শুকসপ্ততি
| লেখক | চিন্তামণি ভট্ট |
|---|---|
| প্রকাশনার স্থান | ভারত |
| ভাষা | সংস্কৃত |
| ধরন | উপকথা |
প্রকাশনার তারিখ | দ্বাদশ শতাব্দী |

শুকসপ্ততি (অর্থাৎ শুকপাখির বর্ণিত সত্তরটি কাহিনি) হলো সংস্কৃত ভাষায় রচিত একটি প্রাচীন গল্পসংকলন। এই গ্রন্থের মূল উপজীব্য হলো একজন নারী ও তার পোষা শুকপাখির কথোপকথন। কাহিনি অনুসারে, নারীর স্বামী যখন প্রবাসে থাকেন, তখন সেই নারী তার উপপতির সাথে অভিসারে গমন করতে উদ্যত হন। এমতাবস্থায়, তাকে গৃহের বাইরে যাওয়া থেকে নিবৃত্ত করার মানসে তার পোষা শুকপাখি প্রতি রাতে তাকে একটি করে গল্প শোনায়।
এই গল্পগুলির মূল বিষয়বস্তু প্রায়শই অবৈধ সম্পর্ক, তদুদ্ভুত সমস্যা এবং বুদ্ধিমত্তার সাথে সেই সংকটময় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায়। যদিও শুকপাখির প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো তার গৃহকর্ত্রীকে গৃহত্যাগ থেকে বিরত রাখা, তথাপি সে কোনো প্রকার শুষ্ক নীতিবাগিশের ভূমিকা পালন করে না। সত্তরটি রজনী অতিবাহিত হওয়ার পর, সেই নারীর স্বামী বিদেশ থেকে প্রত্যাগমন করেন এবং যাবতীয় অপরাধ মার্জনা করেন। গ্রন্থের অধিকাংশ গল্পই আদিরসাত্মক এবং মুক্তকচ্ছ; এমনকি কিছু গল্প অশ্লীলতার পর্যায়ভুক্ত। গল্পগুলিতে চিত্রিত পরিস্থিতিগুলি কেবল বৈবাহিক সম্পর্কের সীমাকেই পরীক্ষা করে না, বরং কখনও কখনও তা অজাচার এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে পশুগমনের মতো নিষিদ্ধ বিষয়কেও স্পর্শ করে।
এই সংকলনটি সংস্কৃত সাহিত্যের কথা ঐতিহ্যের অন্তর্গত। কিছু কাহিনি সংস্কৃত সাহিত্যের পূর্ববর্তী প্রখ্যাত সংকলনসমূহ থেকে পুন গৃহীত হয়েছে। সংস্কৃত সাহিত্যের চিরায়ত প্রথা অনুসারে, গদ্যের মাঝে মাঝে শ্লোক বা পদ্যের সন্নিবেশ ঘটানো হয়েছে, যার অনেকগুলিই মৌলিক এবং কিছু পূর্ববর্তী গ্রন্থ থেকে সংকলিত। গ্রন্থটির প্রকৃত রচনাকাল অজ্ঞাত হলেও, বর্তমান পাণ্ডিত্যপূর্ণ গবেষণা অনুযায়ী দ্বাদশ শতাব্দীতেই এই সংকলনটি তার বর্তমান রূপ লাভ করেছিল বলে ধারণা করা হয়; যদিও প্রাপ্ত প্রাচীনতম পাণ্ডুলিপিটি পঞ্চদশ শতাব্দীর। এই গ্রন্থটি বহু ভাষায় অনূদিত হয়েছে, যার মধ্যে চতুর্দশ শতাব্দীতে ফার্সি ভাষায় অনুবাদ এবং ৭৭৩ হিজরিতে (১৩৭১ খ্রিষ্টাব্দ) জনৈক কাজি হাসান কর্তৃক 'হিকায়াত বায়ান বুদিমান' নামে মলয় ভাষায় অনুবাদ উল্লেখযোগ্য। ২০০০ খ্রিষ্টাব্দে এটি সর্বশেষে ইংরেজি ভাষায় অনূদিত হয়।
গঠন
[সম্পাদনা]এই সংকলনটি গর্ভকাহিনী ন্যাস অনুসরণ করে রচিত,[১] যেখানে মূল আখ্যানের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে মোট ৭২টি গল্প সন্নিবেশিত হয়েছে। এর মধ্যে একটি গল্প মূল আখ্যান হিসেবে কাজ করে এবং অবশিষ্ট ৭১টি গল্প শুকপাখি কর্তৃক বর্ণিত হয়।
