ফ্রান্সে সমকামীদের অধিকার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
সমকামী অধিকার : ফ্রান্স
EU-France.svg
 ফ্রান্স  (গাঢ় সবুজ)

– ইউরোপে  (হালকা সবুজ ও গাঢ় ধূসর)
– ইউরোপীয় ইউনিয়নে  (হালকা সবুজ)  —  [মানচিত্রে]

সমকামী অধিকার? ১৭৯১ সাল থেকে বৈধ,
দৈহিক মিলনের ন্যূনতম বয়স ১৫ করা হয়েছে ১৯৮২ সালে
লিঙ্গ স্বীকৃতি হ্যাঁ, লিঙ্গ পরিবর্তনের অনুমতি আছে
সামরিক চাকরিতে হ্যাঁ, সমকামীদের জন্যেও আবার হিজড়াদের জন্যেও
বৈষম্য নিরাপত্তা হ্যাঁ, ফ্রান্সের সব জায়াগাতেই
পারিবারিক অধিকার
সম্পর্কের স্বীকৃতি হ্যাঁ, সমলিঙ্গের বিয়ে বৈধ
সন্তান দত্তক হ্যাঁ, সমলিঙ্গের যুগলদেরর জন্যেও আবার হিজড়াদের জন্যেও
সমকামীদের আনন্দ মিছিল, প্যারিস ২০০৮

সমকামিনী, সমকামী, উভকামী এবং হিজড়া (লেসবিয়ান, গে, বাইসেক্সুয়াল, ট্র্যান্সজেন্ডার সংক্ষেপে এলজিবিটি) অধিকার প্রদানের ক্ষেত্রে ফ্রান্স ঐতিহ্যগতভাবেই উদার এবং ইউরোপ ও সারা বিশ্বের তুলনায় অনেকটা এগিয়ে।[১] যদিও প্রাচীন যুগে ফ্রান্সে সমকামিতাকে একটি বড় ধরণের অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হত এবং এটার সাজা হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হত, ১৭৯১ সালে ফরাসী বিপ্লবের সময় সকল 'সডোমী আইন' (Sodomy শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ পায়ুকাম) বাতিল করা হয়। তারপরেও, একটি কমজানা 'অশ্লীল পোশাক আইন' ১৯৬০ সালে চালু করা হয় যেটার মাধ্যমে মাঝেমাঝেই সমকামীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হত, আইনটি ২০ বছর পর উঠিয়ে দেওয়া হয়। সম-লিঙ্গের মানুষের মধ্যে যৌন-সম্পর্ক স্থাপনের জন্যে ন্যূনতম বয়স ১৫ করা হয় ১৯৮২ সালে, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ফ্রাসোয়াঁ মিটার‍্যান্ড এর আমলে। সমলিঙ্গের যুগলদের জন্যে 'ডমেস্টিক পার্টনারশীপ' (যেটি 'সিভিল সলিডেয়ারিটি প্যাক্ট-১৯৯৯' হিসেবে পরিচিত) সুবিধা দেওয়ার পর ২০১৩ সালে ফ্রান্স বিশ্বের ১৩তম দেশ হিসেবে পরিগণিত হয় সম-লিঙ্গের মানুষের মধ্যে বিয়ের বৈধতার ক্ষেত্রে, দেশটিতে কিছুটা বিরোধিতা থাকা সত্ত্বেও। ১৯৮৫ সালে যৌন অভিমুখীতা এবং 'লিঙ্গ পরিচয়' এর ক্ষেত্রে বৈষম্য করা যাবেনা এ মর্মে একটি আইন করা হয়। লিঙ্গ পরিবর্তনে ইচ্ছুক মানুষেরা তাদের লিঙ্গ পরিবর্তন করতে পারবেন, এটি আইনগতভাবে বৈধ এবং ২০০৯ সাল থেকে ফ্রান্স লিঙ্গ-পরিবর্তনের মন-মানসিকতাসম্পন্ন ব্যক্তিদেরকে মানসিক রোগী আখ্যা দেওয়া বাদ দিয়ে দেয়, ফ্রান্সই পৃথিবীর প্রথম দেশ এই পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে। ফ্রান্সকে বিশ্বের অন্যতম সমকামীবান্ধব রাষ্ট্র হিসেবে সবসময়ই ধরা হয়। জরিপে দেখা যায় যে অধিকাংশ ফরাসী মানুষ সম-লিঙ্গের মানুষের মধ্যে বিয়ে হওয়াটাকে সমর্থন করে এবং ২০১৩তে,[২] একটি জরিপ নির্দেশ করে যে ৭৭% ফরাসী মানুষ বলেন যে সমকামিতাটা সমাজ দ্বারা সমর্থিত হওয়া উচিত, যেই সমর্থন করার প্রবণতাটা বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ।[৩] অনেক সংবাদমাধ্যম প্যারিস শহরটিকে বিশ্বের অন্যতম সমকামীবান্ধব হিসেবে ধরেছে, প্যারিসের 'লে মারাইস', 'কুয়ারটিয়ার পিগালে' এবং 'বইস ডে বউলগ্নে' কে বলা হয় 'সমৃদ্ধশালী সমকামী এবং হিজড়া'দের এলাকা এবং এ এলাকাগুলো সমকামীদের নৈশক্লাবের জন্য বিখ্যাত।[৪]

সমলিঙ্গের মানুষের মধ্যে যৌন সম্পর্ক নিয়ে আইন[সম্পাদনা]

সডোমী আইন[সম্পাদনা]

