বাকিটা ব্যক্তিগত

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
বাকিটা ব্যক্তিগত
বাকিটা ব্যক্তিগত.jpg
পরিচালকপ্রদীপ্ত ভট্টাচার্য্য
প্রযোজকঅর্ক পাল, সত্রজিৎ সেন
রচয়িতাপ্রদীপ্ত ভট্টাচার্য্য
চিত্রনাট্যকারপ্রদীপ্ত ভট্টাচার্য্য
কাহিনিকারপ্রদীপ্ত ভট্টাচার্য্য
শ্রেষ্ঠাংশেঋত্বিক চক্রবর্তী
অপরাজিতা ঘোষ দাস
মাধবী মুখোপাধ্যায়
দেবেশ রায় চৌধুরী
সুপ্রিয় দত্ত
চূর্ণী গাঙ্গুলি
মনু মুখোপাধ্যায়
অমিত সাহা
সুদীপা বসু
সুরকারঅনিন্দ্যসুন্দর চক্রবর্তী
চিত্রগ্রাহকশুভঙ্কর ভর
সম্পাদকপ্রদীপ্ত ভট্টাচার্য্য
প্রযোজনা
কোম্পানি
ট্রাইপড এন্টারটেইনমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড
মুক্তি২৯ জুন ২০১৩ (যুক্তরাষ্ট্র)
৭ জুলাই ২০১৩ (কানাডা)
২০ সেপ্টেম্বর ২০১৩ (কলকাতা, ভারত)
দৈর্ঘ্য১৪৫ মিনিট
দেশভারত
ভাষাবাংলা

বাকিটা ব্যক্তিগত একটি বাংলা চলচ্চিত্র। চলচ্চিত্রটি প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য্য কর্তৃক পরিচালিত এবং ট্রাইপড এন্টারটেইনমেন্ট কর্তৃক প্রযোজিত হয়েছে। [১] এটি ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের ৬১ তম আসরে শ্রেষ্ঠ বাংলা ভাষার পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতেছে।[২]

কাহিনীসংক্ষেপ[সম্পাদনা]

প্রমিত নামের একজন স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা, প্রেমের প্রকৃতি বোঝার চেষ্টা করছে। তার প্রেমের প্রস্তাব ক্রমাগত প্রত্যাখ্যাত হওয়াও এই আগ্রহের পেছনের আরেকটি কারণ। এইভাবে, সে ও তার ক্যামেরাম্যান অমিত, তথ্যচিত্রের ধাঁচে, প্রেম সম্পর্কে কলকাতার বিভিন্ন মানুষের অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা জানতে অভিযানে নেমে পড়ে। অবশেষে তাদের একজন জ্যোতিষীর সাথে দেখা হয়, যাকে তারা শুরুতে প্রতারক বলে মনে করে। পরে সে দাবি করে যে সে সত্যিই তাদের সমস্যার সমাধান করতে পারবে। তারা জ্যোতিষীর সঙ্গে তার বাড়িতে যায় এবং জানতে পারে যে তার দুইজন স্ত্রী আছে, যারা উভয়েই আপাতদৃষ্টিতে অসুখী। জ্যোতিষী তাদের বলে যে, পশ্চিমবঙ্গে এমন একটি গ্রাম আছে যেখানে গেলে মানুষ প্রেমে পড়ে যায়। যাইহোক, সে তাদের ঐ গ্রামে যাওয়ার ঠিকানা জানাতে পারে না, বরং তাদেরকে নরেন শাসমল নামে এক ব্যক্তির ঠিকানা দেয়। অবশেষে তারা নরেনের বাড়ি খুঁজে বের করে এবং তাকে সেই গ্রাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। সে তাদের বলে যে সেও ১৯৮০-এর দশকে ওই গ্রামে গিয়ে প্রেমে পড়ে এবং তার প্রেমিকাকে বিয়ে করে, যে প্রায় ৫-৭ বছর আগে মারা গিয়েছে। সে তাদের জানায় যে ঐ গ্রামের নাম "মোহিনী", কিন্তু সেও ঐ গ্রামের ঠিকানা জানে না ও সেখানে যাওয়ার উপায় ভুলে গিয়েছে। যাইহোক, তারা তার কথা শুনে হতাশ হয়ে ফিরতে গেলে, সে মল্লিকা সাহা নামে একজনের ঠিকানা দেয়, যে তাদেরকে এ ব্যাপারে সাহায্য করতে পারবে। দেখা যায় যে ঠিকানাটি পুরাতন কিন্তু প্রমিত তাকে খুঁজে বের করে ও "মোহিনী" সম্পর্কিত তথ্য উন্মোচন করে। তারা জানতে পারে, "মোহিনী" গ্রামে যাওয়ার জন্য ধর্মতলা থেকে শিকারপুর ও পরিশেষে নাজিরপুর পর্যন্ত বাসে যেতে হবে এবং তারপর একজন ব্যক্তি এসে তাদের "মোহিনী" তে নিয়ে যাবে। এছাড়াও তারা জানতে পারে যে মল্লিকা সাহা নরেনের (তার পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক) ছাত্রী এবং আশুতোষ কলেজে পদার্থবিজ্ঞানে অনার্স পড়ার সময় তার সহপাঠী দেবাশিসকে পছন্দ করতো, কিন্তু তখন তা প্রকাশ করতে পারেনি। পরে তারা উভয়েই "মোহিনী" তে যায় ও প্রবলভাবে একে অপরের প্রেমে পড়ে, কিন্তু জাতিগত অসামঞ্জস্যতার কারণে তাদের পরিবার তাদের একে অপরকে বিয়ে করতে দেয়নি। দেবাশিস আমেরিকায় গিয়ে সেখানে বিয়ে করেছিল কিন্তু অন্য একটি দৃশ্যে দেবাশিস স্বীকার করে যে সে এখনও মল্লিকাকে ভালবাসে। পরবর্তীতে প্রমিত একটি রেস্তোরাঁয় তাদেরকে একত্রিত করে।