মূল আখ্যানটি মদন বিনোদ নামক এক বণিকের বখে যাওয়া পুত্র এবং তার স্ত্রী প্রভাবতীকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। বণিকের এক ব্রাহ্মণ বন্ধু মদনকে ধর্মানুমোদিত পথে ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে তাকে একটি বাকপটু শুকপাখি উপহার দেন। এই প্রচেষ্টা সফল হয়, কারণ শুকপাখির বর্ণিত একটি গল্প মদনকে কর্তব্যপরায়ণতার পথে ফিরিয়ে আনে। নিজের ভুল বুঝতে পেরে, মদন বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে বিদেশ ভ্রমণে যাত্রা করেন এবং তার স্ত্রীকে একাকী রেখে যান।[২]
স্বামীর প্রস্থানে প্রভাবতী প্রাথমিকভাবে বিষণ্ণ হলেও, শীঘ্রই তিনি অসৎ চরিত্রের নারীদের সংস্পর্শে আসেন, যারা তাকে উপপতি গ্রহণের কুপরামর্শ প্রদান করে। তিনি এতে সম্মত হন এবং পরবর্তী সত্তরটি রাত ধরে তিনি প্রেমিকের সাথে সাক্ষাতের প্রস্তুতি নেন। কিন্তু প্রতি রাতেই শুকপাখি একটি করে নতুন গল্পের ফাঁদে ফেলে তাকে গৃহে আটকে রাখতে সক্ষম হয়। শুকপাখি সাধারণত তার গৃহকর্ত্রীর অভিপ্রায়ের প্রতি মৌখিক সমর্থন জানিয়ে বলে যে, কামপুরুষার্থ বা ইন্দ্রিয়সুখ অন্বেষণই জীবনের লক্ষ্য এবং সে কামবাসনার শক্তিকে স্বীকার করে। অতঃপর সে কোনো এক সংকটময় পরিস্থিতির অবতারণা করে প্রভাবতীকে প্রশ্ন করে যে, গল্পের নায়িকার মতো তারও কি সেই বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়ার মতো বুদ্ধি আছে? প্রভাবতী স্বাভাবিকভাবেই গল্পের বিস্তারিত জানতে কৌতূহলী হন এবং শুকপাখি তখন গল্প বলা শুরু করে। গল্প শেষ হতে হতে রাত অতিক্রান্ত হয় এবং প্রভাবতী সেই রাতের জন্য তার অভিসার বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেন।
সপ্ততিতম রজনীতে মদন ফিরে আসেন এবং প্রভাবতী নিজের স্খলন বা ভুল বুঝতে পারেন। শুকপাখির প্ররোচনায় তিনি স্বামীর নিকট তার সমস্ত দোষ অকপটে স্বীকার করেন এবং শারীরিক ব্যভিচার থেকে তাকে রক্ষা করার জন্য শুকপাখিকে ধন্যবাদ জানান। শুকপাখির বর্ণিত সত্তরতম গল্পটি মূলত প্রভাবতীর ক্ষমার আবেদন, যেখানে যুক্তি দেখানো হয় যে প্রভাবতী তার ভুলের জন্য সম্পূর্ণ দায়ী ছিলেন না, বরং কুসঙ্গই তাকে বিপথগামী করেছিল।[৩]
কাহিনিসমূহ
[সম্পাদনা]গল্পগুলির সাধারণ ধরণ হলো, কোনো স্ত্রী ব্যভিচারে লিপ্ত থাকা অবস্থায় স্বামীর নিকট ধরা পড়ার উপক্রম হয়। তখন তাকে নিজের প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব ব্যবহার করে সেই সংকট থেকে উদ্ধার পেতে হয় এবং সে সর্বদা তা করতে সক্ষম হয়।[৪] একটি গল্পে, স্ত্রীকে এক যক্ষের দুই পায়ের মধ্য দিয়ে গমন করতে হয়, যা সত্য কথা না বললে কোনোভাবেই সম্ভব নয়। স্ত্রী তার প্রেমিককে পাগলের ছদ্মবেশে সজ্জিত করে এবং প্রেমিক তাকে জাপটে ধরে। এর ফলে সে সত্যবচনে শপথ করে বলতে পারে যে, তার স্বামী এবং ঐ পাগলটি ব্যতীত অন্য কোনো পুরুষ তাকে জীবনে স্পর্শ করেনি।[৫]