ফরাসী বিপ্লবের আগে পায়ুকাম ছিল একটি বড় ধরণের অপরাধ। জন ডায়ট এবং ব্রুনো লেনয়ের ছিলেন সর্বশেষ সমকামী যাদেরকে আগুনে পুড়িয়ে মারা হয় ১৭৫০ সালের ৬ জুলাইয়ে।[৫] প্রথম ফরাসী বিপ্লব সমকামিতাকে বৈধ করে যখন '১৭৯১ সালের দণ্ডবিধি' সমলিঙ্গের মানুষের মধ্যে গোপন সম্পর্ক গুরুত্ব দেওয়া বাদ দেয়। ১৮১০ সালের দণ্ডবিধিতে এই নীতিটি রেখে দেওয়া হয় গোপন যৌনকর্মের ক্ষেত্রে, এবং ফ্রান্স যেসব দেশে উপনিবেশ স্থাপন করেছিল সেসব দেশ এই বিধি অনুসরণ করেছিল। এখনও সমকামিতা এবং ক্রস-ড্রেসিংকে অস্বাভাবিক বলে গণ্য করা হচ্ছিল এবং সমকামীদেরকে বিষমকামীরা মানসিকভাবে হেনস্তা করত কারণ এরকম অনেক আইন ছিল যেগুলো নৈতিকতার আইন হিসেবে পরিচিত ছিল। এ্যালসেস এবং লোরেইন এলাকার কিছু সমকামীকে ১৯৪০ সালে জার্মানীর নাৎসি বাহিনী অত্যাচার করে, হত্যা করে এবং জেলে আটকিয়ে রাখে।

দৈহিক মিলনের সম্মতির জন্য বেশী বয়স[সম্পাদনা]

দণ্ডবিধিতে ১৮৩২ সালের ২৮ এপ্রিল দৈহিক মিলনের সম্মতির ন্যূনতম বয়স নির্ধারণ করা হয়। উভয় লিঙ্গের জন্য ১১ বছর করা হয়, এটাকে ১৩ বছর করা হয় ১৮৬৩ সালে। ১৯৪২ সালের ৬ আগস্ট 'ভিচি সরকার' দণ্ডবিধিতে একটি বৈষম্যমূলক আইন চালু করে: অনুচ্ছেদ ৩৩৪ (১৯৪৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারী ৩৩১ অনুচ্ছেদে সরানো হয়[৬] ফরাসী প্রজাতন্ত্রের প্রভিশনাল সরকার দ্বারা) দৈহিক মিলনের সর্বনিম্ন বয়স সমকামীদের জন্য কমপক্ষে ২১ এবং বিষমকামীদের জন্য কমপক্ষে ১৫ করে দেয়। এই ২১ বছরটি ১৯৭৪ সালে কমিয়ে ১৮ করা হয়, যেটি বৈধ সংখ্যাগরিষ্ঠতার বয়স হিসেবে পরিচিতি পায়।[৭] এই আইন ১৯৮২ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত কার্যকর থাকে, যখন এটি রাষ্ট্রপতি ফ্রাসোয়াঁ মিটার‍্যান্ড কর্তৃক বাতিল হয়ে বয়স কমপক্ষে ১৫ বছর হয়ে যায়,[৮] 'ফরাসী ন্যাশনাল এ্যাসেম্বলীতে' জন ফোয়ারের বিরোধিতা সত্ত্বেও।[৯]

অশ্লীল পোশাক[সম্পাদনা]

একটি কমজানা বৈষম্যমূলক আইন ১৯৬০ সালে বের করা হয়, দণ্ডবিধিতে ঢুকিয়ে (অনুচ্ছেদ ৩৩০, ২য় অশিষ্ট) একটি সারাংশ যেটি সমকামী ব্যক্তিদের অশ্লীল পোশাক পরিধানের জন্যে দ্বিগুন শাস্তির বিধান করে। এই আইনটি[১০] চালু করা হয় বেশ্যাবৃত্তির দালালী বন্ধ করার জন্য। সমকামিতা বিরোধী সারাংশ বানানো হয় পার্লামেন্টের ইচ্ছা অনুয়ায়ী, ইচ্ছাটি নিম্নরুপ:

এই আইনটি নির্বাহী দ্বারা চালু করা হয় পার্লামেন্টের বৈধতা পাওয়ার পর 'জাতীয় সমস্যা' (যেমন মাদকসেবন) এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে। পল মিরগুয়েট, ন্যাশনাল এ্যাসেেম্বলী এর একজন সদস্য,ধরে নেন সমকামিতাও একটি সমস্যা এবং তিনি একটি উপ-অধ্যাদেশ জারী করেন, যেটি 'মিরগুয়েট অধ্যাদেশ' হিসেবে পরিচিতি পায়, এর মাধ্যমে সরকারের উপর দায়িত্ব বর্তায় সমকামীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যে।[১১][১২]

১৯৮০ সালে এই ৩৩০ অনুচ্ছেদের ২য় অশিষ্ট বাতিল করে দেওয়া হয়।[১৩]

সম-লিঙ্গের মানুষের মধ্যে সম্পর্কের স্বীকৃতি[সম্পাদনা]

