মুদ্রণ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
শীর্ষ থেকে নীচে, বামে বা ডানে: সিলিন্ডার সীলের একটি স্ক্রিন টুকরায়ের ব্যবহার করে কাঠের টুকরায় মুদ্রণ, কোরিয়ান বর্ণ পরিবর্তনযোগ্য প্রকারের মদ্রণ যন্ত্র, ছাপাখানা, প্রস্তরে মুদ্রণ ছাপাখানা, অফসেট ছাপাখানা যা ব্যবহৃত হয় আধুনিক প্রস্তরে মুদ্রণ শিল্পে, লিনো ধরণের মেশিনের সাহায্যে গরম ধাতুর অক্ষরস্থাপন করা হয়, আধুনিক মুদ্রাকর, থ্রিডি প্রিন্টিং

মুদ্রণ একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একটি প্রধান গঠন বা মাপদন্ড থেকে লেখা ও ছবির প্রতিলিপি তৈরি করা হয়। মুদ্রণের প্রথমদিকের কাজের উদাহরণের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত সিলিন্ডার সীল ও অন্যান্য বস্তু যেমন সাইরাস সিলিন্ডার এবং সিলিন্ডার অফ নাবোনিদাস। কাঠের টুকরায় মুদ্রণের সূচনা ঘটে চীনে প্রায় ২২০ খ্রিস্টাব্দে।[১] পরবর্তীতে এর উন্নয়ন হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হয় বর্ণ সহজে পরিবর্তনযোগ্য ধরণের মুদ্রন ব্যবস্থা, প্রায় ১০৪০ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ চীনে বি শেং তৈরি করেন এটি।[২] ইয়োহানেস গুটেনবার্গ যান্ত্রিক পরিবর্তনযোগ্য ধরণের মুদ্রণ ব্যবস্থা ইউরোপে ১৫ শতাব্দীতে চালু করেন। তার ছাপাখানা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে রেনেসাঁ যুগের, সংস্কারের, আলোকিত যুগের এবং বৈজ্ঞানিক বিপ্লব উন্নয়নের এবং এটি আধুনিক জ্ঞান-ভিত্তিক অর্থনীতির উপাদানের ভিত্তি স্থাপন করে এবং জনগণের মধ্যে শিক্ষার প্রসার ঘটায়।[৩]

আধুনিক বড় মাপের মুদ্রণগুলো সাধারণত ছাপাখানা ব্যবহার করে করা হয়, অন্যদিকে ছোট মাপের মুদ্রণগুলো সম্পন্ন করা হয় প্রায় বিনামূল্য-ধরণের আধুনিক মুদ্রাকর দ্বারা। যদিও কাগজ হল - মুদ্রণ করার সবচেয়ে সাধারণ উপাদান, তবুও মুদ্রণ প্রায়শই ধাতু, প্লাস্টিক, কাপড় ও যৌগিক পদার্থের উপরেও করা হয়। কাগজের মুদ্রণের ক্ষেত্রে এটা প্রায়ই একটি বড় মাপের শিল্প প্রক্রিয়ায় করা হয় এবং এটি একটি অপরিহার্য অংশ প্রকাশনা ও লেনদেনের ক্ষেত্রে।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

কাঠের টুকরায় মুদ্রণ[সম্পাদনা]

কাঠের টুকরায় মুদ্রণ ব্যবস্থাটি হল লিখিত কাজ, চিত্র বা নকশা মুদ্রণের জন্য একটি কৌশল, যা ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল পূর্ব এশিয়ায়। এটা চীনে উদ্ভব হয়েছিল তাদের বংশ পরম্পরায় চলে আসা মুদ্রণের একটি পদ্ধতি হিসাবে, যা বস্ত্র শিল্পে ব্যবহার করা হত এবং এটিকে পরবর্তিতে কাগজে মুদ্রণের জন্য ব্যবহার করা হয়। কাপড়ে মুদ্রণের উদাহারণ হিসাবে, চীনের প্রথমদিকের কাজের সংরক্ষিত টুকরাটি তৈরি করা হয়েছিল প্রায় ২২০ খ্রিস্টাব্দে।

পূর্ব এশিয়ায়[সম্পাদনা]

চীনের তাং বংশের দুর্বোধ্য প্রচ্ছদপট ডায়মন্ড সুত্রা, ৮৬৮ খ্রিস্টাব্দে (ব্রিটিশ লাইব্রেরি)

নিকটতম সংরক্ষিত কাঠের টুকরায় মুদ্রণকৃত টুকরাগুলো চীন থেকে প্রাপ্ত। এগুলোতে মুদ্রিত ছিল রেশমের ফুল তিনটি রং দিয়ে, এটি হ্যান রাজবংশের সময়ের (২২০ খ্রিস্টাব্দ আগের)। এগুলো হল কাঠের টুকরায় মুদ্রনের প্রথমদিকের উদাহরণ, কাগজে প্রথম মুদ্রণ পাওয়া যায় সপ্তম শতকের মধ্যভাগে চীনে।

নবম শতকের মধ্যেই, বহুল প্রচলিতভাবে কাগজে মুদ্রণ চালু হয়ে যায় এবং এখনো টিকে আছে, মুদ্রণের প্রথমদিকের সম্পূর্ণ মুদ্রিত বই ডায়মন্ড সুত্রা (ব্রিটিশ লাইব্রেরি তে সংরক্ষিত রয়েছে), যা মুদ্রিত হয় ৮৬৮ সালে।[৪] দশম শতকের মধ্যেই সুত্রা বইয়ের ৪০০,০০০ কপি মুদ্রিত হয় এবং এতে ছবি মুদ্রিত হয়েছিল এবং একই সময় কনফুকিয়ান ক্লাসিক বইও মুদ্রিত হয়েছিল। একটি ক্ষমতা সম্পন্ন মুদ্রাকরে প্রতি দিন প্রায় ২,০০০ উভয় পৃষ্ঠা মুদ্রণ করা যায়।[৫]

মুদ্রণ তাড়াতাড়ি ছড়িয়ে পরে কোরিয়া এবং জাপানে যেগুলোতে ব্যবহৃত হত চীনা নির্দেশনামূলক অক্ষর, কিন্তু এই কৌশল আরও ব্যবহৃত হয় তুরপান এবং ভিয়েতনামে অন্যান্য বর্ণ বিন্যাস ব্যবহার করে। এই কৌশল, এরপর ছড়িয়ে পড়ে পারস্যরাশিয়ায়[৬] এই কৌশলটি ইসলামী বিশ্বের মাধ্যমে ইউরোপে পৌছায় এবং ১৪০০ সালের দিকে কাগজে মুদ্রণের জন্য ওল্ড মাস্টার কপি ব্যবহার শুরু হয় এবং তাস মুদ্রণ শুরু হয়।[৭] তবে ইসলামী মতবাদীদের কর্তৃক আরোপিত সীমাবদ্ধতার কারণে আরবেরা কুরআন মুদ্রণে এই পদ্ধতি কখনই ব্যবহার করেনি।[৬]

মধ্যপ্রাচ্যে[সম্পাদনা]

কাঠে মুদ্রণকে আরবিতে বলা হয় ট্রাশ ,যা আরব মিশর কর্তৃক তৈরি করা হয় নবম-দশম শতাব্দীর দিকে, যার বেশিরভাগই ছিল নামাজ এবং তাবিজের জন্য। প্রমাণ পাওয়া যায় যে, মুদ্রিত এই টুকরাগুলো তে কাঠের উপকরণ ব্যবহার করা হয়নি, সম্ভবত টিন, সীসা, বা কাদা মাটি ব্যবহৃত হয়েছিল । কি কৌশলে এগুলো তৈরি ছিল, তা নিশ্চিত নয়, তবে, এবং মুসলিম বিশ্বের বাইরে এটির খুব সামান্যই প্রভাব ছিল। যদিও ইউরোপে প্রচলিত কাঠের টুকরায় মুদ্রণ ব্যবস্থা মুসলিম বিশ্ব থেকে অনুপ্রাণিত, প্রাথমিকভাবে এটির ব্যবহার ছিল কাপড়ে, ধাতুর টুকরায় দ্বারা মুদ্রণ তখন পর্যন্ত অজানা ছিল ইউরোপে। পরিবর্তনযোগ্য প্রকারের মুদ্রণ চীনে চালু হবার পর থেকে কাঠের টুকরায় মুদ্রণ ছড়িয়ে পড়েছিল ইসলামী মধ্য এশিয়ায়।[৮]

