সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশান (ইংরেজি: Search Engine Optimization) বা সংক্ষেপে এসইও (SEO) হলো একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে একটি ওয়েবসাইট বা ওয়েবপেজকে সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহারকারীদের সার্চ বা অনুসন্ধান ফলাফলের তালিকায় প্রথম দিকে দেখানোর চেষ্টা করা হয়। এসইও কোনো একক কাজ নয়, বরং বহুক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরণের কাজের সাথে সম্পৃক্ত একটি পদ্ধতি, বলা যায় সমন্বিত পদ্ধতি।

সাধারণত একটি সার্চ ইঞ্জিনের ওয়েব ক্রলার বা সার্চ রোবট বা সার্চ স্পাইডার প্রায় সবসময় ওয়েবে থাকা একটি ওয়েবপেজ অন্য ওয়েবপেজে ও একই ভাবে এক ওয়েবসাইট থেকে অন্য ওয়েবসাইট ঘুরে বেড়ায়। এই রোবট বা স্পাইডা্র বা ক্রলার সমুহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে নিদির্ষ্ট শ্রেণীতে সজ্জিত করে এবং সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহারকারীর খোজকৃত শব্দ বা শব্দগুচ্ছ অনুসারে সার্চ ইঞ্জিনের ফলাফল পাতায় প্রদর্শন করে। এই ক্রলার বিভিন্ন বিষয়ের উপর গুরুত্ব প্রদান করে । বিষয় সমুহকে দুই ভাগে শ্রেনীবদ্ধ করা যায়।

  • অনপেজ বা ওয়েবসাইটের ভিতরকার বিষয়সমুহ
  • অফপেজ বিষয়সমুহ

অনপেজ বা ওয়েবসাইটের ভিতরকার বিষয়গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল

  • ওয়েবসাইটের টাইটেল বা নাম
  • ওয়েবসাইটের মেটা ডেসক্রিপশন বা বিবরণ
  • ওয়েবসাইটের ম্যাটা কিওয়ার্ড ট্যাগ
  • ওয়েবসাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলোর টাইটেল বা নাম
  • ওয়েবসাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলোর অল্ট ট্যাগ
  • ওয়েবসাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলোর ক্যাপশন
  • ওয়েবসাইটের বিভিন্ন পেজের মধ্যে অন্ত:সংযোগ
  • ওয়েবসাইটের সাথে অন্য ওয়েবসাইটের বহি:সংযোগ
  • সংযোগকৃত শব্দ ইত্যাদি

অফপেজ বা ওয়েবসাইটের বাইরের বিষয়সমুহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল

  • সোশ্যাল শেয়ার বা সামাজিক সাইটগুলোতে আলোচনা
  • ব্যাকলিংক বা অন্য ওয়েবসাইটের সাথে সংযোগের সংখ্যা ইত্যাদি

এই বিষয়গুলো নিশ্চিত করে ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনের কাছে দৃষ্টিগোচর করার কাজটিই এসইও'র মূল কাজ পরিগণিত হয়। এছাড়া, ওয়েবসাইটকে বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিনের কাছে সাবমিশন বা সমর্পণ,বিভিন্ন সম্ভাবনাময় ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন স্থাপন বা আদান-প্রদান ইত্যাদির মাধ্যমেও এসইও কাজ করে থাকে। সম্প্রতি সার্চ ইঞ্জিনগুলো যেকোন ওয়েবপেজ বা ওয়েবসাইট এর সোশ্যাল প্লাটফর্ম এর অপর গুরুত্ব দিয়ে র‌্যাংক প্রদান করছে। এক্ষেত্রে যে ওয়েব পেজ বা সাইটের সোশ্যাল প্লাটফর্ম যত উন্নত সে সাইট সার্চ ইঞ্জিনের প্রথম দিকে থাকার সম্ভবনা তত বেশি।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

