মোহাম্মদ শাহ আলম (আইনজ্ঞ)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মোহাম্মদ শাহ আলম
Mohammad Shah Alam.jpg
চবি আইন অনুষদের মিলনায়তনে মোহাম্মদ শাহ আলম
জন্ম(১৯৫১-১০-১৪)১৪ অক্টোবর ১৯৫১
মৃত্যুআগস্ট ৩১, ২০২০(২০২০-০৮-৩১)
জাতীয়তাবাংলাদেশী
পরিচিতির কারণবাংলাদেশ আইন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান, বাংলাদেশে ক্লিনিকাল লিগাল এডুকেশনের পথিকৃৎ, আইনের অধ্যাপক
দাম্পত্য সঙ্গীফৌজিয়া নাসরিন
সন্তান
একাডেমিক পটভূমি
মাতৃ-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
পিপলস ফ্রেন্ডশিপ ইউনিভার্সিটি অব রাশিয়া
একাডেমিক কর্ম
প্রতিষ্ঠানআইন বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
সাবেক ডিন, আইন অনুষদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

মোহাম্মদ শাহ আলম (১৪, অক্টোবর ১৯৫১ - ৩১, আগস্ট ২০২০) বাংলাদেশ আইন কমিশনের একজন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছিলেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন অনুষদ চালু করার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল।[১] তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রাক্তন একজন শিক্ষক। তিনি ছিলেন একজন মুক্তিযোদ্ধা। ক্লিনিক্যাল লিগ্যাল এডুকেশনকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে তার অবদান অনেক বেশি।[২] আন্তর্জাতিক আইন এবং সাংবিধানিক আইন সম্পর্কে তিনি বেশ কয়েকটি বই লিখেছেন।

প্রাথমিক জীবন এবং শিক্ষা[সম্পাদনা]

১৯৫১ সালের ১৪ই অক্টোবর মোহাম্মদ শাহ আলম ঢাকা বিভাগের মুন্সিগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম ছিল মোহাম্মদ সুজাতুল ইসলাম। তার বাবা ছিলেন একজন শিক্ষক, রাজনীতিবিদ এবং সমাজ সেবক। তার মায়ের নাম ফিরোজা বেগম। তারা ছিলেন চার ভাই-এক বোন। মুন্সিগঞ্জেই তিনি তার প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। এরপর রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন ১৯৬৮ সালে। একই কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করেন ১৯৭০ সালে। স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হন। এরপর সরকারী বৃত্তি নিয়ে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নে যান উচ্চ শিক্ষা লাভ করতে। সেখানে পিপলস ফ্রেন্ডশিপ ইউনিভার্সিটি অব রাশিয়া থেকে স্নাতক, স্নাতকোত্তর এবং পিএইচডি ডিগ্রী লাভ করেন।[৩][৪]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

বাম থেকে, মিজানুর রহমান, এবিএম আবু নোমান, মোহাম্মদ শাহ আলম

১৯৮০-এর দশকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দিয়ে তিনি তার কর্মজীবন শুরু করেন। দশ বছর পর, ১৯৯২ সালে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির আইন বিভাগ চালু করার সময়ই তিনি অনুষদের ডিন হিসেবে যোগ দেন। একই সাথে ছিলেন আইন বিভাগের চেয়ারম্যান। ১৯৯৬ সালে তিনি সহযোগী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপকে উন্নিত হন। এরপর ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের জার্নালের সম্পাদক ছিলেন।[৫] টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যাপক হিসেবে ১৯৯৫-১৯৯৬ সালে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০০১-২০০২ সালে নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।[২]

ক্লিনিকাল লিগাল এডুকেশনের উন্নতির ক্ষেত্রে তিনি যথেষ্ট ভূমিকা পালন করেছেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ক্লিনিকাল লিগাল এডুকেশন বিষয়টিকে পাঠ্যসূচীর আওতায় নিয়ে আসেন।[১]

প্রকাশনা[সম্পাদনা]

  • বাংলাদেশের সাংবিধানিক ইতিহাস ও সংবিধানের সহজ পাঠ
  • Enforcement of International Human Rights Law by Domestic Courts[৬]
  • সমকালীন আন্তর্তাজিক আইন
  • আন্তর্জাতিক সংগঠন
  • বাংলাদেশে আইন সংস্কার ও আইন কমিশন[৫]
  • Selected Writings on International Law, Constitutional Law and Human Rights[২]

মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ[সম্পাদনা]

মুন্সিগঞ্জের বিক্রমপুরে ২ নং সেক্টরে তার ছোট ভাইয়ের সাথে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

ফৌজিয়া নাসরিনকে তিনি বিয়ে করেন। তাদের একজন মেয়ে এবং একজন ছেলে ছিল যে ২০০১ সালে মৃত্যুবরণ করে।

মৃত্যু[সম্পাদনা]

৬৯ বছর বয়সে ২০২০ সালের ৩১ আগস্ট মোহাম্মদ শাহ আলম মৃত্যুবরণ করেন। ব্রেইন স্ট্রোক করার পর তিনি নানান সমস্যায় ভুগছিলেন। মৃত্যুর পর তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।[৪][৭]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "অধ্যাপক মোহাম্মদ শাহ আলমের স্মৃতিতে..."। The daily star। ৮ সেপ্টেম্বর ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ৫ নভেম্বর ২০২০ 
  2. "আইন কমিশনের চেয়ারম্যান"। আইন কমিশন (বাংলাদেশ)। সংগ্রহের তারিখ ৩ নভেম্বর ২০২০ 
  3. "আন্তর্জাতিক আইনের অধ্যাপক মোহাম্মদ শাহ আলম IN MEMORIAM THE LEGENDARY PROFESSOR OF INTERNATIONAL LAW Dr M Shah Alam"। The Daily Star। ৫ সেপ্টেম্বর ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ৫ নভেম্বর ২০২০ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  4. "চবির সাবেক ডিন মোহাম্মদ শাহ আলম আর নেই"। Jago news। ১ সেপ্টেম্বর ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ৫ নভেম্বর ২০২০ 
  5. "আইন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক শাহ আলম আর নেই"। বাংলা ট্রিবিউন। ১ সেপ্টেম্বর ২০২০। সংগ্রহের তারিখ নভেম্বর ১৬, ২০২০ 
  6. "ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস"। Cambridge University Press। সংগ্রহের তারিখ ১৬ নভেম্বর ২০২০ 
  7. "অধ্যাপক মোহাম্মদ শাহ আলম আর নেই"। NEW AGE। ১ সেপ্টেম্বর ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ৫ নভেম্বর ২০২০