ইউরোপে[সম্পাদনা]

জ্ঞাত সর্বপ্রথম দিকের কাঠে খোদাই করা ছবি, ১৪২৩, বুক্সহিয়াম যা হাত-রং করা।

কাঠে মুদ্রণ প্রথম এসেছিল ইউরোপে কাপড়ে মুদ্রণের জন্য, ১৩০০ সালের মধ্যেই এটি সবার কাছে পরিচিত হয়ে ওঠে। ধর্মীয় উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত ছবির কাপড়ে বেশ বড় এবং সম্প্রসারিত মুদ্রণ করা হত। যখন কাগজ অপেক্ষাকৃত সহজে পাওয়া যেতে শুরু হয়, প্রায় ১৪০০ সাল নাগাদ, এই মাধ্যমটি খুব দ্রুত স্থানান্তরিত হয় কাগজে, ছোট কাঠে খোদাই করা ধর্মীয় ছবিতে ও তাসে মুদ্রিত পাওয়া যেতে শুরু হয়। ১৯২৫ সাল থেকে এই মুদ্রণ ব্যবস্থা ব্যাপক হারে শুরু হয়।

মোটামুটি পঞ্চদশ শতকের মধ্যভাগে, লিখিত অক্ষর ও ছবির কাঠের টুকরা-বই, কাঠে খোদাইকৃত বই হিসাবে পাওয়া যেতে শুরু করে, যা সাধারণত সস্তা বিকল্প হিসাবে একই টুকরায় খোদাই করা পরিবর্তনযোগ্য ধরণের মুদ্রন যন্ত্রের মাধ্যমে পাণ্ডুলিপি ও বই তৈরি করা হত। ঐ সময়কার সবচাইতে বিক্রিত কাজ ছিল সুখতচিৎ সংক্ষিপ্ত চিত্রের মুদ্রণ গুলো, যার বার বার পূনরাবৃত্তি হত বিভিন্ন কাঠের টুকরা-বই সংস্করণে: আরস মোরিএন্দি এবং বিব্লিয়া পাউপেরুম সবচাইতে বেশি পাওয়া যেত। পণ্ডিতদের মধ্যে এখনও কিছু বিতর্ক রয়েছে পরিবর্তনযোগ্য ধরণের মুদ্রন যন্ত্রের আবির্ভাবের সময় নিয়ে, সংখ্যাগরিষ্ঠ মনে করেন এটির প্রবর্তনের আনুমানিক তারিখের পরিসীমা হচ্ছে প্রায় ১৪৪০ থেকে ১৪৬০ সাল।[৯]

পরিবর্তনযোগ্য ধরণের মুদ্রন[সম্পাদনা]

১২১৫–১২১৬ সালের তামারপ্লেট ৫০০০ মুদ্রা কাগজের অর্থ এর সাথে দশ ব্রোঞ্জ পরিবর্তনযোগ্য ধরণের
জিকজি "বুদ্ধধর্মীয় ঋষি ও সন মাষ্টার কর্তৃক নির্বাচিত পদ্ধতি" যা কোরিয়ায় ব্যবহৃত হত, জানা যায় এটি পরিবর্তনযোগ্য ধরণের যন্ত্রের মেটাল দিয়ে মুদ্রিত সর্বপ্রথম দিকের বই, ১৩৭৭। বিবলিওদেকুএ নেশনালা দে ফ্রান্স, পেরিস

পরিবর্তনযোগ্য ধরণ হল মুদ্রেণের সেই পদ্ধতি যেখানে পরিবর্তনযোগ্য ধাতুর টুকরা দ্বারা তৈরি মুদ্রণ ব্যবস্থা ও মুদ্রণবিদ্যার ব্যবহার করা হয়, ম্যাট্রিক্সের ধাতুধর্মী দ্বারা চালিত অক্ষরপাঞ্চ দিয়ে এই মুদ্রণ করতে হয়। পরিবর্তনযোগ্য ধরণের সাহায্যে হাতে অনুলিপি করার থেকে বা কাঠের টুকরায় মুদ্রণের চেয়ে অনেক সহজে মুদ্রণ করা যেত।

প্রায় ১০৪০ সাল নাগাদ, জানা মতে সর্বপ্রথম পরিবর্তনযোগ্য ধরণের মুদ্রণ যন্ত্র চায়নাতে বি শেং তৈরি করেন পোরসেলিন দিয়ে। শেং কাদা মাটির তৈরি পরিবর্তনযোগ্য ধরণের মুদ্রণ যন্ত্র তৈরি করেন, যার টাইপপাঞ্চগুলো সহজে ভেঙ্গে যেত, কিন্তু ওয়াং জেং ১২৯৮ সাল নাগাদ কাঠ থেকে এর থেকেও স্থায়ী যন্ত্র তৈরি করেন। তিনি একটি জটিল পদ্ধতি তৈরি করেন যেখানে চাইনিজ অক্ষরের সাথে সম্পর্কিত টেবিল ও নম্বরের বিভিন্ন সমস্যা তিনি সমাধান করেন যাতে টাইপসেটিং ও মুদ্রণ আরও সহজতর হয়। এখনো, কাঠের টুকরায় মুদ্রণের (জাইলোগ্রাফির) প্রধান উপায় হল এটি, যার মাধ্যমে "কম খরচে ও সহজে হাজারো চাইনিজ হরফ মুদ্রণ করা যায়।"[১০]

১২শ শতকের শুরুতে কপারের তৈরি পরিবর্তনযোগ্য ধরণের মুদ্রণ যন্ত্র চায়নাতে আবিষ্কৃত হয়। এটা দিয়ে বৃহৎ আকারে ছাপার কাজ শুরু হয় উত্তর সং রাজবংশের কাগজের মূদ্রা ব্যবহার প্রচলনের পর থেকে। পরিবর্তনযোগ্য ধরণের মুদ্রণ যন্ত্র গোয়িও রাজবংশের আমলে কোরিয়াতে ছড়িয়ে পরে।

প্রায় ১২৩০ সাল নাগাদ, কোরিয়ানরা ধাতুর তৈরি পরিবর্তনযোগ্য ধরণের মুদ্রণ যন্ত্র উদ্ভাবন করে যাতে ব্যবহার করা হত ব্রোঞ্জ। এই জিকজি বইটি প্রকাশিত ১৩৭৭ সালে, সর্বপ্রথম ধাতু ব্যবহার করে মুদ্রিত বই এটি। টাইপ-কাস্টিং এটিতে ব্যবহৃত হয়, যা বানানো হয়েছিল কয়েন কাস্টিং এর পদ্ধতি অনুকরণ করে। অক্ষর গুলো বীচবৃক্ষের কাঠে খদাই করা হয়েছিল, তারপর নরম কাদা মাটি চাপ দিয়ে মাটির ছাঁচ তৈরি করা হয়েছিল এবং এরপর ছাঁচে ব্রোঞ্জ ঢেলে দেয়া হয়েছিল, এবং পরিশেষে অক্ষরগুলো পালিশ করা হয়েছিল।[১১] কোরিয়ানদের তৈরি ধাতুর পরিবর্তনযোগ্য মুদ্রণ ব্যবস্থাটির বর্ণনা করেন ফরাসি পণ্ডিত হেনরি-জাঁন মার্টিন "যা অত্যন্ত অনুরূপ গুটেনবার্গের সাথে"।[১২] ঢালাই ধাতুর, পরিবর্তনযোগ্য ধরনের মুদ্রণ ব্যবস্থাটি ছড়িয়ে পরে ইউরোপ মধ্যে ১৪শ শতকের শেষে ও ১৫শ শতকের শুরুর দিকে।[৬][১৩][১৪][১৫][১৬]

