মুহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
মুহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ
মদিনা প্রদেশের গভর্নর
দপ্তরকাল১৯২৪–১৯৬৫
উত্তরসূরিআবদুল মুহসিন বিন আবদুল আজিজ
বাদশাহআবদুল আজিজ ইবনে সৌদ
সৌদ বিন আবদুল আজিজ
ফয়সাল বিন আবদুল আজিজ
জন্ম(১৯১০-০৩-০৪)৪ মার্চ ১৯১০
রিয়াদ, নজদ ও হাসা আমিরাত অথবা কুয়েত সিটি, কুয়েত
মৃত্যু২৫ নভেম্বর ১৯৮৮(1988-11-25) (বয়স ৭৮)
রিয়াদ, সৌদি আরব
সমাধি২৫ নভেম্বর ১৯৮৮
আল আউদ কবরস্থান, রিয়াদ
পূর্ণ নাম
মুহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ বিন আবদুর রহমান বিন ফয়সাল বিন তুর্কি বিন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন সৌদ
রাজবংশআল সৌদ
পিতাআবদুল আজিজ ইবনে সৌদ
মাতাআল জাওহারা বিনতে মুসাইদ আল জিলুওয়ি
ধর্মইসলাম (সুন্নি)

মুহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ (১৯১০ – ২৫ নভেম্বর ১৯৮৮) (আরবি: محمد بن عبد العزيز ال سعود‎‎) ছিলেন সৌদি আরবের যুবরাজ। ১৯৬৪ সাল থেকে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত সংক্ষিপ্তকাল তিনি যুবরাজ ছিলেন। তিনি সৌদি রাজপরিবারের অন্যতম ধনী ও প্রভাবশালী সদস্য ছিলেন। ১৯৮৮ সালে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি তার ছোট ভাই বাদশাহ খালিদ ও বাদশাহ ফাহাদের ঘনিষ্ট ও বিশ্বস্ত উপদেষ্টা ছিলেন।[১]

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

মুহাম্মদ ১৯১০ সালে জন্মগ্রহণ করেন।[২] তিনি আবদুল আজিজ ইবনে সৌদের চতুর্থ পুত্র।[৩] তবে তার জন্মসাল হিসেবে ১৯০৯ সালও জানা যায়।[৪] উইলিয়াম এ এডির মতে তিনি আবদুল আজিজের তৃতীয় পুত্র।[৫]

তার আল জাওহারা বিনতে মুসাইদ আল জিলুওয়ি[৬][৭] ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ আল জিলুওয়ি গোত্রের সদস্য।[৮][৯] আল সৌদ পরিবারের সাথে এই গোত্রের বৈবাহিক সম্পর্ক ছিল।[১০] বাদশাহ খালিদ বিন আবদুল আজিজ ছিলেন তার আপন ভাই।[২] তার বোন আল আনুদের সাথে আবদুল আজিজের ভাই সাদ বিন আবদুর রহমানের ছেলেদের বিয়ে হয়। প্রথমে তার সাথে সৌদ বিন সাদের বিয়ে হয়েছিল। সৌদ মারা যাওয়ার পর সাদের আরেক ছেলে ফাহাদ বিন সাদের সাথে তার বিয়ে হয়।[১১]

রাজকীয় দায়িত্ব[সম্পাদনা]

১৯২০ দশকের মধ্যভাগে মুহাম্মদ ও ফয়সালকে ইখওয়ানের দায়িত্ব দেয়া হয়।[১২] বড় ভাই ও চাচাত ভাইদের সাথে মুহাম্মদ সৌদি আরব গঠনের লড়াইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৩৪ সালে আবদুল আজিজ তার বাহিনীকে ইয়েমেন হামলার নির্দেশ দেন।[১৩] এরপর সাদ বিন আবদুর রহমানের ছেলে ফয়সাল বিন সাদ বাকিমের দিকে অগ্রসর হন এবং আবদুল আজিজের আরেক ভাই মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমানের ছেলে খালিদ বিন মুহাম্মদ নাজরান ও সাআদার দিকে রওয়ানা হন। বাদশাহর ছেলে ফয়সাল তিহামা উপকূলে বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছেন। মুহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ নজদ থেকে সৌদ বিন আবদুল আজিজের সহায়তায় প্রেরিত হন।[১৩]

১৯৩৭ সালে রাজা ষষ্ঠ জর্জের অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার জন্য মুহাম্মদ ও তৎকালীন যুবরাজ সৌদ লন্ডন যান।[১৪] ১৯৪৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মার্কিন রাষ্ট্রপতি রুজভেল্টের সাথে বাদশাহ আবদুল আজিজের সাক্ষাতের সময় মুহাম্মদ ও মনসুর বাদশাহর সাথে ছিলেন।[৫][১৫] ১৯৪৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মিশরে তারা তাদের চাচা আবদুল্লাহর সাথে বাদশাহ আবদুল আজিজ ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চার্চিলের সাক্ষাতে অংশ নিয়েছেন।[১৬] ১৯৬২ সালের জানুয়ারি মাসে বাদশাহ সৌদের যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় মুহাম্মদ তার সফরসঙ্গী হন[১৭] মুহাম্মদ রাজপরিবারের কাউন্সিলের প্রধান ছিলেন।

উত্তরাধিকার পরিত্যাগ[সম্পাদনা]

বাদশাহ ফয়সালের শাসনামলের শুরুর দিকে কয়েক মাস মুহাম্মদ যুবরাজ ছিলেন। এরপর তিনি তার আপন ভাই খালিদের জন্য পদ থেকে সরে দাঁড়ান।[১] পারিবারিক ঐকমত্যে সম্মতি দিয়ে তিনি সরে দাঁড়িয়েছিলেন এমনটা বলা হয়ে থাকে। ইতিপূর্বে বাদশাহ সৌদের সময় অন্তর্দ্ব‌ন্দ্ব দেখা দিয়েছিল। মুহাম্মদের সরে দাড়ানোর ফলে ফয়সালের ক্ষমতাগ্রহণের সুযোগ প্রশস্ত হয়।

মুহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ শক্তিশালী ব্যক্তিত্বের জন্য পরিচিত ছিলেন। বাদশাহ সৌদ বিরোধী জোটে তিনি একজন প্রধান ব্যক্তি ছিলেন।[১৮]

দৃষ্টিভঙ্গি[সম্পাদনা]

মুহাম্মদ রাজপরিবারের রক্ষণশীলদের মধ্যে নেতৃস্থানীয় ছিলেন।[১৯] দেশের অতি দ্রুত আধুনিকায়ন তিনি সমর্থন করেননি। দেশে অধিক সংখ্যক বিদেশি কর্মীর উপস্থিতির ফলে ঐতিহ্যবাহী মূল্যবোধ হ্রাস পাবে বলে তিনি বিশ্বাস করতেন।[১৯]

মৃত্যু[সম্পাদনা]

মুহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ ১৯৮৮ সালের ২৫ নভেম্বর ইন্তেকাল করেন।[১][৪] এসময় তার বয়স ছিল ৭৮ বছর।[২০]

নামকরণ[সম্পাদনা]

মুহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ বিমানবন্দর তার সম্মানে নামকরণ করা হয়েছে।

বংশলতিকা[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Prince Mohammed of Saudi Arabia"The Palm Beach Post। AP। ২৬ নভেম্বর ১৯৮৮। সংগ্রহের তারিখ ৫ আগস্ট ২০১২ 
  2. Winberg Chai (২২ সেপ্টেম্বর ২০০৫)। Saudi Arabia: A Modern Reader। University Press। পৃষ্ঠা 193। আইএসবিএন 978-0-88093-859-4। সংগ্রহের তারিখ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ 
  3. Mouline, Nabil (এপ্রিল–জুন ২০১২)। "Power and generational transition in Saudi Arabia" (PDF)Critique internationale46: 1–22। সংগ্রহের তারিখ ২৪ এপ্রিল ২০১২ 
  4. "Reigning Royal Families"। World Who's Who। সংগ্রহের তারিখ ৪ মার্চ ২০১৩ 
  5. Eddy, William A. (২০০৫)। FDR meets Ibn Saud (PDF)। Vista: Selwa Press। 
  6. "Personal trips"। King Khalid Exhibition। ২২ অক্টোবর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৭ মে ২০১২ 
  7. "Al Saud Family (Saudi Arabia)"। European Institute for Research on Euro-Arab Cooperation। ৮ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৯ এপ্রিল ২০১২ 
  8. Chapin Metz, Helen (১৯৯২)। "Saudi Arabia: A Country Study"। সংগ্রহের তারিখ ৯ মে ২০১২ 
  9. "The New Succession Law Preserves The Monarchy While Reducing The King's Prerogatives"Wikileaks। ২২ নভেম্বর ২০০৬। ১৯ নভেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২ এপ্রিল ২০১৩ 
  10. Teitelbaum, Joshua (১ নভেম্বর ২০১১)। "Saudi Succession and Stability" (PDF)। BESA Center Perspectives। সংগ্রহের তারিখ ২৪ এপ্রিল ২০১২ 
  11. "Family Tree of Al Anud bint Abdulaziz bin Abdul Rahman Al Saud"। Datarabia। সংগ্রহের তারিখ ১০ আগস্ট ২০১২ 
  12. Jennifer Reed (১ জানুয়ারি ২০০৯)। The Saudi Royal Family। Infobase Publishing। পৃষ্ঠা 40। আইএসবিএন 978-1-4381-0476-8। সংগ্রহের তারিখ ২ এপ্রিল ২০১৩ 
  13. Rizk, Yunan Labib (২০০৪)। "Monarchs in war"Al Ahram Weekly। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৩ এপ্রিল ২০১২ 
  14. "Saudi Foreign Policy"Saudi Embassy Magazine। Fall ২০০১। ৭ আগস্ট ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জুলাই ২০১৩ 
  15. Lippman, Thomas W. (এপ্রিল–মে ২০০৫)। "The Day FDR Met Saudi Arabia's Ibn Saud" (PDF)The Link38 (2): 1–12। সংগ্রহের তারিখ ৫ আগস্ট ২০১২ 
  16. "Riyadh. The capital of monotheism" (PDF)Business and Finance Group। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুলাই ২০১৩ 
  17. Ralls, Charles (২৫ জানুয়ারি ১৯৬২)। "King Saud arrives here for convelescence stay"Palm Beach Daily News। সংগ্রহের তারিখ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ 
  18. Quandt, William B. (১৯৮১)। Saudi Arabia in the 1980s: Foreign Policy, Security, and Oil। Washington DC: The Brookings Institution। পৃষ্ঠা 79। 
  19. Andrew J. Pierre (Summer ১৯৭৮)। "Beyond the "Plane Package": Arms and Politics in the Middle East"। International Security3 (1): 148–161। doi:10.2307/2626647জেস্টোর 2626647 
  20. Henderson, Simon (১৯৯৪)। "After King Fahd" (Policy Paper)। Washington Institute। সংগ্রহের তারিখ ২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ 
Saudi Arabian royalty
পূর্বসূরী
ফয়সাল বিন আবদুল আজিজ
সৌদি আরবের যুবরাজ
২ নভেম্বর ১৯৬৪ - ২৯ মার্চ ১৯৬৫
উত্তরসূরী
খালিদ বিন আবদুল আজিজ