মৃত্তিকা আবহবিকার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান

আবহবিকার পরিবেশের একটি উল্লেখযোগ্য প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে মাটি গঠন, ধংস ও পুনঃউৎপাদিত হয়। জৈব পদার্থের উপস্থিতিতে ভূমিক্ষয় আবহবিকার, বিচূর্নিভবন ইত্যাদি প্রাকৃতিক ও রাসায়নিক পরিবর্তনের মাধ্যমে পাথর থেকে মাটির উদ্ভব হয়।

আবহবিকার ও ক্ষয়ীভবন[সম্পাদনা]

আবহবিকার এর সংজ্ঞা[সম্পাদনা]

আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদানগুলো যেমন- তাপ, চাপ, বায়ুপ্রবাহ, আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাত ইত্যাদির মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠএর উপরিভাগে এবং কাছাকাছি অংশের শিলা যান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় চূর্ণবিচূর্ণ ও রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় বিয়োজিত হয়ে ক্ষয়প্রাপ্ত অবস্থায় মূল শিলার ওপর অবস্থান করলে তাকে আবহবিকার বলা হয়। উদ্ভিদ, প্রাণী বিশেষ করে পশুপাখি ও মানুষ আবহবিকার প্রক্রিয়ায় গুরুত্ববাহী ভূমিকা গ্রহন করে।

G.K. Albert সর্বপ্রথম আবহবিকার বা Weathering শব্দটি ব্যবহার করেন।

ভারতের ওড়িশা, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থানের পাহাড়গুলোতে লম্বাটে ও গোলাকার আকৃতিবিশিষ্ট পাথরের চাঁই দেখা যায়। সূর্যের আলো, জল, বায়ু ইত্যাদি আবহাওয়ার উপাদানগুলো এই পরিবর্তনে কার্যকরী ভুমিকা পালন করে।

ক্ষয়ীভবন[সম্পাদনা]

আবহবিকার এর মাধ্যমে শিলা চূর্ণবিচূর্ণ হয়। কিন্তু ওই অংশগুলো সেখানথেকে অপসারিত হয় না। বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তি যেমন- নদী, হিমবাহ, বায়ু ইত্যাদির প্রভাবে ওই পদার্থগুলো ভূখণ্ড থেকে অপসারিত হয়। এই ধরনের অপসারণ পদ্ধতিকে ক্ষয়ীভবন বলা হয়।

বৈশিষ্ট্য[সম্পাদনা]

আবহবিকার[সম্পাদনা]

একই স্থানে অবস্থান করে শিলার আবহবিকার ঘটে। মূল শিলার ওপর বিচুর্ণভূত শিলাখন্ড অসংলগ্ন ও পৃথকভাবে পড়ে থাকে। এটি একটি প্রাথমিক বা প্রস্তুতিমূলক প্রক্রিয়া যা ক্ষয়ীভবনকে সহজতর করে। আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদান ও জীবজগৎ দ্বারা সংগঠিত হয়। এটি অত্যন্ত ধীরগতিসম্পন্ন প্রক্রিয়া।

ক্ষয়ীভবন[সম্পাদনা]

একস্থান থেকে অন্যস্থানে আবহবিকারগ্রস্ত পদার্থ অপসারিত হয়ে ক্ষয়ীভবন হয়। এটি আবহবিকারের পূর্বশর্ত নয় বা এই কাজে সাহায্য করে না। মূলত প্রাকৃতিক শক্তির দ্বারা এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এটি অত্যন্ত দ্রুত গতির প্রক্রিয়া।

পুঞ্জিত ক্ষয় ও নগ্নীভবন[সম্পাদনা]

ক্ষয়ীভবন প্রক্রিয়ার একটি অংশ হল পুঞ্জিত ক্ষয়। বড় পুঞ্জরূপে আবহবিকারপ্রাপ্ত শিলাখন্ড প্রধানত মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে ভূমির ঢাল বরাবর তার মূল স্থান থেকে যখন অন্য জায়গায় স্থানান্তরিত হয়, তখন সেই প্রক্রিয়াকে পুঞ্জিত ক্ষয় বলে। আবহবিকারের ফলে প্রথমে শিলাস্তূপ মূল ভূখন্ড থেকে আলগা হয়ে যায়। পরে তা ক্ষয়ীভবন প্রক্রিয়ায় অন্য জায়গায় সরে যায়। এই ঘটনাকে বলে নগ্নীভবন। এই প্রক্রিয়া ঘটে বলেই শিলা আবার নতুন করে আবহবিকারপ্রাপ্ত হয়।