প্রায়শই গল্পগুলি নিষিদ্ধাচারের সীমা পরীক্ষা করে। একটি ক্ষেত্রে, স্ত্রী তার প্রেমিককে নিজের ভাই হিসেবে পরিচয় দিয়ে গৃহে প্রবেশের সুযোগ করে দেয়। যখন প্রেমিক তাকে 'বোন' হিসেবে গণ্য করে যৌনমিলনে অস্বীকৃতি জানায়, তখন সেই নারী তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনার হুমকি দেয় এবং শেষ পর্যন্ত প্রেমিককে নতি স্বীকারে বাধ্য করে।[৬] অন্য একটি গল্পে, পিতা এবং পুত্র উভয়েই একই নারীর প্রেমিক, এবং স্বামী ঘটনাক্রমে সেই দৃশ্য দেখে ফেললে নারীকে সেই সংকট মোকাবেলা করতে হয়।[৭]
গল্পগুলি প্রায়শই অত্যন্ত স্পষ্টভাষী, যা অশ্লীল সাহিত্যের পর্যায়ভুক্ত হতে পারে। একটি ক্ষেত্রে, প্রতারিত স্বামী তার প্রতিপক্ষের লিঙ্গ চেপে ধরে, যখন সেই প্রেমিক আক্ষরিক অর্থেই স্বামীর পিঠের আড়ালে স্ত্রীর সাথে সঙ্গমরত ছিল। এমতাবস্থায় স্ত্রীকে তার প্রেমিককে মুক্ত করার জন্য একটি কৌশল উদ্ভাবন করতে হয়।[৮] প্রতারিত স্বামীদের সাধারণত পরিস্থিতি সম্পর্কে অজ্ঞ হিসেবে চিত্রিত করা হয়, যদিও কখনও কখনও তাদের সরলমতি হিসেবে দেখানো হয় এবং স্ত্রীরা প্রায়শই তাদের অজ্ঞতা ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন স্বভাবের সুযোগ গ্রহণ করে। তবে, একটি ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে, এক রাজা (স্বামী) প্রেমিকের বুদ্ধিমত্তায় মুগ্ধ হয়ে তার স্ত্রীকে প্রেমিকের সাথে যাওয়ার অনুমতি দেন; এই যুক্তিতে যে, প্রেমিকের মতো কবি দুর্লভ হলেও তার স্ত্রীর মতো নারী দুর্লভ নয়।[৯]
কিছু গল্পে পুরুষদেরও অনুরূপ পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে দেখা যায়, যদিও এক্ষেত্রে সমস্যাটি নিজের স্ত্রীর পরিবর্তে নারীর স্বামীর রূপ ধরে উপস্থিত হয়। অন্যান্য সাধারণ গল্পগুলিতে দেখা যায় পুরুষরা তাদের প্রেমিকাদের (যারা প্রায়শই গণিকা) দেওয়া উপহারসামগ্রী পুনরুদ্ধারের জন্য লোকলজ্জার ভয় দেখানোর কৌশল অবলম্বন করছে।[১০] অবিবাহিত নারীদের অবৈধ যৌনসম্পর্কের ঘটনা (গণিকাদের কথা বাদ দিলে) অত্যন্ত বিরল।
একটি গল্পে একই সাথে পশুগমন এবং দেবতার প্রতি পরিহাসের চিত্র ফুটে উঠেছে। এতে এক নারী কোনো একটি বিশেষ (সম্পূর্ণ বৈধ) উদ্দেশ্য সাধনের লক্ষ্যে গণপতির বিগ্রহকে চুম্বন করার মানত করে। কিন্তু দুষ্টু বিগ্রহটি তার ওষ্ঠ যুগল কামড়ে ধরে এবং ছাড়তে চায় না। শেষ পর্যন্ত স্ত্রীকে উদ্ধার করার জন্য স্বামীকে গাধার সাথে যৌনক্রিয়ার অভিনয় করে বিগ্রহকে হাসাতে হয়।[১১]
এই গল্পগুলি সেই সময়ের এক "আকর্ষণীয় সামাজিক দলিল" হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি এমন এক সমাজকে চিত্রিত করে যেখানে নারীর যৌনতাকে খোলাখুলিভাবে স্বীকার করা হতো এবং গণিকারা সমাজের একটি অর্ধ-বৈধ অংশ হিসেবে গৃহীত ছিল। একটি গল্পে দেখা যায়, এক পিতা তার পুত্রকে রূপোপজীবিনীদের ছলনা থেকে নিজের সম্পদ রক্ষা করার কৌশল শেখানোর জন্য এক কুট্টনীকে (ঘটক বা মধ্যস্থতাকারী নারী) নিয়োগ করছেন।
