মরুভূমি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(Desert থেকে পুনর্নির্দেশিত)
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
আতাকামা মরুভূমি উত্তর চিলিতে অবস্থিত। এখানে একশ বছরে গড়ে তিন থেকে চার বার বৃষ্টিপাত হয়। ফলে আতাকামা মরুভূমি বিশ্বের শুষ্কতম অঞ্চলগুলির একটি।

মরুভূমি শব্দটার সাথে যেন মিশে আছে বালুময় জনমানবহীন এক বিস্তীর্ণ প্রান্তরের ছবি । কিন্তু মরুভূমি  শুধু বালুময় নয়, হতে পারে বরফে ভরা, পাথর বা নুড়ি পাথরে ভরা বিস্তীর্ণ কোন এক এলাকা। মূলত ৫ শতাংশের কম জীববৈচিত্র্য কোন অঞ্চলে থাকলে তাকে মরুভূমি বলা হয়। সে হিসেবে মরুভূমির মধ্যে পড়ে আফ্রিকার সাহারা মরুভূমি, এন্টার্টিকার বিস্তীর্ণ বরফঅঞ্চল আর বলিভিয়ার সালার দে উয়ুনি, যেটা কিনা পৃথিবীর বৃহত্তম লবণ মরুভূমি।মরুভূমির পরিবেশ দিনে সাধারণত গরম এবং শুষ্ক থাকে। তবে ঠাণ্ডা, রুক্ষ আর লবণাক্ত কোন বিশালাকার এলাকাকেও মরুভূমিই বলা হয়ে থাকে। মরুভূমির এতো রকমভেদ থাকলেও সব মরুভূমির ক্ষেত্রেই জিনিস একই, সেটি হচ্ছে মরুভূমিতে প্রাণী বা উদ্ভিদের বেঁচে থাকা বা অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা খুবই কষ্টের। কিন্তু তারপরও এখানে বৈচিত্র্যময় এক জীববৈচিত্র্য গড়ে উঠে যেখানে গিরগিটি থেকে শুরু করে মানুষ, গাছপালাসহ প্রায় সবই থাকে।পৃথিবীর প্রায় ৩০মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার অঞ্চল মরুভূমি, যেখানে অসংখ্য প্রাণী ঘুরে বেড়ায় আর বেঁচে থাকে। কিছু কিছু মরুভূমিতে গাছ জন্মায়, মরূদ্যান গড়ে উঠে।

আবার অনেক মরুভূমিতে মানুষ ঘরবাড়ি বানিয়েছে, এমনকি লোকালয়ও গড়ে তুলেছে। মরুভূমিতে ঘুরলে দেখা মিলবে গিরগিটি, সাপ, উট, হাতি, মাছ, গাধা আর মানুষের। এদের কাছে মরুভূমি কোন রুক্ষ বা কর্কশ জায়গা নয়, বরং এটা তাদের আবাসস্থল।মরুভূমি বসবাসের জন্য অত্যন্ত অনুপয়োগী। মরুভূমির দিন ও রাতের তাপমাত্রার মধ্যে পার্থক্য খুব বেশি হয়। দিনে তাপমাত্রা অনেক বৃদ্ধি পায় রাতে সেই তাপমাত্রা আবার অনেক কমে যায়। ।একসময় মরুভূমিগুলো বড় বড় পাথরে অস্তিত্ব ছিল। দিন ও রাতের মধ্যে তাপমাত্রার এই ব্যাপক তারতম্যের ফলে এসব পাথর প্রতিদিনই সংকোচন ও প্রসারিত হতে থাকে এবং গায়ে ফাটল দেখা দেয়। লক্ষ লক্ষ বছর ধরে এই প্রক্রিয়া চলতে থাকলে বৃহৎ পাথরখন্ডগুলো ক্রমেই ভেঙে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত হয়ে বালুকণার আকার ধারণ করে। সাহারা মরুভূমি হল পৃথিবীর বৃহত্তম মরু এলাকা। মরুভূমিতে মরীচিকা দেখা যায় যা পর্যটকদের প্রায়শই বিভ্রান্তের মধ্যে ফে‌লে।মরুভূমির আবহাওয়া অত্যন্ত রূক্ষ হওয়ায় এখানে স্বাভাবিক গাছপালার অস্তিত্ব নেই। খরা সহিষ্ণু কিছু কাঁটা ও ঝোপ জাতীয় গাছ এখানে জন্মায়। এসব গাছপালার শিকড় মাটির অনেক নিচে প্রবেশ করে পানি সংগ্রহ করতে পারে।হাজার হাজার বছর ধরে মরুভূমিতে লুকিয়ে আছে নানা রহস্য। কৌতূহলী মানুষও এই রহস্যের পেছনে ছুটছে। দেখা মিলেছে লবণের পাহাড়ের যেখানে বৃষ্টি হয়নি গত ৪০০ বছরেও। কোথাও দেখা গেছে ক্রপ সার্কেল। নীল মানুষেরা এখনো মরুর বুকে জীবন কাটায়। এমনই রোমাঞ্চেভরা মরুভূমি।

