সিরিল পুল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সিরিল পুল
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামসিরিল জন পুল
জন্ম(১৯২১-০৩-১৩)১৩ মার্চ ১৯২১
ম্যানসফিল্ড, নটিংহ্যামশায়ার, ইংল্যান্ড
মৃত্যু১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬(1996-02-11) (বয়স ৭৪)
বল্ডারটন, নটিংহ্যামশায়ার, ইংল্যান্ড
ব্যাটিংয়ের ধরনবামহাতি
বোলিংয়ের ধরনবামহাতি মিডিয়াম
ভূমিকামাঝে-মধ্যে উইকেট-রক্ষক
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৩৬৮)
৩০ ডিসেম্বর ১৯৫১ বনাম ভারত
শেষ টেস্ট১০ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ বনাম ভারত
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৪৮–১৯৬২নটিংহ্যামশায়ার
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৩৮৩
রানের সংখ্যা ১৬১ ১৯,৩৬৪
ব্যাটিং গড় ৪০.২৫ ৩২.৫৪
১০০/৫০ –/২ ২৪/১২৭
সর্বোচ্চ রান ৬৯* ২২২*
বল করেছে ৩০ ৫৫০
উইকেট
বোলিং গড় ৮৬.৭৫
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ১/৮
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১/– ২২৪/৫
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ৩১ মার্চ ২০২০

সিরিল জন পুল (ইংরেজি: Cyril Poole; জন্ম: ১৩ মার্চ, ১৯২১ - মৃত্যু: ১১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৬) নটিংহ্যামশায়ারের ম্যানসফিল্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ও ফুটবলার ছিলেন।[১] ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৫১ থেকে ১৯৫২ সময়কালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নটিংহ্যামশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন সিরিল পুল

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

নটিংহ্যামশায়ারের ম্যানসফিল্ড এলাকায় সিরিল পুলের জন্ম।[১] বিনোদনধর্মী বামহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে সিরিল পুলের সবিশেষ খ্যাতি ছিল। ২৭ বছর পূর্তির পূর্বেই কাউন্টি ক্রিকেটে খেলার সুযোগ পান। তাসত্ত্বেও ঐ সময়ের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত দূর্বল দলের সদস্যরূপে নিজেকে খুব সহজেই প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেন।

১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত সিরিল পুলের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। ১৯৫০-এর দশকে নটিংহ্যামশায়ারের জমকালো বিনোদনধর্মী ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। প্রায়শঃই সাজঘরে থাকা যে-কোন ধরনের ব্যাট ধার করে মাঠে নামতেন। এরজন্যে তিনি কোন প্রকার ওজন বা আকারের ধার ধারতেন না। নিয়মিতভাবে সহস্র রানের মাইলফলক স্পর্শ করতেন। প্রায় ৪০ বছর বয়সে ১৯৬১ সালে নিজের স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ১,৮৬০ রান তুলেন তিনি।[২]

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে তিনটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন সিরিল পুল। ৩০ ডিসেম্বর, ১৯৫১ তারিখে কলকাতায় স্বাগতিক ভারত দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২ তারিখে চেন্নাইয়ে একই দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

১৯৫১-৫২ মৌসুমে দলের সাথে ভারত গমনের সুযোগ পান। এ সফরে একটি টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন সিরিল পুল। আঘাতের কারণে মাঠের বাইরে অবস্থানকারী জ্যাক ইকিনের স্থলাভিষিক্ত হন তিনি। এরপর তিনি আরও দুই টেস্টে অংশ নেন। দ্বিতীয় একাদশের খেলোয়াড় হিসেবে দুইটি অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেন। অতিমাত্রায় রক্ষণাত্মক ঢংয়ে খেলার কারণে তাকে আর ইংল্যান্ড দলে খেলানো হয়নি।[১]

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে প্রত্যাখ্যাত হলেও ১৯৬২ সাল পর্যন্ত কাউন্টি ক্রিকেটে খেলা চালিয়ে যেতে থাকেন। ৪০ বছর বয়সে নিজস্ব সেরা মৌসুম অতিবাহিত করেন। প্রায় যে-কোন অবস্থানেই অসাধারণ ফিল্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। ৪০.২৫ গড়ে বেশ ভালোমানের টেস্ট ব্যাটিং গড়ের অধিকারী তিনি।[১] সে তুলনায় প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৩২.৪৫ গড়ে রান পেয়েছেন। মাঝে-মধ্যে বোলিংয়ে অগ্রসর হতেন ও উইকেট-রক্ষণে অংশ নিতেন।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

ক্রিকেটের পাশাপাশি ফুটবল খেলায়ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন সিরিল পুল। ১৫ বছর বয়সে ম্যানসফিল্ড টাউনের পক্ষে সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।[২] এরপর, জিলিংহাম ও ওলভারহাম্পটন ওয়ান্ডারার্স দলের পক্ষে ফুটবল খেলায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি।[১][২]

১১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৬ তারিখে ৭৪ বছর বয়সে নটিংহ্যামশায়ারের বল্ডারটন এলাকায় সিরিল পুলের দেহাবসান ঘটে।[২] মৃত্যুর পর ১৯৯৭ সালে উইজডেনে তার শোকসংবাদ প্রকাশিত হয়। জমকালো বিনোদনধর্মী ক্রিকেটার, অন্যতম সহজাত প্রতিভার অধিকারী ও দুঃসাহসী বামহাতি ব্যাটসম্যানসহ সেরা ফিল্ডার হিসেবে তাকে উল্লেখ করা হয়।[২]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Bateman, Colin (১৯৯৩)। If The Cap Fits। Tony Williams Publications। পৃষ্ঠা 134আইএসবিএন 1-869833-21-X 
  2. Wisden Cricketer's Almanack, 1997, p.1413

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]