আইসিসি’র সেরা আম্পায়ার তালিকা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সাবেক প্যানেল সদস্য স্টিভ বাকনর অ্যাডিলেইডে অনুষ্ঠিত ২০০৬ সালের অ্যাশেজ টেস্টে আম্পায়ারিত্ব করেন।

আইসিসি’র সেরা আম্পায়ার তালিকায় (ইংরেজি: Elite Panel of ICC Umpires) আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল বিশ্বের সেরা আম্পায়ারদেরকে নিযুক্ত করে থাকে। আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বব্যাপী টেস্ট ক্রিকেট এবং একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনার স্বার্থেই আইসিসি আম্পায়ারদের এ তালিকা প্রণয়ন করে থাকে।

এপ্রিল, ২০০২ সালে এ তালিকা সর্বপ্রথম তৈরী করা হয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পুণঃগঠনের অংশ হিসেবে আইসিসি এ সিদ্ধান্ত নেয়। এর প্রধান পরিবর্তন ছিল টেস্ট ক্রিকেট খেলায় দু'জন আম্পায়ারের উভয়েই এবং একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একজন নিরপেক্ষ আম্পায়ার থাকবেন। ২০০২ সালের পূর্বে একজন আম্পায়ার নিরপেক্ষ দেশের ছিলেন। কিন্তু একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দু'জন আম্পায়ারই স্বাগতিক দেশের ছিল।

সেরা আম্পায়ার তালিকায় পূর্ণ সদস্যভূক্ত দেশসমূহ থেকে একজন ব্যক্তিকে আইসিসি মনোনীত করে থাকে। এ প্রেক্ষিতে আইসিসি আশাবাদী যে, আম্পায়ারিংয়ের মান সর্বোচ্চ মানদণ্ডে উপনীত হবে। প্রত্যেক বছর প্রণীত তালিকা থেকে আম্পায়ারগণ ১০টি টেস্ট এবং ১৫টি একদিনের আন্তর্জাতিক খেলায় আম্পায়ারিত্ব করবেন।[১]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

আটজন সদস্য নিয়ে ২০০২ সালে আইসিসি সেরা আম্পায়ার তালিকায় ৮জন সদস্য নিয়ে তৈরী করা হয়েছিল।[২] পিটার উইলিকে এ তালিকায় অংশগ্রহণের জন্যে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তিনি এ সুযোগ হাতছাড়া করেন। এর প্রধান কারণ ছিল তাঁকে অনেকদিনের জন্যে দেশের বাইরে অবস্থান করতে হবে এবং পরিবারকে সময় দিতে পারবেন না।[৩] প্রকৃত তালিকার সর্বশেষ সদস্য ২০১১ সালে চলে যান।

আইসিসি’র সেরা আম্পায়ার তালিকাভূক্ত সদস্যদেরকে নিজ দেশের একদিনের আন্তর্জাতিকে আম্পায়ারিত্ব করতে হয়। অনেক সময় আইসিসি থেকে ক্রিকেট ক্যালেন্ডারের ব্যস্ততম সময়ে টেস্ট এবং ওডিআইয়ে নিরপেক্ষভাবে পরিচালনার জন্যে দায়িত্ব দেয়া হয়।[১] সবচেয়ে ভাল মান ও দক্ষতা প্রদর্শনে বিবেচিত আম্পায়ারকে পরবর্তীতে সেরা আম্পায়ার তালিকায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে উত্তরণ ঘটানো হয়।

এমিরেটস এয়ারলাইন্সের সৌজন্যে এ তালিকা পরিচালিত হয়। এরফলে যখনই খেলা পরিচালনা করেন তখনই আম্পায়ারদেরকে 'ফ্লাই এমিরেটস' মুদ্রিত লেখা শার্টকোর্ট পরিধান করতে হয়।[৪]

বর্তমান সদস্যবৃন্দ[সম্পাদনা]