ফেয়ারি সার্কেল

নামিবিয়ার মরুভূমিতে খানিকটা হাঁটলেই দেখা যাবে কিছু জায়গাজুড়ে গোল গোল চাকার কিছু অবস্থান করছে।২ থেকে ২০ মিটার অব্দি বাড়তে পারে এই গোলাকৃতির চাকাগুলো। এই গোলাকৃতির জিনিসগুলোর নাম দেয়া হয়েছে ফেয়ারি সার্কেল। মাইলের পর মাইল বিস্তৃত এই সার্কেলগুলো। যেন কেউ একটু পর পর মাটি খুঁড়ে এই ফেয়ারি সার্কেল তৈরি করেছে মনে হলেও সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবেই তৈরি হয়েছে এই ফেয়ারি সার্কেল। এই সার্কেল বা চক্রের প্রান্তে এক ধরনের ঘাস জন্মাতে দেখা গেলেও এর মধ্যিখানে কোনো ধরনের গাছ, ঘাস বা কোনো কিছুই জন্মায় না। এমনকি অনেক যত্ন ও সার পাওয়ার পরেও না। বিজ্ঞানীদের আজ অব্দি প্রাকৃতিক এই গোল চক্রগুলোর কোনো রহস্য ভেদ করতে পারেননি। এদের বয়স সর্বোচ্চ ৭৫ বছর হয়ে থাকে। ৭৫ বছর পর এমনিতেই অদৃশ্য হয়ে যায় এই অদ্ভুত গোলচক্রগুলো। এই রহস্যময়  ফেয়ারি সার্কেল সবার কাছে  এখনো রয়েছে রহস্যময়।


ফেয়ারি সার্কেল.jpg






রত্নভাণ্ডার

১৯৩৭ থ্রিস্টাব্দে মঙ্গোলিয়ায় কমিউনিস্ট সরকার ক্ষমতায় এসেই একের পর এক ধ্বংস করে দিতে লাগল বৌদ্ধ মন্দিরগুলো। সেই সঙ্গে শেষ হয়ে যায় বহু মূল্যবান দলিল ও রত্ন। এরই মধ্যে মূল্যবান রত্নবোঝাই ৬৪টি বাক্স নিয়ে গোবি মরুভূমি হতে পালিয়ে যায় এক সন্ন্যাসী।

২০০৯ থ্রিস্টাব্দে একদল প্রত্নতত্ত্ববিদ হারিয়ে যাওয়া সেই সন্ন্যাসীর রত্নভাণ্ডারের সন্ধান করেন। সন্যাসী মৃত্যুর আগে নাতির হাতে ধরিয়ে দিয়ে গিয়েছিলেন সেই গুপ্তধনের নকশা।বিশেষজ্ঞ দল নকশা অনুসরণ করে পৌঁছেও গেলেন গুপ্তধনের কাছে। সত্তর বছর ধরে গোপন থাকা মরুভূমির গুপ্তধন উদ্ধারে খনন চলল প্রায় এক ঘণ্টা ধরে। এরপর ইন্টারনেটে বিশ্ববাসী সরাসরি দেখল, অমূল্য রত্ন বেরিয়ে আসছে মাটির তলা থেকে। বাক্সগুলো ভেঙে পাওয়া গেল অসামান্য কিছু ব্রোঞ্জের মূর্তি। বৌদ্ধধর্মের কয়েকটি পবিত্র গ্রন্থও পাওয়া যায়। আমরা যাকে বলি সূত্র। অদ্ভুত কিছু বাদ্যযন্ত্রও পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো মঠে প্রার্থনার সময় বাজানো হতো। আরও পাওয়া যায় পুরনো আমলের বস্ত্র ও অমূল্য পাণ্ডুলিপি।