এরপর প্রমিত ও অমিত নাজিরপুরের দিকে যাত্রা করে। সেখানে দীর্ঘক্ষণ প্রতীক্ষার পর অবশেষে ভবেন নামে একজন লোক তাদেরকে তার ভ্যানে করে "মোহিনী" নিয়ে যায়। সেখানে পৌঁছে তারা আবিষ্কার করে যে ঐ এলাকায় কোনো সেলফোন টাওয়ার নেই। তারা বিভিন্নভাবে উপভোগ করে তাদের দিন কাটায়। অবশেষে, অমিত গ্রামের এক স্থানীয় মেয়ে পলির প্রতি আকৃষ্ট হয়। কয়েকদিন পর, প্রমিত এবং অমিতের সাথে এক বৃদ্ধা ও তার নাতনি শম্পার সাক্ষাৎ হয়। তারা আবিষ্কার করে যে শম্পা অলৌকিকভাবে হুবহু জ্যোতিষীর স্ত্রীর মত দেখতে। এতে তারা দুজনেই বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। ক্রমেই, শম্পা প্রমিতকে প্রলুব্ধ করতে শুরু করে এবং তারা উভয়েই একে অপরের প্রেমে পড়ে যায়, যা অমিত এবং পলির ক্ষেত্রেও ঘটে। উভয় দম্পতি বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং প্রমিত ও অমিত আবার ফিরে আসার সংকল্প নিয়ে গ্রাম ছাড়ে। অমিত ভবেনকে জিজ্ঞেস করে যে অমিত আর প্রমিত সেখানে আসবে তা সে কিভাবে জেনেছিল, উত্তরে ভবেন বলে যে যখনই গ্রামের কোন কুমারী মেয়ে বিয়ের বয়সে উপনীত হয়, তখনই সে বুঝতে পারে যে গ্রামে কেউ না কেউ আসবে। কিছু দিন কাটে এবং তারা পুনরায় "মোহিনী" যাওয়ার জন্য নাজিরপুর পর্যন্ত আসে। কিন্তু এবার তারা অধৈর্য হয়ে ওঠে এবং ভবেনের জন্য অপেক্ষা না করে নিজেরাই "মোহিনী" খুঁজতে বেরিয়ে পড়ে। কিন্তু অনেক খুঁজেও তারা জায়গাটি পায়না এবং স্থানীয় লোকেরা দাবি করে যে তারা "মোহিনী" নামে কোন জায়গার কথা শোনেইনি। এরপর দুজনে কলকাতায় ফিরে এসে আশ্চর্যের সাথে আবিষ্কার করে যে, জ্যোতিষী নরেন শাসমোল এবং পুরো মল্লিকা পরিবারই অস্তিত্বহীন। অবশেষে, একটি ট্যাক্সিতে বসে অমিত আবার "মোহিনী" তে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং এবার ভবেনের জন্য ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করার সংকল্প করে। কিন্তু হঠাৎ প্রমিত চালককে গাড়ি থামাতে বলে এবং দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে একজন মেয়ের পিছনে ধাওয়া করে। মেয়েটির পোশাক দেখে তাকে শহুরে বলে মনে হয় কিন্তু যখন সে ফিরে তাকায় তখন অমিত আর প্রমিত তার মুখে শম্পার চেহারা দেখে বিস্মিত হয়ে যায়। মেয়েটির হাসির সাথে পর্দা কালো হয়ে যায় এবং পর্দায় চলচ্চিত্রের শিরোনাম, "বাকিটা ব্যক্তিগত" লেখা ভেসে ওঠে।

কুশীলব[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Bakita Byaktigato cast and crew"। Gomolo। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৪ নভেম্বর ২০১২ 
  2. http://pib.nic.in/newsite/erelease.aspx?relid=104863

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]