চশমা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
A modern pair of prescription reading glasses
French Empire gilt scissors glasses c. 1805 (with one lens missing)

চশমা মানুষের চোখের রক্ষাকবচ হিসেবে ব্যবহিত যেটি চোখের সংবেদনশীল অংশকে রক্ষা করে যেকোনো ধরনের অনিষ্ট থেকে।[১] সাধারণত কাঁচ দিয়ে তৈরি করা হয় এবং সেটা নাকের উপর এবং দুই কানের সাথে লাগানো থাকে।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

চশমার ইতিহাস অনেক প্রাচীন। সেই প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতার চিত্রিত প্রমাণ হায়ারোগ্লিফিকসে মানুষের চশমার ব্যবহার আবিষ্কার করেছেন ইতিহাসবিদেরা। সাধারণত কোনো জিনিসকে পরিষ্কার দেখার জন্য ওই সময় বিভিন্ন ধরনের কাচের প্রচলন ছিল। খ্রিষ্টপূর্ব প্রথম শতকে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা দূর করার জন্য চোখে কাচের ব্যবহারের লিখিত প্রমাণ রয়েছে। রোমান সম্রাট নিরোর একজন শিক্ষক ওই সময়ের বিভিন্ন বিষয়ের বর্ণনার সঙ্গে দূরের জিনিস পরিষ্কারভাবে দেখার জন্য জলমিশ্রিত এক ধরনের কাচ চোখে লাগানোর কথা বলেছেন। রোমান গ্ল্যাডিয়েটরসদের লড়াই উপভোগ করতে গিয়ে নিজের আসনে বসে রোমান সম্রাট নিরো বিশেষ কাচ চোখে লাগাতেন।[১]

সত্যিকারের চশমা বলতে যা বোঝায়, তা প্রথম প্রচলিত হয় ইতালিতে দ্বাদশ খ্রিষ্টাব্দের দিকে। ওই সময় চোখে আতশী কাচ লাগিয়ে ছোট জিনিসকে দৃষ্টিসীমায় নিয়ে আসার জন্য চোখে চশমা ব্যবহার করার নজির রয়েছে ইতিহাসে। ১২৮৬ সালের দিকে ইতালিতে প্রথম চশমা তৈরি হয়েছিল। জিওর্দানো দা পিসা নামের এক ব্যক্তি প্রথমবারের মতো চশমা তৈরি করেছিলেন। দা পিসার তৈরি চশমার উদ্দেশ্য ছিল দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতার প্রতিকার।[১]

উদ্ভাবন[সম্পাদনা]

আধুনিক চশমার উদ্ভাবক হিসেবে অভিহিত করা যেতে পারে গিরোলামো সাভোনারোলা নামের এক ইতালীয়কে। তিনি ১৭২৭ সালে বর্তমান সময়ের চশমার প্রাথমিক নকশাটি তৈরি করেন। তার আগে দুই চোখের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা এড়াতে চোখের সামনে কাচ ধরা হতো। সাভেনারোলার নকশাটিকে স্থির রেখে এরপর চশমার নকশা নিয়ে নানা রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়। ধীরে ধীরে এটি পায় আধুনিক চেহারা। [১]

গ্যালারি[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ ১.২ ১.৩ চশমার জন্মকথা, নাইর ইকবাল, দৈনিক প্রথম আলো। ঢাকা থেকে প্রকাশের তারিখ: ২৯-০৩-২০১৩ খ্রিস্টাব্দ।

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]