এছাড়াও, খেলায় বল সংরক্ষণ, সরবরাহ, পরিবর্তন, মাঠে দায়িত্বপালনরত আম্পায়ারদ্বয়ের জন্য ড্রিঙ্কস্‌, তাঁদের ভ্রমণের বন্দোবস্তসহ আহার-ভোজনের দায়িত্বে রয়েছেন ৪র্থ আম্পায়ার বা ফোর্থ আম্পায়ার

খেলা সঠিক ও সুচারুরূপে পরিচালনা সংক্রান্ত বিষয়াদি বিশেষতঃ আম্পায়ারগণের ভূমিকা নিয়ে বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদন প্রণয়নের দায়িত্বে থাকেন আইসিসি কর্তৃক মনোনীত একজন ম্যাচ রেফারি। অবশ্য তারা সকলেই আইসিসি'র সেরা আম্পায়ারের তালিকা থেকে মনোনীত হয়েই খেলা পরিচালনা করেন।

ভূমিকা[সম্পাদনা]

লিভার কাউন্টারের সাহায্যে আম্পায়ার ওভারের বল সংখ্যা গণনা করে থাকেন

বোলিং প্রান্তে আম্পায়ারদ্বয়ের মধ্যে একজন দণ্ডায়মান থেকে বোলারের হাতের কনুই বাঁকানো, নো-বল, ওয়াইড বল, আচার-আচরণ, আবেদন, ব্যাটসম্যানের কর্মকাণ্ড, ফিল্ডারদের অবস্থানসহ বহুবিধ বিষয় পর্যবেক্ষণ করে থাকেন। এছাড়াও, ফিল্ডিং-ব্যাটিং সাইড নির্ধারণে টস, আবহাওয়ার গতিবিধি লক্ষ্য করা, ব্যাটসম্যানকে আউটের সিদ্ধান্ত প্রদান, চার, ছয়, লেগ-বাই, ডেড-বল, নতুন বল মাঠে নামানো, পাওয়ার প্লে ইত্যাদি বহুবিধ বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হয়। অনেক সময় খেলোয়াড়দের টুপি, পোষাক, চশমা ইত্যাদি জিনিসপত্রাদিও সংরক্ষণ করেন। তিনি ওভারে বলের সংখ্যা গণনা করেন। একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বোলারের নির্দিষ্ট ওভার লিখে রাখাও তাঁর দায়িত্বের অন্যতম অংশ।

বল মোকাবেলায় নিয়োজিত ব্যাটসম্যানের সমান্তরালে অর্থাৎ স্ট্রাইকারস্‌ এ্যান্ড আম্পায়ার হিসেবে অন্য আম্পায়ার ব্যাটসম্যানের আউট হওয়া সংক্রান্ত বিষয়াদি পর্যবেক্ষণের জন্য সুবিধাজনক স্থানে অবস্থান নেন। এছাড়াও, তিনি মাঠে অবস্থানরত অন্যান্য বিষয় ও ঘটনাবলী নজর রাখেন। সচরাচর তিনি পপিং ক্রিজের কয়েক গজ দূরত্বে বিশেষতঃ লেগ সাইডে দণ্ডায়মান থাকেন। সেইসূত্রে তিনি স্কয়ার লেগ আম্পায়ার হিসেবে পরিচিত। ব্যাটসম্যানের অসুস্থতাজনিত কারণে রানারকে সহযোগিতা ও নজর রাখেন।

উভয় আম্পায়ারই খেলোয়াড় পরিবর্তনের লক্ষ্যে অতিরিক্ত খেলোয়াড় মাঠে নামানো, খেলা বন্ধের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আলোকস্বল্পতা, কুয়াশা, বৃষ্টি, দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া কিংবা অনুপযুক্ত পরিবেশের কথাও বিবেচনায় রাখেন।

রেকর্ড[সম্পাদনা]

টেস্ট ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সবচেয়ে বেশী টেস্ট ম্যাচ খেলায় আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালনের গৌরব অর্জন করেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্টিভ বাকনার। ১৭ অক্টোবর, ২০১২ সাল পর্যন্ত শীর্ষ ১০ জন টেস্ট আম্পায়ারের তালিকা নিম্নরূপ:[১] -

