সমকামী সম্পর্কে গতানুগতিক চিন্তাধারা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
গৌরব শোভাযাত্রায় নারী সমকামিদের একটি দল।

লেসবিয়ান, গে, বাইসেক্সুয়াল এবং ট্রান্সজেন্ডার এলজিবিটি সম্পর্কে গতানুগতিক চিন্তাধারা মূলতঃ যৌন অভিমুখীতা কিংবা লিঙ্গ পরিচয়ের উপর নির্ভর করে প্রচলিত সাধারন মানুষের গতানুগতিক মতামত কিংবা চিত্র। গতানুগতিক চিন্তাধারা সাধারণত পিতামাতা , শিক্ষক, সহকর্মী এবং গণমাধ্যম দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তৈরি হয়ে থাকে।[১] এছাড়াও ব্যক্তিগতভাবে পরিচয়ের অভাবে অজ্ঞতা দরুণও অনেকে এরকম এক তরফা সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে[২] 

বিপরীত গতানুগতিক ধারণার মাঝে আছে হোমোফোবিয়া, লেসবোফোবিয়া, বাইফোবিয়া ও ট্রান্সফোবিয়া।[৩] গতানুগতিক চিন্তাধারা সবসময়ই যে বিপরীত হয় এমনটা নয়। ভিন্ন চিন্তাধারাও সমাজে প্রচলিত রয়েছে।[৪][৫] 

সাধারনভাবে[সম্পাদনা]

ধর্ম[সম্পাদনা]

যদিও এলজিবিটি সম্প্রদায় অধর্মীয় সম্প্রদায় তবে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ক্যাম্পেইন একজন মানুষ একই সাথে সমকামী ও ধার্মিক হতে পারে বলে প্রচার করে। হ্যারি নক্স, একজন সমকামি  যাজক ২০০৫ সাল থেকে এই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। "বাহাত্তর শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তাদের জীবনে ধর্মীয় বিশ্বাস "অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ" বলে উল্লেখ করে, সমকামিরা এর ব্যতিক্রম নয়" (ইউএস নিউজ)। ধর্ম ও সমকামিতার মাঝে যে ব্যবধান আছে তা ঘোচাতে এক দল মানুষ প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। অনেক প্রটেস্ট্যান্ট এই ব্যাপারে মুক্তমনা হয়েছে এবং ইউনাইটেড চার্চ অব খ্রিস্ট এখন সমকামি যাজক নিয়োগ দেয়। "দ্যা ন্যাশনাল গে এন্ড লেসবিয়ান টাস্ক ফোর্স" ইহুদীদের মাঝে এলজিবিটি সম্প্রদায়ের অবস্থা উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।

কল্পকাহিনীতেঃ "ব্যুরি ইয়োর গেস"[সম্পাদনা]

"ব্যুরি ইয়োর গেস" বা, "মৃত লেসবিয়ান সিনড্রোম" দিয়ে এক ধরনের নির্দিষ্ট ঘরানার কল্পকাহিনীকে বোঝায়, যেসমস্ত কাহিনীতে গে কিংবা লেসবিয়ান চরিত্রগুলো হয় মারা যায় নাহয় দুঃখজন পরিণতির সম্মুখীন হয়। যেমন, কোন কোন ক্ষেত্রে সমকামি চরিত্রকে কাহিনীর শেষে মানসিকভাবে অসুস্থ দেখানো হয়।[৬] ১৯৭৬ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত প্রচারিত ১১৭৯ টি আমেরিকান টিভি সিরিজের স্ক্রিপ্টের মধ্যে ১৯৩ (১১%) টিতে নারী সমকামি বা নারী উভকামি চরিত্র দেখা গিয়েছে। এদের মাঝে ৩৫% চরিত্র মৃত্যুবরণ করে এবং শুধুমাত্র ১৬% চরিত্রকে শেষ অব্দি সুখী দেখা গিয়েছে। একই ভাবে, যেসব সিরিজ এখন প্রচারিত হচ্ছে না, সেগুলোর মধ্যেও ৩১% চরিত্র মৃত্যুবরণ করে এবং শুধুমাত্র ১০% চরিত্রকে সুখী জীবনের দেখা পায়।[৭] এসব পরিসংখ্যান থেকে বলা যায়, এখনও কাল্পনিক সমকামি কিংবা উভকামী নারীর চরিত্রগুলোর মাধ্যমে প্রচার মাধ্যমে দেখানো হচ্ছে যে সমকামি ও উভকামিরা খুব কম ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক ও সুস্থ জীবনের মুখ দেখে। [৮] 