প্রায় ১৪৫০ সাল নাগাদ, জোহানেস গুটেনবার্গ মুদ্রণ ব্যবস্থা শুরু করেন যা আধুনিক পরিবর্তনযোগ্য ধরনের মুদ্রণ ব্যবস্থা হিসাবে ইউরোপ গণ্য হয় ( প্রিন্টিং প্রেস), একই সাথে তিনি প্রবর্তিত করেন ম্যাট্রিক্সে ব্যবহারের জন্য কাস্টিং করা টাইপ পিস এবং হস্ত চালিত ছাঁচ, তিনি স্ক্রু-ছাপাখানার অভিযোজন করেন; তিসি-তেল বেস কালি হিসাবে ব্যবহার শুরু করেন; এবং তৈরি করেন নরম এবং আরো বেশি শোষককারী কাগজ।[১৭] গুটেনবার্গ ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি তার টাইপ পিস তৈরি করতে সীসা, টিন, অ্যান্টিমনি, তামা ও বিসমাত ধরনের পদার্থ ব্যবহার শুরু করেন –এই সকল একই উপাদান আজও ব্যবহৃত হচ্ছে।[১৮]

একটি বাক্সে, কাস্ট মেটালের টুকরা এবং একটি কম্পোজিং লাঠির ভেতরে টাইপসেট গুলো।

মুদ্রণ ছাপাখানা[সম্পাদনা]

জোহানেস গুটেনবার্গ তার ছাপাখানার কাজ শুরু করেন প্রায় ১৪৩৬ সালে, তার সাথে এটির আরও অংশীদার হিসাবে ছিলেন আন্দ্রিয়াস ড্রিটযেহেন – যাকে তিনি পূর্বে মণিমুক্তা - কাটার কাজ শিখিয়েছিলেন এবং আন্দ্রিয়াস হেইলম্যান্ন, যিনি একটি কাগজের কলের মালিক ছিলেন।[১৩]

কাঠের টুকরায় মুদ্রণের তুলনায় ছাপাখানা ব্যবহার করে পরিবর্তনযোগ্য ধরনের মুদ্রণের, পৃষ্ঠার সেটিং এবং মুদ্রণ ছিল বেশ দ্রুত ও বেশি টেকসই। এছাড়াও, ধাতু টাইপ পিসগুলো ছিল শক্ত এবং অক্ষরগুলো ছিল অধিক সমতাপূর্ণ, যা লেখনী এবং ফন্টের উপর প্রভাব ফেলত। উচ্চ মানের এবং অপেক্ষাকৃত কম দামের, গুটেনবার্গের মুদ্রণকৃত বাইবেলের (১৪৫৫) ফলে ধাতুর পরিবর্তনযোগ্য মুদ্রণ ব্যবস্থাটি পশ্চিমা ভাষাভাষীদের কাছে প্রতিষ্ঠিত করে এটির শ্রেষ্ঠত্ব। ছাপাখানা এরপর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে, রেনেসাঁ যুগের প্রবর্তন ঘটাতে সাহায্য করে এবং অতঃপর ছড়িয়ে পরে সারা বিশ্বে।

পৃষ্ঠা-সেটিং রুম- ১৯২০ সালে তোলা

গুটেনবার্গের প্রবর্তিত পরিবর্তনযোগ্য ধরনের মুদ্রণ ব্যবস্থাকে বলা হয়ে থাকে দ্বিতীয় সহস্রাব্দের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার।[১৯]

ঘূর্ণায়মান ছাপাখানা[সম্পাদনা]

ঘূর্ণায়মান ছাপাখানা আবিষ্কৃত করেন রিচার্ড মার্চ হো, ১৮৪৩ সালে। টাইপ সেটিং ইমপ্রেশনটি বাঁকা করা অবস্থায় একটি সিলিন্ডারের গায়ে লাগানো থেকে একটি দীর্ঘ একটানা কাগজের রোলে বা অন্য বস্তুর উপর মুদ্রণ করা যায়। ঘূর্ণায়মান ড্রাম মুদ্রণ ব্যবস্থাটি পরবর্তিতে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নায়ন করেন উইলিয়াম বুলক

প্রচলিত মুদ্রণ প্রযুক্তি[সম্পাদনা]

সব মুদ্রণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে চূড়ান্ত আউটপুটের দুই ধরণের বিষয় সংযুক্ত থাকে:

  1. ইমেজ এরিয়া (মুদ্রণের জন্য নির্বাচিত অংশ)।
  2. নন-ইমেজ এরিয়া (মুদ্রণের করা হবে না এমন অংশ)

যে তথ্যটি মুদ্রিত হবে তা উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত করার পর (প্রাক ছাপানোর ধাপে), মুদ্রণ প্রক্রিয়ার প্রতিটি অংশের নির্দিষ্ট কাজ রয়েছে মুদ্রণের জন্য নির্বাচিত অংশ থেকে মুদ্রণের করা হবে না এমন অংশকে আলাদা করতে।

প্রচলিত মুদ্রণ ব্যবস্থায় মুদ্রণ করা হয় চার ধরনের প্রক্রিয়ায়:

  1. প্লেনোগ্রাফিক্স, যেখানে মুদ্রণের জন্য নির্বাচিত অংশ ও মুদ্রণের করা হবে না এমন অংশ একই সমতল পৃষ্ঠে থাকে এবং এদের মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখা হয়, রাসায়নিক ভাবে বা ভৌত ভাবে, উদাহারণস্বরূপ: অফসেট লিথোগ্রাফি, কোলোটাইপ এবং স্ক্রিনলেস মুদ্রণ।
  2. রিলিফ, যেখানে মুদ্রণের জন্য নির্বাচিত অংশটি একটি সমতল পৃষ্ঠে এবং মুদ্রণের করা হবে না এমন অংশটি সমতল পৃষ্ঠের নিচে দিকে থাকে উদাহরণস্বরুপ: ফ্লেক্সোগ্রাফি ও লেটারপ্রেস।
  3. ইন্টাগ্লিও, যেখানে মুদ্রণের করা হবে না এমন অংশটি সমতল পৃষ্ঠে এবং মুদ্রণের জন্য নির্বাচিত অংশটি খাঁজকাটা বা খোদাই করা সমতল পৃষ্ঠের নিচে থাকে উদাহরণস্বরুপ: খোদাই করা ইস্পাত ডাই, ছবি মুদ্রণের খাঁজকাটা প্লেট।
  4. পোরাস, যেখানে মুদ্রণ করা হয় একটি সূক্ষ্ম জালের পর্দার মাধ্যমে, যেটির মধ্য দিয়ে কালি প্রবেশ করতে পারে, এবং বাদবাকি অংশে একটি স্টেনসিল পর্দার থাকে যা উপর দিক থেকে আসা কালির প্রবাহ বন্ধ রাখে যাতে ঐ অংশে মুদ্রণ না ঘটে, উদাহরণস্বরূপ: স্ক্রিন মুদ্রণ, স্টেন্সিল ডুব্লিকেটর।

মুদ্রাঙ্কিত[সম্পাদনা]

মিয়েহ্লা ছাপাখানা মুদ্রণ লে শেমেদি জার্নাল.মন্ট্রিয়েল, ১৯৩৯।

মুদ্রাঙ্কিত মুদ্রণ হল রিলিফ ধরণের মুদ্রণের একটি কৌশল। একজন কর্মী পরিবর্তনযোগ্য ছাপাখানাের মধ্যে টাইপের হরফগুলো কম্পোজ করে বসিয়ে দিয়ে, এগুলো আটকিয়ে দেয়, এরপর এতে কালি দেয় এবং কাগজের উপরে চাপ দেয় যাতে টাইপ থেকে কালি স্থানান্তরিত হয়ে সৃষ্টি করে একটি ছাপা কাগজ।

১৫শ শতকের মধ্যভাগে জোহানেস গুটেনবার্গের আবিষ্কৃত মুদ্রাঙ্কিত মুদ্রণ ছিল বেশ প্রচলিত মুদ্রণ ব্যবস্থা যার মাধ্যমে লেখা মুদ্রণ করা হত এবং ২০শ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধ পর্যন্ত এই মুদ্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করে বই এবং অন্যান্য জিনিস মুদ্রণ করা হত, যখন না পর্যন্ত অফসেট মুদ্রণ এর উন্নত ঘটে। অতি সম্প্রতি, মুদ্রাঙ্কিত মুদ্রণ কে দেখা হয়েছে, রেনেসাঁ যুগের একজন শিল্পীর কারিগরি হিসাবে।