দল আম্পায়ার সময়কাল খেলার সংখ্যা
জামাইকা স্টিভ বাকনার ১৯৮৯-২০০৯ ১২৮
দক্ষিণ আফ্রিকা রুডি কোয়ের্টজেন ১৯৯২-২০১০ ১০৮
অস্ট্রেলিয়া ডেরিল হার্পার ১৯৯৮-২০১১ ৯৫
ইংল্যান্ড ডেভিড শেফার্ড ১৯৮৫-২০০৫ ৯২
অস্ট্রেলিয়া ড্যারেল হেয়ার ১৯৯২-২০০৮ ৭৮
পাকিস্তান আলীম দার ২০০৩-বর্তমান ৭৪
অস্ট্রেলিয়া সায়মন টাওফেল ২০০০-২০১২ ৭৪
ভারত শ্রীনিবাসরাঘবন ভেঙ্কটরাঘবন ১৯৯৩-২০০৪ ৭৩
নিউজিল্যান্ড বিলি বাউডেন ২০০০-বর্তমান ৭০
ইংল্যান্ড ডিকি বার্ড ১৯৭৩-১৯৯৬ ৬৬

ওয়ান-ডে ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সবচেয়ে বেশী ওয়ান-ডে ক্রিকেট খেলায় আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালনের গৌরব অর্জন করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার রুডি কোয়ের্টজেন। ১৭ অক্টোবর, ২০১২ সাল পর্যন্ত শীর্ষ ১০ জন ওয়ান-ডে ক্রিকেট আম্পায়ারের তালিকা নিম্নরূপ:[২] -

দল আম্পায়ার সময়কাল খেলার সংখ্যা
দক্ষিণ আফ্রিকা রুডি কোয়ের্টজেন ১৯৯২-২০১০ ২০৯
জামাইকা স্টিভ বাকনার ১৯৮৯-২০০৯ ১৮১
অস্ট্রেলিয়া ড্যারিল হার্পার ১৯৯৪-২০১১ ১৭৪
অস্ট্রেলিয়া সায়মন টাওফেল ১৯৯৯-২০১২ ১৭৪
নিউজিল্যান্ড বিলি বাউডেন ১৯৯৫-বর্তমান ১৭৩
ইংল্যান্ড ডেভিড শেফার্ড ১৯৮৩-২০০৫ ১৭২
পাকিস্তান আলীম দার ২০০০-বর্তমান ১৫১
অস্ট্রেলিয়া ড্যারেল হেয়ার ১৯৯১-২০০৮ ১৩৯
জিম্বাবুয়ে রাসেল টিফিন ১৯৯২-বর্তমান ১২৬
শ্রীলঙ্কা অশোকা ডি সিলভা ১৯৯৯-বর্তমান ১২২

টি-২০ ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সবচেয়ে বেশী টি-২০ ক্রিকেট খেলায় আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালনের গৌরব অর্জন করেছেন অস্ট্রেলিয়ার সায়মন টাওফেল। ১৭ অক্টোবর, ২০১২ সাল পর্যন্ত শীর্ষ ১০ জন টি-২০ ক্রিকেট আম্পায়ারের তালিকা নিম্নরূপ:[৩] -

দল আম্পায়ার সময়কাল খেলার সংখ্যা
অস্ট্রেলিয়া সায়মন টাওফেল ২০০৭-২০১২ ৩৪
পাকিস্তান আলীম দার ২০০৯-বর্তমান ২৬
পাকিস্তান আসাদ রউফ ২০০৭-বর্তমান ২৩
ইংল্যান্ড ইয়ান গোল্ড ২০০৬-বর্তমান ২০
নিউজিল্যান্ড বিলি বাউডেন ২০০৫-বর্তমান ১৯
ইংল্যান্ড মার্ক বেনসন ২০০৭-২০০৯ ১৯
অস্ট্রেলিয়া স্টিভ ডেভিস ২০০৭-বর্তমান ১৯
ডোমিনিকা বিলি ডকট্রোভ ২০০৭-বর্তমান ১৭
নিউজিল্যান্ড এএল হিল ২০০৫-বর্তমান ১৭
ইংল্যান্ড নাইজেল লং ২০০৫-বর্তমান ১৭

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Most matches as an umpire: Test"Cricinfo। সংগৃহীত February 5, 2012 
  2. "Most matches as an umpire: ODI"Cricinfo। সংগৃহীত February 5, 2012 
  3. "Most matches as an umpire: T20I"Cricinfo। সংগৃহীত February 5, 2012 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]