মনোহর হার্দিকর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(Manohar Hardikar থেকে পুনর্নির্দেশিত)
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
মনোহর হার্দিকর
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামমনোহর শঙ্কর হার্দিকর
জন্ম৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৬
বরোদরা, ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৫
বোম্বে, ভারত
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি অফ ব্রেক, ডানহাতি মিডিয়াম পেস
ভূমিকাঅল-রাউন্ডার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৮৫)
২৮ নভেম্বর ১৯৫৮ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
শেষ টেস্ট১২ ডিসেম্বর ১৯৫৮ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৭৪
রানের সংখ্যা ৫৬ ২,৫৯২
ব্যাটিং গড় ১৮.৬৭ ৪৫.৪৬
১০০/৫০ ০/০ ৮/২০
সর্বোচ্চ রান ৩২* ২০৭*
বল করেছে ১০৮ ৫৯১৬
উইকেট ৭৪
বোলিং গড় ৫৫.০০ ৩১.৬৬
ইনিংসে ৫ উইকেট -
ম্যাচে ১০ উইকেট -
সেরা বোলিং ১/৯ ৮/৩৯
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৪৯
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১৯ মে ২০২০

মনোহর শঙ্কর হার্দিকর (এই শব্দ সম্পর্কেউচ্চারণ ; মারাঠি: मनोहर हर्डीकर; জন্ম: ৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৬ - মৃত্যু: ৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৫) তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বরোদরা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ভারতীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন। ভারত ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৫৮ সালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে মুম্বই দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ ব্রেক কিংবা মিডিয়াম পেস বোলিংয়ে অগ্রসর হতে মনোহর হার্দিকর

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৫৪-৫৫ মৌসুম থেকে ১৯৬৭-৬৮ মৌসুম পর্যন্ত মনোহর হার্দিকরের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। সবটুকু সময়ই বোম্বে দলের পক্ষে খেলেন। মাত্র ১৮ বছর বয়সে ১৯৫৫-৫৬ মৌসুমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ধীরগতিসম্পন্ন বোলিং থেকে শুরু করে মিডিয়াম-পেস বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। অভিষেকের প্রথম বছরেই রঞ্জী ট্রফি প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত খেলায় বাংলা দলের বিপক্ষে ৮/৩৯ পান। এটিই তার সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে সেরা বোলিং পরিসংখ্যান ছিল।

আটটি শতরানের ইনিংস রয়েছে তার। ১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে সার্ভিসেস দলের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ অপরাজিত ২০৭ রান তুলেন। সব মিলিয়ে ১৪ মৌসুম খেলেন। তন্মধ্যে, শেষ দুই মৌসুম বোম্বে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সর্বমোট বারো খেলায় বোম্বে দলকে নেতৃত্ব দেন। পাঁচটি জয়ের পাশাপাশি বাদ-বাকী খেলাগুলো ড্রয়ে পরিণত হয়েছিল। তার অধিনায়কত্বে বোম্বে দল ১৯৬৫-৬৬ ও ১৯৬৭-৬৮ মৌসুমে শিরোপা জয় করেছিল।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে দুইটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন মনোহর হার্দিকর। সবগুলো টেস্টই ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিপক্ষে খেলেছিলেন তিনি। ২৮ নভেম্বর, ১৯৫৮ তারিখে মুম্বইয়ে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। এরপর, ১২ ডিসেম্বর, ১৯৫৮ তারিখে কানপুরে একই দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

১৯৫৮-৫৯ মৌসুমে মনোহর হার্দিকর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই টেস্টে ভারতের সদস্যরূপে অংশ নেন। তবে, প্রথম বলেই রয় গিলক্রিস্টের শিকারে পরিণত হতে হয়। তবে, বল হাতে নিয়ে নিজস্ব তৃতীয় বলে রোহন কানহাইকে এলবিডব্লিউ’র মাধ্যমে বিদেয় করেন। এরপর, দ্বিতীয় ইনিংসে অপরাজিত ৩২ রান তুলে দলের বিপর্যয় রোধ করেন। এ পর্যায়ে জি.এস. রামচাঁদের সাথে নিরবিচ্ছিন্নভাবে ৮৫ রান যুক্ত করে নিশ্চিত পরাজয়বরণ করা থেকে ভারতকে রক্ষা করেন। পরের টেস্টে একটি বিমার মাথায় আঘাত করে চারে পরিণত হয়।[১]

অবসর[সম্পাদনা]

কানপুরে অনুষ্ঠিত পরের টেস্টে বল তার মাথায় আঘাত হানে। এরফলে, তার আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরে। এরপর তিনি আর কোন আন্তর্জাতিক খেলায় অংশগ্রহণ করেননি। তবে, অনাকাঙ্খিত বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। এরফলে, সিরিজের পর পলি উমরিগড়কে অধিনায়কের দায়িত্ব ছেড়ে দিতে হয়েছিল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে চলে আসার পরও বোম্বে দলে কার্যকর অল-রাউন্ডার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৫ তারিখে ৫৮ বছর বয়সে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে বোম্বে এলাকায় মনোহর হার্দিকরের দেহাবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Makarand Waingankar (১০ মে ২০১২)। "Mumbai cricket's all-time khadoos"। The Times of India। সংগ্রহের তারিখ ৪ ডিসেম্বর ২০১৪ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]