রহনপুর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search
এই নিবন্ধটি রহনপুর বাণিজ্য কেন্দ্র সম্পর্কিত। ইউনিয়নের জন্য রহনপুর ইউনিয়ন এবং পৌরসভার জন্য রহনপুর পৌরসভা নিবন্ধ দেখুন।
রহনপুর
Rohanpur
নগর
নাম: প্রাচীন বাণিজ্য কেন্দ্র
বিভাগরাজশাহী বিভাগ
জেলাচাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা
উপজেলাগোমস্তাপুর উপজেলা
রহনপুর ইউনিয়ন১৯৯৫
রহনপুর পৌরসভা১৯৯৫
সরকার
 • ধরনমেয়র-কাউন্সিল
 • শাসকরহনপুর পৌরসভা
সময় অঞ্চলবিএসটি (ইউটিসি+৬)
পোস্ট কোড৬৩২০
জাতীয় কলিং কোড+৮৮০
কলিং কোড০৭২১

রহনপুর (ইংরেজি: Rohanpur) প্রাচীন পুন্ড্রবর্ধণ রাজ্যের জনপদে অবস্থিত এবং বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলায় অবস্থিত বিখ্যাত বাণিজ্য কেন্দ্র। কোন কোন ইতিহাস অনুসন্ধানী রহনপুরে প্রাক মুসলিম যুগের উন্নত নগরীর অবস্থানের উল্লেখ করেছেন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পূর্বে এটি তৎকালীন বৃহত্তর মালদহ জেলার অর্ন্তভূক্ত ছিল।[৩]পুনর্ভবা- মহানন্দা নদীর তীরে অবস্থিত রহনপুর পাকিস্তান আমলে নবাবগঞ্জ মহকুমার অধীনে আসে। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর এবং ১৯৮৩ সালে উপজেলা ব্যবস্থা প্রবর্তিত হলে গোমস্তাপুর থানা উপজেলায় উন্নীত হয় এবং উপজেলার সার্বিক কর্মকান্ডের কেন্দ্রস্থল হিসেবে রহনপুরে উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক অফিস আদালত স্থাপিত হয়।[৪]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

আমের জন্য বিখ্যাত রহনপুর আমের হাট থেকে তোলা ছবি

রহনপুর নামটির উৎপত্তি সম্পর্কে আলোচনা করতে গেলেই কয়েক শতাব্দী পূর্বে ফিরে যেতে হয়। এ শহরের প্রাচীন নামটি ছিল মহাকাল গড়। পরে রূপান্তরিত হয়ে রামপুর-বোয়ালিয়া থেকে রহনপুর নামটির উদ্ভব কিভাবে হলো এর সুস্পষ্ট কোন ব্যাখ্যা নাই । ব্রিটিশ আমলের প্রাথমিক যুগের ইতিহাসে ও রহনপুর নামক কোন জনপদ বা স্থানের উল্লেখ নাই । অনেকে মনে করেন, এই জনপদ একদা বহু হিন্দু, মুসলিম, রাজা, সুলতান আর জমিদার শাসিত ছিল বলে নামকরণ হয়েছে রহনপুর।[৫]

ঐতিহাসিক ব্লকম্যানের মতে, খ্রিষ্টীয় ১৫শ শতকে গৌড়ের মুসলিম সালতানাত এই জেলার ভাতুড়িয়ার জমিদার রাজা গণেশ কতৃর্ক আত্মসাতের সময় থেকে রহনপুর নামের উদ্ভব হয়েছে। হিন্দু রহন আর ফারসী পুর এই শব্দ দুটির সমন্বয়ে উদ্ভব হয়েছে মিশ্রজাত শব্দটির। কিন্তু ব্লকম্যানের অভিমত গ্রহণে আপত্তি করে বেভারিজ (Beveridge) বলেন, নাম হিসেবে রহনপুর অপেক্ষা অর্বাচীন এবং এর অবস্থান ছিল রাজা গণেষের জমিদারী ভাতুড়িয়া পরগনা থেকে অনেক দূরে। রাজা গণেশের সময় এই নামটির উদ্ভব হলে তার উল্লেখ টোডরমল প্রণীত খাজনা আদায়ের তালিকায় অথবা আবুল ফজলের আইন-ই-আকবরী নামক গ্রন্থে অবশ্যই পাওয়া যেত।[৫]

ডব্লিউ ডব্লিউ হান্টারের মতে, নাটোরের রাজা রামজীবনের জমিদারী রহনপুর নামে পরিচিত ছিল এবং সেই নামই ইংরেজরা গ্রহণ করেন এই জেলার জন্য। অনেকে এসব ব্যাখ্যাকে যথার্থ ইতিহাস মনে করেননা। তবে ঐতিহাসিক সত্য যে, বাংলার নবাবী আমল ১৭০০ হতে ১৭২৫ সালে নবাব মুর্শিদ কুলি খান সমগ্র বাংলাদেশকে রাজস্ব আদায়ের সুবিধার জন্য ১৩ (তের) টি চাকলায় বিভক্ত করেন। যার মধ্যে 'চারুলা রহনপুর' নামে একটি বৃহৎ বিস্তৃতি এলাকা নির্ধারিত হয়। এর মধ্যে প্রবাহিত পদ্মা বিধৌত 'রহনপুর চাকলা' কে তিনি উত্তরে বতর্মান রহনপুর ও দক্ষিণে মুর্শিদাবাদের সঙ্গে অপর অংশ রহনপুর নিজ চাকলা নামে অভিহিত করেন। প্রথমে সমগ্র চাকলার রাজস্ব আদায় করতেন হিন্দু রাজ-জমিদার উদয় নারায়ণ। তিনি ছিলেন মুর্শিদ কুলির একান্ত প্রীতিভাজন ব্যক্তি। যে জন্য নবাব তাকে রাজা উপাধী প্রদান করেন। দক্ষিণ চাকলা রহনপুর নামে বিস্তৃত এলাকা যা সমগ্র রহনপুর ও পাবনার অংশ নিয়ে অবস্থিত ছিল, তা ১৭১৪ সালে নবাব মুর্শিদকুলী খান নাটোরের রামজীবনের নিকট বন্দোবস্ত প্রদান করেন। এই জমিদারী পরে নাটোরের রাণী ভবানীর শাসনে আসে ও বহু অঞ্চল নিয়ে বিস্তৃতি লাভ করে।[৫]