সকল গল্পই যে যৌন-অভিযানমূলক, তা নয়। কিছু গল্প জীবনের অন্যান্য জটিল পরিস্থিতির মোকাবেলা সংক্রান্ত এবং এর মধ্যে কয়েকটি সরাসরি পঞ্চতন্ত্র থেকে গৃহীত হয়েছে।[১২]
শ্লোকাবলি
[সম্পাদনা]অনেক সংস্কৃত গ্রন্থের ন্যায়, এই আখ্যানের গদ্যের মাঝেও শ্লোক বা পদ্যের ব্যবহার রয়েছে।
কিছু শ্লোক আদিরসাত্মক বা কামোদ্দীপক:[১৩]
| “ | প্রেমিকের শয্যাদ্বয়ের মধ্যে শ্রেষ্ঠ যেটি পার্শ্বদেশ যার উচ্চ, মাঝারি শয্যার উপরিতল সমতল নিকৃষ্টতম শয্যা সেটি, যার মধ্যভাগ স্ফীত, |
” |
আবার কিছু শ্লোকে গভীর প্রজ্ঞার প্রকাশ ঘটেছে:[১৪]
| “ | বিত্তবান ব্যক্তিই জ্ঞানী, তিনিই বদান্য এবং সজ্জন, |
” |
কোনো কোনো ক্ষেত্রে শ্লোকগুলি গল্পের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং চরিত্রদের কথোপকথনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। অন্যান্য ক্ষেত্রে, এগুলি পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহ যেমন হিতোপদেশ, পঞ্চতন্ত্র, এমনকি পুরাণ থেকেও উদ্ধৃত হয়েছে।
ইতিহাস
[সম্পাদনা]যদিও এই সংকলনের প্রাচীনতম প্রাপ্ত পাণ্ডুলিপিটি পঞ্চদশ শতাব্দীর, তথাপি অন্যান্য প্রাচীন গ্রন্থে এর উল্লেখ বহু পূর্ব থেকেই পাওয়া যায়। বর্তমান পাণ্ডিত্যপূর্ণ গবেষণা অনুযায়ী গ্রন্থটির বর্তমান রূপটি দ্বাদশ শতাব্দীতে গঠিত, যদিও এর স্বতন্ত্র গল্পগুলি আরও প্রাচীন এবং প্রায়শই এগুলি জাতক কাহিনি এবং কথাসরিৎসাগর গ্রন্থেও পরিলক্ষিত হয়।[১৫]
সংস্কৃত শুকসপ্ততি-র পাঠের ইতিহাস সাধারণ ধারণার চেয়েও জটিল। রিচার্ড শ্মিট এর তিনটি সংস্করণ বা পাঠান্তর শনাক্ত করেছেন: দুটি প্রধান রূপ, টেক্সটাস সিমপ্লিসিয়র এবং টেক্সটাস অরনেটিওর, যার প্রতিটি একাধিক পাণ্ডুলিপি দ্বারা সমর্থিত; এবং একটি গৌণ টেক্সটাস এলিগ্যান্টিওর, যা শুধুমাত্র একটি অসম্পূর্ণ সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণিত এবং যার ভাষা ও ব্যাকরণ অন্য দুটির মধ্যবর্তী। শ্মিট এই তিনটি সংস্করণই সম্পাদনা করেছেন,[১৬][১৭][১৮][১৯] এবং প্রধান দুটি সংস্করণের জার্মান অনুবাদ করেছেন।[২০][২১] ভারতীয় মুদ্রিত সংস্করণটি[২২] কোনো উল্লেখ ছাড়াই সিমপ্লিসিয়র পাঠ মুদ্রণ করেছে এবং এটিই সর্বাধিক পরিচিত ইংরেজি অনুবাদের ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।[২৩]
