বব ব্লেয়ার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
বব ব্লেয়ার
Bob Blair cricketer 1956.jpg
১৯৫৬ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে বব ব্লেয়ার
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামরবার্ট উইলিয়াম ব্লেয়ার
জন্ম (1932-06-23) ২৩ জুন ১৯৩২ (বয়স ৮৮)
পেটোন, নিউজিল্যান্ড
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম
ভূমিকাবোলার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৫৭)
৬ মার্চ ১৯৫৩ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
শেষ টেস্ট১৩ মার্চ ১৯৬৪ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ১৯ ১১৯
রানের সংখ্যা ১৮৯ ১৬৭২
ব্যাটিং গড় ৬.৭৫ ১২.২৯
১০০/৫০ ০/১ ০/৩
সর্বোচ্চ রান ৬৪* ৭৯
বল করেছে ৩৫২৫ ২৫২৮২
উইকেট ৪৩ ৫৩৭
বোলিং গড় ৩৫.২৩ ১৮.৫৪
ইনিংসে ৫ উইকেট ৪১
ম্যাচে ১০ উইকেট ১২
সেরা বোলিং ৪/৮৫ ৯/৭২
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৫/- ৪৬/-
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০

রবার্ট উইলিয়াম ব্লেয়ার (ইংরেজি: Bob Blair; জন্ম: ২৩ জুন, ১৯৩২) পেটোন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী সাবেক নিউজিল্যান্ডীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৫৩ থেকে ১৯৬৪ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টস ও ওয়েলিংটন দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম বোলার হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন বব ব্লেয়ার

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৫১-৫২ মৌসুম থেকে ১৯৬৪-৬৫ মৌসুম পর্যন্ত বব ব্লেয়ারের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। ১৯৫৫ সালে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট অ্যালমেনাক কর্তৃক বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের সম্মাননা লাভ করেন।

বব ব্লেয়ার ফাস্ট বোলার ছিলেন। প্লাঙ্কেট শীল্ডে বিরাটভাবে সফলতার স্বাক্ষর রাখলেও আন্তর্জাতিকে অঙ্গনে তা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। ১৯৫১-৫২ মৌসুম থেকে ১৯৬৪-৬৫ মৌসুম পর্যন্ত ওয়েলিংটনের পক্ষে ৫৯ খেলায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি। এ পর্যায়ে ১৫.১৬ গড়ে ৩৩০ উইকেট লাভ করেছিলেন।[১] ১৯৫৬-৫৭ মৌসুমে স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করেন। পাঁচ খেলায় তিনি ৯.৪৭ গড়ে ৪৬ উইকেট লাভ করেছিলেন। তন্মধ্যে, দুইবার ইনিংসে নয় উইকেট পেয়েছিলেন।[২] পরের মৌসুমে ১১.২০ গড়ে ৩৪ উইকেট সংগ্রহ করেন। মৌসুমের শেষদিকে প্রস্তুতিমূলক খেলায় অংশ নেন। নর্থ আইল্যান্ডের সদস্যরূপে সাউথ আইল্যান্ডের বিপক্ষে উভয় ইনিংসেই তিনি পাঁচ-উইকেট পেয়েছিলেন।[৩]

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে উনিশটি টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন বব ব্লেয়ার। ৬ মার্চ, ১৯৫৩ তারিখে ওয়েলিংটনে সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ১৩ মার্চ, ১৯৬৪ তারিখে অকল্যান্ডে একই দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

১৯৫৮ সালে নিউজিল্যান্ড দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। তিন টেস্টের ঐ সিরিজের সবগুলো খেলায় অংশ নিয়ে ৭০ গড়ে মাত্র তিন উইকেট পান।[৪] ১৯৬৩-৬৪ মৌসুমে অকল্যান্ডে সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সুন্দর ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেন। নিজস্ব শেষ টেস্টে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং পরিসংখ্যান ৭/১৪২ গড়েন।[৫]

১৯৬২-৬৩ মৌসুমে ইংল্যান্ড দল নিউজিল্যান্ডে গমন করে। ওয়েলিংটনে সফরকারী ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে দলীয় সংগ্রহ ৯৬/৭ থাকা অবস্থায় ব্যাট হাতে মাঠে নামেন। অপরাজিত ৬৪ রানের দূর্দান্ত ইনিংস উপহার দিয়েছিলেন বব ব্লেয়ার ও দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকে পরিণত হন। এ ইনিংসটি তার সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ সংগ্রহ ছিল। এ পর্যায়ে শেষ উইকেটে জুটিতে ফ্রাঙ্ক ক্যামেরনের সাথে ৪৪ রান তুলে দলের সংগ্রহকে ১৯৪-এ নিয়ে যান।[৬]

অর্জনসমূহ[সম্পাদনা]

দূর্ভাগ্যজনকভাবে ঐ সময়ে দূর্বলতম নিউজিল্যান্ডে দলে খেলেছিলেন তিনি। অংশগ্রহণকৃত ১৯ টেস্টে দলটি ১৩টিতে পরাজিত হয় ও কোন খেলায় জয়ের সন্ধান পায়নি। তবে, নিচেরসারির ব্যাটসম্যানে হিসেবে তার রান সংগ্রহের হার তথৈবচ ছিল। তিনবার জোড়া শূন্য রান পান ও অংশগ্রহণকৃত ৩৪টি টেস্ট ইনিংসের মধ্যে কেবলমাত্র দুইবার দুই অঙ্কের রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন তিনি।

