সেনেগাল নদী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
সেনেগাল নদী
Senegal River Saint Louis.jpg
সেন্ট লুই-য়ের শহরতলীতে সেনেগাল নদীর তীরে জেলেরা মাছ ধরছেন
Senegalrivermap.png
সেনেগাল নদীর অববাহিকার মানচিত্র
অন্য নাম(আরবি: نهر السنغال‎‎,
ফরাসি: Fleuve Sénégal)
দেশসেনেগাল, মরিটনিয়া, মালি
অববাহিকার বৈশিষ্ট্য
মোহনাআটলান্টিক মহাসাগর
অববাহিকার আকার৩,৩৭,০০০ কিমি (১,৩০,০০০ মা)
প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য
দৈর্ঘ্য১,০৮৬ কিমি (৬৭৫ মা)
নিষ্কাশন
  • গড় হার:
    ৬৫০ মি/সে (২৩,০০০ ঘনফুট/সে)
সেনেগাল-এর ডাগানাতে সেনেগাল নদীর প্রবাহ
ডাগানা কেন্দ্র ১৯০৩-১৯৭৪ অবধি সময়কালে সেনেগাল নদীর গড় মাসিক প্রবাহ[১]

সেনেগাল নদী ( আরবি: نهر السنغال‎‎ , ফরাসি: Fleuve Sénégal ) পশ্চিম আফ্রিকার একটি ১,০৮৬ কিমি (৬৭৫ মা) দীর্ঘ নদী যা সেনেগাল এবং মৌরিতানিয়ার মধ্যে সীমান্ত বরাবর প্রবাহিত হয়েছে। নদীটির অববাহিকা প্রায় ২৭০,০০০ বর্গ কিমি বিস্তৃত; নদীর গড় প্রবাহ ৬৮০ কিউসেক এবং বার্ষিক প্রবাহ ২১.৫ ঘনকিলোমিটার [২]। গুরুত্বপূর্ণ উপনদীগুলি হ'ল ফালমি নদী, করাকোরো নদী এবং গোরগোল নদী । কায়েদি পেরিয়ে যাবার পরে, নদীটি দুটি শাখায় বিভক্ত হয়ে যায়। ডৌ নামের বামদিকের শাখানদীট, প্রধান নদীর সমান্তরালে প্রায় ২০০ কিলোমিটার প্রবাহিত হওয়ার পরে পন্ডোরের কয়েক কিলোমিটার দূরে গিয়ে পুনরায় সেনেগাল নদীর সাথে মিলিত হয়েছে।

১৯৭২ সালে মালি, মৌরিতানিয়া এবং সেনেগাল মিলে সেনেগাল নদীটির অববাহিকা পরিচালনা করার জন্য অর্গানাইজেশন ফর দ্য রাইজ অব ফ্লিট অফ সেনেগাল (ওএমভিএস) প্রতিষ্ঠা করেছিl। ২০০৫ সালে গিনিও এই সংস্থায় যোগ দিয়েছিল। বর্তমানে পণ্য ও যাত্রী পরিবহনের জন্য সেনেগাল নদীপথের ব্যবহার খুবই কম। ওএমভিএস মালি এর ছোট শহর আম্বিদিদী থেকে ৯০৫ কিলোমিটার দূরে সেন্ট-লুইয়ের মধ্যে, ৫৫ মিটার চওড়া একটি চলাচলযোগ্য চ্যানেল তৈরির সম্ভাব্যতার দিকে নজর দিয়েছে। এটি তৈরি হলে ভূমিরুদ্ধ মালি সরাসরি আটলান্টিক মহাসাগরের সাথে নদীপথে যোগাযোগ করুতে পারবে।

সেনেগাল নদী অববাহিকার জলজ জীবন গাম্বিয়া নদী অববাহিকার সমতুল এবং এই দুটি নদীর অববাহিকা সাধারণত সেনেগাল-গাম্বিয়া অববাহিকা নামে পরিচিত। এই অববাহিকার প্রধান প্রাণীর মধ্যে রয়েছে ব্যাঙের তিনটি প্রজাতি এবং একটি মাছের প্রজাতি।

