সাঁড়া মাড়োয়ারী উচ্চ বিদ্যালয়

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সাঁড়া মাড়োয়ারী উচ্চ বিদ্যালয়
সাঁড়া মাড়োয়ারী উচ্চ বিদ্যালয়.jpg
প্রতিষ্ঠানটির প্রবেশপথ
অবস্থান

,
৬৬২০

তথ্য
প্রতিষ্ঠাকাল১৯১৭; ১০৪ বছর আগে (1917)
প্রতিষ্ঠাতাহরিপ্রসাদ ঝুন ঝুনওয়ালা
চেয়ারপারসনউপজেলা নির্বাহী অফিসার
অধ্যক্ষআইনুল ইসলাম
লিঙ্গসহ-শিক্ষা
ভাষার মাধ্যমবাংলা
ডাকনামএস এম স্কুল

সাঁড়া মাড়োয়ারী উচ্চ বিদ্যালয় পাবনা জেলার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত। বিদ্যালয়টি ১৯১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।[১] বিদ্যালয়টিতে ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ানো হয়। এছাড়া বিদ্যালয়ের কলেজ শাখায় একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী পড়ানো হয়।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৯১৭ সালে মাড়োয়ারী সম্প্রদায়ের হরি প্রসাদ ঝুনঝুনওয়ালা পদ্মা নদীর তীরে "সাঁড়া" নামক অঞ্চলে সাঁড়া মাড়োয়ারী উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রথম প্রতিষ্ঠা করেন। নদী ভাঙনের আশঙ্কায় বিদ্যালয়টির স্থানান্তরিত করে ঈশ্বরদী শহরে নিয়ে আসা হয়।[২] প্রতিষ্ঠানের অঞ্চল "সাঁড়া" ও প্রতিষ্ঠাতার সম্প্রদায় "মাড়োয়ারী" মিলিয়ে বিদ্যালয়টির নাম রাখা হয় সাঁড়া মাড়োয়ারী উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধান শিক্ষক ছিলেন বিদ্যাধর দাসগুপ্ত। [৩]

স্বাধীনতা সংগ্রামে অবদান[সম্পাদনা]

১৯৫২'র ভাষা আন্দোলন, ১৯৬২’র ছাত্র আন্দোলন, ১৯৬৬’র ছয়দফার আন্দোলন, ১৯৬৯’র গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে এই বিদ্যালয়ের ছাত্ররা ছিল অগ্রগামী। ১৯৬৪ সালে ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান এখানে জনসভার আয়োজন করেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদে সেই জনসভা ভণ্ডুল হয়ে গিয়েছিল।[২]

সংক্ষিপ্ত বিবরণ[সম্পাদনা]

২০১১ সালে এই বিদ্যালয়কে মডেল স্কুল হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি দেওয়া হয়। বর্তমানে বিদ্যালয় শাখায় মাত্র ১৬ জন শিক্ষক ও ১৩১১ জন শিক্ষার্থী আছে। কলেজ শাখায় ২০ জন শিক্ষক এবং ৭৫০ জন শিক্ষার্থী আছে। বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাকিল মাহমুদ এই বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতি পদে আছে।[২]

ঈশ্বরদী শহরের প্রাণকেন্দ্রে ৮.১৯ একর জমির উপর বিদ্যালয়টি অবস্থিত। এখানে ১৫০ ফুট প্রশস্ত এবং ১৮০ ফুট দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট একটি খেলার মাঠ রয়েছে। এছাড়া এই বিদ্যালয়ে একটি বইসমৃদ্ধ লাইব্রেরী ও বিজ্ঞানাগার আছে।[২]

২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসের প্রথম দিকে শতবর্ষ উৎযাপনের প্রস্তুতি চলছে।[৪]

কৃতি শিক্ষার্থী[সম্পাদনা]

এই বিদ্যালয়ের খ্যাতিমান কৃতী শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ভারতের সাবেক সেনাপ্রধান জেএস চৌধুরী, সাবেক এমপি মনজুর রহমান বিশ্বাস, পুঠিয়ার সাবেক এমপি ফারুক সাহেব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় রংপুর এর পঞ্চম উপাচার্য অধ্যাপক হাসিবুর রশীদ, সামরিক বাহিনীর বিগ্রেডিয়ার জেনারেল ডা. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল খালেক, কামিনী হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা আমেরিকা প্রবাসী ড. মোশতাক আহমেদ, কানাডা প্রবাসী প্রকৌশলী এলজিইডি’র পরিচালক মোশতাক আহমেদ সাবু প্রমুখ।[২]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]