হত্যা ও উৎপীড়ন[সম্পাদনা]

প্রচার মাধ্যমে এলজিবিটি সম্প্রদায়ের মানুষজনকে সহিংস ও রক্তপিপাসু দেখানোর প্রবণতার বিরুদ্ধে এলজিবিটি সম্প্রদায় লড়ে আসছে। কলামিস্ট ব্রেন্ট হারটিঙ্গার লক্ষ করেছেন। "আক্ষরিক অর্থেই, সম্ভবত ১৯৯৩ সালে মুক্তি পাওয়া ফিলাডেলফিয়া  বাদে যত বড়-বাজেটের চলচ্চিত্রে সমকামি পুরুষ চরিত্র দেখা গিয়েছে, সবাইকেই মানসিকভাবে বিকারগ্রস্থ অপরাধী এবং সিরিয়াল কিলার হিসেবে দেখানো হয়েছে।"[৯] এলজিবিটি সম্প্রদায় খুনী সমকামি , উভকামি কিংবা ট্রান্সজেন্ডার পুরুষ কিংবা নারী চরিত্র সম্বলিত চলচ্চিত্রসমূহ বয়কট করে আসছে। এ ধরনের চলচ্চিত্রের তালিকায় আছে দ্য সাইলেন্স অব দ্য ল্যাম্বস (১৯৯১),  বেসিক ইন্সটিন্ক্ট (১৯৯২)[১০] থিয়েটার স্ক্লার জরডান শিল্ডক্রাউট আমেরিকান নাটকে "হোমিসাইডাল হোমোসেক্সুয়াল" নিয়ে লিখেছেন তবে লক্ষ করার মতো ব্যাপার হল, এলজিবিটি নাট্যকারেরা নিজেরাও এই ধরনের নিগেটিভ চিন্তাধারার কাজকে অনেক ক্ষেত্রেই অনুমতি দিয়েছেন।[১১] এরকম নাটকের মাঝে আছে  টেরেন্স ম্যাকন্যালির দ্য লিসবন ট্রাভিয়াটা (১৯৮৫), চে ইউ এর পোর্সেলিন (১৯৯২) ইত্যাদি। 

লেসবিয়ান[সম্পাদনা]

অভিনেত্রী পোর্শিয়া দে রসি ২০০০ সালের শুরুর দিকে একজন লেসবিয়ান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন 

বিংশ শতাব্দীর অধিকাংশ চলচ্চিত্রই লেসবিয়ান সম্প্রদায় সম্পর্কে দর্শকদের একটি ভ্রান্ত ধারণা দিয়েছে। দ্য চিলড্রেন আওয়ার(১৯৬১) চলচ্চিত্রে দর্শকদের দেখানো হয় লেসবিয়ানরা একটি অন্ধকার ও বিষন্নাচ্ছন্ন জীবন যাপন করেন। তবে একবিংশ শতকে এসে লেসবিয়ান চরিত্রের উপর মিডিয়া সুষ্ঠ বিচার করতে শুরু করে।[১২] জনপ্রিয় লেসবিয়ান টেলিভিশন সিরিজ, দ্য এল ওয়ার্ড -এ মিডিয়া "ইউ-হল" চিন্তাধারাকে ভুল বলে দেখায়। "ইউ-হল" বলতে বোঝানো হয় লেসবিয়ান মাত্রই সঙ্গী পাল্টাতে পারদর্শী।  দ্য এল ওয়ার্ড টিভি শোতে দেখানো হয়, লেসবিয়ান দম্পতি আর দশটি হেটেরোসেক্সুয়াল দম্পতির মতোই দীর্ঘ দিনের সম্পর্কে থাকতে পারে। এতে দেখানো হয় পারিবারিক মূল্যবোধ এই ধরনের পরিবারের মধ্যেও বিরাজ করে। লেসবিয়ান মাত্রই "বাচ" বা পুরুষালি পোশাকের নারী এই ধারণাকে ভেঙে শোটিতে দেখানো হয় "মেয়েলি" বা "লিপস্টিক" লেসবিয়ান। লেসবিয়ান যেকোন রকমের বা চিন্তাধারার হতে পারে এই ধারণাকে উজ্জীবিত করাই মূলতঃ শোটির উদ্দেশ্য ছিল। এই টিভি সিরিজে শেইন চরিত্রের মাধ্যমে লেসবিয়ানদের নিয়ে প্রচলিত একাধিক গতানুগতিক চিন্তাধারাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়।[১৩] 