'সিভিল সলিডেয়ারিটি প্যাক্ট' (Civil Solidarity Pact সংক্ষেপে PACS, প্যাক্স), এক প্রকারের রেজিস্টার্ড 'ডমেস্টিক পার্টনারশীপ' (একসঙ্গে একই গৃহে বাস করা এবং যৌনমিলন করা) নীতি, ১৯৯৯ সালে চালু করা হয় সম-লিঙ্গের মানুষের প্রেমের যুগলদের জন্যেও আবার বিপরীত লিঙ্গের মানুষের প্রেমের যুগলদের জন্যেও তবে এটি ছিল কেবলমাত্র অবিবাহিত যুগলদের জন্যে, এটি চালু করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লিওনেল জসপিন। যে সকল যুগলরা 'প্যাক্স' চুক্তিতে আবদ্ধ হন তারা বিষমকামী বিয়ের মতই আইনী সুরক্ষা, অধিকার এবং দায়-দায়িত্ব পেয়ে থাকেন। সন্তান দত্তক নেওয়ার অধিকার এবং কৃত্রিম গর্ভধারণ প্যাক্স গ্রহণকারীদের জন্যে নিষেধ। বিবাহিত যুগলদের মত এরা সম্পর্কের ৩ বছর পার হওয়ার আগ পর্যন্ত 'সম্পর্ক-কর' ফিরিয়ে নিতে পারতেন না, যদিও এটি ২০০৫ সালে বাতিল করা হয়, এখন প্যাক্স গ্রহণকারীরা যখন ইচ্ছা তখন সম্পর্ক-কর ফিরিয়ে নিতে পারবেন।[১৪]

সম-লিঙ্গের সিভিল ইউনিয়ন/ডমেস্টিক পার্টনারশীপ বিদেশী রাষ্ট্রগুলোর আইনে যেভাবে দেওয়া আছে সেগুলো ফ্রান্স মেনে নেবেনা। যুক্তরাজ্যে রেজিস্টার্ড সিভিল পার্টনারশীপ অনুমতিপ্রাপ্ত নয় – এ ক্ষেত্রে ফ্রান্সে কোনো ব্রিটিশ যুগল প্যাক্স সুবিধা নিতে চাইলে তাদের অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে। নেদারল্যান্ডে সমকামী বিয়ে যেহেতু বৈধ তাই নেদারল্যান্ডের যুগলদের ফ্রান্সে স্বীকৃতি এবং সুযোগ-সুবিধা মিলবে। যদিও ফ্রান্স সমকামী যুগলদের দ্বৈত-নাগরিকত্বের সুযোগ দেবেনা, এটা কেবলমাত্র বিপরীত লিঙ্গের যুগলদের জন্যেই দেওয়া হবে। উদাহরণস্বরুপ, যদি কোনো ফরাসী পুরুষ নেদারল্যান্ডে গিয়ে ঐ দেশের কোনো পুরুষকে বিয়ে করে এবং ঐদেশের নাগরিকত্ব পেয়ে যায় তবে সে (ফরাসী পুরুষ) ফ্রান্সের নাগরিকত্ব হারাবে।

ফ্রান্সের অধীনস্থ সকল দ্বীপেই সমলিঙ্গের বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়

২০১১ সালের ১৪ জুন ফ্রান্সের 'ন্যাশনাল এ্যাসেম্বলী' সমলিঙ্গের মানুষের মধ্যে বিয়ের স্বীকৃতি নিয়ে ভোটের আয়োজন করে এবং ভোটের ফলাফলে ২৯৩-২২২ জন সমলিঙ্গের মানুষের বিয়ের বিরোধিতা করে এবং পক্ষে মত দেয়।[১৫] তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল 'ইউনিয়ন ফর এ পপুলার মুভমেন্ট' সমকামী বিয়ের বিরুদ্ধে ভোট দেয় এবং বিরোধী দল 'সোশালিস্ট পার্টি' সমকামী বিয়ের পক্ষে ভোট দেয়। 'সোশালিস্ট পার্টি' এর সদস্যরা বলে দেয় যে ২০১২ সালের 'ফরাসী ন্যাশনাল এ্যাসেম্বলী নির্বাচন' এ তারা জিততে পারলে সমলিঙ্গের মানুষের মধ্যে বিয়ে বৈধ করে দেবে।[১৬] ২০১২ সালের ৭ মে 'সোশালিস্ট পার্টি' এর নেতা ফ্রাসোয়া ওলাদ নির্বাচনে জিতে যান এবং ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি হন। অক্টোবর মাসে ফরাসী সরকার কর্তৃক আইনটির খসড়া (সমলিঙ্গের বিয়ে বিষয়ক আইন) পেশ করা হয়।[১৭] ২০১৩ এর ২ অক্টোবরে ন্যাশনাল এ্যাসেম্বলী আইনটির ১ নং আইনের বৈধতা দেয়, ২৪৯ টি ভোটের মাধ্যমে, যে ভোটটির বিরোধিতা হিসেবে পড়ে মাত্র ৯৭টি ভোট।[১৮] ২০১৩ এর ১২ ফেব্রুয়ারীতে, ন্যাশনাল এ্যাসেম্বলী আইনটির বৈধতা দেয় ৩২৯-২২৯ ভোটে এবং এটিকে 'সিনেট' এ পাঠিয়ে দেওয়া হয়।[১৯] ক্ষমতাসীন দল 'সোশালিস্ট পার্টি' আইনটির পক্ষে ভোট দেয় (এ দলের কেবলমাত্র ৪ জন মানুষ সমকামী বিয়ের বিরুদ্ধে ভোট দেয়), অন্যদিকে বিরোধী দল 'ইউনিয়ন ফর এ পপুলার মুভমেন্ট' এর মাত্র দু'জন ব্যক্তি ছাড়া বাকী সবাই সমকামী বিয়ের বিরুদ্ধে ভোট দেয়।[২০]