বর্তমান সদস্যবৃন্দরূপে সেরা আম্পায়ার তালিকাটি ১০ নভেম্বর, ২০১২ তারিখে প্রণয়ন করা হয়েছে:

আম্পায়ার জন্ম তারিখ বয়স (৬ ডিসেম্বর ২০১৪) মনোনয়নের সাল টেস্ট একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট টি২০ দেশ
রিচার্ড ইলিংওয়ার্থ ২৩ আগস্ট, ১৯৬৩ 7001510000000000000৫১ বছর, 7002105000000000000১০৫ দিন ২০১৩ ১৬ ইংল্যান্ড ইংল্যান্ড
ব্রুস অক্সেনফোর্ড ৫ মার্চ, ১৯৬০ 7001540000000000000৫৪ বছর, 7002276000000000000২৭৬ দিন ২০১২ ৩৯ ১২ অস্ট্রেলিয়া অস্ট্রেলিয়া
আলীম দার ৬ জুন, ১৯৬৮ 7001460000000000000৪৬ বছর, 7002183000000000000১৮৩ দিন ২০০৪ ৭৪ ১৫০ ১৮ পাকিস্তান পাকিস্তান
স্টিভ ডেভিস ৯ এপ্রিল, ১৯৫২ 7001620000000000000৬২ বছর, 7002241000000000000২৪১ দিন ২০০৮ ৩৬ ১১১ ১৪ অস্ট্রেলিয়া অস্ট্রেলিয়া
ইয়ান গোল্ড ১৯ আগস্ট, ১৯৫৭ 7001570000000000000৫৭ বছর, 7002109000000000000১০৯ দিন ২০০৯ ২৭ ৭২ ১৫ ইংল্যান্ড ইংল্যান্ড
টনি হিল ২৬ জুন, ১৯৫১ 7001630000000000000৬৩ বছর, 7002163000000000000১৬৩ দিন ২০০৯ ৩১ ৯৩ ১৭ নিউজিল্যান্ড নিউজিল্যান্ড
মারাইজ ইরাসমাস ২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৪ 7001500000000000000৫০ বছর, 7002282000000000000২৮২ দিন ২০১০ ১২ ৪১ ১৩ দক্ষিণ আফ্রিকা দক্ষিণ আফ্রিকা
রড টাকার ২৮ আগস্ট, ১৯৬৪ 7001500000000000000৫০ বছর, 7002100000000000000১০০ দিন ২০১০ ১৯ ২৬ ১৮ অস্ট্রেলিয়া অস্ট্রেলিয়া
কুমার ধর্মসেনা ২৪ এপ্রিল, ১৯৭১ 7001430000000000000৪৩ বছর, 7002226000000000000২২৬ দিন ২০১১ ৩৫ শ্রীলঙ্কা শ্রীলঙ্কা
রিচার্ড কেটেলবরা ১৫ মার্চ, ১৯৭৩ 7001410000000000000৪১ বছর, 7002266000000000000২৬৬ দিন ২০১১ ১৮ ইংল্যান্ড ইংল্যান্ড
নাইজেল লং ১১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ 7001450000000000000৪৫ বছর, 7002298000000000000২৯৮ দিন ২০১২ ১৯ ১০ ইংল্যান্ড ইংল্যান্ড
পল রেইফেল ১৯ এপ্রিল, ১৯৬৬ 7001480000000000000৪৮ বছর, 7002231000000000000২৩১ দিন ২০১৩ ৩০ অস্ট্রেলিয়া অস্ট্রেলিয়া

সাবেক সদস্যবৃন্দ[সম্পাদনা]