অনেক লেসবিয়ানই ছোট চুল, ঢিলেঢালা পোশাক এবং খেলাধূলায় সম্পৃক্ত থাকেন।[১৪] একারণেই এলজিবিটি ইস্যুতে সংবাদ মাধ্যমে সাধারনভাবেই গতানুগতিক চিন্তাধারার তৈরির হয়েছে। প্রায়শঃই দেখা যায়, "পুরুষালি" লেসবিয়ানরা অন্য লেসবিয়ানদের চেয়ে সংবাদ মাধ্যমে একটু বেশিই প্রাধান্য পায়। যার ফলস্বরূপ সাধারন মানুষ প্রতিটি লেসবিয়ানের জীবন একই ধরনের বলে মনে করে নেয়।[১৫] 

সাধারণত, লেসবিয়নদের "বাচ এবং ফেম" এই দুই ধরনের ছকে ফেলা হয়। পুরুষালি ধরনের পোশাকপরিচ্ছদ বাচ লেসবিয়ানদের স্টাইল। "ডাইক" বলেও এরা পরিচিত যদিও এই শব্দটি লেসবিয়ান সম্প্রদায় অপমানজনক হিসেবেই গন্য করে। লেসবিয়ান সম্প্রদায়ে বাচদেরকে শক্ত সমর্থ এবং বাইরের সমাজে স্পষ্টভাষী হিসেবে গণ্য করা হয়।[১৬] অভিনেত্রী পোর্শিয়া দে রসি ২০০৫ সালে লেসবিয়ান হিসেবে আত্মপ্রকাশের মাধ্যমে লেসবিয়ানদের নিয়ে সাধারন যে দৃষ্টিভঙ্গি ছিল তা পাল্টাতে অবিস্মরনীয় ভূমিকা রেখেছেন। তিনি তার একাধিক ইন্টারভিউতে বলেছেন, লেসবিয়ানদের নিয়ে গতানুগতিক চিন্তাধারা নিজ সম্প্রদায়েও প্রচলিত আছে। তাই অনেক লেসবিয়ানই সেভাবে আচরন না করলে বা সেভাবে পোশাক না পড়লে এলজিবিটিকিউ+ সম্প্রদায় থেকে প্রত্যাখিত হওয়ার ভয়ে থাকেন।[১৭]

গে পুরুষ[সম্পাদনা]

গৌরব পদযাত্রায় গে পুরুষ[১৮][১৯]

যদিও জেন্ডার আইডেন্টিটি, জেন্ডার এক্সপ্রেসন ও যৌন অভিমুখীতা ভিন্ন অর্থ বহন করে[২০] তবুও সমকামি পুরুষদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মেয়েলী ধরনার বলে অভিহিত করা হয়। [২১] সমকামি পুরুষেরা বা গে পুরুষেরা প্রদর্শন কলাতে জড়িত এবং আচরণে কৃত্রিম নাটকীয়তা বেশি বলে সাধারণত প্রচলিত।  এলজিবিটি সম্প্রদায়ে বড় ও লোমশ শরীরের পুরুষদের বেয়ার [২২]বলে অভিহত করা হয়। শারীরিকভাবে শক্ত সমর্থ এই পুরুষেরা সকল সমকামি পুরুষই নারীসুলভ বা টুইংক না সেই বার্তা দিয়ে থাকে।[২৩][তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

বাহ্যিক রূপ ও আচরণ[সম্পাদনা]