২০১৩ সালের এপ্রিল মাসের ৪ তারিখে 'সিনেট' আইনটি নিয়ে বিতর্কের আয়োজন করে এবং পাঁচদিন পরে এটা ওটার প্রথম নিবন্ধের অনুমোদন দেয়, ১৭৯-১৫৭ ভোটের মাধ্যমে।[২১] ১২ এপ্রিলে 'সিনেট' আইনটির পুর্ণ অনুমোদন দিয়ে দেয় একটি ছোট এমেন্ডমেন্ট এর মাধ্যমে। ২৩ এপ্রিলে ন্যাশনাল এ্যাসেম্বলী এ্যামেন্ডেড আইনটির অনুমোদন দেয় ৩৩১টি ভোটের মাধ্যমে যার বিপরীতে ছিল ২২৫ টি ভোট, এভাবে সমলিঙ্গের মানুষের মধ্যে বিয়ে করা এবং বাচ্চা দত্তক নেওয়ার পথ ত্বরান্বিত হয়, ফ্রান্সকে বিশ্বের ১৪তম দেশ হিসেবে বানিয়ে দেওয়া হয় সমলিঙ্গের মানুষের মধ্যে বিয়ের বৈধতার ক্ষেত্রে।[১]

যদিও রক্ষণশীল দল 'ইউনিয়ন ফর এ পপুলার মুভমেন্ট' যারা সমলিঙ্গের মানুষের মধ্যে বিয়ের বিরোধিতা করছিল 'কন্সটিটিউশনাল কাউন্সিল' এ ঐ আইনের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করে।[২২][২৩] ২০১৩ এর ১৭ মে কাউন্সিল আইনটিকে সাংবিধানিক বলে রায় দেয়।[২৪] ২০১৩ এর ১৮ মে'তে রাষ্ট্রপতি ফ্রাসোয়া ওলাদ আইনটিতে স্বাক্ষর করেন,[২৫] যেটি পরের দিন সরকারীভাবে প্রকাশ করা হয় 'জার্নাল অফিসিয়েল' এ যেটি হচ্ছে ফ্রান্সের সরকারের গ্যাজেট পত্র।[২৬] প্রথম সরকারী সমকামী বিয়ে অনুষ্ঠিত হয় ২৯ মে'তে মন্টপেলিয়ার শহরে।[২৭]

বাচ্চা দত্তক এবং পিতৃত্ব[সম্পাদনা]

সমকামী যুগলরা বাচ্চা দত্তক নিতে পারেন ২০১৩ সাল থেকেই, যখন সমলিঙ্গের মানুষের মধ্যে বিয়ে নিয়ে আইন কার্যকরী হয়। প্রথম সমকামী যুগল দ্বারা যুগ্ম দত্তক নেওয়ার খবর আসে ১৮ অক্টোবর (২০১৩তেই)।[২৮][২৯]

২০১৬ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী নারী সমকামীযুগলদের 'এ্যাসিস্টেড রিপ্রোডাকটিভ টেকনোলজি' এর সুযোগ নেই। ফ্রান্সে 'প্রোক্রিয়েশন মেডিক্যালমেন্ট এ্যাসিস্টি' (পিএমএ) শুধুমাত্র বিষমকামী যুগলদের জন্যেই দেওয়া হয়। ২০১২ সালের একটি জরিপে দেখা যায় যে ৫১% ফরাসী মানুষ নারীসমকামীযুগলদের জন্যে 'এআরটি' সমর্থন করে।[৩০] 'সোশালিস্ট পার্টি'ও এটা সমর্থন করে।[৩১]

বৈষম্য নিরাপত্তা[সম্পাদনা]

১৯৮৫ সালে 'জাতীয় আইন' পাশ করা হয় এ মর্মে যে সমকামীদেরকে মানসিকভাবে হয়রানি বা শারীরিকভাবে হেনস্তা করা যাবেনা, আইনটি কর্মক্ষেত্র, বাসা-বাড়ি এবং অন্যান্য সব জায়গার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।[৩২] জুলাই ২০১২তে ফরাসী পার্লামেন্ট ফরাসী আইনের সংরক্ষিত ক্ষেত্রে 'সেক্সুয়াল আইডেনটিটি' যোগ করে। 'সেক্সুয়াল আইডেনটিটি' শব্দটির সমার্থক শব্দ হিসেবে 'জেন্দার আইডেনটিটি' শব্দটির ব্যবহার চালু হয় 'ILGA-Europem' এর কিছুটা বিরোধিতা সত্ত্বেও যারা এখনো এটিকে একটি গুরুত্বপুর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখে।[৩৩][৩৪]

বিদ্যালয়ে বৈষম্য[সম্পাদনা]

২০০৮ এর মার্চে ফ্রান্সের তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী জেভিয়ার ড্যারকস একটি নীতি চালু করেন যেই নীতিটি ছিল বিদ্যালয়ে সকল প্রকারের বৈষম্য দূর করা বিষয়ক, এর মধ্যে সমকামীদেরকে ঘৃণা করা যাবেনা - এটিও ছিল, এই নীতিটি বিশ্বের অন্যতম প্রথম। এটি ছিল ২০০৮-২০০৯ শিক্ষা বর্ষের 'শিক্ষার ১৫টি ন্যাশনাল প্রায়োরিটি' এর একটি।

ফ্রান্সের 'উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বতন্ত্র এবং গণতান্ত্রিক সংঘ' - ফ্রান্সের উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দ্বারা গঠিত প্রথম সংঘ - বিদ্যালয় এবং উঠতি বয়সের মানুষের মধ্যে 'সমকামিতাঘৃণা' এর বিরুদ্ধে ক্যাম্পেইন করেছে।