২০০৪ সালে প্রথমবারের মতো তালিকা থেকে অবসরজনিত কারণে শ্রীনিবাসরাঘবন ভেঙ্কটরাঘবন চলে যান।[৫] অশোকা ডি সিলভা, ডেভ অর্চার্ড এবং রাসেল টিফিন তাদের চুক্তিনামা নবায়ণ করেননি।[৬] ২০০৫ সালে ডেভিড শেফার্ড ২২ বৎসর আম্পায়ারিত্ব করার পর অবসর নেন।[৭] ড্যারেল হেয়ার ২০০৩ সালে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলেও ২০০৬ সালের আগস্টে বল টেম্পারিংজনিত বিতর্কের কারণে নিষিদ্ধ ঘোষিত হন।[৮] মার্চ, ২০০৮ সালে সহযোগী সদস্যদের দাবীতে তাঁকে পুণরায় আম্পায়ারের দায়িত্বভার অর্পণ করা হয়।[৯] কিন্তু আগস্টে তিনি দুইটি টেস্ট খেলা পরিচালনার পর তাঁর পদত্যাগপত্র প্রদান করেন।[১০]

২০০৯ সালে অন্যতম সফল আম্পায়ার স্টিভ বাকনর অবসর গ্রহণ করেন। তিনি মার্চ, ১৯৮৯ থেকে ১২৮টি টেস্ট পরিচালনা করেন।[১১] রুডি কোয়ের্টজেন ২০১০ সালে অবসর নেন।[১২] কিন্তু মার্ক বেনসন ২০০৬ সালে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলেও অভ্যন্তরীণ ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন করেন।[১৩] ২০০৮ সালে অশোকা ডি সিলভা তালিকায় পুণরায় যোগদান করলে ২০১১ সালে ড্যারিল হার্পারের সাথে বাদ পড়েন।[১৪] ২০১২ সালে বিলি ডকট্রোভ অবসর নেন।[১৫]

সেরা আম্পায়ার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত সাবেক আম্পায়ারগণ একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট এবং টুয়েন্টি২০ আন্তর্জাতিক খেলায় আম্পায়ারিত্ব করছেন। ৭ জুন, ২০১২ পর্যন্ত তাদের পরিসংখ্যান নিম্নরূপ:-

  • dagger প্রকৃত প্যানেল সদস্য
আম্পায়ার জন্মতারিখ যোগদান অবসর টেস্ট একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট টি২০ ইন্টারন্যাশনাল দেশ
স্টিভ বাকনর dagger ৩১ মে, ১৯৪৬ ২০০২ ২০০৯ ১২৮ ১৮১ জামাইকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ (জ্যামাইকা)
অশোকা ডি সিলভা^ dagger ২৮ মার্চ, ১৯৫৬ ২০০২ ২০১১ ৪৯ ১২১ ১১ শ্রীলঙ্কা শ্রীলঙ্কা
বিলি ডকট্রোভ ৩ জুলাই, ১৯৫৫ ২০০৬ ২০১২ ৩৮ ১১২ ১৭ ডোমিনিকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ (ডোমিনিকা)
ড্যারিল হার্পার dagger ২৩ অক্টোবর, ১৯৫১ ২০০২ ২০১১ ৯৪ ১৭৪ ১০ অস্ট্রেলিয়া অস্ট্রেলিয়া
রুডি কোয়ের্টজেন dagger ২৬ মার্চ, ১৯৪৯ ২০০২ ২০১০ ১০৮ ২০৬ ১৪ দক্ষিণ আফ্রিকা দক্ষিণ আফ্রিকা
ডেভিড অর্চার্ড dagger ২৪ জুন, ১৯৪৮ ২০০২ ২০০৪ ৪৪ ১০৭ দক্ষিণ আফ্রিকা দক্ষিণ আফ্রিকা
ডেভিড শেফার্ড dagger ২৭ ডিসেম্বর, ১৯৪০ ২০০২ ২০০৫ ৯২ ১৭২ ইংল্যান্ড ইংল্যান্ড
রাসেল টিফিন dagger ৪ জুন, ১৯৫৯ ২০০২ ২০০৪ ৪৪ ১২৬ জিম্বাবুয়ে জিম্বাবুয়ে
শ্রীনিবাসরাঘবন ভেঙ্কটরাঘবন dagger ২১ এপ্রিল, ১৯৪৫ ২০০২ ২০০৪ ৭৩ ৫২ ভারত ভারত
ড্যারেল হেয়ার ৩০ সেপ্টেম্বর, ১৯৫২ ২০০৩ ২০০৮ ৭৮ ১৩৫ অস্ট্রেলিয়া অস্ট্রেলিয়া
মার্ক বেনসন ৬ জুলাই, ১৯৫৮ ২০০৬ ২০১০ ২৭ ৭২ ১৯ ইংল্যান্ড ইংল্যান্ড
সাইমন টাওফেল ২১ জানুয়ারি, ১৯৭১ ২০০৩ ২০১২ ৭৪ ১৭৪ ৩৪ অস্ট্রেলিয়া অস্ট্রেলিয়া
বিলি বাউডেন ১১ এপ্রিল, ১৯৬৩ 7001510000000000000৫১ বছর, 7002239000000000000২৩৯ দিন ২০০৩ ৭০ ১৭০ ১৯ নিউজিল্যান্ড নিউজিল্যান্ড
আসাদ রউফ ১২ মে, ১৯৫৬ 7001580000000000000৫৮ বছর, 7002208000000000000২০৮ দিন ২০০৬ ৪৩ ৯৫ ১৭ পাকিস্তান পাকিস্তান

