যিশুর কুমারীগর্ভে জন্ম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

যিশুর কুমারীগর্ভে জন্ম খ্রিস্টইসলাম ধর্মে প্রচলিত একটি বিশ্বাস। এই মত অনুসারে, মেরি কুমারী অবস্থাতেই অলৌকিক উপায়ে যিশুকে গর্ভে ধারণ করেছিলেন। খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় শতাব্দীর মধ্যে খ্রিস্টমণ্ডলীতে এই মতবাদ সর্বজনীনভাবে প্রতিষ্ঠালাভ করেছিল।[১] অ্যাংলিক্যানিজম, চার্চ অফ দি ইস্ট, ইস্টার্ন অর্থোডক্সি, ওরিয়েন্টাল অর্থোডক্সি, প্রটেস্ট্যান্টবাদরোমান ক্যাথলিকবাদে এই মত স্বীকৃত।

খ্রিস্টানদের দুটি সর্বাধিক প্রচলিত বিশ্বাস হল এই যে, যিশু হলেন "পবিত্র আত্মা ও কুমারী মেরির অবতার" (বর্তমানে নাইসীয় বিশ্বাস নামে পরিচিত) [২] এবং যিশু "কুমারী মেরির গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন" (শিষ্যমণ্ডলীয় বিশ্বাস)।[৩] অষ্টাদশ শতাব্দীর এনলাইটেনমেন্ট ধর্মতত্ত্বের পূর্বে কয়েকটি অপ্রধান সম্প্রদায়ের ব্যতিক্রমী উদাহরণ ছাড়া কেউই এই মতবাদটিকে সম্পর্কে গুরুতর প্রশ্নচিহ্নের মুখে ফেলেনি।[১]

মথি (টেমপ্লেট:Bibleref2c-nb) ও লুক (টেমপ্লেট:Bibleref2c-nb) লিখিত প্রামাণ্য সুসমাচার দুটির বর্ণনা অনুসারে, কুমারী অবস্থাতেই মেরি পবিত্র আত্মার প্রভাবে গর্ভধারণ করেছিলেন। এই দুই সুসমাচার, পরবর্তীকালের প্রচলিত বিশ্বাস ও সাম্প্রতিক মতবাদ অনুযায়ী, মেরির গর্ভধারণের জন্য কোনো জৈব পিতা, যৌনসংগম বা বীর্যপাতের প্রয়োজন হয়নি; পবিত্র আত্মার প্রভাবেই যিশু মেরির গর্ভে এসেছিলেন।[৪][৫][৬][৭]

রোমান ক্যাথলিকপূর্ব ও প্রাচ্যদেশীয় অর্থোডক্স পরিভাষায় "কুমারীগর্ভে জন্ম" শব্দবন্ধটির দ্বারা কেবলমাত্র যিশুর কুমারীগর্ভে জন্মই বোঝায় না, তা মেরির জীবনব্যাপী কৌমার্যব্রত উদযাপনেরও নির্দেশক। খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় শতাব্দী থেকে এই বিশ্বাস খ্রিস্টানদের মনে বদ্ধমূল হয়ে আছে।[৮] (দেখুন মেরির জীবনব্যাপী কুমারীত্ব)

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, যিশুর কুমারীগর্ভে জন্ম ও রোমান ক্যাথলিকদের নিষ্কলুষ গর্ভধারণ মতবাদ দুটি এক নয়। শেষোক্ত মতবাদটি, মেরির মায়ের গর্ভে মেরির জন্ম-সংক্রান্ত। মেরির জন্ম সাধারণভাবেই হয়েছিল, অলৌকিক উপায়ে নয়। তবে রোমান ক্যাথলিকদের নিষ্কলুষ গর্ভধারণের মতবাদটির প্রতিপাদ্য বিষয় হল, মেরি আদি পাপের "কলুষ" (লাতিন macula) মুক্ত হয়েই জন্মেছিলেন।

কুরআন শরীফের ভাষ্য[সম্পাদনা]

অলৌকিকভাবে কুমারী মেরীর গর্ভে যিশুর আবির্ভাব মুসলমানদের আসমানী কিতাব কুরআন শরীফেও সুম্পষ্ট ভাষায় বর্ণিত হয়েছে।[৯] যিশুকে ঈসা (আঃ) এবং মেরীকে মরিয়ম হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। মুসলমানরা বিশ্বাস করে যে ঈসা (আঃ) অর্থাৎ খ্রিস্টানদের যিশু আল্লাহ্‌র প্রেরতি পুরুষ বা রাসুল। কুরআনে তাঁকে মাতৃপরিচয়ে অর্থাৎ "মরিয়ম-পুত্র ঈসা" (ঈসা ইবনে মারিয়াম) হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ঈসা বিন মারিয়াম এই নামটি কুরআনে বারবার ব্যবহৃত হয়েছে।[১০]

শিল্প প্রদর্শশালা[সম্পাদনা]

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ "Virgin Birth" britannica.com Retrieved October 22, 2007.
  2. Translation by the ecumenical English Language Liturgical Consultation, given on page 17 of Praying Together, a literal translation of the original, "σαρκωθέντα ἐκ Πνεύματος Ἁγίου καὶ Μαρίας τῆς Παρθένου"
  3. Translation by the English Language Liturgical Consultation, given on page 22 of Praying Together
  4. Lateran Council of 649, canon 3, quoted in Denzinger, 256
  5. Cathechism of the Catholic Church, 484-486 and 496-498
  6. Confused Christology: Is Jesus the Son of the Holy Spirit?
  7. John Paul II, 10 July 1996, 3
  8. Oxford Dictionary of the Christian Church (Oxford University Press 2005 ISBN 978-0-10-280290-3), article Virgin Birth of Christ
  9. Qur'an 3:45, 3:47, 3:59, 66:12.
  10. Qur'an 2:87, 2:253, 4:157, 4:171, 5:46, 5:72, 5:75, 5:112, 5:114, 5:116, 9:31, 43:57, 61:6, 61:14.

আরও পড়ুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

গ্যাব্রিয়েল মেরির নিকট ঘোষণা করেন যে মেরি যিশুর জন্ম দেবেন
যিশুর জীবন: যিশুর গর্ভে আগমন
পূর্ববর্তী ঘটনা
গ্যাব্রিয়েল জাকারিয়ার গৃহে
জোহনের জন্ম ঘোষণা করেন
   নূতন নিয়ম   
ঘটনাবলি
পরবর্তী ঘটনা
মেরি সাক্ষাৎ করেন ইলিসাবেতের সঙ্গে

টেমপ্লেট:Christianityfooter