অফসেট[সম্পাদনা]

অফসেট মুদ্রণ হল একটি বহুল ব্যবহৃত মুদ্রণ কৌশল। অফসেট মুদ্রণ করা হয় এমন জায়গায় যেখানে কালিযুক্ত ছবিটি স্থানান্তর করা হয় (বা "অফসেট" করা হয়) একটি প্লেট থেকে একটি রাবার ব্ল্যাংকেটে। একটি অফসেট স্থানান্তরক ছবিটিকে মুদ্রণ পৃষ্ঠে সরিয়ে দেয়। যখন লিথিওগ্রাফির সাথে একযোগে ব্যবহার হয় অফসেট প্রক্রিয়াটি, (লিথিওগ্রাফির) একটি প্রক্রিয়া যা তেল এবং পানির বিকর্ষণ শক্তির উপর ভিত্তি করে কাজ করে, অফসেট কৌশল প্রয়োগ করা হয় একটি সমতল (প্লেনোগ্রাফিক) ছবি স্থানন্তরে। তাই যে ছবিটি মুদ্রিত হবে তা কালি গ্রহণ করে কালির রোলার থেকে, এ সময় যে অংশে মুদ্রণ হবে না সেটি পানিকে আকর্ষণ করে, এতে ঐ অংশগুলো কালি মুক্ত থাকে।

বর্তমানে, অধিকাংশ বই ও সংবাদপত্র ছাপতে ব্যবহার করা হয় অফসেট লিথিওগ্রাফি কৌশল।

ছবি মুদ্রণের খাঁজকাটা প্লেট[সম্পাদনা]

ছবি মুদ্রণের খাঁজকাটা প্লেট হল ইন্টেগ্লিও মুদ্রণ প্রযুক্তি, যেখানে ছবি মুদ্রণ করা হয় মুদ্রণ প্লেটের পৃষ্ঠতলের উপর চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে। কালি দ্বারা প্লেটের সেলগুলো পূর্ণ করা হয় এবং এরপর অতিরিক্ত কালি একটি ডাক্তারদের ব্লেডের মত স্ক্রেপার দিয়ে সরিয়ে ফেলা হয়। এরপর একটি রাবার দ্বারা মুড়ানো রোলার দিয়ে প্লেটের পৃষ্ঠতলে উপর কাগজ রেখে তাতে চাপ দেয়া হয়, এসময় খাঁজের ভিতর থাকা কালি কাপজের স্পর্শে আসে। মুদ্রণ সিলিন্ডারটি সাধারণত তৈরি করা হয় কপার প্লেটেড স্টিল থেকে, এরপর এতে কপার প্লেটিং করা হয় এবং খুব সম্ভবত হীরা দ্বারা এর খাঁজ গুলো কাটা হয়; নকশা করা হয়, বা লেজার দ্বারা সিলিন্ডার থেকে ধাতু অপসারণ করা হয়।

খাঁজকাটা প্লেট মুদ্রণ ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়, দীর্ঘ, উচ্চ মানের মুদ্রণ যেখানে সঞ্চালিত হয় সেখানে। যেমন পত্রিকায়, মেইল অর্ডার ক্যাটালগে, প্যাকেজিং এবং ছাপাখানায়, ফ্যাব্রিকের সম্মুখ ভাগে এবং ওয়ালপেপার মুদ্রণে। এটি আরো ব্যবহার করা হয় ডাকমাসুল স্ট্যাম্প মুদ্রণে এবং সাজানোর প্লাস্টিক লেমিনেটে, যেমন রান্নাঘরের কাজ করার অংশের উপরে।

অন্যান্য মুদ্রণ কৌশল[সম্পাদনা]

অন্যান্য উল্লেখযোগ্য মুদ্রণ কৌশলগুলো হল:

  • ফ্লেক্সোগ্রাফি, ব্যবহৃত হয় প্যাকেজিং, লেবেল, সংবাদপত্র মুদ্রণে
  • ডাই-সাবলিমেশন মুদ্রাকর 
  • ইঙ্কজেট, ব্যবহৃত হয় সাধারণত ছোট সংখ্যক বই বা প্যাকেজিং মুদ্রণ করতে, এবং এছাড়াও বিভিন্ন উপকরণ মুদ্রণ করতে: যেমন উচ্চ মানের কাগজপত্র সিমুলেটিং অফসেট মুদ্রণ করার জন্য, মেঝের টাইলস মুদ্রণ করতে। ইঙ্কজেট আরো ব্যবহৃত হয় মেইলিং ঠিকানা থেকে সরাসরি মেইল মুদ্রণ করতে।
  • লেজার মুদ্রণ, (টোনার মুদ্রণ) প্রধানত ব্যবহৃত হয় অফিসের মধ্যে এবং লেনদেনের জন্য ব্যবহৃত (বিল, ব্যাংক নথি) মুদ্রণে। লেজার মুদ্রণ সাধারণত ব্যবহৃত হয় সরাসরি মেইল কোম্পানি গুলোতে যেখানে পরিবর্তনযোগ্য তথ্য অক্ষর বা কুপন মুদ্রণ তৈরি করতে হয়।
  • প্যাড মুদ্রণ, জটিল ত্রিমাত্রিক পৃষ্ঠতলে অসাধারণ মুদ্রণ করার ক্ষমতার জন্য এটি জনপ্রিয়।
  • রিলিফ মুদ্রণ, প্রধানত ব্যবহৃত হয় ক্যাটালগ মুদ্রণে
  • স্ক্রিন মুদ্রণ, বিভিন্ন কাজে জন্য এটি ব্যবহৃত হয়, টি-শার্ট থেকে শুরু করে মেঝের টাইস পর্যন্ত মুদ্রণ করা যায় এবং অমসৃণ পৃষ্ঠতলের উপরিভাগেও এই মুদ্রণ ব্যবহার করা যায়।
  • ইন্টাগ্লিও, ব্যবহৃত হয় প্রধানত উচ্চ মানের নথিপত্র মুদ্রণে, যেমন মুদ্রা মুদ্রণে।
  • থার্মাল মুদ্রণ, এটি জনপ্রিয় ছিল ১৯৯০ সালের দিকে ফ্যাক্স মুদ্রণে। আজ ব্যবহৃত হয় যেমন বিমানের লাগেজ ট্যাগ লেবেল মুদ্রণ জন্য এবং সুপারমার্কেট ডেইলি কাউন্টারে পৃথক মূল্য লেবেল মুদ্রণের জন্য।

জার্মান পরিবর্তনযোগ্য ধরণের ছাপাখানার প্রভাব[সম্পাদনা]

পরিমাণগত ভাবে[সম্পাদনা]

ইউরোপীয় পরিবর্তনযোগ্য প্রক্রিয়ায় মুদ্রণকৃত বইয়ের সংখ্যা যথাক্রমে কলাম ১৪৫০ থেকে ১৮০০ সাল পর্যন্ত।

এটা অনুমান করা হয় যে, গুটেনবার্গের ছাপাখানা উদ্ভাবনের পর পরই ইউরোপে বই উৎপাদন বেড়ে কয়েক মিলিয়ন কপি থেকে প্রায় এক বিলিয়ন কপিতে, মাত্র চার শতাব্দীরও কম সময়ে।[২০]

ধর্মীয় প্রভাব[সম্পাদনা]

স্যামুয়েল হ্রাটলিব যিনি নির্বাসিত হয়েছিল ব্রিটেন থেকে এবং তিনি উৎসাহী ছিলেন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্কার সম্পর্কে, তিনি ১৬৪১ সালে লিখেছিলেন "মুদ্রণ শিল্পটি এমন ভাবে জ্ঞান ছড়িয়ে দিবে যে সাধারণ মানুষ, তারা তাদের নিজস্ব অধিকার ও স্বাধীনতা সম্পর্কে জানবে, তাদের নিয়ন্ত্রিত করা যাবে না নিপীড়নের মাধ্যমে"।[২১]

গুটেনবার্গ ছাপাখানার রেপ্লিকা আন্তর্জাতিক মুদ্রণ যাদুঘরের মধ্যে কার্সন, ক্যালিফোর্নিয়া