^ডি সিলভা এ তালিকায় ২০০৪ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত অনুপস্থিত ছিলেন।

পরিসংখ্যান[সম্পাদনা]

সর্বাধিক টেস্ট ক্রিকেট আম্পায়ার (৭ জুন, ২০১২ পর্যন্ত)
[১৬]
আম্পাযারের নাম সময়কাল খেলার সংখ্যা
জামাইকা স্টিভ বাকনর ১৯৮৯-২০০৯ ১২৮
দক্ষিণ আফ্রিকা রুডি কোয়ের্টজেন ১৯৯২-২০১০ ১০৮
অস্ট্রেলিয়া ড্যারিল হার্পার ১৯৯৮-২০১১ ৯৫
ইংল্যান্ড ডেভিড শেফার্ড ১৯৮৫-২০০৫ ৯২
অস্ট্রেলিয়া ড্যারেল হেয়ার ১৯৯২-২০০৮ ৭৮
সর্বাধিক একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আম্পায়ার (৭ জুন, ২০১২ পর্যন্ত)
[১৭]
আম্পাযারের নাম সময়কাল খেলার সংখ্যা
দক্ষিণ আফ্রিকা রুডি কোয়ের্টজেন ১৯৯২-২০১০ ২০৯
জামাইকা স্টিভ বাকনর ১৯৮৯-২০০৯ ১৮১
অস্ট্রেলিয়া ড্যারিল হার্পার ১৯৯৪-২০১১ ১৭৪
অস্ট্রেলিয়া সাইমন টাওফেল ১৯৯২-২০১২ ১৭৪
ইংল্যান্ড ডেভিড শেফার্ড ১৯৮৩-২০০৫ ১৭২
সর্বাধিক টুয়েন্টি২০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আম্পায়ার (৭ জুন, ২০১২ পর্যন্ত)
[১৮]
আম্পাযারের নাম সময়কাল খেলার সংখ্যা
অস্ট্রেলিয়া সাইমন টাওফেল ২০০৭-২০১২ ৩৪
ইংল্যান্ড মার্ক বেনসন ২০০৭-২০০৯ ১৯
নিউজিল্যান্ড বিলি বাউডেন ২০০৫-বর্তমান ১৯
পাকিস্তান আলীম দার ২০০৯-বর্তমান ১৮
ডোমিনিকা বিলি ডকট্রোভ ২০০৭-২০১২ ১৭
নিউজিল্যান্ড টনি হিল ২০০৫-বর্তমান ১৭
পাকিস্তান আসাদ রউফ ২০০৭-২০১২ ১৭

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]