মার্কো রয়েস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
মার্কো রিস
FIFA WC-qualification 2014 - Austria vs. Germany 2012-09-11 - Marco Reus 01.JPG
জার্মান জাতীয় দলের সাথে রিস
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নাম মার্কো রিস
জন্ম (১৯৮৯-০৫-৩১) ৩১ মে ১৯৮৯ (বয়স ২৮)
জন্ম স্থান ডর্টমুন্ড, পশ্চিম জার্মানি
উচ্চতা ১.৮০ মি (৫ ফু ১১ ইঞ্চি)
মাঠে অবস্থান আক্রমণকারী মিডফিল্ডার / উইঙ্গার
ক্লাবের তথ্য
বর্তমান ক্লাব বরুসিয়া ডর্টমুন্ড
জার্সি নম্বর ১১
তারূণ্যের কর্মজীবন
১৯৯৪–১৯৯৬ পোস্ট এসভি ডর্টমুন্ড
১৯৯৬–২০০৬ বরুসিয়া ডর্টমুন্ড
বলিষ্ঠ কর্মজীবন*
বছর দল উপস্থিতি (গোল)
২০০৬–২০০৯ রট উইস আহলেন ৪৪ (৫)
২০০৯–২০১২ বরুসিয়া মোনছেনগ্লাডবাচ ৯৯ (৩৭)
২০১২– বরুসিয়া ডর্টমুন্ড ৫৭ (২৭)
জাতীয় দল
২০০৯ জার্মানি অনূর্ধ্ব-২১ (০)
২০১১– জার্মানি ১৭ (৭)
* পেশাদারী ক্লাবের উপস্থিতি ও গোলসংখ্যা শুধুমাত্র ঘরোয়া লিগের জন্য গণনা করা হয়েছে এবং ৫ এপ্রিল ২০১৪ (ইউটিসি) তারিখ অনুযায়ী সঠিক।

† উপস্থিতি(গোল সংখ্যা)।

‡ জাতীয় দলের হয়ে খেলার সংখ্যা এবং গোল ১৯ নভেম্বর ২০১২ (ইউটিসি) তারিখ অনুযায়ী সঠিক।

মার্কো রিস (জার্মান উচ্চারণ: [ˈmaɐ̯koː ˈʁɔʏ̯s]  ( listen) ) একজন পেশাদার জার্মান ফুটবলার। তিনি আক্রমণকারী মিডফিল্ডার হিসেবে জার্মান ফুটবল ক্লাব বরুসিয়া ডর্টমুন্ডে খেলেন। এছাড়া মার্কো জার্মান জাতীয় দলেরও একজন খেলোয়ার। তিনি তাঁর বহুমুখী নৈপুণ্য, গতি ও কৌশলের জন্য সুপরিচিত।[১]

মার্কো তাঁর ক্যারিয়ারের শুরুটা করেন বরুসিয়া ডর্টমুন্ডে। তাঁর তিনটি ক্লাবের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। এর মধ্যে বরুসিয়া মুনশেনগ্লাদবাখ উল্লেখযোগ্য। বরুসিয়া ডর্টমুন্ডে মার্কো আক্রমণকারী হিসেবে খেলেন। দুই পায়েই বল নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতার কারণে তিনি ডান, বাম দুই পাশেই এবং মধ্যমাঠেও খেলতে সক্ষম। ২০১২ সাল তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সফল সময়কাল, এই মৌসুমে তিনি ১৮টি গোল করেছেন। এছাড়া মুনশেনগ্লাদবাখকে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগে স্থান করে নিতে তিনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন। ঐ মৌসুমের শেষে মার্কো বরুসিয়া ডর্টমুন্ডে চলে যান। তিনি ১১ নম্বর জার্সি পরিধান করেন। এই জার্সিটি আগে মারিও গোটসা পরতেন, তিনি ক্লাব ছেড়ে যাবা সময় সেটি মার্কোকে দিয়ে যান। বেকেনবাওয়ার মার্কো সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, "ক্লাসিক খেলোয়াড় হিসেবে মার্কো ও গোটসার সমকক্ষ কেউ নেই।" ২০১৩ সালে ব্লুমবার্গ কর্তৃক মার্কো বিশ্বের চতুর্থ সেরা খেলোয়ার নির্বাচিত হন।