সমকামি পুরুষেরা প্রায়ই নারীসুলভ ভঙ্গিতে বা নরম স্বরে কথা বলে থাকে।[২৪][২৫] ফ্যাশন এবং মেয়েলীপনা দীর্ঘ দিন ধরে সমকামিতার ক্ষেত্রে সাধারন বিষয় বলে চিহ্নিত হয়ে আসছে। মূলতঃ ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে জড়িত সমকামি পুরুষদের উপস্থিতিই এই ধরনের গতানুগতিক চিন্তাধারাকে উস্কে দিয়েছে।[২৬] ডলস এন্ড গাবানা এবং আরো কিছু ডিজাইনাররা অনেকসময় সমপ্রেমিদের বিজ্ঞাপনের জন্য ব্যবহার করেছেন। অনেকের মতে এতে সমাজে সমকামি পুরুষেরা শপিং করতে পছন্দ করে বলে ধারণা ছড়িয়েছে।[২৭] সমকামি পুরুষেরা আচরনের দিক দিয়ে দূর্বল ঘরানার হয় বলেও সাধারনভাবে প্রচলিত।[২৮]

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এইসমস্ত গতানুগতিক চিন্তাধারাকে "গেডার " তকমা দিয়ে সমকামি নারী বা পুরুষদের আলাদা করার এক ধরনের প্রবণতা দেখা যায়। যেখানে যৌন অভিমুখীতার চেয়ে তাদের বাহ্যিক আচরণ ও ব্যবহারই মূখ্য হয়ে থাকে।[২৯]

যৌনতা ও সম্পর্ক[সম্পাদনা]

রোমে অনুষ্ঠিত গৌরব শোভাযাত্রায় গে পুরুষের দল

গবেষণায় দেখা গেছে, সমকামি পুরুষ অপেক্ষা সমকামি নারীরা সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটু বেশি দৃঢ়।[৩০][৩১] অনিরাপদ যৌনমিলনের ক্ষেত্রে, ২০০৭এর একটি গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, "বছরে আর সব বিসমকামি নারী-পুরুষের অনিরাপদ যৌনমিলনের হার ও বেশিরভাগ গে পুরুষের বছরে অনিরাপদ যৌনমিলনের হার একই।"[৩২][৩৩][৩৪]অন্য একটি গবেষনায় দেখা গিয়েছে এইসমস্ত গতানুগতিক চিন্তাধারার জন্য গে পুরুষের সামাজিকভাবে অনেক সময় বাধার সম্মুখীন হয়। দেখা গিয়েছে,সমকামি পুরুষেরা সহজে অন্য সমকামি পুরুষের সাথে প্লেটোনিক বন্ধুত্বে জড়াতে পারে না।[৩৫]  আরেকটি উল্লেখযোগ্য সাধারন ধারণা হল, গে পুরুষেরা পার্টি খুব পছন্দ করে। মূলতঃ ১৯৬৯ সালে স্টোনওয়াল দাঙ্গা পূর্ববর্তী সময়ে বেশিরভাগ এলজিবিটি মানুষেরা একান্তই নিজস্বভাবে সময় কাটাতো। ঘরোয়া পার্টিতে বা নির্দিষ্ট কিছু বারেই তাদের সমাগম হত। কিন্তু স্টোনওয়াল দাঙ্গার মাধ্যমে আধুনিক এলজিবিটি সামাজিক আন্দোলন শুরু হয়, যা দিনকে দিন বাড়ছে। ফলে এখন নিয়মিতভাবেই এলজিবিটি সম্প্রদায়ের উৎসব, হয়ে থাকে। বিশেষ করে যেসব শহরে এলজিবিটি সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা বেশি, সেসব শহরে তাদেরকে মূখ্য করে বিভিন্ন কোম্পানি বিশেষ বিজ্ঞাপন ও মার্কেটিং পলিসিও চালু করেছে।

শিশুকামিতা[সম্পাদনা]