ঘৃণা অপরাধ আইন[সম্পাদনা]

২০০৪ এর ৩১ ডিসেম্বরে ন্যাশনাল এ্যাসেম্বলী একটি এ্যামেন্ডমেন্ট দেয় বৈষম্য বিরোধী আইনের, এ আইনে সমকামবিরোধী কোনো মন্তব্য করা যাবেনা বলা হয়। সমকামিতার বিরুদ্ধে যারা কথা বলে তাদের জন্য ৪৫,০০০ টাকা জরিমানা এবং/অথবা ১২মাস কারাদণ্ডকে মানবতাবিরোধী আখ্যা দেয় 'রিপোর্টার্স উইদআউট বর্ডার্স' নামের একটি মানবাধিকার সংগঠন। কিন্তু রাষ্ট্রপতি জ্যাক শিরাক এই আইনের পক্ষে কথা বলে বলেন যে সমকাম-বিরোধী হিংস্রতা বন্ধের জন্য আইনটি জরুরী। শিরাক সরকারের এক সংসদসদস্য 'ক্রিশ্চিয়ান ভান্নেস্টে' (শিরাকের নিজেরই রাজনৈতিক দল 'ইউনিয়ন ফর এ পপুলার মুভমেন্ট' এর সদস্য) ২০০৬ এর জানুয়ারী মাসে এই আইনের কবলে পড়েন সমকামবিরোধী মন্তব্য দেওয়ার জন্য, যদিও তার অপরাধ পরে ক্ষমা করে দেওয়া হয় তার 'কোর্ট অব ক্যাসেশন' এ আবেদন করার ফলশ্রুতিতে।[৩৫]

ডিসেম্বর ২০০৪ এর একটি আইন 'হাই অথোরিটি এগেইন্সট ডিসক্রিমিনেশন এ্যান্ড ইকুয়ালিটি' তৈরি করে। কোনো সমকামী ব্যক্তিকে শারীরিকভাবে আঘাত/হত্যা করলে সাজার পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া হবে।

লিঙ্গ পরিচয় এবং প্রকাশ[সম্পাদনা]

২০০৫ সালে প্যারিসে হিজড়া অধিকার আন্দোলন

লিঙ্গ পরিবর্তনে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা চাইলে তাদের লিঙ্গ পরিবর্তন করতে পারবেন। ২০০৯ সালে ফ্রান্স বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে লিঙ্গপরিবর্তনে ইচ্ছুক ব্যক্তিদেরকে মানসিক রোগী আখ্যা দেওয়া বাদ দিয়ে।[৩৬] লিঙ্গপরিবর্তনের ইচ্ছা হচ্ছে 'এএলডি ৩১' এর একটি অংশ এবং এর চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করে 'সোশাল সিকিউরিটি ইন ফ্রান্স' নামের একটি সংগঠন।[৩৭]

২০১২ সালে সেক্স বা জেন্ডার পরিচয়ের ক্ষেত্রে বৈষম্য আইনগতভাবে নিষিদ্ধ করা হয়।[৩৩][৩৪]

২০১৫ এর ৬ নভেম্বরে ফরাসী সিনেট লিঙ্গপরিবর্তনে ইচ্ছুক ব্যক্তিদেরকে 'লিঙ্গ পরিবর্তন অস্ত্রোপচার' এর আইনগত বৈধতা দেয়।[৩৮] ২৪ মে ২০১৬ তে ন্যাশনাল এ্যাসেম্বলী বিলটির অনুমোদন দেয়।[৩৮][৩৯][৪০] সংসদসদস্য প্যাসকেল ক্রোজোন, যিনি বিলটি উত্থাপন করেন, অন্যান্য সংসদসদস্যদেরকে ভোটের আগে বোঝান যে, 'লিঙ্গ পরিবর্তন অস্ত্রোপচার' অনেক দীর্ঘ, অনিশ্চিত এবং কষ্টকর। ভিন্ন লেখার কারণে, একটি যুগ্ম সেশন প্রতিষ্ঠা করা হয়। ২০১৬ সালের ১২ জুলাইতে ন্যাশনাল এ্যাসেম্বলী বিলটির একটি মোডিফাইড ভার্সন অনুমোদন করে যেখানে বলা ছিল যে লিঙ্গ পরিবর্তনের জন্য মনোরোগবিশেষজ্ঞের সার্টিফিকেট লাগবেনা এবং লিঙ্গ পরিবর্তনের জন্য কোনো কিছুর প্রমানও লাগবেনা, এক্ষেত্রে কোনো লিঙ্গের নিজ-সার্টিফিকেটেরও কোনো প্রয়োজন পড়বেনা।[৪১] ২৮ সেপ্টেম্বরে ফরাসী সিনেট বিলটি নিয়ে আলোচনা করে।[৪২] ফরাসী জাতীয় এ্যাসেম্বলী ১২ অক্টোবরে একটি 'প্লেনারী সেশন' এ বসে ঐ বিলটি আবার অনুমোদন করার জন্য এবং ফরাসী সিনেট দ্বারা তৈরি এ্যামেন্ডমেন্ট এর বিরোধিতা করে যেখানে বলা হয়েছিল যে চিকিৎসার প্রমাণ দেখাতে হবে।[৪৩][৪৪] ১৭ নভেম্বরে 'সাংবিধানিক কাউন্সিল' ঘোষণা দেয় যে বিলটি সাংবিধানিক হয়েছে।[৪৫][৪৬] রাষ্ট্রপতি কর্তৃক এটি স্বাক্ষরিত হয় ১৮ নভেম্বর ২০১৬ এ, সরকারী গ্যাজেটে এটা পরের দিনই প্রকাশ পায় (জার্নাল অফিসিয়েলে),[৪৭] আর আইনটি কার্যকরী হয় ২০১৭ এর ১ জানুয়ারীতে।[৪৮]

