শরণ রানী বাকলিওয়াল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
শরণ রানী বাকলিওয়াল
জন্ম নামশরণ রানী মাথুর
জন্ম(১৯২৯-০৪-০৯)৯ এপ্রিল ১৯২৯
দিল্লি
মৃত্যু৮ এপ্রিল ২০০৮(2008-04-08) (বয়স ৭৮)
দিল্লি
ধরনহিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীত
পেশাযন্ত্রবাদন, সঙ্গীতবিদ
বাদ্যযন্ত্রসমূহসরোদ

শরণ রানী বাকলিওয়াল (৯ এপ্রিল ১৯২৯ – ৮ এপ্রিল ২০০৮) একজন সরোদ বাদক ও সঙ্গীতবিদ ছিলেন।[১][২] পঞ্চাদশ থেকে ঊনবিংশ শতাব্দীর ৩৭৯ টি বাদ্যযন্ত্র তার ব্যক্তিগত সংগ্রহে ছিল। সেগুলো এখন দিল্লিতে অবস্থিত জাতীয় সংগ্রহালয়ের 'শরণ রানী বাকলিওয়াল বাদ্যযন্ত্র গ্যালারি'র অন্তর্গত।[৩]

প্রারম্ভিক জীবন ও শিক্ষণ[সম্পাদনা]

১৯২৯ সালের এপ্রিল মাসের ৯ তারিখে পুরানো দিল্লিতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। জন্মের পর তার নাম রাখা হয় শরণ রানী মাথুর। তিনি জন্মেছিলেন এক রক্ষণশীল হিন্দু পরিবারে।[৩] ছোটবেলায় ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ ও তার পুত্র ওস্তাদ আলী আকবর খানের কাছ থেকে সরোদ বাজানো শিখেন তিনি।

রক্ষণশীল পরিবারে জন্মগ্রহণ করা সত্ত্বেও তিনি সংগীতচর্চা অব্যাহত রাখেন। আমরা এমন সময়ের কথা বলছি যখন সংগীতচর্চাকে পেশা হিসেবে গ্রহণকে বাইজিদের কাজ হিসেবে ধরা হত। তিনি সংগীতের পাশাপাশি ভারতীয় ধ্রুপদী নৃত্যের একটি ধারা কত্থকনৃত্য এবং মণিপুরি নৃত্যও শিখেছিলেন।[৪] সাংস্কৃতিক জীবনের পাশাপাশি লেখাপড়াও চালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। তিনি ১৯৫৩ সালে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাস করেছিলেন।

সংগীত জীবন[সম্পাদনা]

ত্রিশের দশকের শেষ থেকে পরবর্তী সাত দশক ভারতের বিভিন্ন স্থানে সরোদ বাজিয়েছেন শরণ রানী বাকলিওয়াল। তিনি জাতিসংঘভুক্ত সংস্থা ইউনেস্কোর জন্য বাজিয়েছিলেন। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সের নামি দামি রেকর্ডিং কোম্পানিতে তার সরোদ বাজানো রেকর্ড করা হয়েছে। পণ্ডিত জওহরলাল নেহ্‌রু তাকে 'ভারতের সাংস্কৃতিক দূত' বলে অভিহিত করেছিলেন।[৫] তিনি দূরদর্শনআকাশবাণীর প্রথম দিককার শিল্পী ছিলেন।

সংগীতবিষয়ক গ্রন্থ লিখন ও সংগীত শিক্ষাদান[সম্পাদনা]

শরণ রানী বাকলিওয়াল দ্য ডিভাইন সরোদ: ইটস অরিজিন অ্যান্টিকুইটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট শিরোনামে সরোদের ইতিহাস নিয়ে একটি বই লেখেন।[৬] ১৯৯২ সালে ভারতের তৎকালীন উপরাষ্ট্রপতি কে. আর. নারায়ণন কর্তৃক বইটির মোড়ক উন্মোচিত হয়।[৩] ২০০৮ সালে বইটির দ্বিতীয় সংস্করণের মোড়ক উন্মোচিত হয় ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী আই কে গুজরাল কর্তৃক। এর বাইরে তিনি সংগীতবিষয়ক বিভিন্ন নিবন্ধও লিখেছেন।

তার বাসায় থেকে বহু শিক্ষার্থী তার কাছ থেকে শিক্ষালাভ কর‍ত। তিনি গুরু-শিষ্য প্রথায় বিশ্বাসী ছিলেন ও তাঁদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করতেন না। শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে তার বাসায় থাকার সুযোগ পেত।