নদীর গতিপথ ধরে দুটি বড় বাঁধ রয়েছে, মালির মানান্তালি বাঁধ এবং মৌরিতানিয়া-সেনেগাল সীমান্তের মাকা-ডায়ামা বাঁধ । এর মধ্যে ফ্যালু জলবিদ্যুত প্রকল্প রয়েছে, যা ১৯২৭ সালে নির্মিত হয়েছিল, তবে ২০১৪ সালে প্রকল্পটি পুনর্নির্মিত হয়েছিল। ২০১৩ সালে গুইনা জলপ্রপাতের ওপরে গুইনা জলবিদ্যুত প্রকল্প নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল।

ভূগোল[সম্পাদনা]

সেনেগাল নদীর উতস হল সেমাফে এবং বাফিং নদীদ্বয়, যারা গিনি থেকে উতপন্ন হয়ে , গিনি-মালি সীমান্তের একটি ছোট্ট অংশ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে অবশেষে মালির বাফৌলাবে একত্রিত হয়েছে। সেখান থেকে শুরু হয়ে সেনেগাল নদী পশ্চিমে প্রবাহিত হয়ে উত্তর তালারি গিরিখাত দিয়ে গিয়েছে এবং গুইন্স জলপ্রপাত সৃষ্টি করেছে। তারপর গতি কমিয়ে প্রবাহিত হয়েছে কায়েস এর মধ্যে দিয়ে। কায়েসের কাছেই কোলিম্বনে নদী এসে মিলেছে সেনেগালের সাথে। কারাকোরোর সাথে মিলিত হয়ে মালি-মৌরিতানিয়া সীমান্ত দিয়ে দশ কিলোমিটার মত প্রবাহিত হওয়ার পরে, বাকেলের কাছে ফালমি নদী এসে মিলেছে সেনেগালের সাথে। এর পরে উত্তর সেনেগালের রুক্ষ ভূমি দিয়ে বেশ খানিকটা প্রবাহিত হয়ে অবশেষে আটলান্টিক মহাসাগরে মিশে গেছে সেনেগাল। এছাড়াও কায়েদির কাছে মৌরিতানিয়া থেকে এসে সেনেগালে মিলেছে গোরগল নদী।

নদীর গতিপথে দুটি বড় বাঁধ রয়েছে, মালির বহুমুখী মানানতালি বাঁধ এবং মৌরিতানিয়া-সেনেগাল সীমান্তে মাকা-ডায়ামা বাঁধ। মাকা-ডায়ামা সমুদ্রের থেকে লবণাক্ত জলের উজানে প্রবেশ রোধ করে।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

প্রারম্ভিক ভূমধ্যসাগরীয় সভ্যতায় সেনেগাল নদীর অস্তিত্বর কথা জানা যায়। সম্ভবত সেনেগাল নদীকে বাম্বোটাস নামকরণ করেছিল প্লিনি দ্য এল্ডার (সম্ভবত ফোনিশীয়ান ভাষায় জলহস্তীর নাম থেকে ) [৩] এবং নিয়াস নামকরণ করেছিলেন ক্লদিয়াস টলেমি । খ্রিস্টপূর্ব 450 এর দিকে অভিযাত্রী হ্যানো কার্থাজিনিয়ান কার্থেজ থেকে গিনি উপসাগরীয় অঞ্চলে আসার সময় সেনেগাল নদীপথ ব্যবহার করেন। খ্রিস্টপূর্ব ১৪6 সালে কার্থেজ এবং পশ্চিম আফ্রিকার বাণিজ্য ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত এখান থেকে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যের প্রসার ছিল।

মুহাম্মদ আল-ইদ্রিসি ( ১১৪৪ ) র মতে পশ্চিমা নীল নদ বা সেনেগাল-নাইজার নদীর মানচিত্র

কার্টোগ্রাফিক উপস্থাপনা[সম্পাদনা]