[৩৬]একটি অত্যন্ত প্রচলিত ধারনা হল, গে মাত্রই শিশুকামী।[৩৭]সাধারনত বিসমকামি পুরুষেরা, যারা সমকামি পুরুষদের দ্বারা আকৃষ্ট হওয়ার ভয়ে থাকে তারা, এক ধরনে হাঁটু ঝাঁকানো ভঙ্গি করে থাকে। ধারণা করা হয় হোমোফোবিয়ার দরূন এই ধরনের ভুল ধারনা সমাজে ছড়া হয়েছে।[৩৮] তবে এই ভ্রান্ত ধারনার কারনে গে পুরুষেরা শিক্ষক হিসেবে চাকরি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হন। যদিও দেখা গিয়েছে  শিশুকামিরা ৮০-৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে বিসমকামি বা হেটেরোসেক্সুয়াল।[৩৯][৪০] অন্য এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে শিশু যৌন হয়রানি ঘটনায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই (একটি গবেষনায় উল্লেখিত ৯০% ক্ষেত্রে) বিসমকামি বা হেটেরোসেক্সুয়াল পুরুষেরাই দায়ী।অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েদের সাথে জোরপূর্বক শারীরিক মিলনের ক্ষেত্রেও পরিসংখ্যানে হেটেরোসেক্সুয়াল পুরুষেরা এগিয়ে।[৪১][৪২] আবার অন্য একটি গবেষণায় ৪০শতাংশ ছেলে শিশু ও ৬ শতাংশ মেয়ে যৌন হয়রানী নারী অপরাধীদের মাধ্যমে সংঘটিত হয়ে থাকে।[৪৩]


উভকামী[সম্পাদনা]

রক সঙ্গীত শিল্পী ডেভিড বোয়ি ১৯৭২ সালে উভকামী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।[৪৪]

উভকামিতা পরিভাষাটি নারী ও পুরুষ উভয়ের প্রতি যৌন বা রোমান্টিক অনুভূতি নির্দেশক মানব আকর্ষণকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। যে কোন যৌনতা বা লিঙ্গ পরিচয় বিশিষ্ট ব্যক্তির প্রতি রোমান্টিক বা যৌন আকর্ষণ; উল্লেখিত দ্বিতীয় দৃষ্টিভঙ্গিটিকে অনেকসময় বিকল্পরূপে সর্বকামিতা হিসেবে নির্দেশ করা হয়।[৪৫][৪৬][৪৭]কোন লিঙ্গের প্রতি অস্পষ্ট কিন্তু অনন্য নয় এমন যৌন পছন্দনীয়তা রয়েছে তারাও নিজেদেরকে উভকামী হিসেবে চিহ্নিত করে।[৪৮]মানবসভ্যতার বিভিন্ন সমাজব্যবস্থায়[৪৯] এবং প্রাণীরাজ্যের অন্যত্রও[৫০][৫১][৫২] লিখিত ইতিহাসের সমগ্র সময়কাল জুড়ে উভকামিতার উপস্থিতি লক্ষিত হয়। তবে হেটেরোসেক্সুয়ালিটি ও হোমোসেক্সুয়ালিটি শব্দ দুটির মত বাইসেক্সুয়ালিটি শব্দটিও মূলত ঊনবিংশ শতাব্দীতে উৎপন্ন হয়।[৫৩]

উডি অ্যালেন বলেছিলেন, "উভকামি হলে শনিবার রাতে ডেইটে যাওয়ার সুযোগ দ্বিগুন হয়ে যায়।"[৫৪] একটি প্রচলিত ধারণা হল, উভকামিরা একটি সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে পারে না, কেননা তাদের আকর্ষণ দুই লিঙ্গের প্রতিই থাকে। ফলে প্রকৃতপক্ষে একজন সমকামি নাকি বিসমকামি তা নিয়ে তারা সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে।

রূপান্তরকামী [সম্পাদনা]

রূপান্তরিত লিঙ্গ-এর ব্যক্তিবর্গ হল সেসব ব্যক্তি যাদের এমন একটি নিজস্ব যৌন পরিচয় বা যৌন অভিব্যক্তি রয়েছে, যা তাদের জন্মগত যৌনতা হতে ভিন্ন। তবে মাঝে মাঝে, বিস্তৃত পরিভাষায় রূপান্তরিত লিঙ্গ বোঝাতে ক্রস-ড্রেসার বা বিপরীত লিঙ্গের পোশাক পরিধানকারীদেরকেও বোঝানো হয়।[৫৫] প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা হল, রূপান্তকামী মাত্রই গণিকা।[৫৬] 