মুসলিম বিশ্বের মধ্যে মুদ্রণ, বিশেষ করে আরবি স্ক্রিপ্ট মুদ্রণ ছিল আধুনিক সময়ে দৃঢ়ভাবে বিরোধিতাপূর্ণ, যদিও কখনও কখনও, হিব্রু বা আর্মেনিয়ান স্ক্রিপ্ট মুদ্রণের অনুমতি দেওয়া হত। তাই, প্রথম পরিবর্তনযোগ্য ধরণের মুদ্রণ উসমানীয় সাম্রাজ্য হয়েছিল হিব্রুতে ১৪৯৩ সালে।[২২] ষোড়শ শতাব্দীর মধ্যভাগের ইস্তানবুলের রাষ্ট্রদূত অনুসারে, টার্কস কর্তৃক ধর্মীয় বই মুদ্রণ ছিল একটি পাপ। ১৫১৫ সালে, সুলতান সেলিম প্রথম, একটি ডিক্রি জারি করেন, যার অধীনে বলা ছিল ধর্মীয় বই মুদ্রণ অনুশীলন করার শাস্তি হল মৃত্যু দণ্ড। ষোড়শ শতাব্দীর শেষে সুলতান মুরাদ তৃতীয় আরবি অক্ষরে প্রথম অ-ধর্মীয় মুদ্রিত বই বিক্রয়ের অনুমতি দান করেন, যদিও তখনো সংখ্যাগরিষ্ঠ সংখ্যক বি আমদানি করা হত ইতালি থেকে। ইব্রাহিম মুটেফ্রেরিকা উসমানীয় সাম্রাজ্যে প্রথম আরবিতে মুদ্রণের ছাপাখানা প্রতিষ্ঠিত করেন লিপিবিশারদগণ ও ওলামাদের বিরোধীতার মধ্যে। এটি চালু থাকে ১৭৪২ সাল পর্যন্ত, সর্বোমোট সতেরোটি মুদ্রণ কাজ সম্পন্ন করে, যার সবগুলো ছিল অ-ধর্মীয়, উপযোগবাদী বিষয়ে। মুদ্রণ ইসলামী দুনিয়ার কাছে ১৯ শতাব্দী পর্যন্ত সাধারণ কোন বিষয় ছিল না।[২৩]

জু দের জন্য জার্মানীতে মুদ্রণকৃত গাইড ছিল নিষিদ্ধ; যে কারণে ইটালিতে হিব্রু মুদ্রণ বৃদ্ধি পায়, ১৪৭০ সালে রোমে শুরু হবার পরে, এটি ছড়িয়ে পরে বিভিন্ন শহরে যার মধ্যে অন্যতম ছিল বারি, পিসা, লিভোরনো ও মানটুয়া। আঞ্চলিক শাষকদের হাতে ক্ষমতা ছিল হিব্‌রু বই মুদ্রণের অনুমতি বা লাইসেন্স প্রদাণের বা বাতিলের[২৪] এবং ঐ সময় প্রকাশিত বিভিন্ন বইয়ের সূচনাপত্রের পাতায় লিখা থাকত 'কোন লাইসেন্সজা দা সুপারিওরি' (যার অর্থ ছিল তাদের মুদ্রণটি পরীক্ষক কর্তৃক লাইসেন্সকৃত)।

এটা ধারণা করা হত যে মুদ্রণ ব্যবস্থার আগমনের ফলে 'ধর্মীয় ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী হবে এবং রাষ্ট্রশাসকদের ক্ষমতা আরো বৃদ্ধি পাবে।'[২৫] অধিকাংশ বইয়ের মূল বিষয়বস্তু ছিল ধর্ম সংক্রান্ত, আর বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ করত চার্চ ও রাজ্য শাষকরা।[২৫] এর কারণ ভুল বিষয়ের মুদ্রণের ফলাফল ছিল মারাত্বক। মায়রোউইটজ উইলিয়াম কারটারের উদাহারণ টেনে বলেন, "সে ১৫৮৪ সালে ক্যাথোলিক প্রভাবিত ইংল্যান্ডে একটি আপত্তিজনক প্রাক-ক্যাথোলিক পুস্তিকা মুদ্রণ করেন। এ ঘটনার কারণে তাকে ফাঁসি দিয়ে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়।"

বাইবেলের ব্যাপক হারে বিতরণ একটি বিপ্লবী প্রভাব ফেলে, কারণ প্রধান সঞ্চালক শক্তি ও ঈশ্বরের শব্দের অনুবাদক হিসাবে পরিচিত ক্যাথলিক চার্চের ক্ষমতা এটি কমিয়ে দেয়।[২৫]

সামাজিক প্রভাব[সম্পাদনা]

মুদ্রণ দিয়েছে পাঠকদের একটি বৃহত্তর পরিসীমায় জ্ঞান অর্জনের ক্ষমতা এবং পরবর্তী প্রজন্মকে সরাসরি পূর্ববর্তী প্রজন্মের বুদ্ধিজীবীদের অর্জিত জ্ঞান গ্রহণের সুযোগ কোন রকম পরিবর্তন ছাড়াই, যা পরিবর্তন হওয়া সম্ভব মৌখিক ভাবে জ্ঞান প্রদানের ঐতিহ্যে। মুদ্রণ, একটনের স্টাডি অফ হিস্টোরি  (১৮৯৫ সালের) বক্তব্য অনুযায়ী, "নিশ্চয়তা দিয়েছিল রেনেসাঁ যুগের কাজ স্থায়ী হবে কিনা, যা লেখা হবে তা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে কিনা, জ্ঞান এবং ধারনার মুদ্রণের মাধ্যমে এমন ভাবে সাজানো হয় যে মধ্যযুগ যে অন্ধকার সময় এসেছিল তার যাতে আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে, একটি চিন্তা-চেতনাও যাতে হারিয়ে না যায়।"[২১]

১৬শ শতাব্দীতে বই মুদ্রণ

সমাজে বই পড়ার ধারণা পরিবর্তণের প্রধান হাতিয়ার ছিল মুদ্রণ।

এলিজাবেথ আইজেনস্টাইন মুদ্রণ আবিষ্কারের ফলে দুটি দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব খুঁজে বের করেন। তিনি দাবী করেন মুদ্রণ একটি স্থায়ী ও সমতাপূর্ণ জ্ঞানের তথ্যসূত্র তৈরি করে, একই সাথে তুলনা তুলে ধরে অসঙ্গতিপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির ভিতর।[২৬]

আশা ব্রিগ্স এবং পিটার বুরকে মুদ্রণ আবিষ্কারের সাথে সাথে পঠনের পাঁচ ধরণের পরিবর্তন হওয়া দেখতে পান:

  1. ক্রিটিক্যাল পঠন: এটা সত্য যে মুদ্রণের ফলে তথ্য সাধারণ জনগণের কাছে সহজলভ্য হয়ে হয়ে ওঠে, ক্রিটিক্যাল পঠন আবির্ভূত হয় কারণ মানুষকে তথ্যের উপর তাদের নিজস্ব মতামত প্রকাশের সুযোগ দেয়া হয়।
  2. বিপজ্জনক পঠন: পঠনকে দেখা হত একটি বিপজ্জনক সাধনা হিসাবে কারণ এটাকে বিবেচনা করা হত বিদ্রোহী এবং অসামাজিক হিসাবে বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে, কারণ পড়া পারে বিপজ্জনক আবেগ যেমন প্রেমকে জাগ্রত করতে এবং যদি সে নারী পড়তে পারে, প্রেম পত্র পড়তে পারে।
  3. সৃজনশীল পড়া: মুদ্রণ সুযোগ করে দেয় মানুষকে গ্রন্থে পড়া এবং এগুলোকে নিজেদের মত সৃজনশীলভাবে ব্যাখ্যা করার, প্রায়শই লেখকের চেয়ে ভিন্ন ভাবে।
  4. ব্যাপক পঠন: মুদ্রণ সুযোগ করে দেয় বিস্তৃ সংখ্যক গ্রন্থে পাবার, সুতরাং পূর্বের নেয় নিবিড়ভাবে শুরু থেকে শেষ গ্রন্থ পড়ার পদ্ধতির পরিবর্তন আসতে শুরু করে এবং গ্রন্থে সহজলভ্য হবার সাথে সাথে, মানুষ পড়া শুরু করে নির্দিষ্ট বিষয় বা অধ্যায় উপর, যার ফলে সুযোগ করে দেয় একটি ব্যাপকতর পরিসীমা বিষয়ের উপর ব্যাপক পঠন করার।
  5. ব্যক্তিগত পঠন: স্বকীয়তা উত্থান গড়ে ওঠার আগে মুদ্রিত বই পড়া ছিল প্রায়ই একটি দলবদ্ধ বিষয়, যেখানে এক ব্যক্তি একগুচ্ছ মানুষকে মুদ্রিত বস্তু পড়ে শুনাত, গ্রন্থ প্রাপ্যতা বৃদ্ধি পাবার সাথে সাথে পড়া হয়ে ওঠে একটি স্বকীয় সাধনা।