জাতীয় জাদুঘরে শরণ রানী বাকলিওয়াল গ্যালারি

তিনি তার সংগৃহীত বাদ্যযন্ত্র দিল্লিতে অবস্থিত জাতীয় জাদুঘরকে দান করেন। তার দানকৃত বাদ্যযন্ত্রগুলো নিয়ে গড়ে উঠেছে 'শরণ রানী বাকলিওয়াল গ্যালারি।

বাদ্যযন্ত্র সংগ্রহ[সম্পাদনা]

'শরণ রানী বাকলিওয়াল গ্যালারি'তে বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র

তিনি দেশের বিভিন্ন রাজ্য ঘুরে ঘুরে পঞ্চদশ থেক্র ঊনবিংশ শতাব্দীর বহু বাদ্যযন্ত্র সংগ্রহ করেছেন। এসব বাদ্যযন্ত্রের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল:[৭]

  • ময়ূরী সেতার (১৮৫০), রাজস্থান
  • বাঘের মাথাবিশিষ্ট রাবাব, কাশ্মীর
  • দুরবারি সেতার (১৮৫০)
  • বীণা (১৮২৫)

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

তেহরানের একটি কন্সার্টে সরোদ বাজাচ্ছেন শরণ রানী বাকলিওয়াল

১৯৬০ সালে তিনি সুলতান সিং বাকলিওয়ালের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৭৪ সালে রাধিকা নারায়ণ নামে তাঁদের এক কন্যার জন্ম হ[৩]

মৃত্যু[সম্পাদনা]

ক্যান্সারের সাথে দীর্ঘদিন লড়াইয়ের পর ২০০৮ সালের ৮ এপ্রিল তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

পুরস্কার ও সম্মাননা[সম্পাদনা]

২০০৪ সালে ভারত সরকার তাকে 'জাতীয় শিল্পী' হিসেবে ঘোষণা করে। তিনিই প্রথম মহিলা বাদ্যযন্ত্রী, যিনি এমন খেতাব অর্জন করেন।

তার প্রাপ্ত অন্যান্য পুরস্কার ও সম্মাননা গুলো হল:

  • বিষ্ণু দিগাম্বর পারিতোষিক (১৯৫৩)
  • পদ্মশ্রী (১৯৬৮) [৮]
  • সাহিত্য কলা পরিষদ পুরস্কার (১৯৭৪)[৯]
  • 'আচার্য' ও 'তন্ত্রী বিলাস' (১৯৮৯)
  • সংগীত নাটক একাডেমি পুরস্কার (১৯৮৬) [১০]
  • রাজীব গান্ধী এওয়ার্ড ফর ভোকেশনাল এক্সিলেন্স (১৯৯৩)
  • ডিস্টিংগুইশড অ্যালুমনি এওয়ার্ড বাই দিল্লি ইউনিভার্সিটি (১৯৯৭)
  • ন্যাশনাল এক্সিলেন্স এওয়ার্ড (১৯৯৯)
  • পদ্মভূষণ (২০০০)[৮]
  • লাইফটাইম এচিভমেন্ট এওয়ার্ড (২০০০)
  • মহারানা মেবার সিং ফাউন্ডেশন এওয়ার্ড (২০০৪)
  • কলা পরিষদ পুরস্কার, ভূপাল (২০০৫)

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Sharan Rani passes away: (1929 - 2008)"ITC Sangeet Research Academy। ১৬ মে ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  2. "When the music faded: Sharan Rani Backliwal, India's first woman sarod exponent, is no more."The Hindu। এপ্রিল ১১, ২০০৮। 
  3. "Collecting musical instruments with a mission"The Times of India। সেপ্টে ২৫, ২০০২। 
  4. "Strumming new tunes"India Today। মার্চ ৬, ২০০৮। 
  5. "When the music faded"The Hindu (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০৪-১৮ 
  6. Elizabeth Sleeman (২০০১)। The International Who's Who of Women 2002। Psychology Press। পৃষ্ঠা 522। আইএসবিএন 978-1-85743-122-3 
  7. "Collecting musical instruments with a mission - Times of India"The Times of India। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০৪-১৮ 
  8. "Padma Awards Directory (1954-2009)" (PDF)Ministry of Home Affairs। ১০ মে ২০১৩ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। 
  9. "Tribute to a Maestro-Sharan Rani" 
  10. "SNA: List of Akademi Awardees"Sangeet Natak Akademi Official website। ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা।