রতন তালুকদার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
রতন তালুকদার
জন্ম (1957-01-27) ২৭ জানুয়ারি ১৯৫৭ (বয়স ৬৫)
জাতীয়তাবাংলাদেশী
পেশাঅভিনেতা
ফাইটিং ডিরেক্টর
কারাতে প্রশিক্ষক
কর্মজীবন১৯৮৮ – ২০০৬
উল্লেখযোগ্য কর্ম
বজ্রমুষ্ঠি, বীর পুরুষ, লম্পট
শৈলীমার্শাল, অ্যাকশন
উচ্চতা৫ ফু ১১ ইঞ্চি (১.৮০ মি)
দাম্পত্য সঙ্গীশিল্পী তালুকদার
সন্তান
পিতা-মাতাডা. অধীর রঞ্জন তালুকদার (পিতা)
শচী রাণী তালুকদার (মাতা)
আত্মীয়দীপক বড়ুয়া (শ্যালক)

রতন তালুকদার (জন্মঃ ২৭ জানুয়ারি ১৯৫৭) একজন বাংলাদেশী চলচ্চিত্র অভিনেতা, ফাইটিং ডিরেক্টর ও কারাতে প্রশিক্ষক। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ কারাতে রেফারি অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি।

প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

রতন তালুকদার ১৯৫৭ সালে মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা অধীর রঞ্জন তালুকদার ছিলেন পেশায় চিকিৎসক। ১৯৬৫ সালে সপরিবারে বাংলাদেশে আসেন। ছয় ভাইবোনের মধ্যে সবার বড় তিনি।

চলচ্চিত্র জীবন[সম্পাদনা]

রতন তালুকদার এই পর্যন্ত ১৪টি বাংলা চলচ্চিত্রে অভিনয়ও করেছেন। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য রুবেল, সোহেল রানা, ড্যানি সিডাকইলিয়াস কোবরা অভিনীত বজ্রমুষ্টি। এই সিনেমায় অন্যতম প্রধান চরিত্র মং–এর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন তিনি। অ্যাকশন ওয়ারিয়র নামে চলচ্চিত্রের অ্যাকশন পরিচালনা দলের সদস্য ছিলেন তিনি। [১] রতন তালুকদার শহীদুল ইসলাম খোকন পরিচালিত চলচিত্রে বেশি অভিনয় করেছেন।

উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের তালিকা[সম্পাদনা]

বছর শিরোনাম পরিচালক
১৯৮৬ লড়াকু শহীদুল ইসলাম খোকন
১৯৮৮ বীর পুরুষ শহীদুল ইসলাম খোকন
১৯৮৯ বজ্রমুষ্ঠি শহীদুল ইসলাম খোকন
১৯৯০ বিপ্লব শহীদুল ইসলাম খোকন
১৯৯১ বিষদাঁত শহীদুল ইসলাম খোকন
১৯৯১ সন্ত্রাস শহীদুল ইসলাম খোকন
১৯৯২ চোখের পানি মাসুদ পারভেজ
১৯৯৬ রাক্ষস শহীদুল ইসলাম খোকন
১৯৯৬ লম্পট শহীদুল ইসলাম খোকন
২০০৬ ক্ষুদে যোদ্ধা এ কিউ খোকন

কারাতে প্রশিক্ষক[সম্পাদনা]

রতন তালুকদার দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। ১৯৭৬ সালে ইন্টারমিডিয়েট কলেজে পড়ার সময় ভর্তি হয়ে যান মং হ্লা ফের বার্মিজ বেন্ডো কারতের ক্লাসে। এরপর আজ অবধি আছেন মার্শাল আর্টের সঙ্গে। ব্রুস লি তাঁর প্রেরণা, মং হ্লা ফে ছিলেন গুরু। তবে এখন জাপানি কারাতে গুরু গিচিন ফুনাকোশি উদ্ভাবিত মার্শাল আর্টের অনুসারী তিনি। রতন তকুলদার এই মহাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় কারাতে প্রশিক্ষকের একজন। তিনি ডাব্লুইউকেএফ থেকে ৭ ড্যান এবং জাপান কারাতে অ্যাসোসিয়েশন থেকে ৪ ড্যান অর্জন করেন। তিনি হোনকে সোতোকান কারাতে-ডো অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রশিক্ষক। তাঁর প্রশিক্ষণে ফ্রেন্ডস ক্লাব দল গত দুইবারসহ মোট তিনবার চট্টগ্রামে কারাতের শিরোপা জিতেছে। চট্টগ্রাম শহর, চন্দনাইশ উপজেলা, কক্সবাজার ও নোয়াখালীর ১০টিরও বেশি কারাতে ক্লাব ও বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের[২] প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। দেশজুড়ে কয়েক হাজার ছাত্রছাত্রী তাঁর। এদের মধ্যে ৩৫০ জন ব্ল্যাক বেল্টধারী। খেলা পরিচালনা করতে গিয়েছেন ভারতের দিল্লি, পুনে, মুম্বাই ও হায়দরাবাদে।

পারিবারিক জীবন[সম্পাদনা]

রতন তালুকদার শিল্পী তালুকদারের সাথে ১৯৮২ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের এক মেয়ে ও দুই ছেলে আছে। রতন তালুকদার এখন স্বপরিবারে চট্টগ্রামে বসবাস করেন। রতন তালুকদারের শ্যালক, দীপক বড়ুয়া একজন বাংলাদেশ শিশুসাহিত্য একাডেমি পদক (২০১৮) প্রাপ্ত গল্পকার ও শিশুসাহিত্যিক।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. আহমেদ মুনির (২২ অক্টোবর ২০১৫)। "জীবনে একবারই মারামারি করেছিলেন কারাতে গুরু রতন"প্রথম আলো। চট্টগ্রাম , বাংলাদেশ। সংগ্রহের তারিখ ৭ ডিসেম্বর ২০২০ 
  2. "গার্লস গ্যাং এবং একজন টুপসি"দৈনিক ইত্তেফাক। চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ। ২ জুন ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ৮ জুন ২০১৫ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]