প্রাথমিক ক্যারিয়ার[সম্পাদনা]

বরুসিয়া মুনশেনগ্লাদবাখের হয়ে ২০০৯ সালে মার্কো

জার্মানির ডর্টমুন্ডে মার্কো জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৯৪ সালে তিনি তাঁর শহরের স্থানীয় ফুটবল ক্লাব পোস্ট এসভি ডর্টমুন্ডের হয়ে ফুটবল খেলা শুরু করেন। ১৯৯৬ সালে তরুণ খেলোয়াড় র‍্যাঙ্কিং-এ স্থান করে নেন।[২] রট ভিস অ্যাথলেন ক্লাবের অনূর্ধ্ব ১৯ দলে কচলে যাওয়ার আগ পর্যন্ত মার্কো বরুসিয়া ডর্টমুন্ডে খেলেন। অ্যাথলেনের হয়ে তাঁর প্রথম দুই ম্যাচেই তিনি গোল করেন। পরবর্তী বছরে অ্যাথলেনের প্রথম দলের হয়ে তিনি ১৪টি ম্যাচ খেলেন। মৌসুমের শেষে তিনি একটি গোল করেন যা তাঁর ক্লাবকে বুন্দেসলিগার দ্বিতীয় পর্বে নিয়ে যায়।[৩] ২০০৮-০৯ সালে ১৯ বছর বয়সী মার্কো তাঁর পেশাদার ফুটবলার জীবনের অভিষেক ঘটান। তিনি ২৭ ম্যাচে চারবার গোল করেন।[৪] ২০০৯ এর ২৫ মে তিনি বরুসিয়া মুনশেংলাদবাখের হয়ে চার বছরের জন্য চুক্তি করেন।[৫]

২০০৯ এর আগস্টে মার্কো তাঁর বুন্দেসলিগার প্রথম গোলটি করেন মেইন্স-এর বিপক্ষে। প্রায় ৫০ মিটার দূরত্ব একাই অতিক্রম করে তিনি গোলটি করেন।[৬] তিনি তাঁর ক্লাবের একজন নিয়মিত গোলদাতা হয়ে ওঠেন। ২০১১-১২ মৌসুমের শুরুতে মার্কো ১২ ম্যাচের ৭টিতে গোল করেন। গ্লাদবাখের সাথে তাঁর চুক্তি ২০১৫ সালে শেষ হবার কথা। মার্কো বলেছেন তাঁর আদর্শ ফুটবলার হলেন আর্সেনাল মিডফিল্ডার টমাস রসিস্কি, যিনি ২০০৬ সালে আর্সেনালে যাওয়ার পূর্বে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের হয়ে ছয় বছর খেলেছেন।[৭]

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার[সম্পাদনা]

২০০৯ এর আগস্টে তুরস্কের বিপক্ষে তাঁর অনূর্ধ্ব-২১ দলে অভিষেক ঘটান।[৮] ২০১০ এর ৬ মে জাতীয় দল থেকে মাল্টার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে খেলার জন্য তিনি প্রথম ডাক পান।[৯][১০] ২০১০ এর ১১ মে তাকে প্রথম একাদশ থেকে পায়ে ব্যাখার কারণে বাদ দেয়া হয়।[১১] ২০১১ এর ৭ অক্টোবরে তিনি তুরস্কের জাতীয় দলের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে খেলেন।[১২] ২০১২ সালের ২৬ মে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি জাতীয় দলের হয়ে প্রথম গোলটি করেন। এই ম্যাচে জার্মান দল ৫-৩ গোলে সুইজারল্যান্ডের কাছে পরাজিত হয়।[১৩] ২২ জুনে প্রথমবারের মত মার্কো উয়েফা ইউরো ২০১২-এর কোয়ার্টার ফাইনালে গ্রীসের বিপক্ষে গোল করেন।[১৪]

ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান[সম্পাদনা]

