ব্রুস মরিসন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ব্রুস মরিসন
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামব্রুস ডোনাল্ড মরিসন
জন্ম১৭ ডিসেম্বর, ১৯৩৩
লোয়ার হাট, নিউজিল্যান্ড
ব্যাটিংয়ের ধরনবামহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি মিডিয়াম
ভূমিকাবোলার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
একমাত্র টেস্ট
(ক্যাপ ৯৬)
১ মার্চ ১৯৬৩ বনাম ইংল্যান্ড
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৪৭
রানের সংখ্যা ১০ ৩৭৪
ব্যাটিং গড় ৫.০০ ৯.৩৪
১০০/৫০ ০/০ ০/০
সর্বোচ্চ রান ১০ ৩৭
বল করেছে ১৮৬ ১১,১১০
উইকেট ১৬৭
বোলিং গড় ৬৪.৫০ ২৪.১৬
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ২/১২৯ ৭/৪২
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১/- ৩০/-
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ২ অক্টোবর, ২০২০

ব্রুস ডোনাল্ড মরিসন (ইংরেজি: Bruce Morrison; জন্ম: ১৭ ডিসেম্বর, ১৯৩৩) লোয়ার হাট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী সাবেক নিউজিল্যান্ডীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৬০-এর দশকের শুরুরদিকে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ওয়েলিংটন দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি মিডিয়াম পেস বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন ব্রুস মরিসন[১]

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৫৩-৫৪ মৌসুম থেকে ১৯৬৪-৬৫ মৌসুম পর্যন্ত ব্রুস মরিসনের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। স্থানীয় দল হাট ভ্যালি’র পক্ষে প্রথম খেলায় অংশ নেন। ডিসেম্বর, ১৯৫১ সালে হক কাপের খেলায় নেলসনে প্রতিপক্ষের মাঠে খেলেন তিনি।[২]

৭ জানুয়ারি, ১৯৫৪ তারিখে ২০ বছর বয়সে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ওতাগোর বিপক্ষে ওয়েলিংটনের সদস্যরূপে ব্যাসিন রিজার্ভে ঐ খেলায় অংশ নেন তিনি। তাৎক্ষণিকভাবে সফলতার স্বাক্ষর রাখেন তিনি। ওতাগোর প্রথম ইনিংসে ৪/৭০ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৭/৪২ পান। তাসত্ত্বেও, রূদ্ধশ্বাসপূর্ণ ঐ খেলায় ওতাগো মাত্র ৩ রানে জয়লাভ করেছিল।[৩] পরের খেলায়ও তিনি তার খেলার ধারা অব্যাহত রাখেন। ইডেন পার্কে অকল্যান্ডের বিপক্ষে ৫/৬০ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন ও ব্যাট হাতে ৩৩ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি।[৪] ঐ মৌসুমে মাত্র ১৬.৬৮ গড়ে ২২ উইকেট পেয়েছিলেন।[৫]

পরের মৌসুমে ধারাবাহিকভাবে বোলিং করলেও সংবাদ শিরোনামে আসতে পারেননি তিনি। সফররত এমসিসি দলের বিপক্ষে ওয়েলিংটনের সদস্যরূপে প্রস্তুতিমূলক খেলায় অংশ নেন। ব্যাসিন রিজার্ভে অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় ট্রেভর বেইলি, বিল এডরিচকলিন কাউড্রে’র উইকেট পেয়েছিলেন তিনি।[৬] ঐ মৌসুমে তার বোলিং গড়ের অবনমন ঘটে। মাত্র ১৬ উইকেট লাভে তাকে প্রায় উইকেট প্রতি ৩০ গড়ে রান খরচ করতে হয়েছিল।[৭]

১৯৫৫-৫৬ মৌসুমে আরও ভালোমানের খেলা উপহার দেন। সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের বিপক্ষে ৭/৬৮ বোলিং পরিসংখ্যান গড়ে অসাধারণ ক্রীড়াশৈলী উপহার দেন।[৮] ঐ মৌসুমে তিনি ২৪ উইকেট পেয়েছিলেন। অন্যদিকে, ১৯৫৬-৫৭ মৌসুমে ২০.৯৩ গড়ে ১৫ উইকেট লাভের পর ১৯৬০-৬১ মৌসুমে ১৭.৮১ গড়ে ১১ উইকেট দখল করেন। এরপর, ১৯৬১-৬২ মৌসুমে ১৮.৯৩ গড়ে ১৬ উইকেট ও ১৯৬২-৬৩ মৌসুমে ২০.৫৫ গড়ে ২৭ উইকেট পান। তন্মধ্যে, ডুনেডিনের কারিসব্রুকে ওতাগোর বিপক্ষে ৫/৪১ লাভ করেছিলেন।[৯] এভাবেই তিনি তার শুরুরদিকের খেলার ছন্দে ফিরে আসেন। ১৯৬২-৬৩ মৌসুমে ব্রুস মরিসন প্লাঙ্কেট শীল্ডে অনেকগুলো উইকেট পান। ঐ মৌসুমের শেষদিকে নিজস্ব একমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ হয় তার।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন ব্রুস ডোনাল্ড। ১ মার্চ, ১৯৬৩ তারিখে ওয়েলিংটনে সফরকারী ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। এটিই তার একমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল। এরপর আর তাকে কোন টেস্টে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়নি।

নিউজিল্যান্ডের পক্ষে টেস্টে ৯৬তম ক্যাপধারী ছিলেন তিনি।[১০] ১৯৬২-৬৩ মৌসুমে ইংল্যান্ড দল নিউজিল্যান্ড গমন করে। ১-৪ মার্চ, ১৯৬৩ তারিখে ব্যাসিন রিজার্ভে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ইংল্যান্ড দল কেবলমাত্র একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংস ব্যবধানে বিজয়ী হয়। ব্রুস মরিসন তমেন সফলতা পাননি। টেড ডেক্সটারপিটার পারফিটের প্রাপ্ত দুই উইকেট একই ওভারে পেলেও তাকে ১২৯ রান খরচ করতে হয়েছিল।[১১] এরপর তাকে তৃতীয় টেস্টে খেলানো হয়নি।

অবসর[সম্পাদনা]

ওয়েলিংটনের পক্ষে আরও দুইটি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট মৌসুম খেলেন। ১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে সফররত পাকিস্তানি একাদশের বিপক্ষে নিজস্ব সর্বশেষ খেলাটি জানুয়ারি, ১৯৬৫ সালে খেলেন। ১৯৬৭-৬৮ মৌসুম পর্যন্ত হক কাপে হাট ভ্যালি’র পক্ষে খেলা চালিয়ে যান।[১২]

১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে প্রথমবারের মতো প্রবর্তিত বার্ট সাটক্লিফ পদক যৌথভাবে লাভ করেন। নিউজিল্যান্ডের ওয়েলিংটন অঞ্চলে কিশোরদের ক্রিকেটে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ সম্মাননা লাভ করেন।[১৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Bruce Morrison"Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০ 
  2. Cricket Archive
  3. Cricket Archive
  4. Cricket Archive
  5. Cricket Archive
  6. Cricket Archive
  7. Cricket Archive
  8. Cricket Archive
  9. Cricket Archive
  10. New Zealand test players ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০ মে ২০০৮ তারিখে
  11. Cricket Archive
  12. Cricket Archive
  13. "New Zealand Cricket Awards"NZ Cricket Museum। ২২ জুলাই ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]