মুদ্রণ আবিষ্কারের সাথে সাথে ইউরোপীয় শহরে কাজকর্মের গঠনের পরিবর্তিত ঘটে। একটি নতুন শিল্পী গুচ্ছ হিসাবে মুদ্রণের আবির্ভূত হয় যাদের কাছে শিক্ষা ছিল অপরিহার্য, যদিও শ্রম-নিবিড় হস্ত লেখকদের কাজ স্বাভাবিকভাবেই বন্ধ হয়ে যায়। প্রুফ-সংশোধন হয়ে ওঠে নতুন একটি কাজ, পুস্তকবিক্রেতা ও গ্রন্থাগারিকদের কাজ স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি পায় বিপুল সংখ্যক বই বৃদ্ধি পাওয়ায়।

মুদ্রণ পদ্ধতিগুলোর তুলনা[সম্পাদনা]

মুদ্রণ পদ্ধতিগুলোর তুলনা [২৭]
মুদ্রণ পদ্ধতি পরিবহন পদ্ধতি প্রয়োগকৃত চাপ ড্রপের আকার সান্দ্রতা পৃষ্ঠের উপর কালির পুরুত্ব টিকা খরচ-সাশ্রয়ী চলার দৌর্ঘ
অফসেট মুদ্রণ রোলারস ১ মেগা প্যাসকেল ৪০–১০০ প্যাসকেল.সেকেন্ড ০.৫–১.৫ মাইক্রোমিটার (µm) উচ্চমানের মুদ্রণ >৫,০০০ (এথ্রি ট্রিম সাইজ, সিট-ফিড)[২৮]

>৩০,০০০ (এথ্রি ট্রিম সাইজ, অয়েব-ফিড)[২৮]

রোটোগ্রাভুরে রোলারস ৩ মেগা প্যাসকেল ৫০-২০০ মিলি প্যাসকেল.সেকেন্ড 0.৮–৮ মাইক্রোমিটার (µm) পুরু কালি স্তর সম্ভব, চমৎকার ছবি পুনরুৎপাদন সম্ভব, অক্ষর ও লাইনের প্রান্ত অসমতল হয় [২৯] >৫০০,০০০[২৯]
ফ্লেক্সোগ্রাফি রোলারস ০.৩ মেগা প্যাসকেল ৫০–৫০০ মিলি প্যাসকেল.সেকেন্ড 0.৮–২.৫ মাইক্রোমিটার (µm) উচ্চমানের (বর্তমানে এইচডি)
লেটারপ্রেস মুদ্রণ প্লেট ধরণের ১০ মেগা প্যাসকেল ৫০–১৫০ প্যাসকেল.সেকেন্ড ০.৫–১.৫ মাইক্রোমিটার (µm) ধীর গতিতে কালি শুকায়
স্ক্রিন-মুদ্রণ স্ক্রিনের ফুটো দিয়ে কালি যেতে দিয়ে <১২ মাইক্রোমিটার (µm) বহুমুখী পদ্ধতি,

নিম্ন মানের হয়

ইলেক্ট্রোফটোগ্রাফি ইলেক্ট্রোস্ট্যাটিক্স ৫–১০ মাইক্রোমিটার (µm) পুরু কালির স্তর
তরল ইলেক্ট্রোফটোগ্রাফি ইলেক্ট্রোস্ট্যাটিক্স পদ্ধতিতে ছবি উৎপন্ন হয় ও ফিক্সিং এর সময় তা প্রেরণ করা হয় উচ্চমানের ছবি, পুরু কালি স্তর সম্ভব, চমৎকার ছবি পুনরুৎপাদন সম্ভব, মিডিয়ার ক্ষেত্রে রেঞ্জটি বৃহৎ, খুব পাতলা ছবি মুদ্রণ সম্ভব,
ইঙ্কজেট মুদ্রাকর তাপের মাধ্যমে ৫–৩০ পিকোলিটার (pl) ১–৫ প্যাসকেল.সেকেন্ড <০.৫ মাইক্রোমিটার (µm) কালি ছড়িয়া পরা রোধে বিশেষ কাগজ প্রয়োজন <৩৫০ (এথ্রি ট্রিম সাইজ)[২৮]
ইঙ্কজেট মুদ্রাকর পাইজোইলেক্ট্রনিক্স ৪–৩০ পিকোলিটার (pl) ৫–২০ মিলি প্যাসকেল.সেকেন্ড <০.৫ মাইক্রোমিটার (µm) কালি ছড়িয়া পরা রোধে বিশেষ কাগজ প্রয়োজন <৩৫০ (এথ্রি ট্রিম সাইজ)[২৮]
ইঙ্কজেট মুদ্রাকর চলমান ৫–১০০ পিকোলিটার (pl) ১–৫ মিলি প্যাসকেল.সেকেন্ড <০.৫ মাইক্রোমিটার (µm) কালি ছড়িয়া পরা রোধে বিশেষ কাগজ প্রয়োজন <৩৫০ (এথ্রি ট্রিম সাইজ)[২৮]
ট্রান্সফার-প্রিন্ট থার্মাল ট্রান্সফার ফ্লিম বা ওয়াটার রিলিজ দেসেল একটি বাঁকা বা অমসৃণ পৃষ্ঠে ব্যাপক হারে ছবি মুদ্রণের উপযুক্ত পদ্ধতি

আধুনিক মুদ্রণ[সম্পাদনা]

২০০৫ সালের মধ্যে আধুনিক মুদ্রণ বার্ষিক সারা বিশ্বের ৪৫ ট্রিলিয়ন মুদ্রিত পৃষ্ঠার প্রায় ৯% দখল করে নেয় ।[৩০]

মুদ্রণকে বাড়িতে, অফিসে বা একটি ইঞ্জিনিয়ারিং পরিবেশে নিম্নক্ত ভাগে বিভক্ত করা হয়:

  • ছোট ফরম্যাটে (খতিয়ান আকারের কাগজের শীট), হিসাবে ব্যবহৃত হয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও লাইব্রেরিতে।
  • ওয়াইড ফরম্যাট (৩' বা ৯১৪ মিলিমিটার প্রস্থ পর্যন্ত কাগজের রোল), হিসাবে ব্যবহৃত হয় খসড়া ও ডিজাইন প্রতিষ্ঠানে।

আরো কিছু সাধারণ প্রযুক্তির আছে মুদ্রণের:

  • ব্লুপ্রিন্ট – এবং এর সাথে সম্পর্কিত রাসায়নিক প্রযুক্তি
  • ডেইজি হুইল – যেখানে অগে থেকে তৈরি অক্ষরগুলো প্রয়োগ করা হয় মুদ্রণে পৃথকভাবে
  • ডট-ম্যাট্রিক্স – যা এলোমেলোভাবে বিন্দুর নিদর্শন তৈরি করে একটি অ্যারের সাথে সংযুক্ত মুদ্রণ যন্ত্রের স্থুলশীর্ষ পেরেক দ্বারা
  • লাইন মুদ্রণ – যেখানে গঠিত অক্ষরগুলো কাগজে মুদ্রণ করা হয় লাইন দ্বারা
  • তাপীয় স্থানান্তর – যেমন প্রথমদিকের ফ্যাক্স মেশিনে বা আধুনিক রিসিট মুদ্রাকরে যেখানে তাপ প্রয়োগ করা হয় বিশেষ কাগজে যা সক্রিয় হয়ে কালো রঙ ধারণ করে মুদ্রিত সম্পন্ন হয়
  • ইঙ্কজেট – বাবল-জেটও এর অন্তর্ভুক্ত, যেখানে কাগজের সম্মুখের দিকে কালি স্প্রে করা হয় পছন্দসই ছবি তৈরি করতে
  • ইলেক্ট্রোফটোগ্রাফি – যেখানে টোনার আকৃষ্ট হয় একটি ইলেক্ট্রিক চার্জড ইমেজ এবং তারপর ছবিটি তৈরি হয়
  • লেজার – এটি জেরগ্রাফির একটি ধরণ যেখানে চার্জড ইমেজটি আঁকা হয় প্রতিটি পিক্সেল ধরে ধরে লেজার ব্যবহার করে
  • সলিড কালি মুদ্রাকর – যেখানে কঠিন রূপে থাকা চতুস্কোনী কালিগুলো গলে কালি বা তরল টোনার তৈরি করে