ফ্রান্সে সমকামী অধিকার আন্দোলন[সম্পাদনা]

২০১১ এর জুনে টউলউজে সমকামীদের আনন্দ মিছিল

ফ্রান্সে অনেক সংগঠন আছে যারা সমকামীদের অধিকার নিয়ে কাজ করে যেমনঃ 'এ্যাক্ট আপ প্যারিস', 'এসওএস হোমোফোবি', 'এ্যারকেডি', 'এফএইচএআর', 'গোউইন্স রগ্স', 'জিএলএইচ', 'সিইউএআরএইচ', 'ট্র্যান্স এইড এ্যাসোসিয়েশন' (২০০৪ এর সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠিত) এবং Bi'cause (উভকামী)।

সামরিক পরিষেবা[সম্পাদনা]

ফরাসী সামরিক বাহিনীতে সমকামীদের যোগদান করার অনুমতি রয়েছে।[৪৯][৫০]

রক্তদান[সম্পাদনা]

১৯৮৩ সালের ২০ জুন স্বাস্থ্য মহাপরিদপ্তর সমকামী পুরুষদের রক্তদানে নিষেধাজ্ঞা জারী করে। ২০০৯ এর ১২ জানুয়ারী বিষয়টি মন্ত্রীপরিষদে পুনরায় ওঠানো হয়।[৫১]

২০১৫ এর ৩ এপ্রিলে 'ইউনিয়ন অফ ডেমোক্র্যাটস এ্যান্ড ইন্ডিপেন্ডেন্টস' এর একজন উপসদস্য আর্নার্ড রিচার্ড সমকামী পুরুষদের রক্তদানের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে একটি এ্যামেন্ডমেন্ট প্রকাশ করেন যেটি ঐ একই মাসেই পরে গৃহীত হয়।[৫২]

২০১৫ সালের নভেম্বরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মারিসোল টউরেইন ঘোষণা দেন যে সমকামী পুরুষ এবং উভকামী পুরুষ রক্তদান করতে পারবে, ২০১৬ সালের ১০ই জুলাই তারিখ থেকে নির্দেশনাটি কার্যকর হয়।[৫৩][৫৪]

জনমত[সম্পাদনা]

২০০১ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত প্যারিসের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করা পুরুষ বার্ট্রান্ড ডেলানো (সোশালিস্ট পার্টির নেতা) জনসম্মুখে তার সমকামী পরিচয় দেন ১৯৯৮ সালে, তার প্রথম নির্বাচন হয় ২০০১ সালে।

২০০৬ এর ডিসেম্বরে Ipsos-MORI Eurobarometer এ করা জরিপের ফলাফলে দেখা যায়: ৬২% মানুষ সমলিঙ্গের মানুষের মধ্যে বিয়ে সমর্থন করে, যেখানে ৭৩% বিরোধিতা করে; ৫৫% মানুষ বিশ্বাস করেছিল সমকামী এবং সমকামিনীদের বাবা-মা হওয়ার অধিকার দেওয়া উচিত নয়, অপরদিকে ৪৪% বিশ্বাস করেছিল সমলিঙ্গের মানুষের যুগলদের বাচ্চা দত্তক নেওয়ার অনুমতি দেওয়া উচিত।[৫৫]

২০১১ এর জুনে, একতি Ifop জরিপের ফলাফলে দেখা যায় ৬৩% লোক সমকামী বিয়ের পক্ষে, এবং ৫৮% মানুষ সমলিঙ্গের মানুষের যুগলের জন্যে বাচ্চা দত্তক নেওয়া সমর্থন করেছিল।[২]

২০১৩এ 'পিউ রিসার্চ সেন্টার' জনমত জরিপ দেখায় যে ৭৭% ফরাসী জনগণ বিশ্বাস করে যে সমকামিতা সমাজ দ্বারা গৃহীত হওয়া উচিত, এবং ২২% বলেছিল সমকামিতার বিরুদ্ধে।[৩] তরুণ-তরুণীরা আরো বেশী সমর্থন করেছিল: ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী মানুষের মধ্যে ৮১% সমকামিতার পক্ষে কথা বলে, ৩০ থেকে ৪৯ বছর বয়সী মানুষের মধ্যে ৭৯% এবং ৫০ এর বেশী বয়স্ক মানুষের মধ্যে ৭৪%।

২০১৫ সালে সমকামীদের নিয়ে কাজ করা একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'প্ল্যানেট রোমিও' সর্বপ্রথম তাদের 'গে হ্যাপিনেস ইনডেক্স' (জিএইচআই) প্রকাশ করে। ১২০ টি দেশের সমকামীদের উপর জরিপ চালানো হয় যে 'সমাজের সমকামিতা নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপারে তাদের অনুভূতি কিরকম, তাদের মনে কেমন লাগে যখন মানুষ তাদের সাথে কথা বলে এবং তারা তাদের জীবন নিয়ে কতটুকু সন্তুষ্ট'। এ জরিপে ফ্রান্স ২১তম অবস্থান লাভ করে, তবে সাউথ আফ্রিকার ওপরে এবং অস্ট্রেলিয়ার নিচে অবস্থিত হয়, ফ্রান্সের 'জিএইচআই' স্কোর ছিল ৬৩।[৫৬]