ইন্টারনেট সৃষ্টি এবং ব্যবহার যখন বাড়তে থাকে ঠিক তখন থেকেই মূলত এসইও (SEO)-এর যাত্রা শুরু হয় । যদিও তখন এসইও (SEO)-এর ব্যবহার বা এসইও এলগরিদম বর্তমান অবস্থার মত ছিলো না। যখন ইন্টারনেট এর জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে এবং এর ব্যবহার ও বাড়তে থাকে তখন সকল ওয়েবসাইটকে সংগঠিত করা বা একত্রিত করে ওয়েবসাইটগুলোতে শ্রেণিবিন্যাস করা খুব জরুরি হয়ে পড়ে । ঠিক তখনই সার্চ ইঞ্জিন এর ডেভেলপ শুরু হয়ে যায় আর এটি করেন ওয়েবমাস্টারগণ । তারা মূলত সার্চ ইঞ্জিন ফলাফলের উপর প্রচুর পরিমাণে গবেষণা শুরু করেন এবং এভাবেই সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এর যাত্রা শুরু হয়।

১৯৯৫-১৯৯৬

এরপর ১৯৯৫ সালে এসইও প্রথম অফিসিয়ালভাবে যাত্রা শুরু করে। ইয়াহু ডেভেলপারগন সর্ব প্রথম এ্যালফ্যাবেটিক অপটিমাইজেশন হিসেবে যাত্রা শুরু করেন খুব বেশি সময় নয়, মাত্র ১ বছরেই অর্থাৎ ১৯৯৬ সালে এসইও এর ব্যাপকতা শুরু হয় । কী-ওয়ার্ড ডেনসিটি এর উপর ভিত্তি করে সার্চ ইঞ্জিন এলগরিদম করা হতো তখন ।

১৯৯৮- ২০০৭

এরপর ১৯৯৭ সালের কোন এক সময় ইয়াহু ওয়েবমাস্টার ওয়েবসাইট সাবমিশন করে। এরপর ১৯৯৮-১৯৯৯ সালের কোন এক সময়ই গুগল জন্ম হয়। তখন গুগল সাম্প রুল শুরু করে এবং এর জন্য গুগল কে নতুন ভাবে এলগরিদম করতে হয় । বলে নেওয়া ভালো, এলগরিদম হল এক ধরনের প্রোগ্রামিং জার মাধ্যমে সার্চ ইঞ্জিন সব ধরনের কাজ করে। এ সময় এলগরিদম একটু আপডেটেড হয়। তবে গুগলের এই সাম্প রুল ভাল ভাবে যাত্রা শুরু করতে আরও প্রায় ২-৩ বছর সময় লেগে যায়। এ সকল সাম্প ট্যাকটিকস নিয়ে ২০০০-২০০৭ সালের দিকে গুগলের এসইও এক্সপার্টরা র‍্যাংক ভিত্তিক ওয়েবসাইটগুলো ক্যাটাগরি আনুযায়ী শ্রেণীবিন্যাস করা শুরু করে। কিন্তু এ সময় কিছু সমস্যা ছিল তখন এসইও এর পুরাতন নিয়ম অনুযায়ী এসইও এক্সপার্টগন তাদের ওয়েবসাইটি সার্চ ইঞ্জিনে সাবমিশন করতেন এবং ডিরেকটরি টাইপের কিছু লিংক বিল্ডিং করতেন। কিন্তু সমস্যা হল এ নিয়ম আনুযায়ী আনেক হিডেন পেজ সৃষ্টি করা হত এবং কী-ওয়ার্ড স্টাফই এর মধ্যে ছিলো । এ সকল সমস্যার সমাধান করতে সার্চ ইঞ্জিন গুগল নতুন ভাবে নিয়ে এলো গুগল ক্রলার। সার্চ ইঞ্জিন এর সাথে ক্রলার সিস্টেম যুক্ত হওয়ার পর এসইও তে কী-ওয়ার্ড স্টাফিং ও কমে আসলো । এভাবে মূলত আধুনিক এসইও এর যাত্রা শুরু হয়।

পদ্ধতি[সম্পাদনা]