বিক্রেতারা সাধারণত সরঞ্জামের চালানোর জন্য সাথে জড়িত মোটমোটি সকল খরচ হিসাব করে, মূলধন যন্ত্রপাতি খরচ, যন্ত্রপাতির ডেপ্রিসিয়েশন ইত্যাদি জটিল গণনায় অন্তর্ভুক্ত যে সব খরচ আসে তার সাথে ব্যবসার প্রাত্যহিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত খরচের হিসাবে ভাল ভাবে করে আধুনিক মুদ্রণ চিহ্নিত করে। অধিকাংশ কাজের অংশ হিসাবে, টোনার সিস্টেম অধিক লাভজনক ইঙ্কজেট চেয়ে দীর্ঘ সময় চলার ক্ষেত্রে, যদিও ইঙ্কজেট প্রাথমিক ক্রয় মূল্য কম।

পেশাদারী আধুনিক মুদ্রণ (টোনার ব্যবহার করে) মূলত ব্যবহার করে, একটি বৈদ্যুতিক চার্জ যা টোনার বা তরল কালি স্তর স্থানান্তর করে যে পৃষ্ঠতলে মুদ্রণ হবে তার সম্মুখের তলে। আধুনিক মুদ্রণ ব্যবস্থার মানের ক্রমানয়ে উন্নতি হয়েছে, প্রথম দিকে রঙ্গিন এবং সাদা-কালো মুদ্রণ থেকে আজকের অত্যাধুনিক রঙ্গিন আধুনিক মুদ্রণে, যেমন জেরক্স, আইজিন্থ্রি, কোডাক নেক্সপ্রেস, এইচপি ইন্ডিগো ডিজিটাল প্রেস সিরিজ এবং ইনফোপ্রিন্ট ৫০০০। এই আইজিন্থ্রি এবং নেক্সপ্রেসে ব্যবহৃত হয় টোনারে থাকা কালির কণা এবং ইন্ডিগোতে ব্যবহৃত হয় তরল কালি। এই ইনফোপ্রিন্ট ৫০০০ হল একটি সম্পূর্ণ রঙ্গিন মুদ্রণ সিস্টেম, একটানা ইঙ্কজেট পতন করে-চাহিদা মাফিক মুদ্রণ তৈরি করতে পারে। উপরক্ত সকল মুদ্রাকরই পরিবর্তনযোগ্য তথ্য মুদ্রণে উপযোগী এবং মানের দিক থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী করে অফসেটের সাথে। আধুনিক অফসেট মুদ্রণকে বলা হয়, সরাসরি ইমেজিং প্রেসেস, যদিও এই ছাপাখানাগুলো গ্রহণ করতে পারে কম্পিউটারে ফাইল এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুদ্রণ-প্লেট তাদের মধ্য প্রস্তুত করতে পারে, তবে এগুলো পরিবর্তনযোগ্য তথ্য মুদ্রণে উপযোগী নয়।

ছোট ছাপাখানায় ও পত্রিকায় সাধারণত ব্যবহার করা হয় আধুনিক মুদ্রণ মেশিন ব্যবহার করে সস্তা ফটোকপি সংযোজনের আগে যেমন স্পিরিট ডুব্লিকেটর, কেক্টোগ্রাফ ও মিমেওগ্রাফ বেশি প্রচলিত ছিল।

থ্রিডি মুদ্রণ[সম্পাদনা]

থ্রিডি প্রিন্টিং হল উৎপাদনের সেই প্রযুক্তি যেখানে বিষয়বস্তু তৈরি করা হয় ত্রিমাত্রিক আকৃতির তথ্য থেকে ও থ্রিডি মুদ্রাকর দিয়ে। মুদ্রণের বিষয়বস্তু তৈরি করা কয় হয় উপাদান একটির উপর একটি শুইয়ে রেখে বা একটির উপর একটি রেখে। ২০১২ সালে, কিছু কম্পানী যেমন স্কুল্পটো বা শেপওয়েস প্রস্তাব করে অনলাইনে থ্রিডি মুদ্রণ এর ব্যবস্থাপনার।

গ্যাং রান মুদ্রণ[সম্পাদনা]

গ্যাং রান মুদ্রণ হল মুদ্রণের সেই ব্যবস্থা যেখানে একাধিক মুদ্রণ কাজ একই সাথে একটি কাগজের পাতায় মুদ্রিত হয় যাতে মুদ্রণ খরচ ও কাগজের অপচয় কম হয়। গ্যাং রান মুদ্রণ সাধারণত ব্যবহার করা হয় সিট-ফিড মুদ্রণ ব্যবস্থায় ও সিএমওয়াইকে কালার জব প্রসেসে, যাতে চারটি আলাদা মুদ্রণ প্লেট প্রয়োজন যা ছাপাখানার সিলিন্ডার থেকে ঝুলানো থাকে। ছাপাখানায় "গ্যাং রান" বা "গ্যাং" শব্দটি ব্যবহার করা হয় এটা বুঝাতে যে একটি বৃহৎ কাগজের পাতায় অনেকগুলো মুদ্রণের কাজ একই সাথে করা হয়। আসলে, একটি পোষ্টকার্ড যার আকার হল ৪ x ৬ একটি একটি করে মুদ্রণ না করে ছাপাখানায় যদি ১৫টি বিভিন্ন পোষ্টকার্ড একই সাথে একটি ২০ x ১৮ কাগজের পাতায় ছাপা হয় তাহলে একটি ছাপাতে যে সময় লাগবে মোটামুটি সেই সময়ে ১৫টি ছাপা যাবে অর্থাৎ একটির কাজের সময়ে ১৫ গুণ বেশি উৎপাদন সম্ভব।

মুদ্রণকৃত ইলেকট্রনিক্স [সম্পাদনা]

মুদ্রণকৃত ইলেকট্রনিক্স হল ইলেকট্রনিক্স দ্রব্য উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত মুদ্রণের প্রমাণ পদ্ধতি। মুদ্রণকৃত ইলেকট্রনিক্স দ্রব্য মুদ্রণে খুব সস্তা উপকরণ যেমন পেপার বা ফ্লেক্সিবল ফ্লিম ব্যবহার করা যায়, যা হল সবচাইতে সাস্রয়ী উৎপাদন পদ্ধতি। ২০১০ সালের শুরুরদিক থেকে, মুদ্রণযোগ্য ইলেকট্রনিক্স ইন্ডাস্ট্রি তার গতি পেতে শুরু করে এবং বেশকিছু বড় কম্পানী, যার মধ্যে অন্যতম বেমিস কম্পানী ও ইলিনোস টুল ওয়ার্ক্স বিনিয়োগ করে ফেলে মুদ্রণকৃত ইলেকট্রনিক্স শিল্পে ও ইন্ডাস্ট্রি সহযোগী প্রতিষ্ঠান যেমন ওই-এ এবং ফ্লেক্সটেক এলায়েন্স ব্যপক সহযোগীতা করে মুদ্রণকৃত ইলেকট্রনিক্স শিল্পের সার্বিক উন্নায়নে।[৩১][৩২]

মুদ্রণের পরিভাষাগুলো[সম্পাদনা]

মুদ্রণ পরিভাষাগুলো নির্দিষ্ট ভাবে ব্যবহৃত হয় মুদ্রণ শিল্পে। নিম্নলিখিত তালিকাটি হল মুদ্রণ পরিভাষার:[৩৩]