বব ব্লেয়ার তার পূর্ণাঙ্গ খেলোয়াড়ী জীবনে সর্বনিম্ন ব্যাটিং গড়ের ন্যায় অগৌরবজনক রেকর্ডের অধিকারী। একটি অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলা সত্ত্বেও টেস্টে তার ব্যাটিং গড় ছিল মাত্র ৬.৭৫।[৭]

১৯৮০-এর দশকে উইডনেস ক্রিকেট ক্লাবে কোচ হিসেবে যোগ দেন। ঐ সময়ে ক্লাবটি ম্যানচেস্টার ও জেলা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের অংশ ছিল। ১৯৯০-এর দশকের শেষদিকে জিম্বাবুয়ের ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট প্রতিযোগিতা লোগান কাপে অংশগ্রহণকারী দল মাতাবেলেল্যান্ডের কোচ হিসেবে মনোনীত হন। এরপর তিনি দ্বিতীয়বারের মতো উইডনেসে খেলেন। এ পর্যায়ে দলটি চেশায়ার কাউন্টি ক্রিকেট লীগে যোগ দেয়। বর্তমানে তিনি চেশায়ারের ওয়ারিংটনে বসবাস করছেন।

টাঙ্গিওয়াই দূর্ঘটনা[সম্পাদনা]

১৯৫৩ সালে নিউজিল্যান্ড দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। জোহেন্সবার্গের এলিস পার্ক স্টেডিয়ামে খেলা চলাকালীন জানতে পারেন তার বাগদত্তা নেরিসা ক্লার্ক বড়দিনের প্রাক্কালে টাঙ্গিওয়াই রেল দূর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। ব্লেয়ার বেশ ভেঙে পড়েন। বক্সিং ডেতে ব্যাট হাতে নামার সময়ে তিনি নামেননি। খেলায় তিনি আর নামবেন না বলে ঘোষণা দেন। তবে, নবম উইকেট পতনের পর বার্ট সাটক্লিফের সাথে যোগ দেন। এ পর্যায়ে সাটক্লিফ প্যাভিলিয়নমূখী ছিলেন। নিস্তব্ধ দর্শকেরা দাঁড়িয়ে শোক প্রকাশ করে।[৮] শেষ উইকেটে এ দু’জনে ৩৩ রান যুক্ত করেছিলেন। আট-বলে গড়া ওভারে সাটক্লিফ তিনটি ছক্কা হাঁকান ও ব্লেয়ার এক রান তুলেন। তবে, পরের ওভারেই হিউ টেফিল্ডের বলে স্ট্যাম্পিংয়ের শিকারে পরিণত হন তিনি। ঐ খেলায় স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা দল ১৩২ রানে জয় পেয়েছিল।[৯]

এ ঘটনাকে উপজীব্য করে নরম্যান হ্যারিস ২০১০ সালে ‘হোয়াট আর ইউ ডুয়িং আউট হেয়ার: হিরোইজম এন্ড ডিস্ট্রেস এট এ ক্রিকেট টেস্ট’ শীর্ষক গ্রন্থ প্রকাশ করেন। বব ব্লেয়ার গ্রন্থের ভূমিকাংশ লিখেন।[১০] ২০১১ সালে লিপ্পি পিকচার্সের পরিবেশনায় টেলিভিশন নিউজিল্যান্ডে ঐ দূর্ঘটনাকে ঘিরে ‘টাঙ্গিওয়াই: এ লাভ স্টোরি’ শীর্ষক টেলিভিশন চলচ্চিত্র দেখানো হয়। এতে বব ব্লেয়ার ও তার বাগদত্তার প্রেমকাহিনীর দিকে মনোনিবেশ ঘটানো হয়েছিল।[১১] অভিনেতা রায়ান ওকেন ব্লেয়ারের ভূমিকায় ও রোজ ম্যাকাইভার নেরিসা লাভের চরিত্রে অভিনয় করেন। ১৪ আগস্ট, ২০১১ তারিখে টিভি ওয়ানে প্রিমিয়ার শো দেখানো হয়।[১২] এরপর ডিভিডিতে মুক্তিপ্রাপ্ত হয়। অকল্যান্ডের অভিনেতা জনি বার্গ ‘দ্য সেকেন্ড টেস্ট’ শিরোনামীয় নাটক লেখেন ও মঞ্চস্থ করেন। এতে ব্লেয়ারের দৃষ্টিভঙ্গি ও নিউজিল্যান্ডে দলে খেলা চালিয়ে যাবার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।[১৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "First-class Bowling For Each Team by Bob Blair"CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭ 
  2. "Bowling in Plunket Shield 1956-57"CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭ 
  3. Wisden 1959, pp. 853-55.
  4. Wisden 1959, p. 229.
  5. "New Zealand v South Africa, Auckland 1963-64"CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ১৫ মে ২০১৭ 
  6. Wisden 1964, p. 832.
  7. Walmsley, Keith (২০০৩)। Mosts Without in Test Cricket। Reading, England: Keith Walmsley Publishing Pty Ltd। পৃষ্ঠা 457। আইএসবিএন 0947540067 
  8. Williamson, Martin। "Beyond the call of duty"Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জানুয়ারি ২০০৯ 
  9. "South Africa v New Zealand in 1953"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জানুয়ারি ২০০৯ 
  10. Last Side Publishing website
  11. "Tangiwai (2011)"IMDb। সংগ্রহের তারিখ ৭ নভেম্বর ২০১২ 
  12. "Death and the maiden: The tale of 'Tangiwai'"New Zealand Herald। ৬ আগস্ট ২০১০। সংগ্রহের তারিখ ১২ আগস্ট ২০১১ 
  13. "Cricket: Emotion of Blair's story brought to stage"Otago Daily Times। ৩০ মার্চ ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ৩১ মার্চ ২০১১ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]