গেটিং ইনডেক্সড[সম্পাদনা]

গুগল, বিং এবং ইয়াহুর এর মতো নেতৃস্থানীয় সার্চ ইনজিন, তাদের অ্যালগরিদমিক অনুসন্ধানের ফলাফলের জন্য পেজ খুঁজতে ক্রলার ব্যবহার করে। অন্যান্য সার্চ ইনজিন কতৃক ইন্ডেক্সকৃত পৃষ্ঠা থেকে লিঙ্ক করা পৃষ্ঠা জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই কারণ তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া যায়। ইয়াহু নির্দেশিকা এবং DMOZ, দুটি প্রধান ডিরেক্টরি যা ২০১৪ এবং ২০১৭ সালে বন্ধ হয়ে যায়, উভয়ের জন্যেই প্রয়োজনীয় ম্যানুয়াল জমা এবং মানব সম্পাদকীয় পর্যালোচনা প্রয়োজন হতো। গুগল অনুসন্ধান কনসোল প্রদান করে, যার জন্য একটি এক্সএমএল সাইটম্যাপ ফিড তৈরি করা যায় এবং সবগুলি পৃষ্ঠাগুলি পাওয়া যায়, বিশেষ করে এমন পৃষ্ঠা যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে লিঙ্কগুলি অনুসরণ করে আবিষ্কারযোগ্য নয় তাদের ইউআরএল জমা কনসোল ছাড়াও। ইয়াহু পূর্বে একটি প্রদেয় প্রদেয় পরিষেবা প্রদান করে যা প্রতি ক্লিকের জন্য মূল্য প্রদানের নিশ্চয়তা প্রদান করে; যাইহোক, এই অনুশীলনটি ২০০৯ সালে বাতিল করা হয়।

প্রিভেন্টিং ক্রলিং[সম্পাদনা]

ইনক্রিজিং প্রমিনেন্স[সম্পাদনা]

হোয়াইট হেট ও ব্ল্যাক হেট পদ্ধতি[সম্পাদনা]

হোয়াইট হ্যাট এস ই ও হচ্ছে, যে পদ্ধতিতে গুগল এর সকল নীতিমালা মেনে সম্পূর্ণ বৈধভাবে একটি সাইটকে প্রথম পেইজে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হয়। এস ই ও বলতে হোয়াইট হ্যাট এস ই ও কেই বোঝানো হয়। হোয়াইট হ্যাট এস ই ও অনেক কষ্টকর। কিন্তু, এটি ঝুঁকিমুক্ত। এর ঠিক বিপরীত হোল ব্ল্যাক হ্যাট এস ই ও। সহজ বাংলায় বললে, এটি হচ্ছে চুরি বা প্রতারনা। যেহেতু সার্চ ইঞ্জিন মানুষ নয়, তাই এর সাথে বিভিন্নভাবে প্রতারনা করার সুযোগ রয়েছে। এই প্রতারনা পদ্ধতিগুলোর মধ্যে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি হচ্ছে স্প্যামিং। স্প্যামিং করে খুব সহজেই একটি সাইটকে গুগোল এর প্রথম পেইজে নিয়ে আসা যায়। কিন্তু, যদি একবার সেই কৌশল গুগল এর কাছে ধরা পরে, তবে গুগোল তাকে কালো তালিকায় (Black List) ফেলে দেয়। ওই সাইটকে গুগল এর ইনডেক্স থেকে মুছে ফেলে। যে সাইট একবার গুগোল এর কালো তালিকায় পড়ে যায়, তার পতন নিশ্চিত।

তথ্যসূত্রঃ মাষ্টার অফ এস ই ও সিরিজ (প্রথম-খণ্ড) সার্চ ইঞ্জিনের কাযর্প্রণালী – ষষ্ঠ অধ্যায়

মার্কেটিং স্ট্র‍্যাটেজি হিসাবে এসইও[সম্পাদনা]

আন্তর্জাতিক বাজার[সম্পাদনা]

আইনি উদাহরণ[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]