  • এয়ারস্যাফট
  • এনিলোক্স
  • বেন-ডে ডট
  • ব্লিড (মুদ্রণ)
  • ব্রোর্ডশিট
  • ক্যালিফোর্নিয়া জব কেস
  • ক্যামেরা-রেডি
  • কার্ড স্টক
  • ক্যাচওয়ার্ড
  • সিসিএমএমওয়াইকে কালার মডেল
  • সিএমওয়াইকে কালার মডেল
  • কোলোফোন (পাবলিশিং)
  • কালার ব্লিডিং (মুদ্রণ)
  • কম্পোজিং স্টিক
  • কম্পিউটার টু ফ্লিম
  • কম্পিউটার টু প্লেট
  • কন্টিনিউয়াস টোন
  • কোন্টোন (মুদ্রণ)
  • ডাই (ফিলাটেলি)
  • ডট গেইন
  • প্রতি সেন্টিমিটারে বিন্দু
  • প্রতি ইঞ্চিতে বিন্দু
  • ডাবল ট্রাক
  • শুকনো স্থানান্তর
  • ডুল্টগেন
  • ডুওটোন
  • ডুপ্লেক্স মুদ্রণ
  • এডিশন (প্রিন্টমেকিং)
  • ইরোর ডিফিউশন
  • ফ্লোং
  • ফয়েল স্টাম্পিং
  • ফোলিও (মুদ্রণ)
  • ফর পজিশন অনলি
  • ফ্রিস্কেট
  • গ্যালি প্রুফ
  • গ্যাং রান মুদ্রণ
  • গ্রে কম্পোনেন্ট প্রতিস্থাপন
  • হাফটোন
  • হস্ত চালিত ছাঁচ
  • হেলবক্স
  • হ্যাক্সাক্রোম
  • হট স্ট্যাম্পিং
  • ইমপোজিশন
  • ইংকোমিটার
  • আইরিস মুদ্রাকর
  • আয়রন অন
  • জব ডেফিনেশন ফরমেট
  • কি প্লেট
  • কিলাইন
  • কোডাক প্রুফিং সফটওয়্যার
  • মেযোটিন্ট
  • নেনোট্রান্সফার মুদ্রণ
  • নন-ফটো ব্লু
  • ওভারপ্রিন্টিং
  • পত্রাঙ্কন
  • পেস্ট আপ
  • প্রাক-ফ্লাইট (মুদ্রণ)
  • প্রাকপ্রেস
  • প্রাকপ্রেস প্রুফিং
  • প্রেস চেক (মুদ্রণ)
  • রেজিস্ট্রেশন ব্ল্যাক
  • রিচ ব্ল্যাক
  • সেট অফ (মুদ্রণ)
  • স্পট কালার
  • স্টোচেস্টিক স্ক্রীনিং
  • স্থানন্তর-মুদ্রণ
  • ফাঁদ (মুদ্রণ)
  • আন্ডার কালার রিমুভাল

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Caves of the thousand Buddhas : Chinese art from the silk route। British Museum Publications। ১৯৯০-০১-০১। আইএসবিএন 0714114472 
  2. "Great Chinese Inventions". Minnesota-china.com. Retrieved July 29, 2010.
  3. Rees, Fran. Johannes Gutenberg: Inventor of the Printing Press
  4. "Oneline Gallery: Sacred Texts". British Library. Retrieved March 10, 2012.
  5. Tsuen-Hsuin, Tsien; Needham, Joseph (1985). Paper and Printing. Science and Civilisation in China. 5 part 1. Cambridge University Press. pp. 158, 201.
  6. Thomas Franklin Carter, The Invention of Printing in China and its Spread Westward, The Ronald Press, NY 2nd ed. 1955, pp. 176–178
  7. Hyatt., Mayor, A. (১৯৮০-০১-০১)। Prints & people : a social history of printed pictures। Princeton University Press। আইএসবিএন 0691003262 
  8. Richard W. Bulliet (1987), "Medieval Arabic Tarsh: A Forgotten Chapter in the History of Printing". Journal of the American Oriental Society 107 (3), p. 427-438.
  9. Master E.S., Alan Shestack, Philadelphia Museum of Art, 1967
  10. ...).,, Beckwith, Christopher I. (1945- (২০১১-০১-০১)। Empires of the Silk Road a history of Central Eurasia from the Bronze Age to the present। Princeton University Press। আইএসবিএন 9780691150345 
  11. Tsien 1985, p. 330
  12. Briggs, Asa and Burke, Peter (2002) A Social History of the Media: from Gutenberg to the Internet, Polity, Cambridge, pp.15-23, 61-73.
  13. Polenz, Peter von. (1991). Deutsche Sprachgeschichte vom Spätmittelalter bis zur Gegenwart: I. Einführung, Grundbegriffe, Deutsch in der frühbürgerlichen Zeit. (in German). New York/Berlin: Gruyter, Walter de GmbH.
  14. Christensen, Thomas (2007). "Did East Asian Printing Traditions Influence the European Renaissance?". Arts of Asia Magazine (to appear). Retrieved 2006-10-18.
  15. Mendoza, Juan González de (1585). Historia de las cosas más notables, ritos y costumbres del gran reyno de la China (in Spanish).
  16. Stavros., Stavrianos, Leften (১৯৯৯-০১-০১)। A global history : from prehistory to the 21st century। Prentice Hall। আইএসবিএন 9780139238970 
  17. Five hundred years of printing। Penguin Books। ১৯৭৯-০১-০১। আইএসবিএন 0140203435 
  18. Encyclopaedia Britannica. Retrieved November 27, 2006, from Encyclopaedia Britannica Ultimate Reference Suite DVD – entry 'printing'
  19. In 1997, Time–Life magazine picked Gutenberg's invention to be the most important of the second millennium. In 1999, the A&E Network voted Johannes Gutenberg "Man of the Millennium". See also 1,000 Years, 1,000 People: Ranking The Men and Women Who Shaped The Millennium which was composed by four prominent US journalists in 1998.
  20. Buringh, Eltjo; van Zanden, Jan Luiten: "Charting the 'Rise of the West': Manuscripts and Printed Books in Europe, A Long-Term Perspective from the Sixth through Eighteenth Centuries", The Journal of Economic History, Vol. 69, No. 2 (2009), pp. 409–445 (417, table 2)
  21. Ref: Briggs, Asa and Burke, Peter (2002) A Social History of the Media: from Gutenberg to the Internet, Polity, Cambridge, pp.15–23, 61–73.
  22. A., Güleryüz, Naim (২০১২-০১-০১)। Bizans'tan 20. yüzyıla Türk Yahudileri। Gözlem। আইএসবিএন 9789944994545 
  23. Watson, William J., "İbrāhīm Müteferriḳa and Turkish Incunabula", Journal of the American Oriental Society, 1968, volume 88, issue 3, page 436
  24. "A Lifetime's Collection of Texts in Hebrew, at Sotheby's", Edward Rothstein, New York Times, February 11, 2009
  25. Meyrowitz: "Mediating Communication: What Happens?" in "Questioning the Media", p. 41.
  26. Eisenstein in Briggs and Burke, 2002: p21
  27. Kipphan, Helmut (২০০১)। Handbook of print media: technologies and production methods (Illustrated সংস্করণ)। Springer। পৃ: 130–144। আইএসবিএন 3-540-67326-1 
  28. Kipphan, Helmut (২০০১)। Handbook of print media: technologies and production methods (Illustrated সংস্করণ)। Springer। পৃ: 976–979। আইএসবিএন 3-540-67326-1 
  29. Kipphan, Helmut (২০০১)। Handbook of print media: technologies and production methods (Illustrated সংস্করণ)। Springer। পৃ: 48–52। আইএসবিএন 3-540-67326-1 
  30. "When 2% Leads to a Major Industry Shift" Patrick Scaglia, August 30, 2007.
  31. "Recent Announcements Show Gains Being Made by PE Industry". Printed Electronics Now.
  32. "Printable transistors usher in 'internet of things'". The Register. Retrieved 21 September 2012.
  33. "Glossary"। সংগৃহীত ২০১৭-০৩-১৬ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]