উৎপত্তি ও বিস্তৃতি[সম্পাদনা]

গবেষনা[সম্পাদনা]

লেসবিয়ান সম্প্রদায়কে নিয়ে ঋণাত্মক ধারণা সমাজে প্রচলনের হেতু বুঝতে সামাজিক বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। [৫৭] উইলিয়াম জেসন ধারণা করেন, প্রতিটি নারীই প্রকৃতগতভাবেই সমকামিতা উপভোগ করতো কেননা তা এক ধরনের অভ্যেস ছিল। সংক্ষেপে বলা যায়, তার ধারণা মতে "সমকামিতার ব্যাপারে সহনশীলতা মানুষ শেখে আর রুচিবোধ জন্মসূত্রেই পায়।" ১৯০৮ সালে জেমস ও এডোয়ার্ড ওয়েস্টারম্যাক ইহুদী, খ্রিষ্টান ও জোরোস্ট্রিয়ান ধর্মে সমকামিদের বিরুদ্ধে সহিংস আচরণ করার কারণ নিয়ে গবেষণা করেন। তারা বিশ্বাস করেন,ঐতিহাসিকভাবে সমকামিতার সাথে প্রতিমাপূজা, বৈধর্ম্য এবং অপরাধী মনোভাবের যোগসাজেশ থাকায় এইসকল ধর্মে সমকামিতা বিরূপ ধারণা প্রচলিত হয়েছে। সিগমুন্ড ফ্রয়েড ১৯০৫ সালে দেখিয়েছেন, হোমোফোবিয়া নির্দিষ্ট পরিবেশে, নির্দিষ্ট সমপ্রেমের বিরুদ্ধে গিয়ে সমাজের সৃষ্টি একটি ধারণা। সান্ডর ফেরেন্সে (১৯১৪) আবার বিশ্বাস করতেন, হেটেরোসেক্সুয়াল বা বিসমকামি নারীরা সমকামি হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার আতঙ্কে থাকে।