মরুভূমিতে এলিয়েন

আধুনিক  বিজ্ঞানের যুগেও নাজকা রেখা রয়ে গেল এক অজানা রহস্য।

নাজকা রেখা হলো দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুর দক্ষিণাঞ্চলে নাজকা মরুভূমিতে অঙ্কিত কিছু বিশালাকৃতির ভূ-রেখাচিত্র বা জিওগ্লিফ। এই মরুভূমির প্রায় ৫০০বর্গ কিলোমিটার জায়গাজুড়ে ১০ হাজারেরও বেশি এমন অতিকায় রেখা রয়েছে । এই নাজকা রেখাগুলো ইউনেস্কো ঘোষিত পেরুর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান। একই সঙ্গে এই অঞ্চল বিশ্বের জনপ্রিয় স্থানও বটে। নাজকা মরূদ্যানের মাঝ বরাবর চলেছে একটি লম্বা সরলরেখা, যার দুপাশ বেয়ে একটা নির্দিষ্ট দূরত্ব পরপর গেছে কিছু সমান্তরাল রেখা। সেখানে রয়েছে বিপুলায়তন ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ, আয়তক্ষেত্র ও সামন্তরিকসহ অনেক জ্যামিতিক নকশা।কাছ থেকে দেখলে এখানে নয়শ’রও বেশি জিওগ্লিফ ছাড়াও রয়েছে পাখি, বানর, কুকুর, তিমি, মাকড়সার মতো ৭০টি প্রাণী এবং তিনশ’র মতো ভৌগোলিক আকৃতি।

নাজকা মালভূমিজুড়ে অঙ্কিত এসব ভূ-চিত্রগুলো অতিকায় বিশাল। আসলে আকাশ থেকে না দেখলে সেগুলোর অবয়ব বোঝা যায় না বলে একটি ধারণা প্রচলিত আছে। ধারণাটি অবশ্য পুরোপুরি সঠিক নয়, আশপাশে অবস্থিত উঁচু পর্বতের চূড়া বা সেই রকম উচ্চতার কোনো স্থান থেকেও এগুলো অক্ষিগোচর হয়। কারা তৈরি করল এই নাজকা রেখা আজও রহস্যই রয়ে গেছে। অনেকের দাবি এলিয়েনের কাজ এটা। আবার সাম্প্রতিককালের কিছু গবেষক মনে করেন, নাজকা রেখাগুলো পানির সঙ্গে সম্পর্কিত। নাজকা মরুভূমি পৃথিবীর সবচেয়ে শুষ্কতম অঞ্চলগুলোর একটি। বছরে এখানে এক ইঞ্চিরও কম বৃষ্টিপাত হয়। ডেভিড জনসন ও স্টিভ মেবি নামক দুজন গবেষক এ অঞ্চলের পানির উৎস খুঁজতে গিয়ে আবিষ্কার করেন পুকুয়াস নামক বহু প্রাচীন একটি জলাধার নাজকার কিছু রেখার সঙ্গে সংযুক্ত। জনসন মনে করেন, রেখাগুলো ভূগর্ভস্থ পানির উৎসের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য অঙ্কিত কোনো ম্যাপ। কিন্তু এ ব্যাপারে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা বা প্রমাণ তারা বের করতে পারেনি। আর শত শত বছর আগে মানুষের কাছে এমন কোনো প্রযুক্তিও ছিল না যা দিয়ে এই ম্যাপ অঙ্কন করা যায়। জনসন ও মেবির তত্ত্ব নিয়ে সন্দেহ থাকলেও অনেক গবেষক অবশ্য স্বীকার করেন যে, নাজকার মতো এমন শুষ্ক অঞ্চলে অঙ্কিত এ রেখাগুলো পানির সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা থাকলেও থাকতে পারে। নাজকা লাইন নিয়ে প্রথম বিস্তারিতভাবে গবেষণা শুরু করেন আমেরিকার ঐতিহাসিক পল কসক। ১৯৪০-৪১ সালে তিনি নাজকা রেখার উপর দিয়ে প্লেনে উড়ে যাওয়ার সময় রেখাগুলোর মাঝে পাখির মতো একটা আকৃতি লক্ষ করেন এবং উৎসাহী হয়ে পড়েন। এরপর তিনি বিস্তারিত গবেষণা শুরু করেন।




মরুভূমির তালিকাসমূহ[সম্পাদনা]

১. বৃহত্তম মরুভূমির তালিকা

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

https://www.bd-pratidin.com/various/2018/04/04/319666