সারাংশ ছক[সম্পাদনা]

সম-লিঙ্গের মানুষের মধ্যে যৌন সম্পর্ক বৈধ? Yes (১৭৯১ সাল থেকে)
দৈহিক মিলনের জন্য ন্যূনতম বয়স Yes (১৯৪২ এর আগে এবং পুনরায় ১৯৮২তে)
কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যবিরোধী আইন Yes (১৯৮৫ সাল থেকে)
যেকোনো পণ্য ও সেবাব্যবস্থার ক্ষেত্রে বৈষম্যবিরোধী আইন Yes (১৯৮৫ সালে থেকে)
অন্যান্য সবক্ষেত্রে বৈষম্যবিরোধী আইন (অসরাসরি বৈষম্য, ঘৃণামূলক বক্তব্যসহ) Yes (২০০৪ সাল থেকে)
সমলিঙ্গের মানুষের মধ্যে বিয়ে Yes (২০১৩ সাল থেকে)
সমলিঙ্গের মানুষের মধ্যে সম্পর্কের স্বীকৃতি Yes (১৯৯৯ সাল থেকে)
সমলিঙ্গের মানুষের যুগল দ্বারা সৎ বাচ্চা দত্তক Yes (২০১৩ সাল থেকে)
সমলিঙ্গের মানুষের যুগল দ্বারা যুগ্ম বাচ্চা দত্তক Yes (২০১৩ সাল থেকে)
সামরিক বাহিনীতে সমকামী, সমকামিনী এবং হিজড়াদের ঢুকার অনুমতি Yes
বৈধ লিঙ্গ পরিবর্তনের অনুমতি Yes (১৯৯২ সালে থেকে)
লিঙ্গপরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাকে রোগ হিসেবে আখ্যা না দেওয়া Yes (২০০৯ সালে থেকে)
বাচ্চা জন্মের পর উভয় যুগলদের জন্যে সরাসরি পিতৃত্ব/মাতৃত্ব No
সমকামিনীদের জন্য টেস্ট-টিউব পদ্ধতিতে বাচ্চা নেওয়ার অনুমতি No
পুরুষ সমকামীদের জন্য বাণিজ্যিক গর্ভভাড়া No (সমকামী-বিষমকামী সকল যুগলদের জন্য বাণিজ্যিক গর্ভভাড়া অবৈধ)
পুরুষ সমকামীদের রক্তদানের অনুমতি Yes (২০১৬ সাল থেকে)