মুহাম্মদ আল-ইদ্রিসি ( ১১৪৪ ) অনুসারে ওয়েস্টার্ন নীল (সেনেগাল-নাইজার নদী)

ইউরোপীয় যোগাযোগ[সম্পাদনা]

খ্রিস্টান ইউরোপীয়রা সেনেগালের উত্তর মুখের সমুদ্রের পথ সন্ধানের চেষ্টা শুরু করে। জেনোয়া প্রজাতন্ত্রের ভান্দিনো ও উগোলিডো ভিভাল্ডি ১২৯১ সালে প্রথম একজোড়া জাহাজ নিয়ে এই সমুদ্রপথ অনুসন্ধানের অভিযান করেন, তাদের সম্বন্ধে আর বেশি কিছু জানা যায় না । ১৩৪৬ সালে, মেজরকান নাবিক, জৌমে ফেরার "সোনার নদী" ( রিউ ডি ল ওর ) সন্ধানের উদ্দেশ্য নিয়ে সম্ভবত সেনেগাল নদীতে একটি অভিযানে যাত্রা করেন; এই নদীটি সম্বন্ধে শোনা যেত যে এর তীরে লোকেরা সোনা সংগ্রহ করত এবং নদীটি বৃহত্তম জাহাজগুলির জন্যও প্রশস্ত এবং গভীর । তাঁর সম্পর্কেও আর কিছু শোনা যায় না। ১৪০২ সালে, ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে প্রথম ইউরোপীয় উপনিবেশ স্থাপন করার পরে, ফরাসী নরমানের দু: সাহসিক অভিযাত্রী জাঁ দ্য বেথেনকোর্ট এবং গ্যাডিফার দে লা সলে পশ্চিম আফ্রিকান উপকূল অনুসন্ধান করার এবং সেনেগালের মোহনা খুজে পাওয়ার চেষ্টা করেন।

সেনেগাল নদীর উপর নৌকা

ব্যুৎপত্তি[সম্পাদনা]

ষোড়শ শতকের কাহিনীকার জোয়াও দে বারোজের মতামত অনুযায়ী, পর্তুগিজরা নদীটীর মূল নাম পরিবর্তন করে "সেনেগাল" নামকরণ করে একটি স্থানীয় উওলোফ সর্দারের নামে, যার সাথে পর্তুগিজ ব্যবসায়ীদের সুসম্পর্ক ছিল [৪] কিন্তু এই ব্যুৎপত্তি সন্দেহজনক। [৫] মনে করা হয় জেনোয়া ভেদামেল শব্দ থেকেও সেনেগাল শব্দটি এসে থাকতে পারে; এটা প্রায় নিশ্চিত যে, জেনোয়া ভাষার 'ভেদামেল' শব্দটি, আরবিক ওয়াদ-আল-মাল(সোনার নদী) বা অন্যথায়, ওয়াদ আল-মালিi ("মালির নদী"), অথবা ওয়াদ আল-নাইল ("নীলের নদী") শব্দ থেকে এসেছে[৬]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

  • Futa Toro

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Hydrographic data for Dagana, Senegal 1903-1974, Unesco International Hydrological Programme, সংগ্রহের তারিখ ২৪ মে ২০১২ .
  2. SENEGAL-HYCOS: Renforcement des capacités nationales et régionales d’observation, transmission et traitement de données pour contribuer au développement durable du bassin du Fleuve Sénégal (Document de projet préliminaire) (PDF) (French ভাষায়), Système Mondial d’Observation du Cycle Hydrologique (WHYCOS), ২০০৭, ২৮ ডিসেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা .
  3. Pliny, Natural History, Lib. 5, Ch.1 (p.380)
  4. Barros, p.109. This is reiterated in Marmol, Ch.8.3.
  5. Cadamosto (Ital: p.110; Eng: p.220).
  6. The "River of Treasure" interpretation of Vedamel can be found in J.G.H. "'Histoire du commerce entre le Levant et l'Europe' in 1831, Antologia; giornale di scienze, lettere e arti, Vol. 3 (Aug.) p.27. R.H. Major (p.113) proposes the "Nile" interpretation.