সৈয়দা আনোয়ারা তৈমূর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

সৈয়দা আনোয়ারা তৈমূর অসমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। ১৯৮০ সনের ৬ ডিসেম্বর থেকে ১৯৮১ সনের ৩০ জুন পর্যন্ত তিনি অসমের মুখ্যমন্ত্রী পদে ছিলেন। তিনিই অসমের প্রথম ও একমাত্র মহিলা মুখ্যমন্ত্রী। তিনি চারবার অসম বিধান সভায় সদস্যা রুপে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৮৮ সনে তিনি রাজ্যসভায় আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন।

জন্ম ও শিক্ষা[সম্পাদনা]

১৯৩০ সনে সৈয়দা আনোয়ারা তৈমূর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। ১৯৫৬ সনে তিনি দেবীচরণ বরুয়া মহাবিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রবক্তা ছিলেন।

রাজনৈতিক জীবন[সম্পাদনা]

সৈয়দা আনোয়ারা তৈমূর অসম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির একজন সক্রিয় সদস্যা ছিলেন। এই সংগঠনে যোগদান করার পর তিনি নানান মহিলা সংগঠনে জড়িত হন। তিনি ১৯৭২ সনে অসম বিধান সভার সদস্যারুপে নির্বাচিত হয়েছিলেন। সেই সময়ে তিনি শরৎ চন্দ্র সিংহের মন্ত্রীসভায় রাজ্যিক শিক্ষামন্ত্রী রুপে কার্যনির্বাহ করেন। তারপর তিনি ১৯৭৮, ১৯৮৩ ও ১৯৯১ সনের বিধানসভায় সদস্যা হিসেবে নির্বাচিত হন।

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে[সম্পাদনা]

যোগেন্দ্রনাথ হাজরিকার মন্ত্রীসভার পতনের পর ১৯৭৯ সনের ১২ ডিসেম্বর তারিখ থেকে অসমে রাষ্ট্রপতি শাসন চালু হয়। কয়েকমাস রাষ্ট্রপতি শাসনের পর প্রধানমন্ত্রীর আদেশক্রমে কংগ্রেস(ই) দলের নেত্রী সৈয়দা আনোয়ারা তৈমূরকে অসমের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বভার প্রদান করা হয়। ১৯৮০ সনের ৬ ডিসেম্বর তারিখে তিনি অসমের মুখ্যমন্ত্রীরূপে শপথ গ্রহণ করেন। তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কার্যভার গ্রহণ করার পর অসমে রাষ্ট্রপতি শাসনের অন্ত পরে। তার দায়িত্ব নেওয়ার সময় অসমে বিদেশী বহিস্কার আন্দোলন চালু ছিল। অসমে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে অসমের জমিতে স্থায়ীভাবে বসবাসরত অসংখ্য বাংলাদেশী ব্যক্তিকে অসমের মাটি থেকে বহিষ্কার করার জন্য সদৌ অসম ছাত্র সন্থাগণ সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে এক তীব্র আন্দোলনের সৃষ্টি হয়েছিল। অসমে এই আন্দোলন জাতীয় আন্দোলন রুপে গঢ়ে উঠেছিল। টাইমুর সরকার এই সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন। প্রায় সাত মাস শাসন চালানোর পর টাইমূর সরকারের পতন হয়। ১৯৮১ সনের ৩০ জুন তারিখে তিনি মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তারপর অসমে পুনরায় রাষ্ট্রপতি শাসন চালু হয়।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]