আরোও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Stangor, Charles (ed.) (২০০০)। Stereotypes and Prejudice: Essential Readings। Philadelphia, Pa.: Psychology Press। আইএসবিএন 0-86377-588-8 
  2. McCrady, Richard; Jean Mccrady (আগস্ট ১৯৭৬)। "Effect of direct exposure to foreign target groups on descriptive stereotypes held by American students"Social Behavior and Personality 4 (2): ২৩৩। ডিওআই:10.2224/sbp.1976.4.2.233 
  3. "The Face of Homophobia/Heterosexism"Carlton University Equity Servicesআসল থেকে ২০০৭-০৯-২৭-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ২০০৭-০৪-০৭ 
  4. Nachbar, Jack; Kevin Lause (১৯৯২)। Popular Culture: An Introductory Text। Bowling Green University Popular Press। পৃ: ২৩৮। আইএসবিএন 0-87972-572-9 
  5. "Gay Images: TV's Mixed Signals"The New York Times। ১৯৯১-০৫-১৯। সংগৃহীত ২০১০-১০-২৫ 
  6. Framke, Caroline (২৫ মার্চ ২০১৬)। "Queer women have been killed on television for decades. Now The 100's fans are fighting back."Vox। সংগৃহীত ৩ এপ্রিল ২০১৬ 
  7. Hogan, Heather (২৫ মার্চ ২০১৬)। "Autostraddle's Ultimate Infographic Guide to Dead Lesbian Characters on TV"Autostraddle (en-US ভাষায়)। সংগৃহীত ৩ এপ্রিল ২০১৬ 
  8. Ryan, Maureen (১৪ মার্চ ২০১৬)। "What TV Can Learn From ‘The 100’ Mess"Variety (en-US ভাষায়)। সংগৃহীত ৩ এপ্রিল ২০১৬ 
  9. Hartinger, Brent। "Ask the Flying Monkey (August 18, 2008)"After Elton / New Now Next। Logo। সংগৃহীত ২৮ মে ২০১৬ 
  10. Weir, John (২৯ মার্চ ১৯৯২)। "Gay-Bashing, Villainy and the Oscars"New York Times। সংগৃহীত ২৮ মে ২০১৬ 
  11. Schildcrout, Jordan (২০১৪)। Murder Most Queer: The Homicidal Homosexual in the American Theater। University of Michigan Press। আইএসবিএন 978-0-472-05232-5 
  12. Myers, Randy.
  13. "Challenges to Stereotypes."
  14. Geiger, Wendy.
  15. Stossel, John, and Gena Binkley.
  16. Krantz, S. E. (১৯৯৫)। "Reconsidering the Etymology of Bulldike"। American Speech 70 (2): 217–221। জেএসটিওআর 455819ডিওআই:10.2307/455819 
  17.   |title= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)|title= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)
  18. Scott Jacobson, Todd Levin, Jason Roede, Sex: Our Bodies, Our Junk, pages 204-206, Random House, Inc., 2010, ISBN 0-307-59216-2, ISBN 978-0-307-59216-3.
  19. Joan Z. Spade, Catherine G. Valentine, The kaleidoscope of gender: prisms, patterns, and possibilities, Pine Forge Press, 2007, pages 293-296, ISBN 1-4129-5146-1, ISBN 978-1-4129-5146-3.
  20. "Gender Identity and Expression Issues at Colleges and Universities"National Association of College and University Attorneys। ২০০৫-০৬-০২। সংগৃহীত ২০০৭-০৪-০২ 
  21. "Chrysler TV ad criticized for using gay stereotypes"The Advocate। ২০০৬-০৪-০৭। সংগৃহীত ২০০৭-০৪-০৭ 
  22. http://www.bububelfast.com/Whatisabear.html
  23. "WOOF! - What is a Bear?"। Thecompletebear.com। সংগৃহীত ২০১১-০১-১৫ 
  24. Mackenzie, Ian (২০০৪-০৩-১৮)। "Dunk the faggot: A gay radio voice, back from hell"। Xtra! 
  25. Stuever, Hank (২০০৩-০৪-১৯)। "Dishy Delight: Steven Cojocaru, a Glamour Boy in TV's Post-Gay Embrace"The Washington Postআসল থেকে ডিসেম্বর ২২, ২০০৮-এ আর্কাইভ করা। 
  26. "Fashion"glbtq। সংগৃহীত ২০০৭-০৪-০৭ 
  27. Tatchell, Peter (১৯৯৬-০৮-১৬)। "Yobs for the boys"। Tribune 
  28. Encyclopedia of Lesbian and Gay Histories and Cultures - Page 491, Bonnie Zimmerman - 2000
  29. Cox, William T. L.; Devine, Patricia G.; Bischmann, Alyssa A.; Hyde, Janet S. (২০১৫)। "Inferences About Sexual Orientation: The Roles of Stereotypes, Faces, and The Gaydar Myth"The Journal of Sex Research 52 (8): 1–15। ডিওআই:10.1080/00224499.2015.1015714 
  30. Garnets, Linda D.; Douglas C. Kimmel (১৯৯৩)। Psychological Perspectives on Lesbian and Gay Male Experiences। Columbia University Press। আইএসবিএন 0-231-07885-4 
  31. Marech, Rona (২০০৪-০২-২৭)। "Gay couples can be as stable as straights, evidence suggests"San Francisco Chronicle। সংগৃহীত ২০০৭-০৪-০৭ 