  • (৮ এপ্রিল ২০১৪ পর্যন্ত)[১৫]
ক্লাব মৌসুম লীগ কাপ মহাদেশীয় সর্বমোট
উপস্থিতি গোল উপস্থিতি গোল উপস্থিতি গোল উপস্থিতি গোল
রট উইস আহলেন ২০০৭-০৮ ১৭ - ১৭
২০০৮-০৯ ২৭ - ২৮
সর্বমোট ৪৪ ৪৫
বরুসিয়া মোনছেনগ্লাডবাচ ২০০৯-১০ ৩৩ - ৩৫
২০১০-১১ ৩৪ ১১ - ৩৭ ১২
২০১১-১২ ৩২ ১৪ - ৩৭ ২১
সর্বমোট ৯৯ ৩৭ ১০ ১০৯ ৪১
বরুসিয়া ডর্টমুন্ড ২০১২-১৩ ৩২ ১৪ ১২ ৪৭ ১৯
২০১৩-১৪ ২৫ ১৩ ৩৭ ২০
সর্বমোট ৫৭ ২৭ ২১ ৮৪ ৩৯
ক্যারিয়ার সর্বমোট ২০০ ৬৯ ১৭ ২১ ২৩৮ ৮৫

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Uersfeld, Stephan (২৩ আগস্ট ২০১২)। "Bundesliga Season Preview"। ESPN Soccernet। সংগৃহীত ২৪ আগস্ট ২০১২ 
  2. "Arango? Einfach ein Chiller..." (German ভাষায়)। Spox.com। ৯ এপ্রিল ২০১০। সংগৃহীত ৬ ডিসেম্বর ২০১১ 
  3. "Reus, Marco" (German ভাষায়)। kicker.de। সংগৃহীত ৬ ডিসেম্বর ২০১১ 
  4. "Marco Reus nominiert" (German ভাষায়)। torfabrik.de। ৬ মে ২০১০। সংগৃহীত ৬ ডিসেম্বর ২০১১ 
  5. "Gladbach: Marco Reus soll Nachfolger von Marko Marin werden" (German ভাষায়)। bundesligamannschaften.de। ৬ মে ২০১০। সংগৃহীত ৬ ডিসেম্বর ২০১১ 
  6. "Joker Reus krönt Solo aus der eigenen Hälfte" (German ভাষায়)। kicker.de। ২৮ আগস্ট ২০০৯। সংগৃহীত ৬ ডিসেম্বর ২০১১ 
  7. "The Good Life: 10 Facts On Dortmund Ace Marco Reus"Goal.com। ১৫ এপ্রিল ২০১৩। সংগৃহীত ৩১ আগস্ট ২০১৩ 
  8. "Junioren-Europameister im Kader fürs Malta-Spiel" (German ভাষায়)। dfb.de। ৬ মে ২০১০। সংগৃহীত ৬ ডিসেম্বর ২০১১ [অকার্যকর সংযোগ]
  9. "Marco Reus im Aufgebot für Länderspiel gegen Malta" (German ভাষায়)। Borussia Mönchengladbach। [অকার্যকর সংযোগ]
  10. "Aogo und Badstuber dabei, Enttäuschung bei Hitzlsperger" (German ভাষায়)। kicker.de। ৬ মে ২০১০। সংগৃহীত ৬ ডিসেম্বর ২০১১ 
  11. "Marco Reus sagt Löw ab" (German ভাষায়)। kicker.de। ১১ মে ২০১০। সংগৃহীত ৬ ডিসেম্বর ২০১১ 
  12. "Germany's perfect nine leaves Turkey clinging to play-off spot"। The Guardian। ৭ অক্টোবর ২০১১। সংগৃহীত ২৬ এপ্রিল ২০১ 
  13. "Hat-trick by Eren Derdiyok sets up shock Switzerland win over Germany"। The Guardian। ২৭ মে ২০১২। [অকার্যকর সংযোগ]
  14. Rostance, Tom (২২ জুন ২০১২)। "Germany 4–2 Greece"। BBC Sport। সংগৃহীত ২৬ এপ্রিল ২০১৩ 
  15. "Marco Reus"। ESPN Soccernet। সংগৃহীত ২৬ এপ্রিল ২০১৩ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]