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. French parliament allows gay marriage despite protests Reuters, 23 April 2013
  2. "Yagg"। Tetu.com। ২৪ জানুয়ারি ২০১৩। সংগৃহীত ২১ নভেম্বর ২০১৩ 
  3. "The 20 most and least gay-friendly countries in the world"। GlobalPost। ২৬ জুন ২০১৩। সংগৃহীত ২১ নভেম্বর ২০১৩ 
  4. "Paris The city of Proust and Piaf is a natural environment for a flourishin"। The Independent। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০০৮। সংগৃহীত ২১ নভেম্বর ২০১৩ 
  5. "Comment rejoindre l'association Les "Oublié(e)s" de la Mémoire"। Devoiretmemoire.org। সংগৃহীত ২১ নভেম্বর ২০১৩ 
  6. Ordonnance 45–190
  7. "Loi n°74-631 du 5 juillet 1974 FIXANT A 18 ANS L'AGE DE LA MAJORITE" (ফরাসি ভাষায়)। Legifrance। সংগৃহীত ২১ নভেম্বর ২০১৩ 
  8. "Fac-similé JO du 05/08/1982, page 02502" (ফরাসি ভাষায়)। Legifrance। সংগৃহীত ২১ নভেম্বর ২০১৩ 
  9. Proceedings of the National assembly, 2nd sitting of 20 December 1981
  10. "Fac-similé JO du 27/11/1960, page 10603" (ফরাসি ভাষায়)। Legifrance। ২৭ নভেম্বর ১৯৬০। সংগৃহীত ২১ নভেম্বর ২০১৩ 
  11. Olivier Jablonski। "1960 sous amendement Mirguet"। Semgai.free.fr। সংগৃহীত ২১ নভেম্বর ২০১৩ 
  12. "Constitution Du 4 Octobbre 1958"। Archives.assemblee-nationale.fr। সংগৃহীত ২১ নভেম্বর ২০১৩ 
  13. "Loi n°80-1041 du 23 décembre 1980 RELATIVE A LA REPRESSION DU VIOL ET DE CERTAINS ATTENTATS AUX MOEURS" (ফরাসি ভাষায়)। Legifrance। সংগৃহীত ২১ নভেম্বর ২০১৩ 
  14. (ফরাসি) L'enfant dans le couple homosexuel - Avocat adoption et filiation
  15. "French parliament rejects gay marriage bill"। Chinadaily.com.cn। ১৫ জুন ২০১১। সংগৃহীত ২১ নভেম্বর ২০১৩ 
  16. "French parliament rejects same-sex marriage bill"। France 24। Agence France-Presse। ১৪ জুন ২০১১। সংগৃহীত ১৪ জুন ২০১১ 
  17. "Same-sex marriage bill to be introduced in France this October"। Pinknews.co.uk। ২৬ আগস্ট ২০১২। সংগৃহীত ২১ নভেম্বর ২০১৩ 
  18. "France's parliament approve gay marriage article"BBC News। ২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩। 
  19. "France's parliament passes gay marriage bill – World – CBC News"। Cbc.ca। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩। সংগৃহীত ২১ নভেম্বর ২০১৩ 
  20. "Le projet de loi sur le mariage homosexuel adopté par l'Assemblée"। Lemonde.fr। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩। সংগৃহীত ২১ নভেম্বর ২০১৩ 
  21. (ফরাসি) Le Sénat adopte l'article qui ouvre le mariage aux homosexuels
  22. "France gay marriage faces constitution threat but activists upbeat"Gay Star News। ২৫ এপ্রিল ২০১৩। সংগৃহীত ১৫ মে ২০১৩ 
  23. "French lawmakers approve same-sex marriage bill"CNN International। ২৪ এপ্রিল ২০১৩। সংগৃহীত ৬ মে ২০১৩ 
  24. Communiqué de presse – 2013-669 DC – Loi ouvrant le mariage aux couples de personnes de même sexe, Constitutional Council of France, retrieved on 17 May 2013
  25. Hugh Schofield (২০১৩-০৫-১৮)। "BBC News – France gay marriage: Hollande signs bill into law"। Bbc.co.uk। সংগৃহীত ২০১৩-১১-২১ 
  26. (ফরাসি) LOI n° 2013-404 du 17 mai 2013 ouvrant le mariage aux couples de personnes de même sexe
  27. "French couple ties the knot in first same-sex wedding"। CNN.com। সংগৃহীত ২১ নভেম্বর ২০১৩ 
  28. Sarah Begley (১৮ অক্টোবর ২০১৩)। "First Gay Adoption Approved in France"। Time Magazine। 
  29. LeMonde.fr (১৮ অক্টোবর ২০১৩)। "Première adoption des enfants du conjoint dans une famille homoparentale ("First time adoption of stepchildren in a same-sex family")"। Le Monde। 
  30. (ফরাসি) POUR OU CONTRE LA PROCRÉATION MÉDICALEMENT ASSISTÉE DANS LA LOI AUTORISANT LE MARIAGE HOMOSEXUEL ?
  31. (ফরাসি) La PMA, victime de l'opposition au mariage homosexuel ?
  32. Rainbow Europe: France
  33. "France adds "sexual identity" to the protected grounds of discrimination / Latest news / News / Home / ilga"। ILGA Europe। সংগৃহীত ২১ নভেম্বর ২০১৩ 
  34. Le Corre, Maëlle (২৫ জুলাই ২০১২)। "L’"identité sexuelle" devient un motif de discrimination dans le code pénal" (ফরাসি ভাষায়)। Yagg। 
  35. "Cour de cassation, criminelle, Chambre criminelle, 12 novembre 2008, 07–83.398, Publié au bulletin" (ফরাসি ভাষায়)। Legifrance। সংগৃহীত ২১ নভেম্বর ২০১৩ 
  36. "France: Transsexualism will no longer be classified as a mental illness in France / News / Welcome to the ILGA Trans Secretariat / Trans / ilga – ILGA"। Trans.ilga.org। ২০০৯-০৫-১৬। সংগৃহীত ২১ নভেম্বর ২০১৩ 
  37. "Qu'est-ce qu'une affection de longue durée ?"। Ameli.fr। সংগৃহীত ২১ নভেম্বর ২০১৩ 
  38. "AMENDEMENT N°282"। Assemblée Nationale। সংগৃহীত ৪ জুন ২০১৬ 
  39. Le Corre, Maëlle (১৯ মে ২০১৬)। "L’Assemblée nationale adopte l’amendement visant à faciliter le changement d’état civil pour les personnes trans" (ফরাসি ভাষায়)। Yagg। 
  40. Transsexuels : simplification du changement d’état civil votée par l’Assemblée nationale
  41. Fae, Jane (১৩ জুলাই ২০১৬)। "Transgender people win major victory in France"। Gay Star News। 
  42. (ফরাসি) Séance du 28 septembre 2016 (compte rendu intégral des débats)
  43. It’s official – France adopts a new legal gender recognition procedure!
  44. (ফরাসি) Première séance du mercredi 12 octobre 2016
  45. (ফরাসি) Décision n° 2016-739 DC du 17 novembre 2016
  46. (ফরাসি) Le Conseil constitutionnel valide le projet de loi J21
  47. (ফরাসি) LOI n° 2016-1547 du 18 novembre 2016 de modernisation de la justice du XXIe siècle (1)
  48. (ফরাসি) J21 : La loi de modernisation de la Justice entre en vigueur
  49. Countries that Allow Military Service by Openly Gay People
  50. (ফরাসি) Une militaire transgenre doit prouver son changement de sexe «irréversible»
  51. Ministerial decree of 2009, Jan 12th fixing blood donor selection criteria
  52. Gays will be able to be allowed for blood donation
  53. France to lift ban on gay men giving blood, health minister says
  54. France lifts ban on gay men as blood donors
  55. "French Public Endorse Gay Marriage"। 365gay.com। ১৪ ডিসেম্বর ২০০৬। আসল থেকে ৮ জানুয়ারি ২০০৭-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ১২ নভেম্বর ২০০৯ 
  56. The Gay Happiness Index. The very first worldwide country ranking, based on the input of 115,000 gay men Planet Romeo

আরও পড়ুন[সম্পাদনা]

  • Claudina Richards, The Legal Recognition of Same-Sex Couples: The French Perspective, The International and Comparative Law Quarterly, Vol. 51, No. 2 (Apr. 2002), pp. 305–324 (ইংরেজি)
  • Gunther, Scott Eric (২০০৯)। The Elastic Closet। New York: Palgrave Macmillan। আইএসবিএন 978-0-230-59510-1  (ইংরেজি)