  32. "Sexual Behavior Does Not Explain Varying HIV Rates Among Gay And Straight Men"Medical News Today 
  33.   |title= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)|title= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)
  34. Jay, Karla; Young, Allen (১৯৭৯)। The gay report: Lesbians and gay men speak out about sexual experiences and lifestyles। New York: Summit। আইএসবিএন 0-671-40013-4 
  35. [১] Rethinking microaggressions and anti-social behaviour against LGBTIQ+ Youth
  36. Carole Jenny; Thomas A. Roesler; Kimberly L. Poyer। "Are Children at Risk for Sexual Abuse by Homosexuals?"American Academy of Pediatrics। সংগৃহীত ডিসেম্বর ২০, ২০১২ 
  37. Whiteman, Hilary (২০১০-০৪-১৪)। "Gay outrage over cardinal's child abuse comment"। CNN। সংগৃহীত ২০১০-০৯-২৭ 
  38.   |title= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)|title= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)
  39. "Readers' forum: Most pedophiles are straight"Deseret News। সংগৃহীত ডিসেম্বর ২০, ২০১২ 
  40. Pietrzyk, Mark E। "Homosexuality and Child Sexual Abuse: Science, Religion, and the Slippery Slope"Independent Gay Forum। সংগৃহীত ডিসেম্বর ২০, ২০১২ 
  41. Rahman, Mahrin। "Definition of the Problem"Case Western Reserve University। সংগৃহীত ডিসেম্বর ২০, ২০১২ 
  42. Carole Jenny; Thomas A. Roesler; Kimberly L. Poyer। "Are Children at Risk for Sexual Abuse by Homosexuals?"American Academy of Pediatrics। সংগৃহীত ডিসেম্বর ২০, ২০১২ 
  43. Dube, Shata R., et al.
  44. Collis, Clark (আগস্ট ২০০২)। "Dear Superstar: David Bowie"blender.com (Alpha Media Group Inc)। আসল থেকে মে ১০, ২০০৮-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১০ 
  45. Soble, Alan (২০০৬)। "Bisexuality"। Sex from Plato to Paglia: a philosophical encyclopedia 1Greenwood Publishing Group। পৃ: ১১৫। আইএসবিএন 978-0-313-32686-8 
  46. Firestein, Beth A. (২০০৭)। Becoming Visible: Counseling Bisexuals Across the LifespanColumbia University Press। পৃ: 9–12। আইএসবিএন 0231137249। সংগৃহীত অক্টোবর ৩, ২০১২ 
  47. Rice, Kim (২০০৯)। "Pansexuality"। in Marshall Cavendish Corporation। Sex and Society 2Marshall Cavendish। পৃ: ৫৯৩। আইএসবিএন 978-0-7614-7905-5। সংগৃহীত ৩ অক্টোবর ২০১২। "In some contexts, the term pansexuality is used interchangeably with bisexuality, which refers to attraction to individuals of both sexes. Those who identify as bisexual feel that gender, biological sex, and sexual orientation should not be a focal point in potential relationships." 
  48. Rosario, M., Schrimshaw, E., Hunter, J., & Braun, L. (2006, February).
  49. Crompton, Louis (২০০৩)। Homosexuality and Civilization। Cambridge, Massachusetts: Belknap Pressআইএসবিএন 0-674-01197-X 
  50. Bagemihl, Bruce (১৯৯৯)। Biological Exuberance: Animal Homosexuality and Natural Diversity। London: Profile Books, Ltd.। আইএসবিএন 1-86197-182-6 
  51. Roughgarden, Joan (মে ২০০৪)। Evolution's Rainbow: Diversity, Gender, and Sexuality in Nature and People। Berkeley, CA: University of California Pressআইএসবিএন 0-520-24073-1 
  52. Driscoll, Emily V. (জুলাই ২০০৮)। "Bisexual Species: Unorthodox Sex in the Animal Kingdom"। Scientific American। 
  53. Harper, Douglas (নভেম্বর ২০০১)। "Bisexuality"Online Etymology Dictionary। সংগৃহীত ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৭ 
  54. "Bisexuality: A unique sexual orientation"। Religioustolerance.org। সংগৃহীত ২০১১-০১-১৫ 
  55. Currah, Paisley; Juang, Richard M.; Minter, Shannon Price, সম্পাদকবৃন্দ (২০০৭)। Transgender Rights। Minneapolis, Minn.: University of Minnesota Press। আইএসবিএন 0-8166-4312-1 
  56. "Transgendered Youth at Risk for Exploitation, HIV, Hate Crimes"Inter-Q-Zone। ১৯৯৫। সংগৃহীত ২০০৭-০৪-০৭ 
  57. Brown, Michael J. "Homophobia and Acceptance of Stereotypes About Gays and Lesbians." 7.3 (2009): 159,160-167.