আবহবিকার এর প্রকারভেদ[সম্পাদনা]

আবহবিকারকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়। যথা- ১. যান্ত্রিক, ২. রাসায়নিক, ৩. জৈবিক আবহবিকার।

যান্ত্রিক আবহবিকার[সম্পাদনা]

যান্ত্রিক আবহবিকার হল শিলার বাইরের রূপের পরিবর্তন, যেটা আমরা দেখে সহজেই বুঝতে পারি। উষ্ণতা, আর্দ্রতা, জীবজন্তু, উদ্ভিদ ইত্যাদির মাধ্যমে শিলার আকারের পরিবর্তন ঘটে। এই পরিবর্তনের পোশাকি নাম ভৌত আবহবিকার।

যান্ত্রিক আবহবিকার চার প্রকার, ১. শল্কমোচন, ২. ক্ষুদ্রক্ণা বিশরণ, ৩. তুহিন খণ্ডীকরণ, ৪. প্রস্তরচাঁই খণ্ডীকররণ

রাসায়নিক আবহবিকার[সম্পাদনা]

শিলাস্তুপে বিভিন্ন খনিজ উপাদান থাকে এবং সেগুলি আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদানের মাধ্যমে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহন করে। এই বিক্রিয়ার ফলে খনিজগুলির আকার, আয়তন, রং এর পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ বায়ুর বিভিন্ন গ্যাস, ভূপৃষ্ঠের জল ও অম্লের উপস্থিতিতে শিলাস্তর রাসায়নিক বিয়োজিত হলে, তাকে রাসায়নিক আবহবিকার বলে।

জৈবিক আবহবিকার[সম্পাদনা]

আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদানগুলি ছাড়াও শিলার ভৌত ও রাসায়নিক পরিবর্তনের ঘটানোর ক্ষেত্রে অনেকসময় জীবজগৎ অর্থাৎ উদ্ভিদ ও প্রাণী বিশেষ ভূমিকা নিয়ে থাকে। তাই আর-এক ধরনের আবহবিকার হল জৈব আবহবিকার। আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদানের উপস্থিতিতে উদ্ভিদ ও প্রাণীর দ্বারা শিলাস্তরের ভৌত এবং রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে থাকে, সেই ঘটনাকে জৈব আবহবিকার বলে। এটি দুই ভাবে ঘটে, যথা- ১. উদ্ভিদের দ্বারা, ২. প্রাণীর দ্বারা।

আবহবিকারের ফলাফল[সম্পাদনা]

যান্ত্রিক ও রাসায়নিক আবহবিকার একসাথে কাজ করলেও এক এক জলবায়ুতে এক এক প্রকার আবহবিকারের প্রাধান্য দেখা যায় এবং সেই মতো তার ফলাফলও ঘটে থাকে। যেমন- মরু জলবায়ু অঞ্চলে ও মেরু জলবায়ু অঞ্চলে দিন ও রাতের উত্তাপের খুব বেশি ফারাকের জন্য যান্ত্রিক আবহবিকার বেশি কার্যকর হয়। অন্যদিকে, আর্দ্রতাপ্রায় আর্দ্র জলবায়ুতে রাসায়নিক আবহবিকারের বেশি প্রাধান্য হয়। আবহবিকারের ফলাফল হল-

১. মৃত্তিকা সৃষ্টি, ২. রেগোলিথ গঠন, ৩. শিলায় ফাটল ও ভাঙন সৃষ্টি, ৪. নদী, হিমবাহের দ্বারা ধসের সম্ভাবনা ঘটে, ৫. শিলাখন্ড মূল ভূমি থেকে আলগা হয়ে যায়, ৬. শিলাস্তুপে ক্ষয়, ৭. ভূমির উচ্চতা কমে যায়, ৮. শিলার বাইরের ও ভিতরের বৈশিষ্টের পরিবর্তন

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

মাটি শিলা