গ্রন্থটির রচয়িতা সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। কোনো টিকে থাকা সিমপ্লিসিয়র বা এলিগ্যান্টিওর পাণ্ডুলিপির পুষ্পিকায় চয়িতার নাম উল্লেখ নেই এবং বিদ্যমান অরনেটিওর পাণ্ডুলিপিতেও অনুরূপ প্রমাণের অভাব রয়েছে। হালে-র অধ্যাপক ই. হুলৎশ এর মালিকানাধীন এবং বর্তমানে নিখোঁজ একটি অরনেটিওর অনুলিপিতে নাকি "শ্রীচিন্তামণিভট্টানাং শুকসপ্ততিঃ সমাপ্তা" শীর্ষক পুষ্পিকা ছিল বলে হার্টেল উল্লেখ করেছেন,[২৪] যা কখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। পরবর্তীকালে সাবা টোটোসি সেই গ্রন্থে বর্ণিত চিন্তামণি বা ইচ্ছাপূরণকারী রত্ন সম্পর্কিত একটি গল্পের সাথে রচয়িতার সৃষ্টিশীল পদ্ধতির সংযোগ স্থাপন করে এই দাবির সমর্থনে যুক্তি প্রদান করেন।[২৫][২৬][২৭] অধিকাংশ আধুনিক পণ্ডিত,[২৮] হার্টেল এবং টোটোসির মত অনুসরণ করে, এই অজ্ঞাতনামা চিন্তামণি ভট্টকেই অরনেটিওর-এর রচয়িতা হিসেবে গ্রহণ করেন, তবে সিমপ্লিসিয়র-এর নয়।
এর কালক্রম নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। সিমপ্লিসিয়র এবং অরনেটিওর (তথা এলিগ্যান্টিওর) একে অপরের সরাসরি বংশধর না হয়ে বরং কোনো অজ্ঞাত সাধারণ উৎস থেকে সমান্তরালভাবে বিকশিত হয়েছে বলে মনে হয়। টোটোসি এই আদিরূপটিকে সামাজিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের ভিত্তিতে নবম শতাব্দীর প্রথমার্ধে স্থাপন করেন এবং যুক্তি দেন যে অরনেটিওর, যা নিজেই একটি সংকর রূপ, সেই আদিরূপের চরিত্র সবচেয়ে ভালোভাবে সংরক্ষণ করেছে।[২৯] পূর্ববর্তী দাবিগুলি, যে সিমপ্লিসিয়র হলো মূল রূপ অথবা অরনেটিওর-এর একটি অদক্ষ সংক্ষিপ্তসার, তার কোনো দৃঢ় পাঠগত ভিত্তি নেই।
অনুবাদ
[সম্পাদনা]এই গ্রন্থটি বহু ভারতীয় এবং অভারতীয় ভাষায় অনূদিত হয়েছে। চতুর্দশ শতাব্দীতে, ফার্সি পণ্ডিত নখশবী এটিকে তুতিনামা হিসেবে অনুবাদ করেন। পরবর্তীকালে এই ফার্সি রূপান্তরটি তুর্কি ভাষায় অনূদিত হয় এবং জার্মান অনুবাদের ভিত্তি গঠন করে, যা ছিল কোনো পশ্চিমা ভাষায় এর প্রথম অনুবাদ।
রিচার্ড শ্মিট অনূদিত জার্মান সংস্করণ "Der textus ornatior der Çukasaptati" ১৮৯৬ খ্রিষ্টাব্দে স্টুটগার্ট থেকে ডব্লিউ কোলহ্যামার কর্তৃক প্রকাশিত হয়।[৩০]
এটি পালাভেকারি কাদিরিপতি কর্তৃক তেলুগু কাব্যিক ফর্মে অনূদিত হয়েছে। ১৯৩৫ ও ১৯৫১ সালে ভাভিলা রামস্বামী শাস্ত্রুলু অ্যান্ড সন্স এই কর্মটি প্রকাশ করে।[৩১] ১৯৭৯ সালে বি. রামরাজুর সম্পাদনায় অন্ধ্রপ্রদেশ সাহিত্য আকাদেমি এটি প্রকাশ করে।[৩২]
মালয়ালম ভাষায় 'থাথা পারঞ্জা কথাকেল' নামে এর একটি অনুবাদ পাওয়া যায়।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]
২০০০ খ্রিষ্টাব্দে, হার্পারকলিন্স ইন্ডিয়া ভারতীয় কূটনীতিক ও পণ্ডিত আদিত্য নারায়ণ ধৈর্যশীল হাকসার কর্তৃক মূল সংস্কৃত থেকে কৃত একটি অনুবাদ প্রকাশ করে।[৩৩] ফার্সি অনুবাদের ওপর নির্ভর না করে মূল সংস্কৃত উৎস থেকে ইংরেজিতে এটিই প্রথম অনুবাদ বলে দাবি করা হয়।
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Haksar, Aditya Narayan Dhairyasheel (২০০০)। Shuka Saptati — Seventy tales of the Parrot। India: HarperCollins India। xiii। আইএসবিএন ৮১-৭২২৩-৩৭০-১।