রামজীবন প্রথম নাটোর রাজ ১৭৩০ সালে মারা গেলে তার দত্তক পুত্র রামকান্ত রাজা হন। ১৭৫১ সালে রামকান্তের মৃত্যুর পরে তার স্ত্রী ভবানী দেবী রাণী ভবানী নামে উত্তরাধীকারী লাভ করেন। অনেকের মতে, প্রথম রাজা উদয় নারায়ণের উপর প্রীতি বশত এই চাকলার নাম রহনপুর করেন নবাব মুর্শিদকুলী খান। কিন্তু ঐতিহাসিক অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়র মতে, রাণী ভবানীর দেয়া নাম রহনপুর । অবশ্য মিঃ গ্রান্ট লিখেছেন যে, রাণী ভবানীর জমিদারীকেই রহনপুর বলা হতো এবং এই চাকলার বন্দোবস্তের কালে রহনপুর নামের উল্লেখ পাওয়া যায়।[৫]

প্রাচীন নিদর্শনাদি ও প্রত্নসম্পদ[সম্পাদনা]

মুক্তিযুদ্ধ[সম্পাদনা]

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন রহনপুর ৭ নং সেক্টরের অধীনে ছিল। পাক সেনারা রহনপুর এ. বি. সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে গড়ে তোলে সেনা ক্যাম্প। লেফটেন্যান্ট রফিকের নেতৃত্বে অত্র এলাকার মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করেন এবং ১১ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে ৩০ থেকে ৩৫ জন এর ‍মুক্তিযোদ্ধা দল লেফটেন্যান্ট রফিকের নেতৃত্বে পাক সেনাদের কে বিতাড়িত করতে সক্ষম হন। সেই থেকে গোমস্তাপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের উদ্যোগে প্রতিবছর ১১ ডিসেম্বর দিনটিকে রহনপুর মুক্ত দিবস হিসেবে পালন করা হয়।[৬]

প্রশাসন[সম্পাদনা]

পৌরসভা প্রতিষ্ঠা[সম্পাদনা]

পরবর্তীতে ১৯৯৫ ইং সালের ১ জানুয়ারি রহনপুর পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। মোট চারটি মৌজা রহনপুর, প্রসাদপুর, হুজরাপুর, খয়রাবাদ নিয়ে গঠিত রহনপুর পৌরসভা ১৯৯৫ইং সালের পূর্বে রহনপুর ও গোমস্তাপুর ইউনিয়নের অর্ন্তভূক্ত ছিল। বর্তমানে রহনপুর পৌরসভা “ক” শ্রেণীর।

ইউনিয়ন পরিষদ প্রতিষ্ঠা[সম্পাদনা]

১৯৯৫ ইং সালের ১ জানুয়ারি গোমস্তাপুর উপজেলার কিছু অংশ নিয়ে রহনপুর পৌরসভা গঠিত হয় এবং বাকি অংশ রহনপুর ইউনিয়ন পরিষদ এর অধিনে থেকে যায়।[৭] গোমস্তাপুর উপজেলার মোট আয়তন ৩৩.৬৭ (বর্গ কিঃ মিঃ)। লোকসংখ্যা – ২৪,৬৩৮ জন (২০১১ সালের আদম শুমারি অনুযায়ী) এর মধ্যে পুরুষ ১২,০১৮ জন এবং মহিলা ১২,৬২০ জন। রহনপুর ইউনিয়ন এর শিক্ষার হার ৬৫%।[৭]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Area, Population and Literacy Rate by Paurashava –2001" (PDF)। Bangladesh Bureau of Statistics। সংগ্রহের তারিখ ২০০৯-০৮-১৯ 
  2. "Statistical Pocket book 2008, Bangladesh Bureau of Statistics"
  3. "ঐতিহাসিক স্থান"। ChapaiPortal। 
  4. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন, ২০১৪)। "এক নজরে গোমস্তাপুর উপজেলা"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জুলাই ২০১৪  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  5. চক্রবর্তী, রজনীকান্ত (জানুয়ারি ১৯৯৯)। গৌড়ের ইতিহাস (PDF) (1 & 2 সংস্করণ)। Bankim Chatterjee Street, Calcutta 700 073: Dev's Publishing। 
  6. "রহনপুর মুক্ত দিবস পালিত" [Rahanpur- Free Day]। চাঁপাই সংবাদ (Bengali ভাষায়)। December 11th, 2015।  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  7. "এক নজরে রহনপুর ইউনিয়ন"। বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।