- ↑ Haksar, Aditya Narayan Dhairyasheel (২০০০)। Shuka Saptati — Seventy tales of the Parrot। India: HarperCollins India। পৃ. ১–৬। আইএসবিএন ৮১-৭২২৩-৩৭০-১।
- ↑ Haksar, Aditya Narayan Dhairyasheel (২০০০)। Shuka Saptati — Seventy tales of the Parrot। India: HarperCollins India। পৃ. ২১৯–২২৭। আইএসবিএন ৮১-৭২২৩-৩৭০-১।
- ↑ Haksar, Aditya Narayan Dhairyasheel (২০০০)। Shuka Saptati — Seventy tales of the Parrot। India: HarperCollins India। xiv। আইএসবিএন ৮১-৭২২৩-৩৭০-১।
- ↑ Haksar, Aditya Narayan Dhairyasheel (২০০০)। Shuka Saptati — Seventy tales of the Parrot। India: HarperCollins India। পৃ. ৬৩–৬৬। আইএসবিএন ৮১-৭২২৩-৩৭০-১।
- ↑ Haksar, Aditya Narayan Dhairyasheel (২০০০)। Shuka Saptati — Seventy tales of the Parrot। India: HarperCollins India। পৃ. ৫১–৫৭। আইএসবিএন ৮১-৭২২৩-৩৭০-১।
- ↑ Haksar, Aditya Narayan Dhairyasheel (২০০০)। Shuka Saptati — Seventy tales of the Parrot। India: HarperCollins India। পৃ. ১০২–১০৩। আইএসবিএন ৮১-৭২২৩-৩৭০-১।
- ↑ Haksar, Aditya Narayan Dhairyasheel (২০০০)। Shuka Saptati — Seventy tales of the Parrot। India: HarperCollins India। পৃ. ১০৪–১০৬। আইএসবিএন ৮১-৭২২৩-৩৭০-১।
- ↑ Haksar, Aditya Narayan Dhairyasheel (২০০০)। Shuka Saptati — Seventy tales of the Parrot। India: HarperCollins India। পৃ. ১৮০–১৮৫। আইএসবিএন ৮১-৭২২৩-৩৭০-১।
- ↑ Haksar, Aditya Narayan Dhairyasheel (২০০০)। Shuka Saptati — Seventy tales of the Parrot। India: HarperCollins India। পৃ. ১১৯–১২০। আইএসবিএন ৮১-৭২২৩-৩৭০-১।
- ↑ Haksar, Aditya Narayan Dhairyasheel (২০০০)। Shuka Saptati — Seventy tales of the Parrot। India: HarperCollins India। পৃ. ১৮৬–১৮৭। আইএসবিএন ৮১-৭২২৩-৩৭০-১।
- ↑ Haksar, Aditya Narayan Dhairyasheel (২০০০)। Shuka Saptati — Seventy tales of the Parrot। India: HarperCollins India। পৃ. xv। আইএসবিএন ৮১-৭২২৩-৩৭০-১।
- ↑ Haksar, Aditya Narayan Dhairyasheel (২০০০)। Shuka Saptati — Seventy tales of the Parrot। India: HarperCollins India। পৃ. ১৮৩–১৮৪। আইএসবিএন ৮১-৭২২৩-৩৭০-১।
- ↑ Haksar, Aditya Narayan Dhairyasheel (২০০০)। Shuka Saptati — Seventy tales of the Parrot। India: HarperCollins India। পৃ. ১৩১। আইএসবিএন ৮১-৭২২৩-৩৭০-১।
- ↑ Haksar, Aditya Narayan Dhairyasheel (২০০০)। Shuka Saptati — Seventy tales of the Parrot। India: HarperCollins India। পৃ. i–xx। আইএসবিএন ৮১-৭২২৩-৩৭০-১।
- ↑ Schmidt, Richard (1893). Die Çukasaptati. Textus simplicior. Leipzig: Abhandlungen für die Kunde des Morgenlandes, Band X, No. 1.
- ↑ Schmidt, Richard (1900). “Der Textus simplicior der Sukasaptati in der Recension der Handschrift A.” Zeitschrift der Deutschen Morgenländischen Gesellschaft 54: 515–547.
- ↑ Schmidt, Richard (1901a). “Der Textus simplicior der Sukasaptati in der Recension der Handschrift A.” Zeitschrift der Deutschen Morgenländischen Gesellschaft 55: 1–44.
- ↑ Schmidt, Richard (1901b). Der Textus ornatior der Çukasaptati. München: Verlag der K. Akademie der Wissenschaften.
- ↑ Schmidt, Richard (1894). Die Çukasaptati (textus simplicior). Kiel: C. F. Haeseler.
- ↑ Schmidt, Richard (1896). Der Textus ornatior der Çukasaptati: Ein Beitrag zur Märchenkunde. Stuttgart: W. Kohlhammer.
- ↑ Rāmakānta Tripāṭhī (ed.) (1966). Śukasaptatiḥ: ‘Vinodinī’ saṃskṛta–hindī vyākhyopetā. Haridas Sanskrit Series No. 269. Varanasi: Chowkhamba Sanskrit Series Office.
- ↑ Haksar, A. N. D. (2000). Shuka Saptati: Seventy Tales of the Parrot. New Delhi: HarperCollins Publishers.
- ↑ Hertel, Johannes (1914). Das Pañcatantra: Seine Geschichte und seine Verbreitung. Leipzig–Berlin: B. G. Teubner, pp. 234–249, esp. p. 242.
- ↑ Töttössy, Csaba (1962). A Sukasaptati és az ind társadalom. Candidate thesis. Budapest: MTA. (https://real-d.mtak.hu/1582/)
- ↑ Töttössy, Csaba (1976). “The 16th Story of the Textus Ornatior of the Śukasaptati.” Acta Orientalia Academiae Scientiarum Hungaricae 24: 285–296.
- ↑ Harmatta, János (1963). “A Śukasaptati történetéhez.” Antik Tanulmányok – Studia Antiqua 10: 239–247.
- ↑ Gostishchev, Viliam (2021). “Les soixante-dix contes du perroquet.” ὁ λύχνος n° 159 (juillet 2021). (https://ch.hypotheses.org/4370).
- ↑ Töttössy 1962; Töttössy 1976; Harmatta 1963.
- ↑ Schmidt, Richard (১৮৯৬)। Der textus ornatior der Çukasaptati;। Stuttgart: Stuttgart, W. Kohlhammer।
- ↑ Kadiripati, Palavekari (১৯৫১)। Sukasaptati (তেলুগু ভাষায়)। Madras: Vavilla Ramaswamy Sastrulu and Sons। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুন ২০২০।
- ↑ Sukasaptati (তেলুগু ভাষায়)। Hyderabad: Andhra Pradesh Sahitya Akademi। ১৯৭৯। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুন ২০২০।
- ↑ আইএসবিএন ৯৭৮-৮১২৯১১৫১৬৪.